‘আপনি সংসার করেননি ? জিজ্ঞেস করলেন জটায়ু। “আজ্ঞে না, মৃদু হেসে বললেন তরফদার । “তাড়া কী ? আগে শাে-টাকে দাঁড় করাই ! চা এসে গেছে, সঙ্গে সিঙ্গাড়া। ফেলুদা একটা সিঙ্গাড়া তুলে নিয়ে বলল, “আজ কিন্তু আমি শ্রোতা। কিছু বলার থাকলে ইনি বলবেন। ফেলুদা জটায়ুর দিকে নির্দেশ করল। ইনি কে জান ত ? ‘তা জানি বেকি!’ চোখ কপালে তুলে বললেন তরফদার | বাংলার নাম্বার ওয়ান রহস্য-রােমাঞ্চ ঔপন্যাসিক।
লালমােহনবাবু কোনােদিন চেষ্টা করেও বিনয়ী ভাব প্রকাশ করতে পারেননি ; এখন একটা সেল্যটে বুঝিয়ে দিলেন তিনি চেষ্টাই করছেন না।ফেলুদা হাতের কাপ টেবিলে রেখে একটা চারমিনার ধরিয়ে বলল, ‘তােমাকে একটা কথা অকপটে বলছি, সুনীল । তােমার শােয়ে শােম্যানশিপের কিঞ্চিৎ অভাব লক্ষ করলাম ।
আজকের উঠতি যাদুকরদের কিন্তু ও দিকটা নেগলেক্ট করলে চলে না। তােমার হিনটিজম, আর তােমার নয়ন—দুটোই আশ্চর্য আইটেম তাতে সন্দেহ নেই, কিন্তু আজকের দর্শক জাঁকজমকটাও চায় । ‘জানি । আমার মনে হয় সে অভাব এবার পূরণ হবে। অ্যাদ্দিন যে হয়নি তার একমাত্র কারণ পৃজির অভাব।
নয়ন রহস্য (পর্ব-৫)
সে অভাব মিটল কী করে? ভুরু তুলে প্রশ্ন করল ফেলুদা। ‘সুখবরটা দেবার মওকা খুঁজছিলাম আমি একজন ভালাে পৃষ্ঠপােষক পেয়েছি, স্যার। ‘এই সেদিনই বলছিলাম, আর এর মধ্যেই… ? ‘হ্যাঁ স্যার। আপাতত আর কোনাে ভাবনা নেই। ‘কিন্তু কে সেই ব্যক্তি সে কি জানতে পারি ? কিছু মনে করবেন না, স্যার—তিনি তাঁর নামটা উহ্য রাখতে বলেছেন।
‘কিন্তু ব্যাপারটা ঘটল কী করে সেটা বলাও কি বারণ ? ‘মােটেই না । এই ভদ্রলােকের এক নিকট-আত্মীয় গত রবিবার আমার শশা দেখে সেই রাত্রেই ভদ্রলােককে নয়নের কথা বলেন। রাত দশটায় ভদ্রলােকের কাছ থেকে আমি ফোন পাই। তিনি বলেন যে, অবিলম্বে আমার সঙ্গে একবার দেখা করতে চান। আমি পরদিনই সকাল দশটায় সময় দিই। উনি কাঁটায় কাঁটায় দশটায় এসে হাজির হন।
তারপর বৈঠকখানায় এসে বসে আমাকে প্রথমেই জিজ্ঞাসা করেন জ্যোতিষ্ককে কী ভাবে দেখা যায় । নয়ন আমার কাছেই থাকে জেনে ভদ্রলােক তৎক্ষণাৎ নয়নকে ডেকে পাঠাতে বলেন। নয়ন এলে পর ভদ্রলােক তাকে দুএকটা এমন প্রশ্ন করেন যার উত্তর সংখ্যায় হয়। নয়ন অবশ্যই ঠিক ঠিক জবাব দেয় । ভদ্রলােক হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ নয়নের দিকে চেয়ে থেকে নিজেকে সামলে নিয়ে আমার দিকে ঝুঁকে পড়ে প্রস্তাবটা দেন।
‘কী প্রস্তাব ? ‘প্রস্তাবটা আমাকে হাতে চাঁদ পাইয়ে দিল। উনি বললেন আমার শাে-য়ের সব খরচ উনি বহন করবেন। একটা কোম্পানি স্থাপন করবেন যার নাম হবে “মিরালস আনলিমিটেড”। এই কোম্পানির মালিক কে তা কেউ জানবে না। এই কোম্পানির হয়েই আমি শাে করব । তা থেকে খ্যাতি যা হবে তা আমার, খরচ হয়ে লাভ যা হবে তা ওঁর। আমাকে উনি মাসােহারা দেবেন যাতে আমার আর নয়নের স্বচ্ছন্দে চলে যায়। আমি অবিশ্যি এ প্রস্তাবে রাজি হই, কারণ আমার মন থেকে সমস্ত চিন্তা দূর হয়ে যাচ্ছে এতে।
নয়ন রহস্য (পর্ব-৫)
‘কিন্তু এমন সুযােগ উনি হঠাৎ কেন দেবেন সে কথা জিজ্ঞেস করনি ? স্বভাবতই করেছি, এবং উনি তাতে এক অদ্ভুত কাহিনী শােনালেন। ওনার শখ ছিল পেশাদারি যাদুকর হবেন। ইস্কুল থেকে শুরু করে বাইশ বছর বয়স পর্যন্ত উনি সমানে ম্যাজিক অভ্যাস করেছেন, ম্যাজিকের বই আর সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছেন। বাদ সাধলেন ওঁর বাবা । তিনি ছেলের এই নেশা সম্বন্ধে কিছুই জানতেন না। একদিন ঘটনাচক্রে জানতে পেরে রেগে আগুন হয়ে ছেলের মাজিকের সব সরঞ্জাম ছুড়ে ফেলে দিয়ে জোর করে। তাকে ব্যবসায় নামান।
অসম্ভব কড়া মেজাজের লােক ছিলেন বাবা, তাই। ছেলে তাঁর শাসন মেনে নেন। শুধু তাই নয়, অল্পদিনের মধ্যেই তিনি ভালাে রােজগার করতে শুরু করেন । তা সত্ত্বেও তিনি ম্যাজিকের মােহ কাটিয়ে উঠতে পারেন না। ভদ্রলােক বললেন, “আমি রােজগার করেছি অনেক কিন্তু তাতে আমার আত্মার তৃপ্তি হয়নি । এই ছেলেকে দেখে বুঝতে পারছি এই আমার জীবনে সার্থকতা এনে দেবে।” ‘তােমার সঙ্গে লেখাপড়া হয়ে গেছে ?
Read More
