নীল অপরাজিতা-পর্ব-(১২)-হুমায়ূন আহমেদ

নীল অপরাজিতা

পুষ্পের গলা ছেড়ে কাঁদতে ইচ্ছা করছেতাদের বাড়ি গ্রামের এক প্রান্তেআশেপাশে কোন বাড়িঘর নেই যে সে ছুটে গিয়ে বলবে আমার বড় বিপদআমাকে একটু সাহায্য করুন। 

শওকত সাহেব নিঃশব্দে উপস্থিত হলেনপুষ্প হারিকেন উচিয়ে ধরলতিনি লজ্জিত বিব্রত গলায় বললেন, ঝড়ের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলামচশমা টশমা ভেঙ্গে একাকার করেছি। 

পুষ্প কিছুই বলল না| চিনতে পারছ তাে আমাকে? কাদা মেখে ভূত হয়ে আছিতােমাদের বাড়িতে ডেটল জাতীয় কিছু আছে? হাত কেটে ফেলেছি। 

পুষ্প হারিকেন উচু করে ধরেই আছেকিছু বলছে নামনে হচ্ছে সে একটা ঘােরের মধ্যে আছে। 

 তুমি বােধ হয় খুব দুঃশ্চিন্তা করছিলেএমন ঝড় শুরু হবে কল্পনাও করিনিতবে মজার ব্যাপার কি জান 1 enjoyed it. শুধু তাই না 1 enjoyed it thoroughly. করিম সাহেব কোথায় ? উনি ফেরেননি

তুমি পুরাে ঝড়ের সময়টা একা ছিলে

জিআপনি কূয়াতলায় আসুনকাদা ধুয়ে তুলুনআমি সাবান এনে দিচ্ছিহাত কতটা কেটেছে?” 

বেশী না” 

দেখি। 

তিনি হাত মেলে ধরলেনঅনেকখানিই কেটেছেরক্তে মাখামাখি হয়ে আছে। 

নীল অপরাজিতা-পর্ব-(১২)-হুমায়ূন আহমেদ

কুয়াতলা কোন দিকে? আমি এখন প্রায় কিছুই দেখতে পাচ্ছি নাহারিকেনটা ভালমত ধর। 

পুষ্প বলল, চশমা ছাড়া এখন আপনার চলবে কি করে? স্যুটকেসে আমার আরেকটা চশমা আছে। 

শওকত সাহেব মাথায় প্রায় তিন বালতি পানি ঢেলে ফেললেনপুষ্প বলল, আর পানি দেবেন না ঠাণ্ডা বাধিয়ে বসবেন। 

 তিনি হাসিমুখে বললেন, পানিটা গরম, গীয়ে ঢালতে খুব আরাম লাগছেবৃষ্টির পানি কি যে ঠাণ্ডা ছিল কল্পনাও করতে পারবে নামনে হচ্ছিল শীতে জমে যাচ্ছিশােন পুষ্প, তােমাকে এখানে দাড়িয়ে থাকতে হবে না তুমি খুব কড়া করে এক কাপ চা বানাও। 

পূষ্প নড়ল নাসে তােয়ালে হাতে দাঁড়িয়ে আছেপুষ্প আবার বলল, আর পানি ঢালবেন নাআপনি নির্ঘাৎ অসুখ বাঁধাবেন| আমার কিচ্ছু হবে নাআমি হচ্ছি ওয়াটার প্রুফযখন ক্লাশ টেনে পড়ি তখন একবার বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে পৌষ মাসের শীতে পুকুরের পানিতে সারারাত গলা ডুবিয়ে বসেছিলামযদি অসুখ না বাধাই তাহলে একশ টাকা পাবএই ছিল বাজীবাজীতে জিতে একশ টাকা পেলাম এবং “ওয়াটার প্রুপটাইটেল পেলামএদিকে আমার বন্ধুরা যারা সারারাত পুকুর পাড়ে বসেছিল তাদের প্রত্যেকের ঠাণ্ডা লেগে গেলএকজনতাে নিউমােনিয়ায় মর মর হল। যে পুষ্প এতক্ষণ গম্ভীর হয়েছিল সে খিল খিল করে হেসে উঠল। 

নীল অপরাজিতা-পর্ব-(১২)-হুমায়ূন আহমেদ

তিনি বললেন, তুমি দেখি হাসতেও পারআমি ভেবেছিলাম তুমি হাসতে পার না। 

পুষ্প বলল, আপনি কি সত্যিই ওয়াটার প্রুফ টাইটেল পেয়েছিলেন ? সত্যি পেয়েছিলামএকটা রাবার স্ট্যাম্প বানিয়ে ছিলাম যেখানে লেখা 

Md. Shawkat 

  1. W. P
  2. w. P. মানে ওয়াটার প্রুফবুঝলে পুষ্প, কেন জানি খুব আনন্দ লাগছেকারণটা ধরতে পারছি না। 

পুষ্প বলল, আমি বলব কারণটা কি

বল তাে। 

ঝড়ের সময় আপনি খুব ভয় পেয়েছিলেনভেবেছিলেন মারা যাচ্ছেনযখন দেখলেন মারা যাননি এবং ঝড় শেষ হয়েছে তখন আনন্দে মন ভরে গেল। 

যুক্তিতাে তুমি ভালই দিয়েছভেরি গুডআই লাইক ইটতােমার বুদ্ধি তাে ভালই। 

আপনি কি ধরেই নিয়েছিলেন বুদ্ধি খারাপ হবে ? খারাপ হবে ধরিনিএভারেজ বুদ্ধি ধরেছিলামভালও নাখারাপও নাআপনি কি নিজেকে খুব বুদ্ধিমান মনে করেন‘া করিতুমি কর না?‘া আমিও করি। 

ওয়াটার প্রুফ টাইটেল রাখা তার সম্ভব হল নাগােসল শেষ করে গা মুছতে গিয়ে মনে হল জ্বর আসছেহাতপা কেমন জানি করছেমাথা ভার ভার হয়ে গেছেপুরােপুরি নিশ্চিত হবার জন্যে নিজের ঘরে ঢুকে সিগারেট ধরালেনসিগারেট বিস্বাদ লাগলতিনি বিছানায় শুয়ে পড়লেনগায়ে চাদর টেনে দিলেনচাদরে শীত মানছে নাপুষ্পকে বলতে হবে কম্বলটম্বল দিয়ে যেতে। 

নীল অপরাজিতা-পর্ব-(১২)-হুমায়ূন আহমেদ

কম্বলের কথা মনে আসতেই দুলাইনের কবিতাও মনে এসে গেল। 

ভঞ্জের পিসি তাই সন্তোষ পান 

কুঞ্জকে করেছেন কম্বল দান।” এখন এই কবিতা মাথার ভেতর ক্রমাগত ঘুরপাক খেতে থাকবেকিছুতেই মাথা থেকে তাড়ানাে যাবে না। 

ভঞ্জের পিসি তাই সন্তোষ পান। 

কুঞ্জকে করেছেন কম্বল দানস্বাতীকে এই কবিতা তিনি শুনাতেনঅতি দ্রুত আবৃতি করতেনস্বাতী কিছু না বুঝেই হাত তালি দিত এবং খিলখিল করে হাসতহামাগুড়ি দিয়ে তার কাছে এগিয়ে আসতএকবার স্বাতী খাটে বসে আছে তিনি ঘরে ঢুকে দ্রুত কবিতা পড়লেনস্বাতী হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে আসতে গিয়ে খাট থেকে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেল। 

রেনু ছুটে এসে মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে চিৎকার করে উঠল কি হয়েছে? আমার মেয়ের কি হয়েছে

রেনুর সেই হাহাকার এখনাে বুকে বিঁধে আছে। কবিতার সঙ্গে সঙ্গে সেই 

 

 

Read more

নীল অপরাজিতা-পর্ব-(১৩)-হুমায়ূন আহমেদ

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *