নীল অপরাজিতা-পর্ব-(১৩)-হুমায়ূন আহমেদ

নীল অপরাজিতা

হাহাকারও মনে আসে। 

ভঞ্জের পিসি তাই সন্তোষ পান কুঞ্জকে করেছেন কম্বল দান। 

একি যন্ত্রণা ! লাইন দুটি আরাে গভীরভাবে মাথায় বসে যাচ্ছেএক সময় মাথা থেকে ছড়িয়ে পড়বে শরীরেশরীরের রক্ত কণিকাগুলিও তাল মিলিয়ে আবৃত্তি করতে থাকবে। 

পুষ্প চা নিয়ে ঢুকেছে। 

তিনি পুষ্পের দিকে তাকালেনপুষ্প চায়ের কাপ টেবিলে রেখে তার দিকে এগিয়ে আসছেমেয়েটি কি এখনাে তাকে ভয় পায়? হ্যা নিশ্চয়ই পায়সহজ স্বাভাবিক সম্পর্ক এখন আর তার কারাে সঙ্গেই নেইBy pains men come to greater pains. বড় হবার জন্যে মানুষকে নানা ধরনের কষ্ট করতে হয়তারপর দেখা যায় তার জন্যে আরাে বড় কষ্ট অপেক্ষা করছে। 

পুষ্প তুমি আমাকে একটা কম্বল দিতে পার

পুষ্প হঁানা কিছুই বলল নাখুবই স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তার কপালে হাত রাখলনা মেয়েটা তাকে খুব বেশী ভয় এখন পায় নাভয় পেলে এত সহজে কপালে হাত রাখতে পারত না। 

নীল অপরাজিতা-পর্ব-(১৩)-হুমায়ূন আহমেদ

পুষ্প• 

কবিতা শুনবে

পুষ্প চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলকিছুই বলল নাতিনি নীচু গলায় বললেন – 

ভঞ্জের পিসি তাই সন্তোষ পান 

কুঞ্জকে করেছেন কম্বল দানপুষ্প কপাল থেকে হাত সরিয়ে, আবার কপালে অন্য হাত রাখলগা মনে হল পুড়ে যাচ্ছেসে কি করবে বুঝতে পারছে নাবাবা এখনাে ফিরেনি ময়নাতলা স্কুলের দপ্তরি ইউনুসকে দিয়ে চিঠি লিখে পাঠিয়েছেন আমার ফিরিতে কিঞ্চিৎ বিলম্ব হইবেঝড়ে স্কুলগৃহের বিপুল ক্ষতি হইয়াছেহেড মাষ্টার সাহেবের অফিসকক্ষের কাগজপত্র বিনষ্ট হইয়াছেএকটা ব্যবস্থা না করিয়া আসিতে পারিতেছি নাএদিকে হেডমাষ্টার সাহেব প্রাতঃকালে নেত্রকোনা গিয়াছেন, এখনাে ফিরেন নাই। 

শওকত সাহেব চোখ খুলে আবার বন্ধ করে ফেললেনআলাে চোখে লাগছে। 

পুষ্প। 

জি। 

কুঞ্জ কে জান

জীর্ণ দেউল এক, এক কোণে তারি

অন্ধ নিয়াছে বাসা কুঞ্জ বিহারীআমি আপনার জন্যে একটা লেপ নিয়ে আসি। 

বাতি নিভিয়ে দিয়ে যাও পুষ্পবাতি চোখে লাগছেআমার মনে হয় তুমি আমার কবিতা শুনে ভয় পাচ্ছভাবছ আমার মাথা খারাপ হয়ে গেছেসে রকম কিছু হয়নিজ্বর আসার মুহূর্তে কি করে জানি এই কবিতাটা মাথার ভেতর ঢুকে গেছে কিছুতেই তাড়াতে পারছি নাতােমার রকম হয় না

নীল অপরাজিতা-পর্ব-(১৩)-হুমায়ূন আহমেদ

হয়। 

পুষ্প নিচে নেমে এলইউনুসকে পাঠাল, ভবেশ বাবুকে খবর দিয়ে আনতে। তিনি হােমিওপ্যাথি চিকিৎসা করেনচিকিৎসক হিসেবে তার কোনরকম খ্যাতি নেইনিজেই বলেন, ওষুধপত্র যা ছিল সব শেষআবার ঢাকায় গিয়ে আনতে হবে। এখন আছে এক প্যাকেট চিনির গুড়াভগবানের নাম নিয়ে দিয়ে দিভগবানের অসীম লীলাএতেই রােগ আরােগ্য হয়। 

ভবেশ বাবু তৎক্ষণাৎ এলেন। 

রুগীর কপালে হাত দিয়ে বললেন, হােমিও প্যাথির কর্ম নাজল চিকিৎসা। মা জননী প্রচুর জল দিয়ে শরীর ঠাণ্ডা করা লাগবজলের ব্যবস্থা করেনশীতল জল। 

শওকত সাহেব টকটকে লাল চোখে তাকালেনসব কেমন এলাে মেলাে হয়ে যাচ্ছেকি একটা জরুরী কথা বলা দরকারকথাটা মনে পড়ছে নাতবে কবিতার দুচরণ এখন আর মাথায় ঘুর ঘুর করছে না। 

ভবেশ বাবু, মাথায় পানি ঢালতে শুরু করলেন| ঘুমে শওকত সাহেবের চোখ জড়িয়ে আসছেএখন আরাম বােধ করছেনপাশ ফিরে ঘুমুতে ইচ্ছা করছেপাশ ফেরা যাবে নাপাশ ফিরলে কানে পানি ঢুকবে। ভবেশ বাবু বললেন, একটু কি আরাম লাগছে স্যার? লাগছেহরে হরে, কৃষ্ণ কৃষ্ণ জল চিকিৎসার উপর চিকিৎসা নাইজল হইল আপনার সর্বরােগ গ্রাসিনীজলে যে সব প্রাণী বাস করে তাদের এই কারণে কোন রােগ বালাই হয় নানিরােগ জীবন যাপন করে। 

নীল অপরাজিতা-পর্ব-(১৩)-হুমায়ূন আহমেদ

শওকত সাহেব বললেন, আপনি জানলেন কি ভাবে? এরা অসুস্থ হলেতাে আপনাকে খবর দেবে নাইচ্ছা থাকলেও এদের ক্ষমতা নেই। 

স্যার আপনি একেবারেই কথা বলবেন নাচুপ করে থাকেন। শরীরটা ভাল বােধ হচ্ছে এই জন্যে কথা বলছি জর মনে হচ্ছে কমেছে ভবেশ বাবু আপনার কাছে থার্মোমিটার আছে

আজ্ঞে নাআমি হােমিওপ্যাথি করিথার্মোমিটার এলােপ্যাথ ডাক্তারদের যন্ত্রআমি নীতিগত ভাবে ব্যবহার করি না। 

জ্বর বুঝেন কি ভাবে? গায়ে হাত দিয়ে বুঝিগায়ে হাত দিয়ে আমার জ্বর আপনার কত মনে হয়েছিল? একশ চারের উপরে ছিলএখন একশ দূই‘ 

শওকত সাহেব পুষ্পের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমার ঐ হ্যান্ড ব্যাগ খুলে দেখ – প্লাষ্টিকের একটা বক্স আছে। ওষুধ পত্র এবং থার্মোমিটার থাকার কথা।

 

Read more

নীল অপরাজিতা-পর্ব-(১৪)-হুমায়ূন আহমেদ

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *