কড়া রোদ উঠেছে। আহসান হাঁটছে অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে। তার তেমন কোনো। পরিকল্পনা নেই। কোন একটা হোটেলে দুপুরের খাবার খেতে হবে। এই পর্যন্ত। বিকেলের জন্যে আরেকটা ঝামেলা বেধে রয়েছে। হাসপাতালে যেতে হবে।শ্যামলী থেকে সে একটা বাসে উঠল। প্রায় ফাঁকা বাস। বাসে চড়লেই তার কেমন ঝিমুনির মতো আসে। আজ আসছে না। এত খালি সিট থাকতেও নোংরা এক বুড়ো এসে বসল তার পাশে। বুডোর হাতে পলিথিনের ব্যাগে কিছু ছোট মাছ।
বিকট গন্ধ আসছে সেখান থেকে। হঠাৎ করেই আহসানের মনে হল পলিথিনের একটা ব্যাগ থাকলে স্যান্ডেলটা নিয়ে আসা যেত। কোনোদিন এ-মেয়েটির সঙ্গে দেখা হলে ফিরিয়ে দেওয়া যেত। সে নিশ্চয়ই অন্য পাটিটি যত্ন করে রেখেছে।বুডোর পলিথিনের ব্যাগ থেকে টপটপ করে মাছের রস পড়ছে। এক ফোঁটা পড়ল আহসানের প্যান্টে উঠে অন্য কোথাও বসা উচিত কিন্তু উঠতে ইচ্ছে করছে না।দরজা খুলে জেরিন বিরক্ত গলায় বলল, দুলাভাই আপনি সবসময় অড আওয়ারে আসেন কেন? ছুটির দিনে আড়াইটার সময় কেউ আসে?
আহসান হাসল।আসুন ভেতরে আসুন। কাঁচাঘুম ভাঙিয়েছেন ভীষণ রাগ লাগছে।সরি। বাসায় আর কেউ নেই? বাবা আছেন। ঘুমুচ্ছেন। মা আপনার পুত্রকে নিয়ে মেজোপার বাসায়। আপনি খেয়ে এসেছেন নিশ্চয়ই? হুঁ। জেরিন হাই তুলে বলল, চোখটা শুধু লেগে এসেছে এমন সময় কলিং বেল টিপলেন। এরকম অসময়ে ফকির-মিসকিনরা এসে কলিং বেল টিপে ভিক্ষা চায়। বুঝলেন সাহেব?
বুঝলাম।কাঁচাঘুম ভাঙলে কি যে খারাপ লাগে।দুপুরে ঘুমের অভ্যাসটা বাদ দাও। হু-হু করে মোটা হয়ে যাবে। পাত্র জুটবে না। চা খাবেন? চা করতে হবে? না হবে না। ফ্ৰিজে ঠাণ্ডা কিছু আছে? পানি আছে। পানি দিতে পারি।তা-ই দাও।
জেরিন পানি আনল সঙ্গে একগ্লাস সরবত। দুটি হিমশীতল সন্দেশ এবং একটুকরো কেক।ফ্রিজে যা পেয়েছি নিয়ে এসেছি। কেকটা বাসি। ওটা খাবেন না।বাসি তো আনলে কেন? প্লেটের শোভা বাড়াবার জন্যে। দুলাভাই, সরবত-টাবত খেয়ে রেস্ট নিন। আমি ঘুমুতে চললাম। সন্ধ্যাবেলা দেখা হবে।সত্যি-সত্যি যাচ্ছ নাকি?
হ্যাঁ সত্যি-সত্যি যাচ্ছি। আপনার ওপর দুটি দায়িত্ব কেউ কলিং বেল টিপলে দরজা খুলবেন। টেলিফোন এলে ধরবেন এবং বলবেনবাসায় কেউ নেই, সন্ধ্যার পর ফোন করুন।আচ্ছা ঠিক আছে—তুমি যাও।রেস্ট নিতে চাইলে রেস্ট নিতে পারেনবিছানা দেখিয়ে দিচ্ছি। আর যদি জেগে থাকতে চান কিছু ম্যাগাজিন-ট্যাগাজিন দিতে পরি। omni বলে একটা চমৎকার ম্যাগাজিন আছে। সায়েন্স ফিকশান ম্যাগাজিন। কিছু লাগবে না।বসে-বসে ধ্যান করবেন?
ঝিমুব। ঝিমুতে ইচ্ছে করছে। তুমি যাও, তোমাকে বসে থাকতে হবে না।জেরিন গেল না। কোলের ওপর দুহাত রেখে ক্লান্ত ভঙ্গিতে বসে রইল। জেরিনের সঙ্গে তারিনের কোনো মিল নেই। দুজন সম্পূর্ণ দু রকম। তবুও এরা দুজন যে বোন তা যে-কেউ ধরতে পারবে। অতি সূক্ষ্ম সাদৃশ্য। তা-ও বা কী করে হয়, সূক্ষ্ম সাদৃশ্য হলে চট করে এরা যে দু বোন তা বলা যায় কি করে?
জেরিনের মধ্যে এক ধরনের কাঠিন্য আছে। সে খানিকটা অহংকারী। অহংকার তার চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে গেছে। চার ভাইবোনের মধ্যে জেরিন সবচেয়ে মেধাবী। মেট্রিক থেকে শুরু করে অনার্স পর্যন্ত চোখ-ধাঁধানো রেজাল্ট করেছে। অনার্স প্রথম নিয়েছিল জিওগ্রাফিতে। সেটা বদলে নিয়েছে স্ট্যাটিসটিক্স। তা-ও নাকি কার ওপর রাগ করে। শুধুমাত্র দেখানোর জন্যে অঙ্কে মেয়েদের মাথা পুরুষদের চেয়ে খারাপ নয়। তা সে দেখিয়েছে।কি ব্যাপার জেরিন ঘুমুতে যাচ্ছ না যে?
যাব খানিকটা ভদ্রতা করে নিই। আফটার অল বড় বোনের হাসব্যান্ড, অভদ্রতা করি কিভাবে? এ-বাড়ির জামাই।জেরিন অল্প-অল্প পা দুলাচ্ছে। কাঠিন্য ও স্নিগ্ধতা মেশানো একটা মুখ দেখতে ভালো লাগে। আহসান বলল, মারুফ আছে কেমন? ভালো আছে বলেই তো মনে হয়। অবশ্যি আমি ঠিক বলতে পারব না। মা বলতে পারবেন। ওর দেখাশোনা মা করেন। আমার এত সময় নেই।পড়াশোনা?
হুঁ। তাছাড়া আপনার পুত্র আমাকে দেখতে পারে না। ঐদিন ভুলিয়ে-ভালিয়ে আমার কাছে এনে শুইয়েছি। মাঝরাতে একা-একা বালিশ নিয়ে উঠে চলে গেছে।তাই নাকি? হ্যাঁ। আমিও ছড়বার পাত্র না। আমি আবার তুলে নিয়ে এলাম। আবার ঘুম ভেঙে একা-একা চলে গেল।তুমি কি করলে? আবার নিয়ে এলে?
ঠিক ধরেছেন। অন্য কেউ হলে এটা করত না, হাল ছেড়ে দিত। আমি এত সহজে হাল ছাড়ি না।খুব ভালো গুণ।ভালো মন্দ জানি না। আমি যেরকম সেরকম। সব মানুষই আলাদা। আপা ছিল আপার মতো। আমি হয়েছি আমার মতো।ফিলসফি করছ? ফিলসফি-টফি না। আমি এইসব তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে আজকাল ভাবি।প্রেমেট্রেমে পড়লে মেয়েরা এইসব ভাবে। ঘটেছে সেরকম কিছু? না। সবাই কি আর আপা?
আহসান কাল তীক্ষ চোখে। জেরিন তার আপার প্রেমের প্রসঙ্গটি অত্যন্ত কঠিনভাবে মাঝেমধ্যে আনে। মনে হয় কোনো বিচিত্র কারণে এই বিষয়টি নিয়েই তারিনের ওপর তার চাপা রাগ আছে। যে-মেয়েটি বেঁচে নেই তার ওপর এতটা রাগ এখনো থাকা খুব অন্যায়।দুলাভাই।বল।আমার মাঝে-মাঝে জানতে ইচ্ছে করে আপনাকে আপা এতটা পছন্দ করেছিল কেন? ভালো লাগার মতো সত্যি কি কিছু আছে আপনার মধ্যে? না নেই।
আসলেই কিন্তু নেই। প্রাইভেট কলেজে মাস্টারি করেন। হেনতেন করে একটা সেকেন্ড ক্লাস পেলেই প্রাইভেট কলেজের মাস্টারি যোগাড় করা যায়। যায় না? হ্যাঁ যায়।আপনার চেহারা ভালো না। গান জানেন না, খেলাধুলা জানেন না। দরিদ্র পরিবারের ছেলে। ভুল বলছি? না।কি দিয়ে আপাকে ভুলিয়েছিলেন? কাইন্ডলি একটু বলুন শুনি। আমি প্রায়ই ভাবি আপনাকে জিজ্ঞেস করব। জিজ্ঞেস করা হয় না। মনে থাকে না।
আহসান সিগারেট ধরাল। এক টুকরো সন্দেশ ভেঙে মুখে দিল। জেরিন নিচু গলায় বলতে লাগল, বড় আপা এবং আমি এক খাটে ঘুমুতাম। বুঝলেন দুলাভাই, আপনি সেই সময় বড় বড় চিঠি লিখতেন আপাকে। আমি ঘুমিয়ে পড়তেই আপা অসংখ্যবার পড়া চিঠি আবার পড়তে বসত।বুঝতে কী করে? তুমি তো ঘুমে।না ঘুমে না। ঘুমের ভান। আপা সেই সব আজেবাজে চিঠি পড়ে খুব কাঁদত। এমন রাগ লাগত আমার।আজেবাজে বলছ কেন?
আজেবাজে বলছি কারণ ঐসব চিঠি আমি লুকিয়ে পড়েছি। নিতান্তই হালকা কথাবার্তা। বানানো সব ব্যাপার। আমি খুব নিশ্চিত ছিলাম বিয়ের পর-পর আপা একটা। শক খাবে। দেখবে এইসব প্রেমট্রেমের ব্যাপারগুলো সত্যি না।তোমার কি মনে হয় শক খেয়েছিল? না বিয়ের পর আপা আরো অন্যরকম হয়ে গেল। যেন পৃথিবীতে আপনি ছাড়া দ্বিতীয় মানুষ নেই। আমি ভীষণ আহত হয়েছিলাম।পাস্ট টেন্সে কথা বলছ, তার মানে কী এই যে এখন আহত হচ্ছ না?
এখনো হচ্ছি। হচ্ছি বলেই আপনাকে জিজ্ঞেস করছি। কি দিয়ে তাকে ভুলিয়েছিলেন? কিছু দিয়েই তাকে ভুলাই নি। সে ভুলেছে নিজ গুণে।আমারও তাই মনে হয়। আপা আপনাকে বিয়ে না করে যদি অন্য কাউকে বিয়ে হলেও একই অবস্থাই হত। তার চিন্তা-চেতনা জুড়ে থাকত ঐ লোকটি।সেটা কি খুব খারাপ?
হ্যাঁ খারাপ। প্রতিটি মানুষের নিজস্ব আইডেনটিটি থাকবে। মেয়ে মানেই কি লতানো গাছ? যে অন্য কাউকে না জড়িয়ে বেঁচে থাকতে পারবে না? পারবে না কেন, নিশ্চয়ই পারবে। তুমি যে অন্তত পারবে এই সম্পর্কে আমি নিশ্চিত।ঠাট্টা করছেন? না ঠাট্টা করছি না। তুমি খুবই স্পিরিটেড মেয়ে। তোমার এই স্পিরিট দেখতে ভালো লাগে।আর আপার কোন জিনিসটা দেখতে ভালো লাগত?
আহসান উত্তর দিল না। জেরিন বলল, বলুন না শুনি। আচ্ছা ঠিক আছে উল্টোটা বলুন আপার কোন জিনিসটা আপনার খারাপ লাগত? ঐ প্রসঙ্গ থাক। অন্য কিছ নিয়ে আলাপ করি শোন। তোমার ঘমের কি হল? জেরিন জবাব দিল না। কি যেন সে ভাবছে। তার কপাল কুঁচকানো, মুখের ভাব চিন্তাক্লিষ্ট। গরমে নাক ঘেমেছে। সুন্দর লাগছে দেখতে। তারিনেরও নাক ঘামত।দুলাভাই।বল।
আপনার সঙ্গে আমার একটি অত্যন্ত জরুরি কথা আছে।এতক্ষণ যা বললে সেগুলো জরুরি নয়? না নয়।বেশ, বল শুনি।বলছি–কিন্তু আপনি আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমার জরুরি কথাটা বলা শেষ হবার পরেও আগে যেভাবে আসতেন এ-বাড়িতে ঠিক এইভাবেই আসবেন।আহসান হাসিমুখে বলল, বেশ নাটকীয় ওপেনিং ব্যাপার কী বলত?
আপনার বাবা, আমার বাবাকে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠি পড়ে বাসার সবাই খুব মন খারাপ করেছে। সবচেয়ে বেশি মন খারাপ করেছি আমি। আপনি বোধ। হয় জানেন না আমি কোনোদিন কাঁদি না, কিন্তু সেই চিঠি পড়ে খুব কেঁদেছি। কেঁদেছি কারণ আমার ধারণা ঐ চিঠি আপনি আপনার বাবাকে দিয়ে লিখিয়েছেন। আপনার বাবা, সরি আমার বোধ হয় ভালই সাহেব বলা উচিত—নিজ থেকে এরকম একটা চিঠি লিখতে পারেন না।
চিঠিটা দেখি।
জেরিন ড়ুয়ার থেকে চিঠি বের করল, আহসানের হাতে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে। গেল। আহসানের অনেক সময় লাগল চিঠি শেষ করতে। তার বাবা কুতুবপুর এম. ই. হাই স্কুলের এ্যাসিসটেন্ট হেড মাস্টার জনাব নেছারউদ্দিন অত্যন্ত প্যাঁচল অক্ষরে একটি দীর্ঘ চিঠি লিখেছেন—
॥ ইয়া রব ।।
প্রিয় বেয়াই সাহেব,
আসোলামু আলায়কুম। পর সমাচার এই যে, দীর্ঘদিন আপনার সঙ্গে পত্ৰ মারফত কোনো যোগাযোগ নাই। গত রমজানে আপনাকে একটি পত্ৰ দিয়াছিলাম সম্ভবত আপনার হস্তগত হয় নাই।যাই হোক, একটি বিশেষ আবদার নিয়া আপনার নিকট এই পত্র প্রেরণ করিতেছি। আবদারটি আপনার তৃতীয় কন্যা জেরিন প্রসঙ্গে। এই অত্যন্ত সুলক্ষণা, বিদ্যাবতী ও গুণবতী কন্যাটির সঙ্গে আহসানের বিবাহ কি হইতে পারে না?
যদি হয় তাহা হইলে মারুফ সম্পর্কে আমাদের সকলের সকল আশংকা দূর হয়। সৎ মার গৃহে শিশুদের কী অবস্থা হয় তা তো আপনার অজানা নাই। আমি নিজেও ভুক্তভোগী। মা জেরিনের সঙ্গে আহসানের বিবাহ দিতে পারিলে সব দিক নিশ্চিত হওয়া যায়। পত্র মারফত এইসব বিষয় আলোচনা করা সম্ভব না। বাধ্য হইয়া করিলাম। কারণ আমি বর্তমানে বাতব্যাধিতে শয্যাশায়ী। হাঁটাচলার সামর্থ্য নাই।আপনি এই পত্রটি বেয়ান সাহেবকে দেখাইবেন। এবং তাঁহার সহিতও পরামর্শ করিবেন।
এই হচ্ছে চিঠি শুরুর প্রস্তাবনা। এরপরও নানান প্রসঙ্গ আছে। তাঁর অসুখের পূর্ণ বিবরণ আছে। কুতুবপুর এম. ই. স্কুল নিয়ে বর্তমানে যে পলিটিক্স চলছে এবং এই পলিটিক্সের ফলে যে স্কুলের অস্তিত্বই বিপন্ন হবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তার বিশদ বিবরণ আছে। এই অবস্থায় কি করা উচিত বলে বেয়াই সাহেব মনে করেন?—এইসবও আছে।আহসান চিঠিটি খামে ভরে টেবিলের ওপর রাখল। জেরিন চা নিয়ে ঢুকছে। শান্ত ভঙ্গিতে টি-পট থেকে চা ঢালছে।
দুলাভাই, মা ফিরেছে। আমাকে বলেছে আপনাকে যেন চলে যেতে না দিই। মা নামাজ পড়েই আসবে। চায়ে চিনি হয়েছে? হ্যাঁ হয়েছে।এখন আপনাকে আরেক কাপ চা খেতে হবে বাবার সঙ্গে। তিনি চা-নাশতা নিয়ে অপেক্ষা করছেন।তাহলে আর এখানে চা দিলে কেন? আপনি সিগারেট ছাড়া চা খেতে পারেন না এই জন্যে।জেরিন হাসল। হাসতে-হাসতে বলল, আজ রাতে তো আপনি থাকবেন এখানে তাই না? তেমন কোনো কথা ছিল কি?
না ছিল না। কিন্তু আমি জানতাম আজ আপনি আসবেন এবং রাতে থেকে যাবেন। আমি মাকে সকালবেলাতেই বলে রেখেছি ভালোমতো বাজার করতে।আজ কি কোন বিশেষ দিন? জেরিন তীব্র গলায় বলল, কেন প্রিটেন্ড করছেন? আপনি ভালোই জানেন আজ কোন দিন। জানেন বলেই এসেছেন। গত দু মাসে কি একবারও এসেছেন এ-বাড়িতে?
আহসানের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। আজ এগারই শ্রাবণ। এই দিনে পাঁচ বছর আগে তারিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। বাসর হয়েছিল এ-বাড়িতেই। খুব ঝড়-বৃষ্টির রাত ছিল বলে বর-কনেকে যেতে দেওয়া হয় নি।জেরিন ঠাণ্ডা গলায় বলল, যান বাবা বসে আছে। দেখা করে আসুন।
আহসানের শ্বশুর ইমতিয়াজ সাহেব ঠাণ্ডা ধরনের মানুষ। কোন কিছুতেই উত্তেজিত না হওয়ার অসাধারণ গুণটি তিনি আয়ত্ত করেছেন। সারাজীবন জজিয়তি করে-করে কথা না বলে শুধু শুনে যাওয়ার বিষয়টিও তাঁর মজ্জাগত হয়েছে। অসম্ভব ভদ্রলোক। নিজের জামাইয়ের সঙ্গে কথা বলার সময়ও খুব লক্ষ রাখেন যেন কোথাও সৌজন্য এবং শিষ্টতা ক্ষুণ্ণ না হয়।
আহসানকে তিনি কখনো সহজভাবে নিতে পারেন নি। অবশ্যি তা বুঝতেও দেন নি; তবে এইসব ব্যাপারগুলি বোঝা যায়। আহসানের বুঝতে অসুবিধা হয় নি। নিতান্তই অপ্রাসঙ্গিকভাবে একবার সে তারিনকে বলেও ফেলল, তোমার বাবা আমাকে সহ্য করতে পারে না কেন বল তো?
Read more
