হুমায়ন আহমেদ এর যখন নামিবে আঁধার পর্ব-১৬

আমি কমােড় থেকে পানি আনব আপনি কল্পনা করবেন ঝরনার পবিত্র পানি খাচ্ছেন। বেঁচে থাকার জন্যে আপনার পানি খাওয়াটা জরুরি। ঠিক না স্যার?যখন নামিবে আঁধারহ্যা ঠিক। 

মিসির আলি ঘুমিয়ে পড়লেন। তিনি কতক্ষণ ঘুমালেন তা জানেন না। পানির পিপাসায় তার বুক শুকিয়ে গেছে। বিছানা থেকে নামার শারীরিক শক্তি তার নেই। 

মাথার কাছে দুঃখিত চোখমুখ করে পারুল দাঁড়িয়ে আছে। মিসির আলি বললেন, পারুল। আমাকে একগ্লাস পানি খাওয়াতে পারবে? 

আমি পারুল না । আমি এক ভূতনি। আমার নাম—হুড়বুড়ি। ও আচ্ছা, তুমি হুড়বুড়ি? জি হুড়বুড়ি। একটা ছড়া শুনবেন স্যার। 

হুড়বুড়ি, থুরথুরি বুড়বুড়ি, কুরকুরি ফুরফুরি ফুরফুরি মিসির আলি বললেন, চুপ করাে প্লিজ। 

হুড়বুড়ি চুপ করল। তখন বেজে উঠল লাল টেলিফোন। এই টেলিফোনের তার ছেড়া, তারপরেও বাজছে কেন? টেলিফোন নিশ্চয়ই বাজছে না। তিনি ভুল শুনছেন। তাঁর বিভ্রান্তির কাল শুরু হয়েছে। 

 রিং হতে হতে টেলিফোন থেমে গেল। এখন ভাঙচুরের শব্দ হচ্ছে। মিসির আলি বললেন, কী হচ্ছে ? 

হুড়বুড়ি বলল, স্যার! পুলিশ এসেছে । দরজা ভাঙছে। শব্দ শুনছেন? মিসির আলি ক্লান্ত গলায় বললেন, ও আচ্ছা পুলিশ। 

যখন নামিবে আঁধার পর্ব-১৬

পুলিশের সঙ্গে জসু আছে। মনে হয় সে-ই আপনাকে উদ্ধারের জন্যে পুলিশ এনেছে। 

স্যার! দরজা ভেঙে ফেলেছে। তাকিয়ে দেখুন, পুলিশ ঢুকছে। 

মিসির আলি তাকিয়ে আছেন। তিনি পুলিশ দেখতে পাচ্ছেন। জসুকে দেখতে পাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে মল্লিক সাহেবও আছেন। একজন মৃত মানুষ। যার ডেডবডি কুয়া থেকে তােলা হয়েছে। মৃত মানুষ সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। এটা নিশ্চয়ই হেলুসিনেশন। 

মিসির আলি চোখ বন্ধ করলেন। 

স্যার, চোখ মেলুন । 

যখন নামিবে আঁধার পর্ব-১৬

মিসির আলি চোখ মেললেন। তার কাছে মনে হলাে তিনি হাসপাতালে আছেন। তাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। একজন অল্পবয়সী ডাক্তার তার সামনে দাড়িয়ে। এই ডাক্তার লাল সােয়েটারের ওপর সাদা অ্যাপ্রন পরেছে। তাকে সুন্দর লাগছে। 

স্যার, আপনি একটা প্রাইভেট হাসপাতালে আছেন এবং ভালাে আছেন । আপনার শরীর খাদ্য গ্রহণের জন্যে এখনাে তৈরি না বলে আপনাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। স্যার, আপনি কি আমার কথা বুঝতে পারছেন ? 

পারছি।। 

পুলিশ ইন্সপেক্টর রকিব আপনার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলতে চান । কথা বলবেন? 

পুলিশ ইন্সপেক্টর রকিব এসে সামনে দাঁড়ালেন। মিসির আলির দিকে তাকিয়ে হাসলেন। মিসির আলির এখন মনে হলাে, তাঁর হেলুসিনেশন হচ্ছে না। তিনি বাস্তবে বাস করছেন। হেলুসিনেশনের দৃশ্যগুলাে চড়া রঙে আঁকা হয়। এখন তা 

না । 

মিসির আলি বললেন, আমি কত দিন বন্দি ছিলাম ? রকিব বললেন, ছয় দিন । আমি বন্দি—এই খবর আপনাদের কে দিল ? একজন মহিলা টেলিফোনে জানিয়েছেন। তাঁর নাম পারুল। কবে জানিয়েছে ? 

যেদিন আপনাকে আটকানাে হয় তার পরদিন ভােরবেলা। আমরা তাঁর কথা গুরুত্বের সঙ্গে নেই নি। কারণ এই মহিলা উদ্ভট সব কথা বলছিলেন। তার মৃত শ্বশুর জীবিত হয়ে ফিরে এসেছেন, এইসব হাবিজাবি। 

মিসির আলি চোখ বন্ধ করলেন। ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে পড়ছে। কথা বলতে বা কথা শুনতে ইচ্ছে করছে না। ঘুমুতে ইচ্ছে করছে।

 

Read More

হুমায়ন আহমেদ এর যখন নামিবে আঁধার পর্ব-১৭

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *