লাল টেলিফোনের নম্বর জানতে হবে। তারপর বের করতে হবে—এই টেলিফোন থেকে কাকে কাকে টেলিফোন করা হয় সেই তথ্য । মােবাইল ফোনে এই তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ল্যান্ড টেলিফোনে থাকে কি না, তিনি জানেন না। চেষ্টা করতে দোষ নেই। মুন হােটেলের মালিক কবীর সাহেবের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। এই লােকের
কানেকশান ভালাে । মিসির আলির শারীরিক অসুস্থতা মনে হয় সেরে গেছে। তিনি যথেষ্টই বল পাচ্ছেন।
মিসির আলি বিছানা থেকে নামলেন। তাঁকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ অর্ডার নিয়ে হােটেলে চলে যেতে হবে। হােটেল থেকে জিনিসপত্র নিয়ে উঠতে হবে মল্লিক সাহেবের ভাড়া বাসায় । তাঁকে হােটেলে থাকলে হবে না। থাকতে হবে মূল ঘটনার কাছাকাছি।
এ মল্পিক কাচ্চি হাউসের ম্যানেজার মবিনুদ্দিন এবং
মিসির আলির কথােপকথন মিসির আলি কেমন আছেন ?
মবিনুদ্দিন : আলহামদুলিল্লাহ, ভালাে আছি। আপনার দোয়া। মিসির আলি আপনি ভালাে থাকুন এমন দোয়া তাে করি নাই।
যখন নামিবে আঁধার পর্ব-২০
মবিনুদ্দিন : আপনি আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন, এতে আমার প্রতি আপনার মুহব্বত প্রকাশিত। যে মানুষ আমাকে মুহব্বত করে, সে তার নিজের অজান্তেই আমার জন্যে দোয়া করে।
মিসির আলি আমি আপনার কাছে দু’একটি জিনিস জানতে চাচ্ছি। মল্লিক সাহেব বিষয়ে কিছু তথ্য আপনি কি বলবেন?
মবিনুদ্দিন মুনিবের ক্ষতি হয় এমন কিছু আমি বলব না। আমি উনার নুন খাই। যার নুন খাই তার গুণ গাই‘—এটা আমার ধর্ম।
মিসির আলি আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে, মল্লিক সাহেবের ক্ষতি হয়, এমন তথ্য আপনার কাছে আছে ?
মবিনুদ্দিন আমি আপনার সঙ্গে বাহাসে যাব না। আসসালামু আলায়কুম। মিসির আলি চলে যাচ্ছেন ? মবিনুদ্দিন জি। আল্লাহ হাফেজ।
মল্লিক সাহেবের বাড়ির দারােয়ান আক্কাস মিয়া
এবং মিসির আলির কথােপকথন আক্কাস মিয়া স্যার, আমি কিছুই জানি না। আমি কিছুই দেখি নাই। আমার রাতকানা রােগ আছে। রাইতে খালি অন্ধাইর দেখি। আর কিছু দেখি না।
মিসির আলি দিনে তাে দেখেন।
আক্কাস মিয়া আমি দিনেও দেখি না। মিসির আলি : দারােয়ানের চাকরি করেন, রাতেও দেখেন না, দিনেও দেখেন ?
আক্কাস মিয়া জি-না।
মিসির আলি রাতেও দেখেন না, দিনেও দেখেন না—এই তথ্য কি মল্লিক সাহেব জানেন ?
আক্কাস মিয়া উনাকে জানাই নাই । জানালে চাকরি চলে যাবে, এইজন্যে। স্যার, আমি এখন যাই। আসসালামু আলায়কুম।
যখন নামিবে আঁধার পর্ব-২০
মিসির আলি এবং সুরমা হােমিও হাসপাতালের নার্স জাহানারা বেগমের সাক্ষাৎকার মিসির আলি আপনি কি জানেন যে, আমাকে মল্লিক সাহেবের বাড়ির একটা ঘরে ছয় দিন আটকে রাখা হয়েছিল ?
জাহানারা বেগম জি-না, জানি না। আমি অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকি। স্যারের বাড়ির সঙ্গে কোনাে সম্পর্ক আমার নাই। স্যারের কুলখানিতে আমাকে উনার বড় ছেলে দাওয়াত দিয়েছিল, সেখানেও যাই নাই।
মিসির আলি মল্লিক সাহেবের দুই ছেলে ছক্কা-বক্কা দাবি করে যে তারা দুইজন মল্লিক দেখে। এই বিষয়ে কিছু জানেন ?
জাহানারা বেগম কিছু জানি না। তারা দুইজন বাবা দেখে না তিনজন দেখে, এটা তাদের বিষয়। আমার বিষয় না।
মিসির আলি : গত ছয় দিন ধরে মল্লিক সাহেবের কোনাে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে । উনি কোথায় জানেন ?
জাহানারা জানি না, উনি কাজকামের মানুষ। উনি কাজকর্ম নিয়া থাকেন।
মিসির আলি আমি শুনেছি আপনি মাঝে মাঝে রাতে বাসায় যান না। দুই বেডের হাসপাতালে থেকে যান । এটা কি সত্যি?
জাহানারা বেগম কাজকামের চাপ যখন বেশি থাকে, তখন বাধ্য হয়ে থাকতে হয়। রােগী ভর্তি হলে রাত জেগে তার সেবা-যত্ন করতে হয়, তখন থাকা লাগে ।
মিসির আলি মল্লিক সাহেবের এই হাসপাতালে কখনাে কি রােগী ভর্তি হয়েছে ?
জাহানারা আপনি উল্টা পাল্টা প্রশ্ন কেন করছেন ? আপনি তাে পুলিশের লােক না । পুলিশের লােক হলেও আমি ভয় পাই না। আপনাকে সত্যি কথা বলি—স্বামীর সঙ্গে আমার বনিবনা নাই। প্রায়ই ঝগড়া হয়। তখন এখানে থাকি। যাদের মনে পাপ, তারা এর মধ্যে পাপ দেখতে পারে, আমার মধ্যে কোনাে পাপ নাই। আমি বুঝতে পেরেছি, কেউ আপনার কাছে কিছু লাগায়েছে। আপনাকে বলেছে যে, আমি যখন রাতে থেকে যাই, তখন মল্লিক স্যার আমার ঘরে থাকেন। ইহা সত্য না। মানুষের কথায় দয়া করে নাচবেন না। ক্লিয়ার ?
যখন নামিবে আঁধার পর্ব-২০
মিসির আলি জি ক্লিয়ার।
ইন্সপেক্টর রকিব এবং মিসির আলির কথােপকথন মিসির আলি আপনারা কি মল্লিক সাহেবের কেইসটা ক্লোজ করে দিয়েছেন ?
রকিব জি-না। কেইস চালু আছে। গােপনে গােপনে তদন্ত চলছে। মাঝে মাঝে আমরা এ রকম করি। ভাব দেখাই যে মামলা তুলে নেওয়া হয়েছে। তখন সাসপেক্টরা গা ছেড়ে দেয়। এতে আমাদের সুবিধা হয়।
Read More