দু’বার টোকা পড়ল দরজায়। জরী বলল, কে ? ‘আমি। আমি শুভ্র। আমরা এসে গেছি।
জরী পাশ ফিরতে ফিরতে বলল, ও, আচ্ছা। শুভ্র বলল, এখন আমরা নামব।
জরী হাই তুলতে তুলতে বলল, আমি আরাে খানিকক্ষণ শুয়ে থাকতে চাই শুভ্র। এই ধরো, পাঁচ মিনিট।
‘তােমার গায়ে কি জ্বর আছে ?” ‘বুঝতে পারছি না। মনে হয় আছে। শুভ্র, তুমি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থেকো । তুমি নেমে যাও। আমি নিজে নিজেই নামব। | ‘আচ্ছা। রাতে তােমার কি ভাল ঘুম হয়েছে ?
‘খুব ভাল ঘুম হয়েছে।‘
রানার মাথায় রক্ত উঠে গেছে। মাথায় রক্ত ওঠার মতাে অনেকগুলি কারণের
একটি হচ্ছে নইমা ট্রেন থেকে নেমে কোনােদিকে না তাকিয়ে সােজা ওভারব্রিজে উঠে গেছে। রানার একবার ইচ্ছা করছিল, ডেকে জিজ্ঞেস করে – যাচ্ছ কোথায় ? শেষ পর্যন্ত জিজ্ঞেস করেনি। কী দরকার? যাক যেখানে ইচ্ছ। তার দায়িত্ব কী? সে আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে গেলে সবাই রেগে যায়। কী দরকার সবাইকে রাগিয়ে ? হু কেয়ারস ? গাে টু হেল।
রূপালী দ্বীপ-পর্ব-১৫
রানা খানিকক্ষণ নির্বিকার থাকতে চেষ্টা করেছে। শেষটার রওনা হয়েছে খোজ নিতে। ওদের ভাল লাগুক বা না লাগুক, খোজ তো রাখতেই হবে। রানা পুরাে স্টেশন খুঁজে এল। নইমা নেই। কোনাে মানে হয়? জ্বলজ্যান্ত একটা মেয়ে তাে হারিয়ে যেতে পারে না বা বাতাসেও মিলিয়ে যেতে পারে না। হয়েছেটা কী ? আনুশকাকে ঘটনাটা জানানাে দরকার। সে শুনে হয়তাে এমন কিছু বলবে, যাতে আবার মাথায় রক্ত উঠে যাবে।।
রানা আনুশকাদের কামরার জানালার কাছে এসে দাড়াল। আনুশকা বলল, কিছু বলবে ?
‘নইমা কোথায় ? ‘প্ল্যাটফর্মে নেমেছে। ‘আমি তাে কোথাও দেখলাম না।
আনুশকা হাই তুলতে তুলতে বলল, আছে কোথাও। ব্যস্ত হবার কিছু নেই। একটা মেয়ের কোনাে “ট্রেস” নেই আর আমি ব্যস্ত হব না?” ‘ট্রেস থাকবে না কেন? ট্রেস ঠিকই আছে। তুমি খুঁজে পাচ্ছি না।
রানা রাগ সামলাতে একটু দূরে সরে গেল। সিগারেট ধরাল। আর তখন দু’জন পুলিশকে এগিয়ে আসতে দেখল। তাদের সঙ্গে সাদা পােশাকের একজন। সেও যে পুলিশের তা বােঝা যাচ্ছে। তারা থমকে দাড়ল। সাদা পােশাকপরা লােকটি এগিয়ে এল।
রূপালী দ্বীপ-পর্ব-১৫
‘আপনি কি ঢাকা থেকে আসছেন? ‘জ্বি। ‘কয়েকজনের একটা পিকনিক পার্টি ?”
‘চারটি মেয়ে আছে আপনাদের দলে ?
‘ওদের একজনের নাম জরী?
‘আপনাদের সবাইকে থানায় যেতে হবে।
‘কী বললেন? ‘আপনাদের থানায় যেতে হবে।
‘ঢাকা থেকে ম্যাসেজ এসেছে, আপনারা মনিরুজ্জামান সাহেবের স্ত্রীকে জোর করে ধরে নিয়ে চলে এসেছেন।
‘কী বলছেন এসব ! ‘আমাদের কাছে ইমফরমেশন যা আছে তাই বলছি।
রানার হাতের সিগারেট নিভে গেছে। সে নেভা সিগারেটই টানছে। তার মাথা। ভো ভো করছে। এ কী সমস্যা ! এই সমস্যায় উদ্ধারের পথ কী? পুলিশের সঙ্গে প্রতিটি কথা মেপে বলতে হয়। বিচার–বিবেচনা করে বলতে হয়। মাথায় কোনাে বুদ্ধি, কোনাে বিচার বিবেচনা আসছে না। বরং হঠাৎ করে প্রচণ্ড বাথরুম পেয়ে গেছে। মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে বাথরুমে ছুটে না গেলে সমস্যা হয়ে যাবে। প্যান্ট ভিজে কেলেঙ্কারি হবে। রানা ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলল, স্যার, আপনারা ঠিক বলছেন?
রূপালী দ্বীপ-পর্ব-১৫
সাদা পােশাকের ভদ্রলােক গম্ভীর গলায় বললেন, আমরা ঠিক বলছি না ভুল বলছি তার বিবেচনায় আপনাকে যেতে হবে না। আমরা যে খবর পেয়েছি সেই হিসাবে কাজ করছি। আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযােগ গুরুতর। একজনের বিবাহিতা
স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে চলে এসেছেন।
‘খবরটা সত্য না স্যার। বিয়ে হয়নি।
‘আপনাদের খবরের উপর আমরা নির্ভর করি না। আমরা খবর পেয়েছি অনেক উপরের লেভেল থেকে।
‘ও, আচ্ছা। ‘মিসেস মনিরুজ্জামান কি আপনাদের সঙ্গে আছেন?” “জ্বি স্যার।
Read more