রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-৭)

বিয়ের আসর থেকে তুই পালিয়ে এলি কীভাবে

বড় চাচী ব্যবস্থা করে দিলেনআমি হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে বসে ছিলামবড় চাচী পালিয়ে যেতে বললেন। 

রূপালী দ্বীপআগে তো শুনেছিলাম, তাের এই চাচী তােকে দেখতে পারে নামানুষকে চট করে চেনা যায় না, আনুশকাএই চাচী আমাকে সত্যি সত্যি অপছন্দ করতেনসারাক্ষণ কঠিন সব অপমান করতেনআমরা যে তাঁর বাড়ির আশ্রিত অন্নদাস এই কথা দিনের মধ্যে খুব কম হলেও দশবার মনে করিয়ে দিতেন

অথচ এই তিনিই আমার চরম দুঃসময়ে আমার পাশে এসে দাড়ালেনআমার মা আমার পাশে এসে দাড়াল না, আমার বাবাও নাকে পাশে এসে দাড়াল? আমার বড় চাচী| আনুশকা বলল, চার ব্যাপারটা মন থেকে তাড়াতে পারছি নামনে হচ্ছে, এক কাপ চা খেতে না পারলে মরে যাবকী করা যায় বল তাে

জরী বলল, এখন আর শুধু একটা জিনিসই করা যেতে পারেলােকটার পায়ে ধবাসেটা কি ঠিক হবে ? সামান্য এক কাপ চায়ের জন্যে পা ধরা ? তাও যদি সুন্দর পা হত একটা কথা ছিল| আনুশকা অন্যমনস্ক গলায় বলল, পায়ে ধরে সাধা, রা নাহি দেয় রাধাএই দুটা লাইন রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পে আছে বল তাে

রূপালী দ্বীপ-পর্ব-৭

জানি নাবলতে পারব নাহঠাৎ কবিতার লাইন কেন?” 

অনুশকা বলল, তাের পায়ে ধরার কথা থেকে মনে এলআমাদের মন বিচিত্র এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছোটাছুটি করে| গল্পগুচ্ছে আছে জানি, কিন্তু কোন গল্প মনে পড়ছে নাআমার কিছু মনে না এলে খুব অস্থির লাগেমাথায় চাপা যন্ত্রণা হয়আমার ইচ্ছা করছে ডেকে ডেকে সবাইকে জিজ্ঞেস করি‘ 

হ্যালো ম্যানেজার সাহেব, বলুন তাে পায়ে ধরে সাধা, রা নাহি দেয়. রাধাএই লাইন দুটো রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছের কোন গল্পে আছে?” | ম্যানেজার কঠিন চোখে তাকিয়ে রইলজরী বলল, শুভ্র বলতে পারবেযদি কেউ জানে শুভ্র জানবে। 

শুভ্র শুকনাে মুখে একটা সিগারেট ধরিয়েছেসিগারেট ধরানাের অস্বস্তিতে সে প্রায় মরে যাচ্ছেমােতালেবের চাপাচাপিতে এটা করতে হয়েছেমেতালেব হুঙ্কার দিয়ে 

বলেছে খাবি না মানে? খেতে হবেগুড বয় হয়ে অনেক দিন পার করেছিলআর নাএখন আমরা ব্যাড বয় হব। 

ব্যাড বয় হলে সিগারেট খেতে হবে

রূপালী দ্বীপ-পর্ব-৭

অবশ্যই খেতে হবেসিগারেট খেতে হবেগাঁজা খেতে হবেশার্টের বুকের বােতাম খােলা রাখতে হবেমেয়েরা আশেপাশে থাকলে অশ্লীল রসিকতা করতে হবেখােল, শার্টের বুকের বােতাম খােল, যাতে বুকের লােম দেখা যায়তাের বুকে লােম আছে

শুভ্রর চোখমুখ লাল হয়ে গেলমােতালেব বলল, লজ্জায় তুই দেখি টমেটোর মতাে হয়ে গেছিসফুসফুস ভর্তি করে সিগারেটের ধোঁয়া নে, দেখবি লজ্জা কেটে যাবেলাজুক মানুষ এইজন্যেই সিগারেট বেশি খায়লজ্জা ঢাকার জন্যে খায়গাঁজা খেলে কী হয় জানিস

লজ্জা বেড়ে যায়গাজা হল লজ্জাবর্ধকবিরাট বডিবিল্ডারও দেখবি গাজার কঙ্কেতে টান দিয়ে মিহি মেয়েলি গলায় কথা বলবেগাঁজার অন্য মজা। 

শুভ্র বলল, তুই গাঁজা খেয়েছিস

অবশ্যই খেয়েছিগাঁজা খেয়েছিকালিপূজার সময় ভাংএর যে সরবত করে তাও খেয়েছিভাংএর সরবত খেলে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হয়কী হয় শুনতে চাস

চাই। 

এই তাে পথে আসছিসআমার ধারণা ছিল তুই বলবি, শুনতে চাই নাদাঁড়া, তােকে বলব কী হয়তার আগে জরী আর আনুশকাকে নিয়ে আসিওরা কোথায়

রূপালী দ্বীপ-পর্ব-৭

চা খেতে গিয়েছে বুফে করে। 

চল, ওদের নিয়ে আসিভাং খেলে কী হয় এটা শুনলে মেয়েরা খুব মজা পায়এটা বলতে হবে মেয়েদের সামনে। 

শুভ্রর খেতে ইচ্ছা করছে নাসিগারেট হাতে নিয়ে হাঁটতে লজ্জা লজ্জালাগছেতার কাছে মনে হচ্ছে, সে কোনাে অপরাধ করে ফেলেছে এবং মা পরিষ্কার দেখছেনএক্ষুনি যেন তিনি বলবেন, শুভ্র বাবা, তেমার হাতে কী

মােতালেব বলল, সবাই মিলে ছাদে বসে যেতে পারলে ইন্টারেস্টিং হত। ট্রেনের ছাদে হাতপা ছড়িয়ে শুয়ে থাকলে দারুণ লাগে। 

শুভ্র বলল, ভয় লাগে না? প্রথম দুতিন মিনিট ভয় লাগেতারপর আর লাগে না। 

আনুশকা ওদের দেখেই বলল, ম্যানেজার আমাদের চা দিচ্ছে নাআধ ঘণ্টার মতাে বসে আছিএকটু বলে দেখাে না। 

মােতালেব বলল, তােমার মতাে রূপবতীকে চা দেয়নি, আমাকে দেবে? হাতি ঘােড়া গেল তল, মােতালেব বলে কত জল

তােমার তাে অনেক টেকনিক আছে” 

রূপালী দ্বীপ-পর্ব-৭

আচ্ছা দেখিএকটা নিউ টেকনিক অ্যাপ্লাই করে দেখিশুভ্র, তুই আয় আমার সঙ্গেএই টেকনিকে ম্যান পাওয়ার লাগে| শুভ্র বাধ্য ছেলের মতাে রওনা হলসে ভেবেছিল, তার হাতে সিগারেট দেখে জরী বা আনুশকা কিছু বলবেতারা কিছু বলেনিশুধু জরী সিগারেটের দিকে তাকিয়ে বিচিত্র ভঙ্গিতে হেসেছেবাচ্চা ছেলে বাবার জুতায় পা ঢুকিয়ে হাঁটার চেষ্টা করলে মারা যেমন ভঙ্গিতে হাসে অনেকটা সেই ভঙ্গির হাসিমােতালেব কাচুমাচু মুখে ম্যানেজারকে বলল, ভাইজান, রূপবতী দুই মহিলা আধ ঘণ্টার উপর বসে আছেএদের চা দিচ্ছেন না কেন

বুফে কার বন্ধএখানে আসার পথে দেখলাম, টীপটে চা নিয়ে ফাস্ট ক্লাসের দিকে যাচ্ছেআগে অর্ডার ছিল। 

ভাই, আমরা গল্পগুজব করতে করতে ছুটি কাটাতে যাচ্ছিদেন নাদশটা টাকা নাহয় বেশি রাখেননাে প্রবলেম। 

বললাম তাে, হবে না। 

 

Read more

রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-৮)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *