রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-৯)

 এক চুমুক পানি খেয়েই 

রাহেলার মনে হল, তার আসলে পিপাসা পায়নিরাহেলা বললেন, মজিদ কি এসেছে মধুর মা

রূপালী দ্বীপজ্বি আসছেকতক্ষণ হল এসেছে ? অনেকক্ষণআমাকে বলনি কেন ? রাহেলা উঠে দাঁড়ালেনতাঁর মার্থা অবশ্যি এখনাে ঘুরছেআজ সকালে ব্লাড় প্রেশারের ওষুধ কি তিনি খেয়েছেন? রাহেল মনে করতে পারলেন নামজিদকে পাঠাতে হবে ডাক্তার সাহেবকে আনার জন্যেরাহেলার এক দূর সম্পর্কের চাচা তাঁর ডাক্তারওঁর বাসায় টেলিফোন নেই, খবর দিতে কাউকে পাঠাতে হয়। 

দরজার বাইরে দাড়িয়ে মজিদ খুক খুক করে কাশলরাহেলা বললেন, মজিদ, তুমি কখন এসেছ

অনেকক্ষণ হইল আসছিখবর দাওনি কেন?” 

মজিদ অন্যদিকে তাকিয়ে মাথা চুলকাচ্ছেবাড়ির সবকটা কাজের মানুষ এমন গাধা কেন? মজিদকে স্টেশনে পাঠানাে হয়েছিল দূর থেকে দেখার জন্যে শুভ্র ঠিকমত ট্রেনে উঠতে পারল কি নাএই খবর সে বাসায় এসে দেবে না

শুভ্র কি ট্রেনে ঠিকমত উঠেছে ?” জি আম্মাওর বন্ধুরা সব ছিল ? জি, ছিলশুভ্র তােমাকে দেখতে পায়নি তাে? জ্বি নাছােট ভাইজানের চোখে চশমা ছিল না। 

রাহেলা হতভম্ব হয়ে গেলেনএই গাধা কী বলছে ! চোখে চশমা ছিল না মানে কী? গাধাটা কি জানে না, চশমা ছাড়া শুভ্র অন্ধ? নিজেকে সামলে নিয়ে সহজ ভঙ্গিতে রাহেলা বললেন, চোখে চশমা ছিল না

রূপালী দ্বীপ-পর্ব-৯

জ্বি নাচশমা ছাড়া সে ট্রেনে গিয়ে উঠল কীভাবে? একজন সুন্দরমত আপা উনার হাত ধইরা টেরেইনে নিয়ে তুলছেন‘তুমি জিজ্ঞেস করনি, আপনার চশমা কোথায়? জ্বি নাআপনে বলছেন দূর থাইক্যা দেখতে। 

গাধাটার সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করছে নারাহেলা দোতলায় উঠে এলেন। এইটুক সিঁড়ি ভাঙতেই তঁার দম আটকে আসছেমনে হচ্ছে মাথা ঘুরে মেঝেতে পড়ে যাবেনমধুর মাকে দিয়ে খবর পাঠালেন যেন ডাক্তার আনা হয়ঘড়ি দেখলেন, শুভ্রর বাবার আসার সময় হয়েছেতার সঙ্গে কথা বললে রাহেলার মনের অস্থিরতা কিছুটা কমবেমানুষটা হয়ত যুক্তি দিয়ে বোঝাবে, চশমা ছাড়া শুভ্রের তেমন অসুবিধা হবে না

কিংবা কোনাে ব্যবস্থা করবে যেন ট্রেনেই শুভ্র চশমা পেয়ে যায়সুন্দরমত একজন আপা শুভ্রের হাত ধরে টেনে তুলেছেসেই সুন্দরমত আপাটিকে ? শুভ্রের কোনাে মেয়েবন্ধু আছে বলে তিনি জানেন নাবাড়িতে মেয়েরা কখনো আসেনিকারো সঙ্গে ভাব থাকলে শুভ্র নিশ্চয়ই তাকে বাড়িতে আসতে বলতরাহেলার খুব শরীর খারাপ লাগছেআবার পিপাসা হচ্ছেহাত কাঁপছে। 

শুভ্রর বাবা বাড়ি ফিরলেন রাত বারােটা দশ মিনিটেএত রাতে তিনি কখনাে বাড়ি ফিরেন নাতাঁর টুঙ্গী সিরামিক্স কারখানার সমস্যা হচ্ছে বলে গত কয়েক রাত ফিরতে দেরি হচ্ছে। 

রূপালী দ্বীপ-পর্ব-৯

ইয়াজউদ্দিন সাহেব দোতলায় উঠে দেখলেন, শুভ্রর ঘরে বাতি জ্বলছেতিনি বিস্মিত হয়ে উকি দিলেনশুভ্রের বিছানায় রাহেলা পা তুলে বসে আছেনরাহেলার মাথার চুল ভেজামনে হচ্ছে কিছুক্ষণ আগেই মাথায় পানি ঢালা হয়েছে। ইয়াজউদ্দিন সাহেব বললেন, কী ব্যাপার

রাহেলা ক্ষীণ গলায় বললেন, শুভ্র তার চশমা হারিয়ে ফেলেছেশুভ্রের কথা জানতে চাচ্ছি নাতােমার কী হয়েছে ? আমার খুব অস্থির লাগছেপ্রেশার বেড়েছে ?” 

ডাক্তার এসেছিল ?” 

প্রেসার এখন কত

উনি বলেননিঅষুধ খেতে দিয়েছেনখেয়েছ

ইয়াজউদ্দিন সাহেব চেয়ার টেনে রাহেলার মুখােমুখি বসলেনভাত খেয়েছ রাহেলা ?” 

উঠে খাবার দিতে বলেআমি গােসল করে চারটা খাবখাবার টেবিলে কথা হবেশুভ্রের চশমার ব্যাপারে এত চিন্তিত হবার কিছু দেখছি নাতুমি কি ওকে বাড়তি চশমা দাওনি

ওর হ্যান্ডব্যাগে দুটা আছেকিন্তু ওকে তো বলা হয়নি। 

না বললেও অসুবিধা হবে নাএকসময় না একসময় ব্যাগ খুলবেব্যাগ খুললেই পেয়ে যাবে। 

রাহেলা ফিসফিস করে বললেন, যদি ব্যাগটা হারিয়ে ফেলে? চোখে তাে এখন দেখছে নানিজের ব্যাগ চিনবে কী করে

রূপালী দ্বীপ-পর্ব-৯

ইয়াজউদ্দিন সাহেব ধৈর্য হারালেন নাশান্ত গলায় বললেন, চিটাগাং নেমে নতুন চশমা বানিয়ে নেবেপ্রেসক্রিপশন সবসময় শুভ্রর মানিব্যাগে থাকেথাকে

নামো তো বিছানা থেকেনামেআমার খুব অস্থির লাগছে। 

শোনো রাহেলা, আমি বরং এক কাজ করিআমাদের চিটাগাং অফিসের সিদ্দিককে বলে দিই, সে ভােরবেলা চিটাগাং রেল স্টেশনে যাবে এবং শুভ্রকে বলবে

আর হ্যান্ডব্যাগের সাইড পকেটে চশমা আছে। 

আচ্ছা।তােমার অস্থিরতা কি এখন একটু কমেছে

 

Read more

রূপালী দ্বীপ-হুমায়ূন আহমেদ-(পর্ব-১০)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *