কথা ভালাে নয়, ফেলুবাবু। ভদ্রলােক তরফদারকে আরাে দশ হাজার ডলার অফার করেছিলেন। তার মানে ত্রিশ । আজকাল এক ডলারে কত টাকা ? ‘সতেরাের আশেপাশে ঘােরাফেরা করছে। ‘হিসেব করুন, গায়ের লােম খাড়া হয়ে উঠবে। ‘তরফদার কী বলেন? ‘তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তার ফলে বসাকের মেজাজ খিচড়ে যায়।
তরফদারকে কিছু বলেননি, তবে আমাকে বললেন—আপনি ওই ভেলকিরামকে বলে দেবেন যে বসাকের সংকল্পে ব্যাগড়া দেবে এমন লােক এখনাে জন্মায়নি।শেষের কথাগুলাে আরাে সাংঘাতিক ; বললেন—বড়দিনে মাদ্রাজে তরফদারের শাে ওপন করছে ; ইফ মাই নেম ইজ নন্দ বসাক—তাহলে সেই শাে থেকে ওই খােকার আইটেম বাদ দিতে হবে। টেল দিস টু ইওর টিকটিকি ফ্রেন্ড।
ফেলুদার চেহারার সঙ্গে অনেক বাঙালীই পরিচিত, কাজেই বসাক যে তাকে চিনে ফেলবেন তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। তবু কেন জানি আমার হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে এল। ‘বসাকের হদিস ত সু পাওয়া গেল, বলল ফেলুদা, তেওয়ারি ইজ আউট অফ দ্য পিকচার । এখন বাকি তারকনাথ আর হজসন।
নয়ন রহস্য (পর্ব-১৮)
তারকনাথ কেন-গাওয়াঙ্গি বলুন! তারকনাথ খ্যাপাটে হতে পারেন, কিন্তু তাঁর যা বয়স তাতে তিনি একা কিছু করতে পারবেন না। একেই ফেলুদা বলে টেলিপ্যাথি। তারকনাথের কথা ওঠার মিনিট খানেকের মধ্যেই কলিং বেল বাজায় দরজা খুলে দেখি স্বয়ং টি এন টি। ‘মিঃ মিত্তির আছেন ? ‘আসুন, আসুন ভিতর থেকে বলল ফেলুদা। আপনিও দেখছি আমায় চিনে ফেলেছেন। ‘তা চিনব না কেন ? ঘরে ঢুকে একটা কাউচে বসে বললেন ভদ্রলােক। আর আপনাকে যখন চিনেছি, তখন আপনার এই ল্যাংবাের্টটিকেও চিনেছি। আপনিই ত জটায়ু ?
‘আজ্ঞে । ‘একবার ভেবেছিলাম আপনাকেও আমার আজব ঘরে এনে রাখব, কারণ গাঁজাখুরি গপ্পো লেখায় ত আপনি একমেবাদ্বিতীয় ! “হন্ডুরাসে হাহাকার”- হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ!’ ভদ্রলােকের এই ঘর-কাঁপানােনা হাসির সঙ্গে আবার নতুন করে পরিচয় হল। ‘তাহলে আপনার সঙ্গে মাদ্রাজে দেখা হচ্ছে ? ফেলুদার দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করলেন তারক ঠাকুর। “আপনি যাওয়া স্থির করে ফেলেছেন? ‘শুধু আমি কেন ? আমার ইউগান্ডার অপােগণ্ডটিও যাবেন! হাঃ হাঃ হাঃ কেমন ? ভালাে হয়েছে ? জটায়ু ? ‘আপনি ট্রেনে যাচ্ছেন? ফেলুদা জিজ্ঞেস করল। | ‘তাছাড়া ত উপায় নেই। প্লেনের সীটে ত গাওয়াঙ্গি বসতেই পারবে !
আরেক দফা হাে হাে করে হেসে ভদ্রলােক উঠে পড়ে বললেন, “আপনাকে একটা কথা বলি মিঃ মিত্তির—এমন অনেক সিচুয়েশান আছে যেখানে শারীরিক শক্তির কাছে মানসিক শক্তি দাঁড়াতেই পারে না। গাওয়াঙ্গির চেয়ে আপনার বুদ্ধি যে অনেক গুণে বেশি তাতে সন্দেহ নেই, কিন্তু আপনার ব্যায়ামের অভ্যাস থাকলেও, গাওয়াঙ্গির যে শারীরিক বল, তার শতাংশের একাংশও আপনার নেই । গুড বাই।
নয়ন রহস্য (পর্ব-১৮)
ভদ্রলােক যেমন হঠাৎ এসেছিলেন, তেমনিই হঠাৎ চলে গেলেন। আমি মনে মনে বললাম—এই গাওয়াঙ্গি বস্তুটিকে একবার চাক্ষুষ দেখতেই হবে। স্টেশন থেকে হােটেলে আসার পথে মাদ্রাজের চেহারা দেখে জটায়ু বললেন, ‘মশাই, এই শহরের নাম কলকাতা বম্বে দিল্পির সঙ্গে একসঙ্গে উচ্চারণ করা হয় কেন তার কোনাে কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। পশ্চিমবাংলার যে কোনাে মফঃস্বল টাউন এর চেয়ে বেশি গমগমে। তাছাড়া ডিসেম্বর মাসে গরমটা কিরকম দেখেছেন?
আর ইয়ে–আমরা যে-হােটেলে যাচ্ছি সেখানে দিশি বিদেশি সব রকম খাবার পাওয়া যায় ত? মাদ্ৰাজী মেনুতে শুনিচি শুধু তিনটে নাম থাকে। আমি খাইয়ে না হতে পারি, কিন্তু যা খাবাে, সেটা মুখরােচক না হলে আমার সাধ মেটে না। . আমার কিছু শহরটা খারাপ লাগছিল না, যদিও পমগমে ভাবটা একেবারেই নেই।
অনেক দিন পরে একটা বড় শহরে এসে চারিদিকে ট্যাঙা ঢ্যাঙা বাড়ির ভিড় নেই দেখে অদ্ভুত লাগছিল।রাস্তা দিব্যি ভালাে—এখন পর্যন্ত একটা গাড়ডাও পাইনি। আর যেটা পাইনি সেটা হল ট্র্যাফিক জ্যাম। তা সত্ত্বেও লালমােহনবাবু কেন মুখ বেজার করে আছেন জানি না। | ‘বৈকুণ্ঠ মল্লিকের কথা ত কয়েকবার বলিচি আপনাদের’,হঠাৎ বললেন জটায়ু।
‘আপনার সেই এথিনিয়াম ইনস্টিটিউশনের কবি ? ‘কবি অ্যান্ড পর্যটক। ভ্রমণের নেশা ছিল ভদ্রলােকের। ‘উনি কি মাদ্রাজেও এসেছিলেন ? ‘সার্টেনলি। ‘মাদ্ৰাজ নিয়ে পদ্য আছে ওর ? ‘সার্টেনলি। জাস্ট সিক্স লাইনস্। শুনুন– বড়ই হতাশ হয়েছি আজ তােমারে হেরিয়ে মাদ্রাজ ! ভাষা হেথা দুর্বোধ্য তামিল অন্য ভাষার সাথে নেই কোনাে মিল ইডলি আর দোসা খেয়ে তৃপ্তিবে রসনা ? ওরে বাবা, এ শহরে কেউ কভু এস না !
Read More
