বাস ডাউন টাউনে আসতেই মালিশা নেমে গেল। এখানে বাস বদল করতে হবে। বাস থেকেই মালিশা লক্ষ করলাে তার হাত পা শিরশির করছে। নির্ঘাৎ আবার জ্বর আসছে। এ রকম হচ্ছে কেন? বারবার শরীর খারাপ হচ্ছে। মালিশা মাথা নিচু করে দ্রুত হাঁটতে লাগলাে। শরীর বেশি খারাপ হবার আগেই এ্যাপার্টমেন্টে ফিরে যাওয়া দরকার।
বাস স্ট্যান্ডটি ফার্স্ট এ্যাভিতে। মালিশার ইচ্ছে হল বাসের জন্যে না হেঁটে একটি ক্যাব ডাকে। সে ভােলা একটি ট্যাভার্নে ঢুকে পড়লাে। ক্যাব কোম্পানিকে টেলিফোন করতে হবে। জন ট্রিভলটার রেকর্ড বাজছে উচ্চ স্বরে। কোমর জড়াজড়ি করে ডায়াসের কাছে দু‘তিনটা ছেলে মেয়ে নাচছে। সেদিকে তাকিয়ে মালিশার কেমন যেন মাথা ঘুরতে লাগলাে।
হলাে মালিশা গা গরম করবে নাকি? নাচবে এক পাক? মালিশা তাকালাে কিন্তু ছেলেটিকে চিনতে পারলাে না। মালিশা এসাে। নাহ্।
কেন ? আমার শরীর ভাল লাগছে না।
মালিশা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালাে চিনতে পারছে না কেন? ছেলেটি এসে পরিচিত ভঙ্গিতে হাত ধরলাে। গলার স্বর নামিয়ে বললাে, যাবে না কি আমার সঙ্গে?
কোথায় ? আমার এ্যাপার্টমেন্টে। দু’জনের ছােট–খাট একটি পার্টি হয়ে যাবে কি বল ?
না কেন ? আস। আমি তাে অপরিচিত কেউ নই ? আগেওতাে আমার সঙ্গে ডেটে গিয়েছে। এসাে এসাে খুব ফান হবে।।
রাহেলা দরজা খুলে দেখতে পেলেন ছ‘ফুট লম্বা টম দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে। তার সারা মুখে দাড়ি–গোঁফের জঙ্গল। খালি গা। পরনে জিনসের একটি হাফপ্যান্ট। পায়ে জুতা টুতা কিছুই নেই।
সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ
আমি রুনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। কার সঙ্গে ? রুন, রুনকি।
রাহেলা একবার ভাবলেন বলেন রুনকি বাড়ি নেই। কোথায় গেছে জানি না। কিন্তু বলতে পারলেন না। টম ভারি গলায় বললাে, তুমি বােধহয় আমাকে চিনতে পারছ না। আমার নাম টমাস গ্রে । আমি রুনের বন্ধু। ২ ভেতরে এসে বস আমি ডেকে দিচ্ছি।
আমি ভেতরে এসে তােমার কার্পেট নােংরা করব না। পায়ে আমার প্রচুর ময়লা। রাহেলা রুনকির ঘরে উঁকি দিলেন। রুনকি চুল ছেড়ে চুপচাপ বসে আছে। হালকা সুরে পােলকা মিউজিক বাজছে। রুনকির সামনে গাদা খানিক বইপত্র ছড়ানাে। রাহেলা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে মৃদুস্বরে ডাকলেন, রুনকি?
ভেতরে এসাে মা।। রুনকি তােমার সঙ্গে কিছু কথা বলতে চাই। রুনকি হাসি মুখে বললাে, কথা বলতে চাইলে বল। এত গম্ভীর হয়ে আছাে কেন ?
রাহেলা থেমে থেমে বললেন, আমরা তােমাকে ভালােবাসি এবং তােমার মঙ্গল চাই এই সম্পর্কে তােমার কোনাে সন্দেহ আছে ?
আছে। রাহেলা মুখ কালাে করে বললেন, আমি তা জানতাম না। ঠাট্টা করছিলাম মা। তুমি ঠাট্টা বুঝতে পার না এত বড় মুশকিল। রাহেলা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, আমি চাই না তুমি টমের সঙ্গে মেলামেশা কর।
রুনকি খানিকক্ষণ চুপ থেকে বললাে, টম কি এসেছে ? | রাহেলা উত্তর দিলেন না। রুনকি ঝড়ের বেগে নিচে নেমে গেল। রাহেলারও ইচ্ছা হল নিচে নামার। কিন্তু নামলেন না। নামলেই হয়ত দেখবেন দু‘জন জড়াজড়ি করে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘদিন আমেরিকায় বাস করার পরও এই দৃশ্য তাঁর ভাল লাগে না। রাহেলা মন্থর পায়ে নিজ ঘরের দিকে এগুলেন। তার কিছুক্ষণ পর রুনকি আবার উপরে উঠে আসলাে। নিজের ঘরে বসেই রাহেলা বুঝতে পারলেন রুনকি সাজগােজ করছে। হালকা সুরে শিস দিচ্ছে। মেয়েদের শিস দেয়া একটা কুৎসিত ব্যাপার।
সেই রাতে রুনকি আর বাড়ি ফিরলাে না।
সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ
ক্লাস থেকে বেরুনােমাত্র এন্ডারসনের সঙ্গে দেখা। এন্ডারসন লােকটি ফুর্তিবাজ। দেখা হলেই একটা মজাদার কথা বলবে কিংবা জিভ বের করে ভেংচে দেবে। কে বলবে সে হেটারােসাইক্লিক কম্পাউন্ডের একজন বিশেষজ্ঞ একজন ফুল প্রফেসর। আনিস বললাে, হ্যালাে এন্ডারসন। | এন্ডারসন একটি চোখ বন্ধ করে অন্য চোখ পিটপিট করতে লাগলাে। আনিস হেসে ফেলতেই সে বললাে, তােমার সঙ্গে কথা আছে আনিস। এসাে কফি খেতে খেতে বলব।
কফি হাউসে তিল ধারণের জায়গা নেই। ফাইনাল এগিয়ে আসছে। ছেলেমেয়েরা বই খাতা নিয়ে ভিড় জমাচ্ছে কফি হাউসে কেউ টেবিল ছাড়ছে না। খুপরি ঘরগুলির একটিতে জায়গা পাওয়া গেল মিনিট দশেক দাঁড়িয়ে থাকার পর। আনিস বললাে, কী বলবে বল ?
ইদানীং কি তুমি অল্প বয়সী একটি সুন্দরী মেয়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছি? আনিস অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বললাে, কী জন্যে জিজ্ঞেস করছ ?
কারণ আছে। আমেরিকা একটা ফ্রি কান্ট্রি। তুমি কোনাে মেয়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়ালে কিছুই যায় আসে না। কিন্তু এই ক্ষেত্রে একটি প্রবলেম হয়েছে।
কী প্রবলেম ? এন্ডারসন গম্ভীর মুখে বললাে, মেয়েটি একটি প্রসটিটিউট।
Read more