রাহেলা চুপ করে রইলেন। রুনকি ওভারকোট খুলতেই শান্ত স্বরে বললেন, মা হচ্ছে তাহলে।
হ্যা হচ্ছি। তােমার এমন মুখ কালাে করবার দরকার নেই মা। আমরা বিয়ে করছি। ম্যারেজ লাইসেন্স যােগাড় হয়েছে। বিয়েতে আসবে না জানি তবু কার্ড পাঠাব।
রুনকি টাওয়েল দিয়ে মাথার চুল মুছলাে। হালকা গলায় বললাে, কফি খাওয়াবে যা ঠাণ্ডা বাইরে।
রাহেলা কফির পট বসালেন। রান্নাঘর থেকেই থেমে থেমে বললেন, তােমার পড়াশােনার পাঠ তাহলে চুকেছে।
আবার শুরু করবাে। তাছাড়া... তাছাড়া কী?
পুঁথিগত পড়াশােনার তেমন দাম নেই মা। পৃথিবীতে যত টেলেন্টেড লােক জন্মেছে তাদের কারাের ইউনিভার্সিটির ডিগ্রি ছিল না।
তা ছিল না কিন্তু ওদের টেলেন্ট ছিল। তােমার তা নেই। রুনকি হাসলাে। কথার উত্তর
দিয়ে কফির পেয়ালা হাতে নিয়ে চলে গেল দোতলায় তার নিজের ঘরে। ঘরটি রাহেলা চমৎকার করে সাজিয়ে রেখেছেন। দেখেই মনে হবে এই বাড়ির মেয়েটি হয়ত কলেজে গিয়েছে ফিরে আসবে এক্ষুণি।।
রুনকি দেখলাে তার ব্যবহারি কাপড়গুলি পর্যন্ত ইস্ত্রি করে রাখা হয়েছে। বার্বি ডল দু‘টি মা নিচ থেকে নিয়ে এসে তার ঘরে রেখেছেন। দেয়ালে রুনকির ছােটবেলার একটি ছবি ববল গাম দিয়ে বল বানানাের চেষ্টা করছে রুনকি।।
রাহেলা শুনলেন উপরে গান বাজছে। কিংস্টোন ট্রায়াের বিখ্যাত গান,
We had joy we had fun We had seasons in the sun But the hills we will climb
Where the seasons out of time তিনি নিঃশব্দে উপরে উঠে আসলেন। রুনকি কার্পেটে পা ছড়িয়ে চুপচাপ বসে আছে। ক্লান্ত বিষন্ন একটি ভঙ্গি। কঁদছে নাকি? রাহেলা বললেন, রুনকি তুমি কি দুপুর খাবে এখানে ?
সবাই গেছে বনে-পর্ব-২০
রুনকি চোখ মুছে ধরা গলায় বললাে, না দুপুরে আমরা রওয়ানা হব। টম এসে এখান থেকে তুলে নেবে আমাকে।
তুমি যদি তােমার কোনাে জিনিসপত্র নিতে চাও নিতে পার। | মা, আমি কিছুই নিতে চাই না। রুনকি চোখ মুছে বললাে, তুমি কি আমার বাচ্চাটির জন্যে দুটি নাম দেবে ? একটি ছেলের নাম একটি মেয়ের নাম ।
রাহেলা থেমে থেমে বললেন, আমার নাম তােমাদের পছন্দ হবে না রুনকি। তােমরা নিজেরা নাম বেছে নাও।
কেন তুমি এত রেগে আছ মা? তুমি কি বুঝতে পারছ না আমি অনেক দূরে চলে যাচ্ছি ? দূরে গেছ অনেক আগেই। নতুন করে বােঝাবুঝির কিছু নেই।
রুনকি বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললাে, যাবার আগে পুরনাে দিনের মত তুমি কি আমাকে একটি চুমু খাবে মা? প্লিজ!
নিশানাথ বাবু খুব সকালে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছেন। | উদ্দেশ্য আশেপাশের গ্যারেজ–সেলগুলি খুঁজে দেখা। প্রি–উইন্টার গ্যারেজ সেল শুরু হয়েছে। বুড়াে বুড়ির দল অপ্রয়ােজনীয় জিনিসপত্র গাড়ির গ্যারেজে সাজিয়ে বসে আছে। মূল্য নামমাত্র। নিশানাথ বাবু সকাল থেকেই এ সব দেখে বেড়াচ্ছেন। গ্যারেজ সেলে ঘুরে বেড়ানাে তাঁর বাতিকের মত। যে সব জিনিস তিনি গত চৌদ্দ বছরে কিনেছেন তার মধ্যে একটি প্রকাণ্ড পিয়ানাে পর্যন্ত আছে। এম স্ট্রিটের দোতলা বাড়ি গ্যারেজসেলে কেনা জঞ্জাল দিয়ে তিনি ভর্তি করে ফেলেছেন। নতুন কিছু কিনে রাখবার জায়গা নেই তবু কিনছেন।
আজ তার একটি ফুলদানি পছন্দ হল। জার্মান সিলভারের ফুলদানি। খুব সুন্দর কাজ। দাম লেখা আছে এক ডলার।
এরচে‘ কমে দিতে পার ? এক ডলার বড় বেশি মনে হচ্ছে।
যে বুড়াে জিনিসপত্র সাজিয়ে বসে আছে সে অবাক হয়ে বললাে, এক ডলার কি যথেষ্ট কম নয় ডঃ নিশানাথ ?
নিশানাথ বাবু দেখলেন বুড়াে হচ্ছে স্ট্যাটিস্টিকসের স্ট্যানলি। মাংকি ক্যাপে সমস্ত মুখ ঢেকে রেখেছে বলে চেনা যাচ্ছে না।
গুড মর্নিং স্ট্যানলি।
সবাই গেছে বনে-পর্ব-২০
গুড মর্নিং। কফি খাবে ? গ্যারাজ সেল উপলক্ষে কফি পাওয়া যাচ্ছে। পঞ্চাশ সেন্ট চার্জ, ফ্রি রিফিল। নিশানাথ বাবু পঞ্চাশ সেন্ট দিয়ে এক পেয়ালা কফি নিলেন।
বিক্রি টিক্রি কেমন ? মন্দ নয় সাড়ে নডলার বিক্রি করেছি। বস তুমি ঐ চেয়ারটাতে বস।।
নিশানাথ বাবু অবাক হয়ে স্ট্যানলির দিকে তাকালেন। এই লােকটি মাসে চার হাজার ডলারের মত পায়। দুপুরের একটা সাদাসিধা লাঞ্চের জন্যেই খরচ করে ত্রিশ চল্লিশ ডলার। অথচ সে বাড়ির যত সব জঞ্জাল সাজিয়ে সাড়ে নডলার বিক্রি করে কী খুশি ।।
স্ট্যানলি ভারি স্বরে বললাে, ওল্ড হােমে যাবার প্রস্তুতি বুঝলে। জিনিসপত্র সব বিক্রি টিক্রি করে হাত খালি করছি।
প্রস্তুতি কি একটু সকাল সকাল নিয়ে ফেলছাে না ?
Read more