মেমােরিয়াল লাউঞ্জে দুটি মেয়ে সেজেগুজে চুমু খাওয়ার স্টল (কিসিং বুথ) খুলে বসেছে। এদের চুমু খেলে দু‘ডলার করে দিতে হবে। সেই ডলারটি চলে যাবে তিমি রক্ষার ফান্ডে। প্রচুর ডলার উঠছে।
মেয়ে দু‘টি চুমু খেয়ে কুল পাচ্ছে না। আনিস অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চুমু খাওয়া দেখলাে। দীর্ঘদিন আমেরিকায় থেকেও কিছু কিছু জিনিসে এখনাে সে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারে নি। কিসিং বুথ তার একটি।
হ্যালাে আনিস। আনিস তাকিয়ে দেখলাে ডঃ বায়ার। হাতে সাবমেরিন স্যান্ডউইচ। গাল ভর্তি হাসি। তিমি ফান্ডে কিছু দিয়েছ ? এখনাে না।
একটা এডভাইস দিচ্ছি ঐ নীল স্কার্ট পরা মেয়েটিকে চুমু খেতে যেও না। সে নিশ্চয়ই দাঁত ব্রাশ করে না। ডঃ বায়ার ঘর কাপিয়ে হাসতে লাগলেন।
আনিস তুমি কি লাঞ্চ খেতে যাচ্ছ ?
হঁ্যা।
আমি জয়েন করতে পারি তােমার সঙ্গে ? তা পার ।।
আনিস তার প্রিয় জায়গাটিতেই গিয়ে বসলাে। ভিড় নেই সবাই জড় হয়েছে তিমি মাছদের সাহায্যের ব্যাপার দেখতে। ডঃ বায়ার অনবরত কথা বলে যেতে লাগলাে, আমেরিকানদের কেউ পছন্দ করে না। কিন্তু ওদের না হলেও আবার কারাের চলে না। | আমেরিকানরা যদি এক বৎসর কোনাে ফসল না করে তাহলে থার্ড ওয়ার্লডের চার ভাগের এক ভাগ লােক মরে ভূত হয়ে যাবে।
মুখে সবাই বলে আগলি আমেরিকান, কিন্তু হাত পাততে হয় আগলি আমেরিকানদের
কাছেই হা হা হা। রাশিয়ানরা এ বৎসর কত লক্ষ মেট্রিক টন গম কিনছে জান ? জান না? আন্দাজ করতাে ?
সবাই গেছে বনে-পর্ব-২৫
আনিস হু হা করে যাচ্ছিল। ডঃ বায়ার তাতেই খুশি। একটির পর একটি প্রসঙ্গ টেনে আনতে লাগলাে। এক সময় আনিস বললাে, আমাকে এখন উঠতে হয়।
ক্লাশ আছে কোনাে ?
লাইব্রেরিতে যাব। পাঁচ মিনিট বস। তােমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করব । আনিস তাকালাে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে।
ডঃ বায়ার বললেন, শুনলাম তুমি দেশে ফিরে যাচ্ছ। কেমিস্ট্রির চেয়ারম্যানের কাছে এই রকম একটা চিঠি দিয়েছ।
হ্যা ।
অবশ্যই এটা তােমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবু কারণ জানতে পারি কি? তুমি একজন ভাল টিচার। এবং হাইলি কোয়ালিফাইড। খুব শিগগিরই টেনিউর পাবে। তারপর গ্রিন কার্ডের জন্যে দরখাস্ত করতে পারবে।
ডঃ বায়ার এখানে আমার ভাল লাগছে না। | তােমাকে দোষ দেয়া যাচ্ছে না, এ জায়গার ওয়েদার অত্যন্ত খারাপ। তুমি বরং ক্যালিফোর্নিয়ার দিকে চলে যাও।
ওয়েদার নয়। ডঃ বায়ার তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে বললেন, দেশটাই তােমার ভাল লাগছে না?
এখানে যে ফ্রিডম আছে সে ফ্রিডম তােমার নিজের দেশে আছে ?
এখানকার মত অর্থনৈতিক নিরাপত্তা তােমার দেশে আছে ?
তাও নেই। দেখ আনিস আমি অনেক বিদেশীকে দেখেছি পড়াশুনা শেষ করে দেশে চলে যাওয়ার জন্যে পাগল হয়ে ওঠে। চলেও যায় কিন্তু মাস ছয়েক পর আবার ছুটে আসে। স্বপ্নভঙ্গ বলতে পার।
আনিস কিছু বললাে না । ডঃ বায়ার কফিতে একটা লম্বা চুমুক দিয়ে বললেন, তােমরা বিদেশীরা থাক শামুকের মত। বাইরের কারাে সঙ্গে মিশতে পার না। এটা ঠিক না, আন্তর্জাতিক হতে চেষ্টা করা উচিত। পৃথিবীটাই হচ্ছে তােমার দেশ। এভাবে ভাবলে আর খারাপ লাগবে না।
সবাই গেছে বনে-পর্ব-২৫
আনিস কোনাে উত্তর দিল না। ডঃ বায়ার হড়বড় করে বললেন, তুমি নিশ্চয়ই কিসিং বুথের মেয়ে দুটিকে চুমু খাও নি। খেয়েছ ?
এসাে আমার সঙ্গে চুমু খাবে। আমাদের কালচারকে দূরে ঠেলে রাখলে তো চলবে না। এসােতাে দেখি। তবে নীল স্কার্ট পড়া মেয়েটির থেকে দূরে থাকবে। আমি ঠিক করেছি ঐ মেয়েটিকে একটি জাম্বাে সাইজের অ্যাকোয়া ফ্লশ টুথপেস্ট উপহার দেব হা হা হা।
আনিসকে ডঃ বায়ারের সঙ্গে দোতলায় উঠে আসতে হলাে। কিসিং বুথের নীল স্কার্ট পরা মেয়েটি নেই। অন্য মেয়েটির গলায় উজ্জ্বল রঙের একটি রুমাল । শঙ্খের মত সাদা মুখ । শান্ত নীল চোখ। আনিসের মনে হল যেন মালিশা দাঁড়িয়ে আছে। অনেক দিন মালিশাকে দেখা হয় না। কিসিং বুথের মেয়েটি আনিসের দিকে তাকিয়ে হাসলাে। হাসিটি পর্যন্ত মালিশার মত। ডঃ বায়ার বললেন, দাঁড়িয়ে আছ কেন এগিয়ে যাও।
আনিস মন্ত্রমুগ্ধের মত এগুলাে। কাছাকাছি আসতেই চিনতে পারলাে মেয়েটিকে। তার ছাত্রী। কোর্স নাম্বার পাঁচশ’ দুই–তে আছে। মেয়েটি হাত বাড়িয়ে রিনরিনে কণ্ঠে বললাে, হ্যালাে ডক।
আনিস ঠিক করে ফেললাে এক গাদা ফুল নিয়ে আজ সন্ধ্যাতেই আবার যাবে মালিশার খোজে। কী ফুল নেয়া যায় ? ডাউন টাউনে ফুলের দোকান কটা পর্যন্ত খােলা থাকে ?
নিশানাথ বাবু সাত সকালে টেলিফোন করেছেন, হ্যালাে সফিক এক কাণ্ড হয়েছে। হ্যালাে,
শুনতে পাচ্ছ ?
পাচ্ছি। কী হয়েছে ? কে যেন একটা গাড়ি কিনে পাঠিয়েছে। নীল রঙের একটা বুইক। কে পাঠিয়েছে ? কিছুই লেখা নাই ।
সবাই গেছে বনে-পর্ব-২৫
পরিচিত যারা আছে তাদের জিজ্ঞেস করেছেন ? পরিচিতরা আমাকে গাড়ি দেবে কেন ? ভুলটুল হয় নাই তাে? অন্যের গাড়ি ভুলে হয়ত দিয়ে গেছে। উ–ই। আমার নাম লেখা আছে। বলেন কী ? তুমি একবার আসবে সফিক ? আমি মহা চিন্তায় পড়েছি। এক ঘণ্টার মধ্যে আসছি। জং বাহাদুরের কাণ্ড কারখানাও বলব। নতুন কিছু করেছে নাকি? হা হঁ্যা না শুনলে আপনার বিশ্বাস হবে না। শালা বজ্জাতের হাডিড। তাই নাকি ?
গতকালকে ফস করে আমার পকেট থেকে নােট বইটা নিয়ে গেছে। আমাকে ভয় দেখাবার জন্যে এই রকম ভাব করছে যেন সে নােট বইটা খেয়ে ফেলবে। বােঝেন অবস্থা! বাসায় থাকবেন আমি আসছি।
তুমি কি এক্ষুণি আসছ?
Read more