সাতকাহন পর্ব-(২)-সমরেশ মজুমদার

সাতকাহন

আমি দেব না জল নিতে। অদ্ভুত গলায় বলল তিরি। ওকে এই গলায় কথা বলতে কোন দিন শােনেনি দীপাবলী। সে বিরক্ত হল, ‘দিবি না কেন? 

‘ওরা যখন আমাকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল তখন মনে ছিল না? ‘তুই নেখালির মেয়ে ? 

ই । আর আমি এখন এখানে চাকরি করি, দুবেলা খেতে পাই বলে ওরা আমাকে রাস্তায় দেখলেই ফিটকিরি দেয়। ওরা তবে কেন এসেছে জল নিতে এখানে ? শেষের দিকে গলায় কান্না মিশল যেন। 

সতীশবাবু বললেন, ‘আহা। ওরা নিশ্চয়ই অন্যায় করেছে কিন্তু ম্যাম ওদের কথা দিয়েছেন যখন তখন একটা দিন জল নিয়ে যেতে দে।। 

‘গ্রামসুন্তু লােক জল নিতে এলে আমরা কি বালি খেয়ে পাব? 

আর কেউ আসবে না। ওরাই শুধু নিয়ে যাবে। যা পেছনের দরজা খুলে দে। সতীশবাবুর কথা শেষ হওয়ামাত্র নিতান্ত অনিচ্ছায় তিনি চলে গেল দরজা খুলতে। ব্যাপারটা খুব অপছন্দ করল দীপাবলী। সতীশবাবু বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। যে খাম সে দেখে এল তার ভাবনার সঙ্গে তিরির এমন আচরণ থেকে তৈরি বিরক্তি মিশে এক বিশ্রী। মেজাজ তৈরী হয়ে গেল। 

সাতকাহন পর্ব-(২)

মিনিট পনের বাদে চায়ের কাপ নিয়ে ঘরে ঢুকে সামনের টেবিলে রেখে তিরি ফিরে যাচ্ছিল, দীপাবলী ডাকল, ‘আই শােন ! 

মেয়েটা দাঁড়াল। এখন ওর পরনে দীপাবলীর অল্প রঙ ওঠা নীল শাড়ি। সেদিকে অকিয়ে দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, এই বাড়িটায় আমি থাকি, তুই এখানে চাকরি করিস। কথাটা কখনও ভুলে যাস না।’ 

মেয়েটা জবাব দিল না। দবজার সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। কথাগুলাে বলেই দীপাবলীর মনে হল একটু রূঢ় হয়ে গেল যেন। চায়েব কাপ হাত বাড়িয়ে নিয়ে আবার প্রশ্ন করল, তােকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল কেন ? 

উত্তর এল না। দীপাবলী দেখল তিরি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ‘আমি তােকে একটা প্রশ্ন করেছি।’ ‘আমি এখানে চাকরি করছি বলে ওরা তাড়িয়ে দিল। ‘এখানে ? তুই তাে এখানে চার বছর চাকরি করছিস । আমার আগে যাঁরা ছিলেন তাঁদের কাছেও তুই চাকবি করেছিস। তাতে অন্যায় কি হয়েছিল ? 

‘আপনার আগে যাঁরা ছিলেন তা সব ছেলে। দীপাবলীর কপালে ভাঁজ পড়ল, ‘তুই কি রাত্রে এখানে থাকতিস ? ‘প্রথম সাহেবের সমষ থাকতাম না। পবের সাহেব থাকতে বলেছিলেন। ‘তুই থাকতিস কেন ?’ ‘নাহলে আমাব চাকরি চলে যেত। চায়েব কাপ নামিয়ে রাখা দীপাবলী, আগের সাহেবের সঙ্গে তাে কোন মহিলা ছিলেন । তবু তুই কোন সাহসে থেকে যেতিস রাত্রে ? ‘আমি আব গ্রামে ফিরে যেতে চাইনি, তাই। ‘তুই, তুই কি বলছিস তা জানিস ? মাথা নেড়ে নীরবে হ্যাঁ বলল তিরি। 

সাতকাহন পর্ব-(২)

সমস্ত শরীরে জ্বলুনি শুরু হল প্রবল ঘেন্না এল মনে। মেয়েটাকে নির্লজ্জ, চরিত্রহীনা বলে মনে হল। এই মেয়ের সঙ্গে সে ক’দিন আছে অথচ সতীশবাবু কিছু বলেননি বলে ওঁর ওপরও খেপে গেল। এখানে চাকরিতে জয়েন করার সঙ্গে সঙ্গে সতীশবাবু বলেছিলেন, ‘মাডাম, আপনার কপাল ভাল, আগের অফিসারের কাছে যে মেয়েটি কাজ করত সে এখানেই আছে। সব কাজকর্ম জানে, আপনার অসুবিধে হবে না। অসুবিধে হয়নি। বরং মেয়েটির কাজকর্ম এবং ব্যবহার দেখে সে নিশ্চিত হয়েছিল। আজ সন্ধের আগে পর্যন্ত কোন খুঁত খুঁজে পায়নি।

‘তােকে ওরা গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিয়ে ঠিকই করেছে। দাঁতে দাঁত চেপে বলল সে, ‘আমার আর তােকে দরকার নেই। 

‘তুমিও আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছ? আর্তনাদ করে উঠল তিরি। ‘হ্যাঁ। আমি আর তােকে রাখব না। ‘কেন ? আমি কি করেছি? “কি করেছিস জিজ্ঞাসা করতে লজ্জা করছে না ? ‘না। আমি তােমার কোন কাজে ফাঁকি দিই না, দিই ? 

‘আমি সে কথা বলিনি। “তাহলে ? 

একটা পরপুরুষের সঙ্গে রাত কাটিয়েছিস এখানে, ছিঃ ! ‘ও। যে লােকটা আমাকে এখানে থাকতে বাধ্য করেছিল তার কোন দোষ নেই ? ‘হ্যাঁ। যে তােকে এখানে থাকতে বাধ্য করেছিল সে লম্পট । কিন্তু তাকে ছেড়ে যেতে দিলি কেন তুই ? আর কেউ বাধ্য করেছিল বললে দোষ মাপ হয়ে যায় না। দীপাবলী মাথা নাড়ল, ‘না। তুই চলে যা।। 

সাতকাহন পর্ব-(২)

‘আমি কোথায় যাব দিদি ? ‘আমি জানি না।’ 

হাউ হাউ করে কেঁদে উঠল তিরি। কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘তুমি আমাকে মেরে ফেল না দিদি | এখান থেকে চলে গেলে হয় আমাকে বাজারে নাম লেখাতে হবে নয় বিষ– ! কান্না থামছিল না। | চোখ বন্ধ করল দীপাবলী । নেখালি গ্রামের মানুষের চেহারার স্বাস্থ্যের সঙ্গে তিরির কোন মিল নেই। তার পূর্বসূরীরা মেয়েটিকে ব্যবহার করেছেন, প্রতিবাদ করলে ওর কি হতে পারত? নেখালি গ্রামে প্রতিমুহূর্তে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে জীবন্মত হয়ে বেঁচে থাকতে চায়নি তিরি।

একটি কঙ্কালসার মানুষ হিসেবে তিরিকে ভাবতে সেও পারছে না কেন? আজ কথা না উঠলে সে কখনই জানতে পারত না। নিজের অতীতের কথা যে স্বীকার করে তাকে আরও বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়া কি উচিত কাজ। অতীতে কি করেছিল সেইটে বড়, না তিবি তার সঙ্গে কিরকম ব্যবহার করছে তাই বিচার্য ? ওর তাে ওইটেই নেশা নয় তাহলে তার সঙ্গে এমন আন্তরিকভাবে থাকতে পারত না। দীপা বলেছিল, ‘আমাকে আর এক কাপ চা করে দে, এটা ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছে। 

সাতকাহন পর্ব-(২)

নেইখালি গ্রামে দুটো গভীর কয়াে আর টিউবওয়েল অবিলম্বে তৈরি করে দেওয়া দরকার। আগামী এক বছরের মধ্যে চাষের খেতগুলােয় যেখানে বছরে একবারই লাঙল পড়ে। যেখানে শস্য আসে কি আসে না সেখানে সেচের ব্যবস্থা করা দরকার। এই জল গভীর কুয়াে থেকে তোলা যেতে পারে | মাটির যে গভীরত্বে জল বৈশাখ মাস পর্যন্ত টিকে থাকে তার অনেক নিচে পৌঁছতে হবে।

চাষ যদি সম্ভব না হয় এই অঞ্চলে এখনই কুটির শিল্প স্থাপন করা উচিত। অন্তত মুরগি চাষের জন্যে বেশী জল দরকার হয় না। অনেকগুলাে পরিকল্পনা নিয়ে দিপাবলী এস ডি ওর সঙ্গে দেখা করেছিল। ভদ্রলোেক আই এ এস করে সবে কাজে যােগ দিয়েছেন। এখনও এলাকাটা চিনে ওঠেননি। নেখালি গ্রামের বর্ণনা শুনে আঁতকে উঠে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আপনাদের মত মহিলা ওখানে আছেন কি করে ? 

আমার মত মহিলা মানে ?’ ‘সরি, কথাটা অন্যভাবে বলা উচিত ছিল। আমি বলতে চেয়েছি সাধারণ মহিলাদের থেকে আপনাকে আলাদা মনে হয়। 

‘ঠিকই। কিন্তু আমি চাকরি করতে এসেছি। আমার কাজ উন্নয়ন দেখা। 

এস ডি ও বলেছিলেন, বাজেট পারমিট করবে কিনা জানি না, তবু আমি একবার নিজের চোখে দেখতে চাই। নইলে ডি এম বলুন আর মন্ত্রী কাউকে কনভিন্স করাতে পারব না।’ | ভদ্রলােকের কথাবার্তা খুব আশাজনক না হলেও খারাপ লাগেনি দীপাবলীর। অথচ সতীশবাবু বলে গেলেন তিনি আশাবাদী নন। এরকম ঘটনা নাকি সচরাচর এখানে ঘটে না। 

সাতকাহন পর্ব-(২)

দীপাবলী ঠিক করল সে অপেক্ষা করবে। যদি ভদ্রলােক আজ না আসেন তাহলে আগামীকাল সে সদরে গিয়ে দেখা করবে। ব্যাপারটার হেস্তনেস্ত না করে সে ছাড়বে না। যদি তাতেও ভদ্রলােকের সময় না হয় তাহলে ওপরতলায় সমস্ত ব্যাপারটা জানিয়ে চিঠি লিখবে। 

বেলা দশটায় যখন চারজন কর্মচারী বাড়ি চলে গেলেন তখন সতীশবাবু এলেন ওর ঘরে, ‘আমি কি থাকব ? 

‘না, আপনি বাড়িতে যান, বিশ্রাম নিন। উনি কখন আসবেন বুঝতে পারছি না। 

‘যদি এসে পড়েন তাহলে তিরিকে পাঠাবেন, সঙ্গে সঙ্গে চলে আসব। আপনি একা ওকে নিয়ে নেখালিতে যাবেন না। 

‘কেন ? ‘গতকাল একটা কিছু ঘটেছে ওখানে যার জন্যে সবাই খেপে আছে। ‘কি ঘটেছে ? ‘আমি ডিটেলস পাইনি। একটু আগে বংশীচরণ বলল কাল নাকি ওখানে খুব চেঁচামেচি হয়েছে । আচ্ছা চলি এখন। সতীশবাবু চলে গেলেন। 

আরও দুটো ফাইল শেষ করে যখন দীপাবলী উঠতে যাবে ঠিক তখনই বাইরে গাড়ির আওয়াজ হল। জানলাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল তাপের কারণে, গাড়ি অফিসের সামনে এসে থামতেই দীপাবলী ব্যস্ত হয়ে উঠে বাইরের ঘরের দিকে এগােতে যাবে এই সময় দৌড়ে ভেতরে ঘরের দরজায় এল তিরি। সে হাঁপাচ্ছে, উত্তেজনা চোখে মুখে, ‘দিদি, তুমি বাইরে যেও না। 

সাতকাহন পর্ব-(২)

অবাক হল দীপাবলী, মানে ? কেন যাব না ? ‘ওই বদমসটা এসেছে । ওকে দেখলে আমরা লুকিয়ে পড়ি। ‘কে এসেছে ? 

এই সময় বাইরের ঘরে কেউ বেশ মেজাজ নিয়ে চেঁচিয়ে উঠল, “কি ব্যাপার ? অফিস বন্ধ হয়ে গেল নাকি ? লােকজন গেল কোথায় ? 

দীপাবলী এগিয়ে গিয়ে পর্দা সরিয়ে দিতেই দেখতে পেল ধবধবে চোস্ত পাজামা আর আদ্দির কাজ করা পাঞ্জাবি পরা একটি লােক তার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। বছর তিরিশ বয়স, একটুও মেদ নেই শরীরে, চোখ দুটো খুব ধারালাে, চুলের কায়দা চোখে পড়ার মত। দীপাবলী জিজ্ঞাসা করল, “আপনি কে ? 

‘আমি ?’ লােকটির যেন চমক ভাঙল। সঙ্গে সঙ্গে দুহাত জড়াে করে ঈষৎ ঝুঁকে নমস্কার করতে করতে বলল, ‘আমি অর্জুন নায়েক। এই তল্লাটেই বাস করি। আপনি এখানে . পােস্টেড হয়ে এসেছেন শুনেছিলাম কিন্তু বড় দেরি করে ফেললাম দর্শন করতে, তবে, ইংরেজরা একটা ভাল কথা বলে, বেটার লেট দেন নেভার।’ লােকটর কথা বলার সময় একটা প্যাচপ্যাচে হাসি ঠোঁটে জড়ানাে ছিল । 

দীপাবলীর কয়েক মুহূর্ত লাগল । এই সেই অর্জুন নায়েক ? সে বলল, এখন তাে । অফিস ছুটি। আপনার কোন দরকার থাকলে বিকেলে আসবেন। সন্ধের পরেও ওঁরা থাকেন।’ 

অর্জুন মাথা নাড়ল ঠোঁট টিপে। তারপর বলল, “মেমসাহেব কি আমাকে বসতে বললে খুব অসুবিধে বােধ করবেন ? 

সাতকাহন পর্ব-(২)

মুখে হাঁ চলে এসেছিল কিন্তু দুত মন পরিবর্তন করল দীপাবলী, সতীশবাবুর টেবিলের দিকে এগিয়ে গিয়ে উল্টো দিকটা দেখিয়ে বলল, বসুন, কি বলার আছে বলুন। সে নিজে সতীশবাবুর চেয়ারে গিয়ে বসল। অর্জুন নড়ল না, সেখানে দাঁড়িয়েই বলল, এটা কি ঠিক হল মেমসাহেব ? কেরানিদের চেয়ারে আপনাকে মানাচ্ছে না।’ 

‘আপনি বসতে চেয়েছিলেন আমি আপত্তি করিনি।’ ‘ও। ঠিক আছে। বেশ সমীহ করার ভঙ্গী নিয়ে অর্জুন এগিয়ে এসে চেয়ার টেনে বেশ শব্দ করেই বসে পড়ল। পকেট থেকে একটা রুপাের কৌটো বের করে দুই আঙুলে জদা তুলে নিয়ে মুখে পুরল, ‘আমি ভেবেছিলাম কোন বয়স্কা মহিলা বােধহয় বুড়াে বয়সে প্রমােশন পেয়ে এই পােস্টে এসেছেন ।

খুব ভাল খুব ভাল। হ্যাঁ, নাম তাে বলেছি, একেবারে মহাভারতের নাম, ব্যবসা করি, জমিজমা আছে কিন্তু তার হাল তাে দেখছেন, শালা নেচার বারােটা বাজিয়ে দিয়েছে জমির। তবু আপনাদের শুভেচ্ছায় ভাত কাপড়ের অভাব নেই। 

‘আপনার নাম আমি শুনেছি। ‘আই বাপ ! আপনার কানে এর মধ্যেই কেউ মন্ত্র পড়ে দিয়েছে ? ‘মন্ত্র পড়া মানে? 

“আর বলবেন না মেমসাহেব । এখানে মানুষ থাকে ? সব এক একটা শয়তান চুকলিােের, আপনি যত ওদের জন্যে করুন কিছুতেই মন ভরবে না। কাজ করলেও দোষ, না করলে তাে কথাই নেই। আমার দোষ কেন পয়সা বােজগার করছি। মানুষের নিন্দে কবে ওরা সকালে দাঁত মাজে কিন্তু সামনে লে বােবা। বুঝবেন বুঝবেন, কদিন থাকুন বুঝতে পারবেন।’ মাথা নাডল অর্জুন নাযেক। 

সাতকাহন পর্ব-(২)

‘আমি শুনেছি আপনি নেখালি গ্রামের কিছু মানুষকে খাটিয়ে অর্ধেক টাকা কেটে বেখেছেন ওখানে কুয়াে করে দেবেন বলে। কথাটা ঠিক।। 

‘একশ বার ঠিক। আপনি ওখানে গিয়েছেন ? গেলে বুকের হাড় পর্যন্ত কেঁপে উঠবে । এক ফোঁটা জল নেই। খাবার নেই। কি দুর্দশা ! গবমেন্ট যখন কিছু করছে না তখন তাে ওদের নিজেদেরই সব করতে হবে । হাতে টাকা দিলে তার অর্ধেক খাবার খাবে বাকি অর্ধেক মদ । আমি সেই মদের টাকায় ওদের জন্যে কুয়াে করে দেব ভেবেছি। খারাপ ভেবেছি বলুন ? 

‘কাজটা আপনি ঠিক করেননি। ওদের প্রাপ্যটা ওদেরই দেওয়া উচিত। 

‘তাহলে কুয়াে ? জলের ব্যবস্থা ? ‘আপনি যখন এতটা ভেবেছেন তখন ওটা নিজেই করে দিতে পারতেন। 

অর্জুন একটু ভাবল চোখ বন্ধ করে, তারপর মাথা নাড়ল, “ঠিক হ্যায়, করে দেব। কালই লােক লাগিয়ে দেব। জবান দিচ্ছি, আজ বিকেলে কেটে রাখা টাকা ওরা ফেরত পেয়ে যাবে। আপনার উপদেশ আমি মেনে নিলাম। 

‘আপনি যদি এটা করেন তাহলে সত্যি আমি খুশী হব অর্জুনবাবু। ‘জবান তাে দিয়েছি। এখন আপনি বলুন আপনি কবে আমার বাড়িতে পা দিয়ে আমাকে খুশী করবেন?’ ঝুঁকে এল অর্জুন। 

‘আপনার ওখানে যাওয়ার তাে একটা কারণ চাই মিস্টার নায়েক। আপনি কিন্তু এখনও আপনার বক্তব্য বলেননি। 

‘বক্তব্য! আরে মেমসাহেব, আমি তাে আপনার সঙ্গে আলাপ করতে এলাম। ‘তাহলে তাে আলাপ নিশ্চয়ই এতক্ষণ হয়ে গিয়েছে। 

‘আপনি আমাকে চলে যেতে বলছেন? বেশ, যাচ্ছি। তবে আমার কিন্তু আপনার সঙ্গে আলাপ করে খুব ভাল লেগেছে । মুখের ওপরে সত্যি কথা বলার সাহস আপনার আছে। গুড। যখন যা লাগবে আপনি আমাকে বলবেন। সতীশবাবু চেনেন আমাকে, ওকে দিয়ে খবর পাঠাবেন। 

 

 

Read more

সাতকাহন পর্ব-(৩)-সমরেশ মজুমদার

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *