সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের কর্নেল সমগ্র প্রথম খন্ড এর অংশ -১৮

কিন্তু চন্দ্রিকা কলগার্ল ছিল, জানতেন না?” ‘আজ্ঞে। তবে স্যার, আমার বরাবর কেমন একটা সন্দেহ হতাে। চন্দ্রিকার হাবভাব দেখেই কেমন লাগত। তবে ফেরােসাস টাইপের মেয়ে ছিল।

কর্নেল সমগ্র ১ম খণ্ড

সে থেমে গেল। মৃদুলা এসে নমস্কার করে বসলেন। চেহারায় উদ্বেগের ছাপ প্রকট। ঠোট কামড়ে ধরে আত্মসম্বরণ করে আস্তে বললেন, মিঃ লাহিড়ির সঙ্গে কথা বলছিলাম। সুশান্ত আপনার আসার খবর দিল। মিঃ লাহিড়িকে জানালাম আপনি এসেছেন। উনি বললেন, ফ্র্যাংকলি সব কথা যেন আপনাকে বলি।

উনি সুশান্তর দিকে ঘুরে বললেন, ‘চা করতে বলে এসেছি। গিয়ে দেখ তুমি।। | সুশান্ত চলে গেলে মৃদুলা চাপা স্বরে বললেন, আমার হাজব্যান্ডকে কিডন্যাপ করেছে। এই দেখুন, কিছুক্ষণ আগে লেটার বক্সে সুশান্ত চিঠিটা পেয়েছে। | খামে ভরা চিঠিটা ওঁর মুঠোয় দুমড়ে গিয়েছিল। কর্নেল বের করে ভাঁজ সােজা করলেন। ঝুঁকে গেলাম ওঁর দিকে। দেখলাম, লেখা আছে : 

ইন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি আমাদের হাতে বন্দি। ৭ঘণ্টার মধ্যে রাঙাটুলির বানীমন্দিরে এক লক্ষ নগদ টাকা পৌঁছে দিলে তাকে ছেড়ে দেব। পুলিশকে জানালে আমরা জেনে যাব এবং সঙ্গে সঙ্গে আপনার স্বামীকে গুলি করে মারবরাঙাটুলির ভবানী মন্দির কোথায় আপনি জানেন। 

ডিস্কো’ কর্নেল চিঠিটা পড়ে বললেন, আপনি কি লাহিড়িসায়েবকে এই চিঠির কথা জানালেন? 

মৃদুলা কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন, না। সুশাম্বাবুকে নিশ্চয় জানিয়েছেন? হা। সুশান্ত এই ফ্যামিলিরই একজন। কী করবেন ভেবেছেন? ‘সুশান্তর সঙ্গে পরামর্শ করেছি। সুশান্ত আজই টাকা নিয়ে যাবে। আমিও সঙ্গে যাব। কারণ ভবানীমন্দির সুশান্ত চেনে না। 

কর্নেল সমগ্র প্রথম খন্ড এর অংশ -১৮

‘এত নগদ টাকা যােগাড় করতে পারবেন? কর্নেলের কথার ওপর মৃদুলা দ্রুত বললেন, “আমি ম্যানেজ করতে পারব। ‘ডিস্কো কে আপনি জানেন? 

 তবে সুশান্ত বলছিল, ইন্দ্রজিতের কাছে নামটা শুনেছে।’ বলে একটু দ্বিধার পর মদুলা ফের বললেন, সুশান্ত ওর বডিগার্ড। কিন্তু গতকাল ও সুশান্তকে নিয়ে বেরােয়নি। সেই ভুলের জন্যই এ অবস্থা। আমি ওকে একা বেরুতে বারণ করেছিলাম। 

‘আপনি তাে রাঙাটুলির মেয়ে। চন্দ্রিকা রায়কে চিনতেন ‘নিশ্চয়? 

সুন্দরী মহিলার চেহারায় মুহূর্তের জন্য বিকৃতি ফুটে উঠল। বিকৃত মুখে বললেন, ‘ডেঞ্জারাস মেয়ে। ইন্দ্রজিৎআমি সাবধান করে দিয়েছিলাম। নিজের স্বামীকে যে মেয়ে তােক দিয়ে মার্ডার করাতে পারে, তার চরিত্র কেমন ভেবে দেখুন। 

‘চন্দ্রিকার স্বামীকে আপনি চিনতেন? ‘মুখােমুখি আলাপ ছিল না। শুনেছি, নিরীহ গােবেচারা প্রকৃতির ছেলে ছিল। তবে ভীষণ মদ খেত—হয়তাে ফ্রাস্ট্রেশনের জন্য। তাছাড়া ওর বাবা ছিলেন এম এল এ। সেই জন্য খারাপ লােকেরা ওকে খুব এক্সপ্লয়েট করত। বটুকবাবুকেও রথীনের বােকামির জন্য বিব্রত হতে হতাে। 

‘আপনি নিশ্চয় বটুকবাবুর ভাগ্নে হেমেন্দ্রকে চেনেন? 

মৃদুলার চোখ জ্বলে উঠল। আমার সন্দেহ, হেমেনদাই ডিস্কো। 

কর্নেল সমগ্র প্রথম খন্ড এর অংশ -১৮

‘কেন সন্দেহ? . চন্দ্রিকার সঙ্গে হেমেনদার অবৈধ সম্পর্ক ছিল। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, রথীনকে ‘মার্ডারের পেছনে তারও হাত ছিল। ইন্দ্রজিৎ আমাকে বলেছিল এ সব কথা খুলে বলাই উচিত আপনাকে। আমার স্বামীভদ্রলােক এই যে বিপদে পড়েছে, সেটা অকারণ নয়। মৃদুলার মুখে আবার বিকৃতি ফুটে উঠল। চন্দ্রিকাকে নিয়ে হেমেনদার সঙ্গে ইন্দ্রজিতের রেষারেষি চলছিল। ইন্দ্রজিৎ আমাকে বলত চন্দ্রিকার জীবন হেমেনই নষ্ট করেছে। এদিকে হেমেনদা একদিন আমাকে টেলিফোনে বলছিল, 

জিৎ চন্দ্রিকার জন্য বিপদে পড়বে। ওকে যেন সাবধান করে দিই। ‘আপনি ইন্দ্রজিৎবাবুকে বলেছিলেন সে-কথা? মৃদুলা মুখ নামিয়ে আস্তে বললেন, হ্যা। শুনে ও খেপে গেল। ভীষণ গড়াঝাঁটি হলাে আমার সঙ্গে। ইন্দ্রজিতেরযুক্তি হলাে, চন্দ্রিকার অভিনয় ক্ষমতা নাকি অসাধারণ। সে তার সৌরভ নাট্যগােষ্ঠীর অ্যাসেট হয়ে উঠবে ভবিষ্যতে। আমি বুঝতে পারি না কিছু। 

সুশান্ত এল। বাড়ির পরিচারিকার হাতে ট্রে। কর্নেল একটু হেসে বললেন, আমি এক চুমুক খাব মাত্র—আপনার অনারে। জয়ন্ত পুরাে কাপ খাও। 

মৃদুলা সুশান্তকে বললেন, তুমি এখনই পার্ক স্ট্রিট থানায় গিয়ে দেখতে সমাইল এখনও কেন এল না গাড়ি নিয়ে। লাহিড়িসায়েব বললেন, বলে দিয়েছেন এদের। যাবে আর আসবে কিন্তু। সাড়ে বারােটায় ট্রেন। ভুলে যেও না। 

সুশান্ত বেরিয়ে গেল। কর্নেল বললেন, ইন্দ্রজিৎবাবুর গাড়ি? | মৃদুলা বললেন, হ্যা। গতরাতে ওর গাড়িটা ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের মােড়ে পাওয়া য়েছিল। তখন টেলিফোনে আপনাকে বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। 

ল স্ট্রিটের মােড়ে পাওয়া গেছে? গত রাতে? । “হ্যা। লাহিড়িসায়েব খবর দিয়েছিলেন। তােক পাঠিয়েছি সঙ্গে সঙ্গে। 

কর্নেল ঘড়ি দেখে বললেন, আপনি যখন ডিস্কোকে টাকা দিয়ে ইন্দ্রজিৎবাবুর মুক্তি চেয়েছেন, তখন আর আমার কিছু করার নেই। তাে— 

কর্নেল সমগ্র প্রথম খন্ড এর অংশ -১৮

মৃদুলা ওঁর কথার ওপর বললেন, আমি রিস্ক নিতে চাই না। টাকার চেয়ে প্রাণের 

দাম বেশি। ওঁর চোখে জল এসে গিয়েছিল। হাতের চেটোয় মুছে ফের বললেন, ‘যদি ভালয়-ভালয় ওকে ফিরিয়ে আনতে পারি, আর নাটক করতে দেব না। কত অচেনা মেয়ে ওর গ্রুপে নাটক করতে আসে। হয়তাে আবার কারও জন্য ও বিপদে পড়বে। 

কর্নেল বললেন, একটা প্রশ্ন। আপনার বাবার নাম কী? ‘আমার বাবা একজন সায়েন্টিস্ট। একসময় অধ্যাপনা করতেন। ছেড়ে দিয়ে কী সব রিসার্চ করেন। আমার বাবা ভীষণ খেয়ালি মানুষ। আসলে আমার মায়ের মৃত্যুর পর বাবা কেমন যেন হয়ে গেছেন। কোথায় কোথায় বনজঙ্গল পাহাড়ে ঘুরে বেড়ান। 

বাই এনি চান্স, আপনার বাবার নাম কি অনাথবন্ধু রায়? মৃদুলা আস্তে বললেন, হ্যা। আপনি চেনেন? কাগজে ওঁর লেখা পড়েছি। ইকোলজিস্ট উনি। কর্নেল উঠে দাঁড়ালেন। মৃদুলা বললেন, আপনাকে কষ্ট দিলাম। সকাল অব্দি জানতাম না টাকার জন্য ইন্দ্রজিৎকে কিডন্যাপ করেছে। তা হলে আপনাকে আসতে নিষেধ করতাম। 

কর্নেল পা বাড়িয়ে হঠাৎ ঘুরে বললেন, শুধু একটা চিঠির ওপর ভরসা করে আপনি অত টাকা নিয়ে যাবেন?

 

Read More

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের কর্নেল সমগ্র প্রথম খন্ড এর অংশ -১৯

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *