ভদ্রলােকের স্বপ্নটা আরাে জোরালাে করে দিতাম। তার কাছে সারাজীবন মনে হত – তিনি ঐ রাতে সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখেছেন।’
নবনী হাই তুলতে তুলতে বলল, গল্পের বই পড়া তাের পুরােপুরি বন্ধ করা উচিত। তাের মাথা এলােমেলাে হয়ে গেছে। এখন ঘুমাে দেখি। ‘আচ্ছা ঘুমুচ্ছি।’
নবনী অবাক হয়ে লক্ষ্য করল, শ্ৰবণী সত্যি সত্যি ঘুমিয়ে পড়েছে। গাঢ়, গভীর ঘুম। নবনীর ঘুম আসছে না। সে জেগে আছে। জানালা দিয়ে জোছনার আলাে ঢুকেছে। সুন্দর দেখাচ্ছে।
শ্রাবণীর সঙ্গে গল্প করতে ভাল লাগছিল। এখন কেমন যেন একা লাগছে। শাহেদ কি এখনাে জেগে আছে। ঢাকায় সে অনেক রাত জাগত। এখানে কি জাগবে? শরীর খারাপ শুয়ে পড়েছে নিশ্চয়ই।
নবনী খাট থেকে নামল। তার পানির পিপাসা পেয়েছে। সে বারান্দায় এসে দাঁড়াল। বারান্দায় খুব হাওয়া। শীত লাগছে। সে খানিকক্ষণ শীত গায়ে মাখল। খুব সাবধানে এগুল শাহেদের ঘরের দিকে। ঘরে বাতি জ্বলছে। সে এখনাে জেগে আছে।নবনী দরজায় হাত রাখল। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ । সে কি ডাকবে শাহেদকে? না থাক। নবনী খাবার ঘরের দিকে এগুল।
খাবার ঘরে বাতি জ্বলছে। জাহানারা হাতলওয়ালা একটা চেয়ারে বসে উলের কি যেন বুনছেন। তার পেছনে মিলু বুয়া দাঁড়িয়ে চুল বিনি করে দিচ্ছে। নবনী বলল, মা ঘুমাও নি?
‘না। ঘুম আসছে না।’
বসে বসে সুয়েটার বুনলে তাে ঘুম আসবে না। বিছানায় শুয়ে ঘুমের চেষ্টা করতে হবে।’
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে-খন্ড-১০
চেষ্টা করে লাভ নেই।’ তুমি ঘুমু না ভাল কথা। মিলু বুয়াকে জাগিয়ে রেখেছ কেন? তাকে ঘুমুতে দাও।
জাহানারা কিছু বললেন না। উল বুনেই যেতে লাগলেন। মিলু নবনীর দিকে তাকিয়ে ইশারায় আর কিছু না বলার জন্যে অনুরােধ করল ।
সুরুজ মিয়া মই নিয়ে এসেছেন।
ডাকবাংলাের পেছনে মই লাগানাে হয়েছে। সুরুজ মিয়া নিজেই মই বেয়ে তরতর করে উঠলেন। নিশ্চিত হলেন যে মই ঠিক আছে । মই ভেঙ্গে পড়ে গেলে তার ওপর দোষ পড়বে।
শ্রাবণী বলল, থ্যাংকস চেয়ারম্যান চাচা। সুরুজ মিয়া শুকনাে মুখে বললেন, স্যার রাগই করেন কি-না। ‘বাবা রাগ করবে না। আপনি শুধু শুধু ভয় পাচ্ছেন।’
আর কিছু লাগবে আম্মা? লাগলে বলবেন! লজ্জা করবেন না।’ আপনাকে যা আনতে বলা হবে আপনি তা আনবেন। ‘এত ক্ষমতা কি আমার আছে আম্মা! তবে চেষ্টা করব এইটা সত্য।
আসুন চেয়ারম্যান চাচা, আমার সঙ্গে চা খান। জিনা আম্মা। আমি এখন যাই। স্যার ঘুম থেকে উঠলে একবার আসব । খোজ নিয়া যাব । আপনার কিছু লাগবে কি-না তা তাে আম্মা বলেন নাই । আমি হলাম আপনার বুড়াে ছেলে। ছেলেকে বলতে দোষ নাই।’
‘আমার কিছু লাগবে না। ও আচ্ছা, একটা জিনিস লাগতেও পারে। এখনাে বুঝতে পারছি না। আপনাকে পরে বলব।’
সুরুজ মিয়া চিন্তিত বােধ করছেন। মিনিস্টার সাহেবের ছােট মেয়েটা অন্য দশটা মেয়ের মত না। একটু আলাদা। মাথা খারাপও হতে পারে। বড়লােকের মেয়েগুলির মাথা একটু খারাপ এমনিতেই থাকে। আর এ হল ছােট মেয়ে—আদর পেয়েছে বেশি। এই মেয়েটা সম্পর্কে গতকাল রাতে একটা খবর পেয়ে তিনি খুবই চিন্তিত বােধ করেছেন।
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে-খন্ড-১০
মিনিস্টার সাহেবকে জানাবেন কি-না বুঝতে পারছেন না। জানানাে উচিত কি না তাও বুঝতে পারছেন না। ওসি সাহেবের সঙ্গে পরামর্শ করতে গিয়েছিলেন। ওসি সাহেবও কোন পরামর্শ দিতে পারলেন না—শুধু বললেন, চিন্তার বিষয় হয়ে গেল । লক্ষ্য রাখতে হবে।
ব্যাপার তেমন কিছু না। পুলিশের সেন্ট্রি খবরটা দিয়েছে। সে মিথ্যা বলেনি। মিনিস্টারের মেয়েকে নিয়ে মিথ্যা বলার সাহস তার হবে না। | সে দেখেছে মিনিস্টার সাহেবের ছােট মেয়ে রাত তিনটার দিকে একটা চাদর গায়ে দিয়ে একা একা বাড়ি থেকে বের হয়ে নদীর তীর পর্যন্ত গেল। খানিকক্ষণ হইল — তারপর ফিরে এল। পুলিশের সেন্ট্রি কাছে যায়নি, দূরে দূরে থেকেছে । তবে লক্ষ্য রেখেছে।
এবানে অবশ্যি ভয়ের কিছুই নেই। খুবই নিরাপদ জায়গা। তবু অঘটন ঘটতে কতক্ষণ লাগে? অঘটন যে কোন সময় ঘটতে পারে। তবে এখন আর ভয়ের কিছু নেই।
Read More