ভদ্রলোকের বুদ্ধি তো ভালাই । এমন বুুদ্ধিমান একজন মানুষ রিনকির মতো গাধা টাইপের একটি মেয়ের সঙ্গে জীবন কী করে টেনে নেবে কে জানে । হ্যালো! হ্যালোলাইন কি কেটে গেল ?
না, কাটেনি । আপনি কি হিমু ভাই ?
হ্যাঁ । রিনকি বলেছে আপনার নাকি অলৌকিক তা আছে ।
কী রকম ক্ষমতা ।
প্রফেটিক ক্ষমতা । আপনি নাকি ভবিষ্যতের কথা বলতে পারেন । আপনি যা বলেন তা-ই নাকি হয় ।
আমি চুপ করে রইলাম । এই জাতীয় প্রসঙ্গে এলে চুপ করে থাকাই নিরাপদ । হ্যাঁ- না কিছু বললেই তর্কের মুখোমুখি হতে হয় । তর্ক করতে আমার ভালো লাগে না । হ্যালো! হ্যালো! লাইনটা ডিসটার্ব করছে । হ্যালো হিমুভাই!
বলুন ।
আপনি কি দয়া করে একটু রিনকিকে…
ওকে তো দেয়া যাবে না । ও আশেপাশে নেই । বাবার সেবা করছে । উনি অসুস্থ । অসুস্থ ? কী বলছেন? সিরিয়াস কিছু ? সিরিয়াস বলা যেতে পারে ।
বলেন কী! আমি আসব?
আমি কয়েক মুহুর্ত দ্রুত চিন্তা করে বললাম, আসতে অসুবিধা হবে না তো ? না-না অসুবিধা কী! আমার গাড়ি আছে । আকাশের অবস্থা ভালো না । ঝড়বৃষ্টি হতে পারে । হোক । বিপদের সময় উপস্থিত না থাকলে কী করে হয় ? তা তো বটেই । আপনি এক্ষুনি রওনা না হয়ে ঘন্টাখানেক পরে আসুন । কেন বলুন তো ?
এমনি বললাম ।
ঠিক আছে ।ঠিক আছে । আপনার কথা অগ্রাহ্য করব না । যেসব কথা আমি শুনেছি – মাই গড । আপনি দয়া করে আমার সম্পর্কেও কিছু বলবেন । মাই আর্নেস্ট রিকোয়েস্ট ।
আচ্ছা বলব ।
হিমুভাই, তাহলে রাখি ? আর ইয়ে,আমি যে আসছি এটা রিনকিকে বলবেন না । একটা সারপ্রাইজ হবে ।
আমার টেলিফোন-ব্যাধি আছে । একবার টেলিফোনের কারো সঙ্গে কথা বললে, আবার অন্য কারো সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করে। রূপাদের বাসায় করলাম । রূপার বাবা ধরতেই বললাম, আচ্ছা, এটা কি রেলওয়ে বুকিং? রূপার বাবা বললেন, জি-না । আপনার রঙ নাম্বার হয়েছে । তখন আমি বললাম, জাস্ট ওয়ান মিনিট, রূপা কি জেগে আছে ?
ময়ূরাক্ষী উপন্যাসের খন্ড- ৬
রূপার বাবার হাইপ্রেসার বা এই জাতীয় কিছু বোধহয় আছে । অল্পতেই রেগে গিয়ে এমন হৈচৈ শুরু করেন যে বলার মত না । আমার কথাতেও তাই হল । তিনি চিড়চিড়িয়ে উঠলেন, কে ? কে ? এই ছোকরা, তুমি কে ? তিনি খুব হৈচৈ করতে লাগলেন । আমি রিসিভার রেখে দিলাম । রূপার বাবা নিশ্চয়ই সবাইকে ডেকে এই ঘটনা বলবেন । রূপা সঙ্গে সঙ্গে বুঝবে কে টেলিফোন করেছিল। সে হাসবে না রাগ করবে কে জানে । যেখানে রাগ করা উচিত সেখানে সে রাগ করে না, হাসে । যেখানে হাসা উচিত সেখানে রাগ করে ।
আমি ওয়ান সেভেনে রিং করে জাস্টিস এম.সোবহানের বাসা চাইলাম । সম্ভব হলে মীরা বা মীরুর সঙ্গেও কথা বলা যাবে । কী বলব ঠিককরা হলো না । যা মনে আসে, তাই বলব । আগে থেকে ভেবেচিন্তে কিছু বলা আমার স্বভাবে নেই ।
হ্যালো ।
কে মীরা ?
হ্যাঁ । আপনি কে বলছেন ?
আমার নাম টুটুল ।
কে ?
অনেকক্ষন চুপচাপ কাটল । মনে হচ্ছে মীরা ঘটনার আকস্মিকতায় বিচলিত । আমার মনে হয়, কথা বলবে কি বলবে না বুঝতে পারছে না । ভুলে গেছেন ? ঐ যে পুলিশর হাতে তুলে দিলেন । কী করেছিলাম আমি বলুন তো ?
কোথেকে টেলিফোন করছেন ?
হাসপাতাল থেকে । পুলিশ মেরে আমার অবস্থা কাহিল করে দিয়েছে । রক্তবমি করছিলাম ।
সে কী কথা, মারবে কেন !
পুলিশের হাতে আসামি তুলে দেবেন আর পুলিশ আসামিকে কোলে বসিয়ে মণ্ডা খাওয়াবে ? আমি তো আপনাদের কোনোই ক্ষতি করিনি । গাড়িতে ডেকেছেন, উঠেছি । তাছাড়া আপনার টুটুল টুটুল করছিলেন । আমার ডাকনামও টুটুল । আপনি কিন্ত্ত বলেছেন, আপনার নাম টুটুল নয় ।
হ্যাঁ বলেছিলাম । কারণ, বুঝতে পারছিলাম আপনি অন্য টুটুলকে খুঁজছিলেন যার কপালে একটা কাটা দাগ ।
ওপাশে অনেকক্ষণ কোনো কথা শোনা গেল না । অন্ধকারে ঢ়িল ছুড়েছিলাম । মনে হচ্ছে লেগে গেছে । এটা একটা আশ্চর্য ব্যাপার !যা বলি প্রায় সময় তা কেমন যেন মিলে যায় । টুটুলের কপালের কাটা দাগের কথাটা হঠাৎ মনে এসেছিল । ভাগ্যিস এসেছিল !
ময়ূরাক্ষী উপন্যাসের খন্ড- ৬
হ্যালো, আপনি কোনো হাসপাতালে আছেন ?
কেন, দেখতে আসবেন ?
বলুন না কোন হাসপাতালে ?
বাসায় চলে যাচ্ছি । ওরা বুকের এক্সরে করেছে । দুটা স্টিচ দিয়েছে । বলেছে ভর্তি হবার দরকার নেই ।
আমি এক্ষুনি বাবাকে বলছি । থানায় টেলিফোন করবেন ।
আমি শব্দ করে হাসলাম ।
হাসছেন কেন ? পুলিশ কি কখনো মারের কথা স্বীকার করে ? কখনো করে না । আচ্ছা রাখি । না না রাখবেন না । প্রিজ । না । প্রিজ ।
আমি টেলিফোন নামিয়ে রাখলাম । ঠিক তখন প্রবল বর্ষণ শুরু হলো । কালবৈশাখী ঝড় । কালবৈশাখী ঝড় । কালবৈশাখী সাধারণত চৈত্র মাসেই হয় । ঝড়ের নাম হওয়া উচিত ছিল কালচৈত্র ঝড় । দেখতে দেখতে অসহ্য গরম চলে গিয়ে চারদিক হিম-শীতল হয়ে গেল । নির্ঘাৎ আশেপাশে কোথাও শিলাবৃষ্টি হচ্ছে । ছাদে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজব কি ভিজব না মনস্থির করতে পারছি না । রিনকি বের হয়ে বাবার ঘর থেকে । তাকে কেমন যেন শঙ্কিত মনে হচ্ছে । আমি বললাম, রিনকি , তুই একটু বসার ঘরে যা । কলিংবেল বাজতেই দরজা খুলে দিবি ।
রিনকি বিস্মিত গলায় বলল, কেন ?
তোর জন্যে একটা সারপ্রাইজ আছে ।
রিনকি নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গে কলিংবেল বাজল । আমার মনটাই অন্যরকম হয়ে গেল । ঝড়বৃষ্টির মধ্যে দেখা হোক দুজনের ।
Read more
