শঙ্খনীল কারাগার -শেষ খণ্ড-হুমায়ূন আহমেদ

শঙ্খনীল কারাগার -শেষ খণ্ড-হুমায়ূন আহমেদ

ভুলবি কেন? রুনুকে কি আমরা ভুলতে পারি, না ভােলা উচিত ? কিটকি ভারি ভালােমানুষমেয়েটি যেন সুখী হয়এখনাে তাে তার বয়স হয় নি, বুঝতেও শেখে নি কিছুকষ্ট লাগে ভেবেমার কথা তাের মনে পড়ে খােকা? চেহারা মনে করতে পারিস? আমি কিন্তু পারি না

স্বপ্নেও দেখি না বহু দিনখুব দেখতে ইচ্ছে হয়জানি, মার প্রতি তােদের সবার একটা অভিমান আছেতােদের ধারণা, মা কাউকে ভালােবাসতে পারে নিহয়তাে সত্যি, হয়তাে সত্যি নয়ছােটখালা এক দিন মাকে জিজ্ঞেস করেছিল, শিরিন, তুমি তােমার ছেলেমেয়েদের একটুও দেখতে পার না!” 

মা জবাবে হেসে বলেছেন, এদের এমন করে তৈরি করে দিচ্ছি, যাতে ভালােবাসার অভাবে কখনাে কষ্ট না পায়। ……মা বড় দুঃখী ছিল রে খােকা! মেয়েমানুষের দুঃখ তাে বলে বেড়াবার নয়, ঢেকে রাখবার, চিরদিন তিনি তাই রেখে গেছেনতােরা জানতেপারিস নি। এত গানপাগল মা তেইশ বছরে একটি গানগাইল নাপ্রথম স্বামীকে ভুলতে পারে নিযদি পারত, তবে জানত সুখের স্বাদ কত তীব্রযাই হােক, যা চলে গেছে তা গেছেযারা বেঁচে আছে তাদের কথাই ভাবি

শঙ্খনীল কারাগার শেষ খণ্ড 

কিছুক্ষণ আগে নিচে ঘন্টা দিয়েছে, খেতে যাবার সংকেতআমার খাবার ঘরেই দিয়ে যায়তবু নিচে গিয়ে এক বার দেখে আসিআজ আর খাব নারীরটা ভালাে নেইএকটু যেন জ্বরজ্বর লাগছেমাঝে মাঝে অসুখ হলে মন্দ লাগে নাঅসুখ হলেই অনেক ধরনের চিন্তা আসে, যেগুলি অন্য সময় আসে না। 

হােস্টেলের খুব কাছ দিয়ে নদী বয়ে গিয়েছেসুন্দর নামএই মুহূর্তে মনে আসছে নারাতের বেলা সার্চলাইট ফেলে ফেলে লঞ্চ যায়, বেশ লাগে দেখতেদেখতে পাচ্ছি লঞ্চ যাচ্ছে আলাে ফেলেতােরা ঢাকায় থেকে তাে সব দেখবি 

আজ এই পর্যন্ত থাকশরীরের দিকে ক্ষ রাখিসবাজে সিগারেট টানবি নাকম খাবি, কিন্তু দামী হতে হবেটাকার ভাবনা তাে নেইছােটবেলা চুমু খেতাম হাের কপালে, এখন তাে ড়াে হয়ে গেছিসতবু দূর থেকে চুমু খাচ্ছি। 

তাে, রাবেয়া আপা। ……….ঠিকানাঃ সুপারিনটেনডেন্ট, গার্লস হােস্টেদর্শ হাইস্কুপােঃ অঃ কলসহাটি জেলাময়মনসিংহ। ……….গভীর রাতে ঘুম ভেঙে যায় প্রায়ইছাড়া ছাড়া অর্থহীন স্বপ্ন দেখতে দেখতে হঠাৎ জেগে উঠিপরিচিত বিছানায় শুয়ে আছি, এই ধারণা মনে আসতেও সময় লাগেমাথার কাছের জানালা মনে হয় সরে গিয়েছে পায়ের কাছেতৃষ্ণা বােধ হয়টেবিলে ঢাকাদেওয়া পানির গ্লাসহাত বাড়িয়ে টেনে নিলেই হয়, অথচ ইচ্ছে হয় না। 

শঙ্খনীল কারাগার শেষ খণ্ড 

কোনাে কোনাে রাতে অপূর্ব জোছনা হয়সারা ঘর নরম আলােয় ভাসতে থাকেভাবি, একা একা বেড়ালে বেশ আবার চাদর মুড়ি দিয়ে নিজেকে গুটিয়ে ফেলিযেন বাইরের উথালপাথাল চাঁদের আলাের সঙ্গে আমার কোনাে যােগ নেই। 

মাঝে মাঝে বৃষ্টি নামেএকঘেয়ে কান্নার সুরের মতাে সেশব্দআমি কান পেতে শুনিবাতাসে জামগাছের পাতায় সরসর শব্দ হয়সব মিলিয়ে হৃদয় হাহা করে ওঠেআদিগন্ত বিস্তৃত শূন্যতায় কী বিপুল বিষন্নতাই না অনুভব করিজানালার ওপাশের অন্ধকার থেকে আমার সঙ্গীরা আমায় ডাকেএকদিন যাদের সঙ্গ পেয়েআজ নিঃসঙ্গতায় ডুবছি*

 

Read More

হুমায়ূন আহমেদের লেখা সূর্যের দিন খন্ড-১

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *