অ্যান্টিবায়ােটিক খেতে দেন নি। কারণ অ্যান্টিবায়ােটিক শিশুদের জন্য বিষ।
সিগারেট হাতে বারান্দায় এসে মিসির আলি অদ্ভুত এক দৃশ্য দেখলেন। মল্লিক সাহেবের দুই ছেলে মুখােমুখি দাঁড়িয়ে কানে ধরে উঠবােস করছে। কতবার উঠবােস করা হচ্ছে তারা সেই হিসাবও রাখছে। শব্দ করে বলছে—৪১, ৪২, ৪৩
ছক্কা-বক্কা দুই ভাইয়ের একটির শিশুপুত্র দু’জনের মাঝখানে শান্ত ভঙ্গিতে বসে আছে । তার হাতে কাঠি লজেন্স। সে লজেন্স চুষছে ।
এ ধরনের দৃশ্য বেশিক্ষণ দেখা যায় না। মিসির আলি ঘরে ঢুকে The Others Side of Black Hole বই খুললেন। বিজ্ঞান যে পর্যায়ে চলে গেছে এখন যে-কোনাে গাঁজাখুরি গল্পও বিজ্ঞান বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। ব্ল্যাকহােলের বইটিতেও লেখক এই জিনিস করেছেন। কঠিন বিজ্ঞানের লেবাসে কল্পগল্প।
চাচাজি আসব ?
মিসির আলি চমকে তাকালেন। দুই ভাই মুখ কাঁচুমাচু করে দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের সঙ্গে বাচ্চাটি নেই। মিসির আলি বই বন্ধ করে বললেন, এসাে।
দুই ভাই ঘরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে ছিটকিনি লাগিয়ে দিল ।
চাচাজি, আপনার ঘরে একটু বসি ? বসাে। কোনাে সমস্যা নেই। চা খাবে? জি-না ।। সকালের নাশতা করেছ ? জি। বিরিয়ানি খেয়েছি।
কথা বলছে বড়ভাই। ছােটভাই ঠোট নাড়াচ্ছে। এইবার ছােটভাই কথা শুরু করল, বড়জন চুপ।
যখন নামিবে আঁধার পর্ব-৯
বাবা এক শ বার কানে ধরে উঠবােস করতে বলেছিলেন, আমরা এক শ দশ বার করেছি। দশটা ফ্রি করে দিয়েছি। ভালাে করেছি না চাচাজি ?
অবশ্যই ভালাে করেছ। শাস্তিটা হয়েছে কী জন্য ? অপরাধ কী করেছিলে ? উনার দিকে তাকিয়ে হেসেছি। হেসে ফেলার জন্য শাস্তি ? খারাপ হাসি হেসেছি চাচাজি । হাসির ভালাে-খারাপ আছে ? জি আছে।
মিসির আলি বললেন, আমার দিকে তাকিয়ে একটা খারাপ হাসি দাও তাে। দেখি ব্যাপারটা কী ?
দুই ভাই চুপ করে আছে। মনে হয় তাদের পক্ষে খারাপ হাসি দেওয়া এই মুহূর্তে সম্ভব না। | ছছাটভাই বলল, চাচাজি, আপনি কি অন্য ঘরে যাবেন ? আমরা এখন বেয়াদবি করব।
কী বেয়াদবি করবে ? সিগারেট খাব। আমার সামনে খাও। অসুবিধা নেই। চাচাজি, মন থেকে অনুমতি দিয়েছেন ? হা।। আপনার মতাে মানুষ ত্রিভুবনে কম আছে।
বলতে বলতে বড়ভাই শার্টের পকেট থেকে সিগারেট বের করল। একটা সিগারেটই দু’জনে মিলে টানছে। কুৎসিত গন্ধে ঘর ভর্তি হয়ে গেছে। তারা যে সিগারেট টানছে তা সাধারণ সিগারেট না। গাঁজাভর্তি সিগারেট ।
মিসির আলির মনে হলাে রহস্যের একটা জট খুলেছে। গাঁজা ডিলিউশনের দরজা খুলে দেয়। এইজন্যেই লােকগানে বলা হয়—“গাঁজার নৌকা শূন্যের ভরে যায়।’
বক্কা বিনীত গলায় বলল, চাচাজি কি একটা টান দিবেন ? মিসির আলি বললেন, না। তােমরা কি নিয়মিত খাও? দুই ভাই একসঙ্গে বলল, জি-না। আজ একটা বিশেষ দিন। বিশেষ দিন কী জন্যে ? দুই ভাইয়ের কেউই জবাব দিল না। বিচিত্র ভঙ্গিতে হাসল ।
যখন নামিবে আঁধার পর্ব-৯
তার মিনিট দশেকের মাথায় জিপভর্তি করে পুলিশের গাড়ি চলে এল। পুলিশের কাছে দুই ভাই স্বীকার করল, তারা ধাক্কা দিয়ে তাদের বাবাকে কুয়ায় ফেলে দিয়েছে।
দমকল বাহিনীর লােক এসে গহিন কুয়া থেকে অনেক ঝামেলা করে মল্লিক সাহেবের ডেডবডি উদ্ধার করল ।
মল্লিক সাহেবের ছােট ছেলের স্ত্রী চম্পা এসেছে মিসির আলির কাছে। মল্লিক সাহেব এই ছেলের বউকেই ডাকতেন ছােট কুত্তি নামে।
মেয়েটি দেখতে কেমন মিসির আলি কিছুই বুঝলেন না। তার সারা শরীর গােলাপি রঙের বােরকায় ঢাকা। চোখ দেখা যাওয়ার কথা, তাও দেখা যাচ্ছে না। মশারির জালের আড়ালে চোখ । দুই হাতে কালাে হাতমােজা। পায়ে টকটকে লাল মােজা।
Read More