বারসাত বলল, বৃষ্টির ফোটার রেকর্ডেড বড় সাইজ হল— পিং পং বলের সাইজ। ভেনিজুয়েলায় ১৮৭০ সনে এই সাইজের বৃষ্টি হয়েছিল। সেখানকার চার্চের রেকর্ড বইয়ে রেকর্ড করা আছে।
নীলুফার কিছু বলল না। সে এসেছে বারসাতের বিয়েতে একজন সাক্ষী হিসেবে। সে ভেবেছিল দুপুর বারােটার মধ্যে সব শেষ হয়ে যাবে। সে চলে যেতে পারবে। তার ছেলে টুকটুকির স্কুল ছুটি হয় দুপুর দু’টায়। তার আগেই তাকে যেতে হবে। ছেলেকে স্কুল থেকে আনার আর কেউ নেই। বারসাতকে চলে যাবার কথা বলতে মায়া লাগছে। নীলুফারের ধারণা বারসাত এখনাে আশা করে আছে মীরু নামের মেয়েটা চলে আসবে।
বারসাতের চেহারায় আনন্দ এখনাে ঝলমল করছে। তাকে দেখতে সুন্দর লাগছে। হালকা হলুদ রঙের হাফ শার্ট পরেছে। শার্ট থেকে হলুদের আভা চলে গেছে মুখে।
ভাবী চা খাবেন?
আমি ঘন ঘন চা খাই না।। বৃষ্টি দেখতে দেখতে চা খেতে ভালাে লাগে।
তুমি খাও। বারসাত আমার যে এখন উঠতে হয়। ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে হবে।
বারসাত বলল, ভাবী আমার মনে আছে। ওর স্কুল ছুটি হবে দুটায়। আপনাকে দেড়টার সময় উঠলেই চলবে। এখনাে আপনার হাতে পঁচিশ মিনিট সময় আছে।
নীলুফার বলল, মেয়েটার বাসায় টেলিফোন নেই? তুমি টেলিফোনে খোজ নাও না কেন?
এক ফাঁকে চেষ্টা করে এসেছি। ওদের টেলিফোন নষ্ট। রিং হয়? মনে হচ্ছে রিং হয়। কিন্তু কেউ তাে ধরছে না। নীলুফার বলল, শেষ মুহূর্তে মেয়ে মত বদলায়নি তাে?
রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-৭)
বারসাত বলল, বদলাতে পারে। মেয়েরা কেন জানি কাজির অফিসে এসে বিয়ে করার টেনশানটা নিতে পারে না। বাড়ি থেকে বের হবার আগ মুহূর্তে মত বদলায়। কাজের মেয়ের সঙ্গে লুডু খেলতে বসে।
লুডু খেলতে বসে মানে? কথার কথা বললাম। বারসাত হাসছে। শব্দ করেই হাসছে। নীলুফার বলল, হাসছ কেন?
বারসাত বলল, মজার একটা কথা মনে করে হাসছি। মাঝে মাঝে এমনও হয় কাজি অফিসের টেনশানের উত্তাপে সাত বছরের প্রেমও উড়ে যায়। প্রেমিককেই চিনতে পারে না বিয়ে তাে দিল্লি হনুজ দূর অস্ত।
প্রেমিককেই চিনতে পারবে না কেন?
নিজের চোখে দেখা। আমার বন্ধু কাজি অফিসে বিয়ে করবে। আমি সাক্ষী।
মেয়ের বিকেলে আসার কথা। রাত আটটা বেজে গেল তার খোঁজ নেই।
রকিবুল গেল টেলিফোন করতে। মুখ শুকনা করে ফিরে এল। মেয়ে তাকে চিনতে পারছে না।
টেলিফোনে রকিব যতই বলে- আমি রকিব। মেয়ে বলে, কোন রকিব? হা হা হা ।
হাসছ কেন? মজা পেয়ে হাসছি ভাবী ।। নীলুফার বলল, তুমি মনে হয় সব কিছুতেই মজা পাও। বারসাত বলল, আসলে আমি কোনাে কিছুতেই মজা পাই না। কিন্তু ভঙ্গি করি সব কিছুতে মজা পাচ্ছি।
তার মানে তুমি এখন মজা পাচ্ছ না? একটু কম পাচ্ছি। মেয়েটার জন্যে আর কতক্ষণ অপেক্ষা করবে? চারটা পর্যন্ত অপেক্ষা করব । চারটা কেন?
রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-৭)
মীরুকে বলে রেখেছিলাম আমি অবশ্যই চারটা পর্যন্ত অপেক্ষা করব । ভাবী আপনার কি ক্ষিধে লেগেছে। কিছু খাবেন? এখানে একটা দোকান আছে মিনি সিঙাড়া পাওয়া যায়। প্রায় মার্বেলের মতাে সাইজ। খেতে অসাধারণ। নিয়ে আসি?
নীলুফারের মনে হল বারসাতের ক্ষিধে পেয়েছে। টেনশানে সে হয়তাে সকালে নাস্তাই করেনি। মিনি সিঙাড়া খাওয়ার কোনাে ইচ্ছাই নীলুফারের করছে না। বারসাতের কথা ভেবে সে বলল, চট করে নিয়ে এসাে।
বারসাত সিঙাড়া আনতে পারল না। আজ সিঙাড়া বানানাের কারিগর আসেনি। বারসাত ফিরল কাক ভেজা হয়ে । নীলুফার বলল, এ কী অবস্থা? এমন ভিজা কী করে ভিজলে?
করত। দুটাই কেন জানি ভালাে লাগত। অসুখও উপভােগ করতে জানতে
হয়।
ইচ্ছা করে ভিজলাম ভাবী । যখন দেখলাম সিঙাড়া বানানাের কারিগর আসেনি তখন এমন মেজাজ খারাপ হল যে রাস্তায় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম। বৃষ্টিতে ভিজে যদি গরম মেজাজ একটু ঠাণ্ডা হয়।
ঠাণ্ডা হয়েছে? কিছুটা হয়েছে।
নীলুফার বলল, আমাকে এখন যেতে হবে। তুমি অপেক্ষা কর। আমার মােবাইল টেলিফোন খােলা থাকবে। মেয়েটা যদি এসে পরে আমাকে টেলিফোন করবে।
আচ্ছা।
এলেও করবে। কী হয়েছে পুরােপুরি না জানা পর্যন্ত আমার অস্থীর ভাব যাবে না।
ভাবী চারটার পর নিউজ বুলেটিন প্রচার করা হবে।
নীলুফার বলল, তােমাকে আমি এখন ছােট্ট একটা উপদেশ দিতে চাচ্ছি। দেব?
দিন।
ঠাণ্ডায় তােমার গা কাপছে। তােমাকে দেখেই মনে হচ্ছে তােমার জ্বর আসবে । চারটা পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার নেই তুমি চলে যাও। কাজি সাহেবকে বলে যাও ঐন্দ্রিলা নামের মেয়েটা এলে যেন তাকে বলা হয় তােমার সঙ্গে যােগাযােগ করতে। ঠিক আছে?
Read more