অনুগল্প-পোড়া মাংসের গন্ধ -মুহাম্মদ বরকত আলী

পোড়া মাংসের গন্ধ -মুহাম্মদ বরকত আলী

পিয়ারা, পিয়ারা, মিষ্টি পেয়ারা৷
বাতাসে ভেসে থাকা মাংসের তীব্র গন্ধটা সাই সাই করে ঢুকে গেল আবুলের নাকের দুই ছিদ্রে৷ আহা, কত্তদিন মাংস খাওয়া হয় না৷ এখন আর কেউ দাওয়াতও দেয় না৷ এখন দাওয়াত মানেই উপহার নিয়ে হাজির হওয়া৷ তাই যায়া উপহার দেওয়ার মত আজ ঠিক তাদেরকেই দাওয়াত দেওয়া হয়৷ আবুলের মত মানুষেরা দাওয়াত পেলে ক্ষতি৷ খাবে শুধু, উপহার দেবে না৷ তাই আজ কাল দাওয়াতও পায় না আবুল৷

বাঁকে করে গ্রামে গ্রামে পায়ে হেটে পেয়ারা বেচে কতই বা আর হয়? বড় জোর ত্রিশ থেকে চল্লিশ টাকা। তাতে কি আর মাংস খাওয়ার উপায় থাকে? সারাদিন হাক ছাড়ে, এই পেয়েরা আছে, মিষ্টি পেয়ারা। গলা ছেড়ে বলতে হয় পেয়ার গান৷ দিন শেষে ঠেলে গুজে যা বিক্রি হয় তাতে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে হিসেব করা লাগে না৷ সহজ হিসেব৷ ত্রিশ বা চল্লিশ টাকা৷ বড় জোর ষাট টাকা হবে৷ এতেই স্বামী স্ত্রী মিলে দু বেলা ডাল-ভাত আর অসুস্থ স্ত্রীর পথ্য কেনা৷ এই জীবন আবুলের।

আবুল মাংসের গন্ধটা আরও পেতে চায়৷ আর তাই এগিয়ে যায় বিয়ে বাড়ির খুব কাছে৷ খাবারের গন্ধ নেওয়াটাও অর্ধেক খাওয়া বলা যায়৷ আবুল এখন সেই সুযোগটাই নিচ্ছে। খাওয়া না হোক৷ মাংসের গন্ধটা অন্তত নাকের সাহায্য নিয়ে আত্মাতুপ্তি হোক৷

চেয়ারম্যান সাহেবের মেয়ের বিয়ে৷ দুইটা গরু জবাই হয়েছে৷ এগারোটা ছাগল। মুরগির হিসেবটা বলা মুশকিল। মুরগির রোস্ট হবে৷ বিরাট আয়োজন। জামাই আমেরিকায় থাকে৷ জমিদার ব্যাপার স্যাপার। চেয়ারম্যানেরও কম নেই৷ অতি উচ্চ বংশ।

আবুল মাংসের গন্ধটা প্রাণ ভরে নিচ্ছে। চোখ বন্ধ। এমন সময় চেয়ারম্যানের চাকর এসে ধমক দিয়ে বলল, এই ব্যাটা, এইখানে কি, হ্যাঁ? যাও মিয়া। এখুনি বর যাত্রী চলে আসবি৷ ফকির মিসকিন দেখলি চেয়ারম্যানের ইজ্জত থাকবি?
আবুল বলল, বাবা, আমি ফকির মিসকিন না৷ পেয়ারা বিক্রি করি।
হাসু বলল, তা বাপু তুমি যা বিক্রি কর তা কর গিয়ে। এখান থেইকা যাও তো দিকি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *