রাজিয়া খান এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

রাজিয়া খান এর জীবনী

তিনি অধুনিক মহিলা ঔপন্যাসিকদের মধ্যে অন্যতম। লেখালেখি ছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন মঞ্চে অভিনয় করেছেন। তিনি পঞ্চাশ দশকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির অনুরাগী ও প্রগতিবাদী লেখিকা হিসেবে লেখালেখি করেছেন। বাংলাদেশের উপন্যাসের নারীভাবমূর্তি সৃষ্টিতে নারী লেখকদের মধ্যে তাই আকিমুন রহমান তাকে প্রথম দিককার একজন মনে করেন।রাজিয়া খান এর জীবনী

তিনি খুব বেশি লিখে গিয়েছেন তেমন নয়, কিন্তু যা লিখে গেছেন তাতে জটিলায়তন নগরজীবন-অন্তর্গত ব্যক্তিমানুষের নৈঃসঙ্গ, বিচ্ছিন্নতা ও আত্মরক্তক্ষরণের শিল্পরূপায়ন করেছেন। 

  • প্রখ্যাত এই সাহিত্যিক জন্মগ্রহণ করেন – ১৬ ফ্রেব্রুয়ারি, ১৯৩৬ সালে।
  • তাঁর পৈতিক নিবাস – ফরিদপুর জেলা।
  • তাঁর পিতার নাম – তমিউদ্দিন খান ও মাতার নাম রাবেয়া রাহাত খান। তাঁর পিতা ছিলেন অবিভক্ত বাংলার মন্ত্রী, আইন সভার সদস্য এবং জাতীয় পরিষদের স্পীকার।
  • প্রখ্যাত এই ঔপন্যাসিকরে পুরো নাম – রাজিয়া খান আমিন। 
  • অন্যতম এই সাহিত্যিকের শিক্ষাজীবন – তিনি কলকাতা ও করাচিতে স্কুল, কলেজ জীবন শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স ও এম.এ. পরীক্ষায় প্রথম হন। পরে ব্রিটিশ কাউন্সিলের বৃত্তি নিয়ে ইংল্যান্ডে পড়তে যান। সেখান থেকে তাঁর পিএইচডি ডিগ্রীর সব কাজ সমাপ্ত করে কলকাতায় আরও কিছু রিসার্চ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেতে ইংরেজি বিভাগে পিএইচ.ডি. ডিগ্রী লাভ করেন।
  • তিনি এম.এ. পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পর কর্মজীবন শুরু করেন – রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে।
  •  সম্পদকমণ্ডলীতে যোগ দেন – অবজারাভার পত্রিকায়।
  •  নিয়মিত ভাবে ব্যঙ্গ কলাম লেখা শুরু করেন – ‘কালচার কেটল’ অবাজরভার পত্রিকায়।
  • তিনি ইংরেজি বিভাগের ডিন হিসেবে কর্মরত ছিলেন – ইউনিভাসির্টি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে।
  • তাঁর প্রথম সৃজনশীলতার ঝোঁক প্রকাশিত হয় – ছন্দে।
  • তিনি পুরোদস্তর উপন্যাস লিখতে শুরু করেন – ১৫ বছর বয়সে।
  • ’বট তলার উপন্যাস’ কোন জাতীয় রচনা – উপন্যাস।
  • ’বট তলার উপন্যাস’ এর রচয়িতা – রাজিয়া খান
  • ১৯৫৮ সালে-’বট তলার উপন্যাস’ প্রকাশিত হয় ।
  • তিনি ’বটতলার উপন্যাস’ রচনা করেন – ১৮ বছর বয়সে।
  • ’বটতলার উপন্যাস’ এর কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম – মঈন।

রাজিয়া খান এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

  • ’বটতলার উপন্যাস’ নামক উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে – মাঈন নামক কেন্দ্রীয় চরিত্রের আত্মকথনের মধ্য দিয়ে ’৪৮-এ দেশবিভাগের পরবর্তী সময়ের এই উপমহাদেশের সমাজ, সময় ও রাষ্ট্রের জটিল ও দ্বন্দ্বময় ঘাত-সংঘাত।
  • তাঁর রচিত সার্থক ট্র্যাজেক উপন্যাস হলো – ‘বটতলার উপন্যাস’।
  • ’অনুকল্প’ কোন জাতীয় রচনা – উপন্যাস।
  • ’অনুকল্প’ উপন্যাসের রচয়িতা – রাজিয়া খান
  • ১৯৫৯ সালে-’অনুকল্প’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ।
  • একাটি জটিল মনস্তাত্ত্বিক সার্থক উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃত – ‘অনুকল্প’ উপন্যাসটি।
  • ’অনুকল্প’ উপন্যাসের পটভূমি লিখিত হয়েছে – দুজন যুবক-যুবতী যারা বাল্যে একই মহিলার স্তন্যপান করেছিল তাদের মধ্যকার প্রেমঘটিত মনস্তাত্ত্বিক পটভূমিতে।
  • ’দ্রৌপদী’ কোন জাতীয় রচনা – উপন্যাস।
  • ’দ্রৌপদী’ উপন্যাসের রচয়িতা – রাজিয়া খান।
  • ’দ্রৌপদী’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় – ১৯৯৩ সালে।
  • তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস – ‘দৌপদী’।
  •  রচিত কোন উপন্যাস এপার ওপার দুই বাংলায় বেশ সমাদৃত – ‘দ্রৌপদী’ উপন্যাস।
  • তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে – ‘প্রতিচিত্র’(১৯৭৬), ‘চিত্রকাব্য’(১৯৮০, ‘হে মহাজীবন’(১৯৮৩), এবং ‘পাদবিক’(১৯৯৮) প্রভৃতি।
  • রাজিয়া খানের অন্যান্য বই – ‘Argus under Anesthesia, cruel April’, ’সোনালী ঘাসের দেশ’(বাংলা কবিতা), ‘নোংরা নাটক তিনটি একাঙ্কিকা, ‘আবর্ত’  নাটক, ’তমিজুদ্দিন খানের আত্মকথা’(বাংলা অনুবাদ), ‘Multi Dimensional Vision in George Elito, A Different spring’, জহির রায়হানের “আরেক ফালগুন” উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ।
  • তিনি ’বাংলা একাডেমী পুরস্কার’ লাভ করেন – ১৯৭৫ সালে।
  • রাজিয়া খান ‘একুশে পদক’ লাভ করেন – ১৯৯৭ সালে।
  • তিনি অন্যান্য যে সকল পুরস্কার লাভ করেন – অনন্য পদক (১৯৯৮), ’শিল্পকলা একাডেমী পদক’, ’পি.ই.এন. পুরস্কার (আবর্ত নাটকের জন্য)।
  • প্রখ্যাত এই সাহিত্যিক মৃত্যুবরণ করেন – ২৮ ডিসেম্বর, ২০১১ সালে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *