সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম 

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

তিনি ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক এবং লেখক। তাঁর জ্ঞান ও অধীত বিদ্যাসমূহ ও প্রগতিশীল মুক্তচিন্তা তাঁকে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী হিসাবে বিদ্বানসমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইতিহাস, সমাজতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব, পুরাতত্ত্ব, বিজ্ঞান, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব- সব বিষয়েই তাঁর জ্ঞান ও বিদ্যার গভীরতা তাঁকে পন্ডিতমহলে পরিচিত করে তুলেছে। তাঁর লেখক সত্তায় জড়িয়ে ছিল রাঢ়ের রুক্ষ মাটি। মুর্শিদাবাদরে পাশের জেলা বীরভূম।

 

যেখানে লাভপুর গ্রামে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম। একই জলহাওয়া তাঁদের দুজনকেই প্রাণোন্মাদনা দিয়েছিল। তাই তারাশঙ্কর বলতেন, “আমার পরেই সিরাজ, সিরাজই আমার পরে অধিষ্ঠান করবে।” তাঁর আত্মবিশ্বাস ছিল প্রবল। সংবাদপত্রে চাকরি করলেও কোনও মালিকানাগোষ্ঠীর কাছে মাথা নিচু করেন নি। মিডিয়ার আলো ও প্রচারের প্রতি তাঁর আকুলতা ছিল না। নিজের আত্মসন্মানবোধ নিয়ে প্রায় একা উন্নত গ্রীবায় ছোট ফ্ল্যাটে জীবনকে মনোকষ্ট পেতে হলেও তিনি দমে যান নি। তাঁর সম্পর্ক ছিল মধুর। তাঁর ব্যবহারে ও আচরণে ছিল পরিশীলিত ভদ্রতা ও আন্তরিকতা।

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম 

  • বিশিষ্ট এই লেখক জন্মগ্রহণ করেন – ১৪ অক্টোবর, ১৯৩০ সালে।
  • বিশিষ্ট এই লেখকের পৈত্রিক নিবাস – মুর্শিদাবাদের খোশবাসপুর গ্রাম।
  • অন্যতম এই লেখকের শিক্ষাজীবন – তিনি গোপালপুর মুক্তকেশী বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন। গোপালপুর থেকে পাশ করে তিনি ভর্তি হন বহরমপুর কলেজে। 
  • তিনি ছিলেন ‘আলকাপ’ দলের – ‘ওস্তাদ’ (গুরু)।
  • ’নীলঘরের নটী’ কোন জাতীয় রচনা – উপন্যাস।
  • ’নীলঘরের নটী’ উপন্যাসের রচয়িতা – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ।
  • তাঁর প্রথম মুদ্রিত উপন্যাস – ‘নীলঘরের নটী’।
  • ’অলীক মানুষ’ কোন জাতীয় রচনা – উপন্যাস।
  • ’অলীক মানুষ’ উপন্যাসের রচয়িতা – ‘সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ।
  • এক বিস্তৃত ভুবনের কাহিনী, যা এক মুসলিম পির বা ধর্মগুরুর বংশে জাত পুরষের আত্মানুসন্ধান – ‘অলীক মানুষ’ উপন্যাস।
  • তাঁর ‘অলীক মানুষ’ উপন্যাস ছাপা হয় ধারাবাহিকভাবে – ‘চতুরঙ্গ’ নামে একাট লিটল ম্যাগাজিনে।
  • ’তৃণভূমি’ কোন জাতীয় রচনা – উপন্যাস।
  • কান্দি মহকুমার এক বৃহৎ অঞ্চল ধরা আছে – ’তৃণভূমি’ উপন্যাসে।
  • তাঁর ‘তৃণভূমি’ উপন্যাস ছাপা হয় – অধুনালুপ্ত ‘ধ্বনি’ নামক একটি ছোট পত্রিকায়।
  • ’উত্তর জাহ্নবী’ কোন জাতীয় রচনা – উপন্যাস।
  • ’উত্তর জাহ্নবী’ উপন্যাসে ধরা আছে – এক বিশেষ সময় ও সামাজের কথা, যা বাংলা সাহিত্যে অনাস্বাদিত। 
  • ’অমর্ত প্রেমকথা’ কোন জাতীয় রচনা – উপন্যাস।
  • তাঁর রচিত ‘অমর্ত প্রেমকথা’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় – ১৯৮৮ সালে।
  • ’নীলঘরের নটী’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় – ১৯৬৬ সালে।

Syed Mustafa Siraj এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম 

  • তাঁর অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে – ‘পিঞ্জর সোহাগিনী’, ‘কিংবদন্তির নায়ক’, ‘হিজলকন্যা’, ‘আশমানতারা’, ‘তৃণভূমি’, ‘প্রেমের প্রথম পাঠ’, ‘বন্যা’,  ‘নিশিমৃগয়া’(১৯৭০), কামনার সুখদুঃখ’,  ’নিশিলতা’, ‘এক বোন পারুল’, ‘কৃষ্ণা বাড়ি ফেরেনি’(১৯৮০), ’নৃশংস’, ’রোডসাহেব’, ‘জানগুরু’ ইত্যাদি।
  • নবগ্রাম গোপলপুরের প্রেক্ষাপটে তিনি লিখেছিলেন – ‘প্রেমের প্রথম পাঠ’ উপন্যাস।
  • ’ইন্তি, পিসি ও ঘাটবাবু’ কোন জাতীয় রচনা – ছোটগল্প।
  • ’ইন্তি, পিসি ও ঘাটবাবু’ ছোটগল্পের রচয়িতা – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ।
  • ’রক্তের প্রত্যাশা’ কোন জাতীয় রচনা – ছোটগল্প।
  • ’রক্তের প্রত্যাশা’ ছোটগল্পের রচয়িতা – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ।
  • তাঁর রচিত অন্যান্য ছোটগল্পের মধ্যে রয়েছে – ‘ভালোবাসা ও ডাউনট্রেন’, ‘তরঙ্গিনীর চোখ’, ‘জল সাপ ভালোবাসা’, ‘হিজলবিলের রাখালেরা’, ’নৃশংস’, ‘রণভূমি’, ‘মাটি’, ‘উড়োপাখির ছায়া’, ‘মানুষের জন্ম’, ‘মৃত্যুর ঘোড়া’, ‘গোঘ্ন’, ‘রানীরঘাটের বৃত্তান্ত’ ইত্যাদি।
  • ’কর্ণেল’ তাঁর সৃষ্ট একটি – গোয়েন্দা চরিত্র। 
  • ক্ষুদে ও কিশোর পাঠকদের দাবি মেটাতে তিনি সৃষ্টি করলেন – ‘গোয়েন্দা কর্নেল’ নামে রহস্যময় চরিত্র।
  • সিরাজের ছোটগল্প ‘রানীরঘাটের বৃত্তান্ত’ অবলম্বনে চলচ্চিত্রটি হলো – ‘ফালতু’।

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এর জীবনী

  • সিরাজের ছোটগল্প ‘রানীরঘাটের বৃত্তান্ত’ অবলম্বনে ‘ফালতু’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন – অঞ্জন দাশ।
  • তাঁর অনেক কাহিনী চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে যেমন – ‘কামনার সুখ দুঃখ’ উপন্যাস অবলম্বনে ‘শঙ্খবিষ’, দীনের গুপ্তের পরিচালনায় ‘নিশিমৃগয়া’, উত্তমকুমার অভিনীত ‘আনন্দমেলা’। সিরাজের ‘মানুষ ভূত’ কাহিনী চলচ্চিত্র ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে মঞ্চে ক্রমাগত অভিনীত হয়ে চলেছে।
  • তিনি ভারত সরকারের সাহিত্য ‘আকাডেমি পুরস্কার’ লাভ করেন – ‘অলীক মানুষ’ উপন্যাসটির জন্য।
  • তাঁর ‘অমর্ত্য প্রেমকথা’ বইয়ের জন্য তিনি পেয়েছেন – দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত নরসিংহদাস স্মৃতিপুরস্কার।
  • তিনি ‘আনন্দ পুরস্কার’ পেয়েছেন – ১৯৭৯ সালে।
  • তাঁর অন্যান্য যে সকল পুরস্কার পেয়েছেন – বিভূতিভূষণ স্মৃতি পুরস্কার, সুশীলা দেবী বিড়লা স্মৃতি পুরস্কার, দিল্লির OUF সংস্থার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পুরস্কার, শরৎচন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার ইত্যাদি আরও অনেক পুরস্কার তিনি  তাঁর সামগ্রিক সাহিত্য-কৃতিত্বের জন্য পেয়েছেন।
  • এই স্কুল পালানো মানুষটিই পেয়েছিলেন সান্মানিক – ডক্টরেট উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
  • বিশিষ্ট এই লেখক মৃত্যুবরণ করেন – ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২ সালে (বয়স ৮১) কলকাতা, ভারত

 

Read More

গিরিশচন্দ্র ঘোষ এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *