গিরিশচন্দ্র ঘোষ এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

গিরিশচন্দ্র-ঘোষ-এর-জীবনী

তিনি সাহিত্যঙ্গনে নট, নাট্যকার ও রঙ্গালয় পরিচালক হিসেবে পরিচিত। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি সংগীতস্রষ্ট, কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যপরিচালক। বাংলা থিয়েটারের স্বর্ণযুগ মূলত তারই অবদান। বাংলায় সর্বাধিক সংখ্যক নাটক রচয়িতা গিরিশচন্দ্র মঞ্চাভিয়ের প্রথম যুগে অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও অভিনয় প্রতিভাবলে এক জীবন্ত কিংবদন্তিতে পরিণত হন। গিরিশচন্দ্র ছিলেন কুখ্যাত মদ্যপ ও স্বেচ্ছাচারী।

কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি শ্রীরামকৃষ্ণের অন্যতম অন্তরঙ্গ শিষ্যে পরিণত হন। ”শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত” গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে, কিভাবে শ্রীরামকৃষ্ণের সংস্পর্শে আসার পর গিরিশচন্দ্রের নৈতিক পরিবর্তন ঘটে এবং তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠতম শিষ্যদের একজন হয়ে ওঠেন।

  • বিশিষ্ট এই নাট্যকার জন্মগ্রহণ করেন – ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৮৪৪ সালে।
  • তাঁর পৈত্রিক নিবাস – কলকাতার বাগবাজারে।
  • অন্যতম এই নাট্যকারের শিক্ষাজীবন – তিনি প্রথমে হেয়ার স্কুল এবং ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে অধ্যয়ন করেন। কিন্তু বাল্যকালে পিতামাতার মৃত্যু হলে গিরিশচন্দ্র লেখাপড়ার প্রতি অনেকটা অমনোযোগী হয়ে ওঠেন। ১৮৬২ সালে পাইকপাড়া স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে এখানেই তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে। অবশ্য পরবর্তী জীবনে তিনি বন্ধু ব্রজবিহারী সোমের প্রভাবে প্রচুর পড়াশোনা করেন।
  • বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের শর্মিষ্ঠা নাটকের গীতিকার হিসেবে তিনি নাট্যজগতে প্রবেশ করেন – ১৮৬৭ সালে।
  • তিনি দীনবন্ধু মিত্রের ’সধবার একাদশী’ নাটকে অভিনয় করেন – নিমচাঁদ চরিত্রে।
  • ’সধবার একাদশী’ নাটকে নিমচাঁদের ভূমিকায় অভিনয় করে সুনাম অর্জন করেন – ১৮৬৯ সালে।
  • তাঁর নাট্য কোম্পানির নাম ছিল – ন্যাশানাল থিয়েটার।
  • ন্যাশনাল থিয়েটার নামে জোড়াসাকোতে প্রথম সাধারণ রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেন – ১৮৭১ সালে।

গিরিশচন্দ্র ঘোষ এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

  • নটী বিনোদিনীকে নিয়ে তিনি স্টার থিয়েটার, কলকাতা চৈতন্যশীলা নাটকটি মঞ্চস্থ করেন – ১৮৮৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর।
  • তাঁর সুনাম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল – ‘নটগুরু’ হিসেবে।
  • গীতিনাটকে ব্যবহৃত তাঁর উদ্ভাবিত ছন্দই নামে পরিচিত – “গৈরিশছন্দ”।
  • তাঁর নাটকের সংখ্যা প্রায় – ৮০।
  • ৭৫টি  – তাঁর সমাপ্ত নাটক ও প্রহসনের সংখ্যা।
  • তাঁর অসমাপ্ত নাটক ও প্রহসন রচনার সংখ্যা – ৪টি।
  • তাঁর নাটকের বিষয়বস্তু – প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা।
  • তিনি শেকসপীয়রের কোন নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন – ‘ম্যাকবেথ’।
  • ’রাবণবধ’ কোন জাতীয় রচনা – পৌরানিক নাটক।
  • ’রাবণবধ’ নাটকটি রচনা করেন – গিরিশচন্দ্র ঘোষ।
  • তিনি ‘রাবণবধ’ নাটকটি রচনা করেন – ১৮৮৮ সালে।
  • তাঁর রচিত পৈারানিক নাটকের মধ্যে রয়েছে – ‘অভিমন্যুবধ’ (১৮৮৮), ‘সীতার বনবাস’ (১৮৮৮), ‘রামের বনবাস’ (১৮৮২), ‘লক্ষ্ণণ বর্জন’ (১৮৮২), ‘সীতাহরণ’ (১৮৮২), পান্ডবের অজ্ঞাতবাস’ (১৮৮২), ‘জনা’ (১৮৯৮), ইত্যাদি।
  • ’সিরাজদ্দৌলা’ কোন জাতীয় রচনা – ঐতিহাসকি নাটক।
  • ’সিরাজদ্দৌলা’ নাটকটি রচনা করেন – গিরিশচন্দ্র ঘোষ।
  • ১৯০৬ সালে – ’সিরাজদ্দৌলা নাটকটি প্রকাশিত হয় ।

গিরিশচন্দ্র ঘোষ এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

  • তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটকের মধ্যে রয়েছে – ‘মীর কাশিম’ (১৯০৬), ‘ছত্রপতি শিবাজী’ (১৯০৭),  প্রভৃতি।
  • ’প্রফুল্ল’ কোন জাতীয় রাচন – সামাজিক নাটক।
  • ’প্রফুল্ল’ নাটকটি রচনা করেন – গিরিশচন্দ্র ঘোষ।
  • তাঁর রচিত ‘প্রফুল্ল’ নাটকটি প্রকাশিত হয় – ১৮৮৯ সালে।
  • তাঁর রচিত সামাজিক নাটকের মধ্যে রয়েছে – ‘মায়াবসান’, ‘হারানিধি’ (১৮৯০), ‘বলিদান’ (১৯০৪), প্রভৃতি।
  • ’চৈতন্যলীলা’ কোন শ্রেণীর রচনা – চরিত্র নাটক।
  • ’চৈতন্যলীলা’ নাটকটি রচনা করেন – গিরিশচন্দ্র ঘোষ।
  • ১৮৮৯ সালে – ’চৈতন্যলীলা’ নাটকটি প্রকাশিত হয় ।
  • তাঁর রচিত চরিত্র নাটকের মধ্যে রয়েছে – ‘বিল্বমঙ্গল ঠাকুর’, ‘শঙ্করাচার্য’ (১৯১০), প্রভৃতি।
  • তিনি শেক্সপীয়রের ’ম্যাকবেথ’ নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন – ১৮৯৩ সালে।
  • তিনি মিনার্ভার নাট্যাধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন – ১৯০৮ সালে।
  • তাঁর রচিত রোমান্টিক নাটকের মধ্যে রয়েছে – ‘মুকুলমুঞ্জরা’ (১৮৯৯), ’আবু হোসেন’ (১৯০৩), প্রভৃতি।
  • তাকে ‘বঙ্গের গ্যারিক’ আখ্যায় ভূষিত করেন – অক্ষয়চন্দ্র সরকার।
  • মেষনাদবধ কব্যে রামচন্দ্র ও মেঘনাদ উভয় ক্ষেত্রে অভিনয়ের জন্য সাধারণী পত্রিকার সম্পাদক অক্ষয়চন্দ্র সরকার তাকে ‘বঙ্গের গ্যারিক’ আখ্যায় ভূষিত করেন – ১৮৭৭ সালে।
  • বিশিষ্ট এই নাট্যকার মৃত্যুবরণ করেন – ৮ ফেব্রুয়ারী, ১৯১২ সালে।
  • বিশিষ্ট এই নাট্যকারে মৃত্যু হয় – কলকাতায়।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *