ঐ পাঞ্জাবিটা নেয়ার জন্যে হলেও আপনাকে আমাদের বাসায় আসতে হবে ।
আসব ।
কবে আসবেন ?
টুটুলকে খুঁজে পেলেই আসব ।
আপনি ওকে কোথায় খুঁজে পাবেন ?
আমি খুব সহজেই পাব । হারানো জিনিস খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে আমার খুব নামডাক আছে ।
আচ্ছা ঐদিন আপনি কী করে বললেন যে টুটুল ভাইয়ের কপালে কাটা দাগ আছে ? আমার কিছু সুপারন্যাচারাল ক্ষমতা আছে । আমি মাঝে মাঝে অনেক কিছু বলতে পারি ।
বলুন তো আমি কী পরে আছি ?
তোমার পরনে আকাশি রঙের শাড়ি ।
হলো না । আপনার আসলে কোনো ক্ষমতা নেই ।
ঠিক ধরেছ ।
কিন্ত্ত আপনি যখন বলেছিলেন যে আপনার সুপারন্যাচারাল ক্ষমতা আছে । আমি বিশ্বাস করেছিলাম ।
মনে হচ্ছে তোমার একটু মন খারাপ হয়েছে ?
হ্যাঁ হয়েছে ।
টেলিফোন কি রেখে দেব ?
না না- প্লিজ, আপনার ঠিকানা বলুন ।
আমি টেলিফোন নামিয়ে রাখলাম । অনেকক্ষণ কথা হয়েছে । আর না । মজিদ বোধহয় রিকশা ঠিক করে ফেলেছে । তবে ঠিক করলেও সে আমাকে এসে বলবে না । অপেক্ষা করবে । এর মধ্যেই দ্রুত রূপার সঙ্গে একটা কথা সেরে নেয়া দরকার । আমি টেলিফোন করতেই রূপার বাবা ধরলেন । আমি গম্ভীর গলায় বললাম, এটা কি রেলওয়ে বুকিং ?
ময়ূরাক্ষী উপন্যাসের খন্ড- ২১
তিনি ক্ষিপ্ত গলায় বললেন, ফাজিল ছোকরা, হু আর ইউ ? কী চাও তুমি ? রূপাকে দেবেন ?
রাসকেল, ফাজলামি করার জায়গা পাও না । আমি তোমাকে এমন শিক্ষা দেব ! আপনি এত রেগে গেছেন কেন ?
শাট আপ ।
আমি ভদ্রলোককে আরো খানিকক্ষণ হৈচৈ করার সুযোগ দিলাম । আমি জানি হৈচৈ শুনে রূপা এসে টেলিফোন ধরবে । হলোও তাই, রূপার গলা শোনা গেল- সে করুণ গলায় বলল, তুমি চলে এস ।
কখন ?
এই এখন । আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকব ।
আচ্ছা আসছে ।
অনেকবার আসছি বলেও তুমি আসনি- এইবার যদি না আস তাহলে ….তাহলে কী ?
রূপা খানিকক্ষণ চুপচাপ থেকে বলল, আমি বারান্দায় দাড়িয়ে থাকব ।
রূপার বাবা সম্ভবত তার হাত থেকে টেলিফোনটা কেড়ে নিলেন । খট করে রিসিভার নামিয়ে রাখার শব্দ হলো । আজ ওদের বাড়িতে ভূমিকম্প হয়ে যাবে । রূপার বাবা, মা, ভাইবোন কেউ আমাকে সহ্য করতে পারে না! রূপার বাবা তার দারোয়ানকে বলে রেখেছেন কিছুতেই যেন আমাকে ঐ বাড়িতে ঢুকতে না দেয়া হয় । আজ কী হবে কে জানে ?
বাইরে এসে দেখি মজিদ রিকশা ঠিক করেছে । রিকশাআলা রিকশার সিটে বসে ঘুমুচ্ছে । মজিদ শান্তমুখে ড্রাইভারের পাশে বসে বিশ্রাম করছে । আমার মনটা একটু খারাপ হয়ে গেল । আজও জামানকে জিজ্ঞেস করা হলো না- তার মুখে বসন্তের দাগ এল কী করে কী করে । কিছু কিছু প্রশ্ন আছে যা কোনোদিনও করা হয় না । এটিও বোধহয় সেই জাতীয় কোনো প্রশ্ন ।
ময়ূরাক্ষী উপন্যাসের খন্ড- ২১
বিরিয়ানি খেয়ে অনেক রাতে ফিরলাম ।
অসহ্য গরম ছোট্ট একটা চৌকিতে আমি এবঃ মজিদ শুয়ে আছি । মজিদের হাতে হাতপাখা । সে দ্রুত তার পাখা নাড়ছে । গরম তাতে কমছে না ।বরং বাড়ছে ।মনে হচ্ছে ময়ূরাক্ষী নদীটাকে বের করতে হবে । নয়তো এই দঃসহ রাত পার করা যাবে না ।
মজিদের হাতপাখার আন্দোলন থেমে গেছে । সে গভীর ঘুমে অচেতন । ঘরে শুনশান নীরবতা । আমি ময়ূরাক্ষী নদীর কথা ভাবতে শুরু করলাম । সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্য পাল্টে গেল । এই নদী একেক সময় একেকভাবে আসে । আজ এসেছে দুপুরের নদী হয়ে। প্রখর দুপুর । নদীর জলে আকাশের ঘননীল ছায়া । ঝিম ধরে আছে চারদিক । হঠাৎ নদী মিলিয়ে গেল । মজিদ ঘুমের মধ্যেই বিশ্রী শব্দ করে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে ।
এই মজিদ, এই ।
মজিদ চোখ মেলল । কী হয়েছে রে ?
কিছু না ।
স্বপ্ন দেখেছিস ?
হু ।
দুঃস্বপ্ন ?
না ।
কী স্বপ্ন দেখেছিস বল তো ?
