হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১২

এসে দেখি তালাবন্ধতালার সঙ্গের চিঠিখানা পড়ে দেয়াশলাই কিনতে গিয়েছি, আর তুমি এসেছ| আপনাকে বসাই কোথায়আসেন, চা খান এক কাপ

শঙ্খনীল কারাগার নাআমার ডায়াবেটিস, চা থাকতুমি এই মেয়েটিকে এই চকোলেটগুলি দিয়ে দিও, আচ্ছাভদ্রলােক কালাে ব্যাগ খুলে চকোলেট বের করতে লাগলেন। 

বিদেশে থাকাকালীন প্রায়ই মনে হত, মেয়েটির বিয়ে হয়ে যায় নি তাে? হলে কোথায় হল

না, বিয়ে হয় নি এখনাে আচ্ছা তাহলে যাই, কেমন? রাবেয়া বেশ মেয়ে তােপথের লােকজনদের সঙ্গে ছােট বয়সেই কেমন খাতির জমিয়েছেএমন খাতির যে একেবারে বিদেশ থেকে চকোলেট এনেছেন তিনিচকোলেটখাওয়া মেয়েটি এত বড়াে হয়েছে জানলে আর চকোলেট আনতেন না নিশ্চয়ই

রাবেয়ার এমন আরাে কয়েক জন বন্ধু আছেএক জন ছিল আবুর মাকী যে ভালােবাসত রাবেয়াকে! রােজ এক বার খোঁজ নেওয়া চাইরাবেয়ার যেবার অসুখ হল, টাইফয়েড, আবুর মা তার ঘরসংসার নিয়ে আমাদের বারান্দায় উঠে এলপনের দিনের মতাে ছিল অসুখ, সেই দিন বুড়ি এখানেই ছিলমা ভারি বিরক্ত হয়েছিলেনমেয়ের অমঙ্গল হবে ভেবে তাড়িয়েও দিতে পারেন নি

শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১২

হঠাৎ একদিন আবুর মা আসা বন্ধ করে দিলহয়তাে চলে গিয়েছিল অন্য কোথাও, কিংবা মারাটারা গিয়েছে গাড়িচাপা পড়েরাবেয়াকে ঠাট্টা করে সবাই আবুর মার সখীডাকতবাবা ডাকতেন আবুর নানীরাবেয়া রাগত না মােটেইআবুর মার সঙ্গে রাবেয়া হেসে হেসে কথা কইছে, ছবির মতাে ভাসে চোখে। 

বুড়ি, আজ কত পেয়েছ

দুই সের চাইল, আর চাইর আনা পয়সাএই কাপড়টা দিছে পুরানা পল্টনের এক বেগম সায়েব। 

দেখি কী কাপড়রাবেয়া গম্ভীর হয়ে কাপড় দেখত, ভালাে কাপড়ছাপটা বালা? হ্যাঁ হ্যা, খুব ভালাে ছাপরাবেয়াটা বেশ পাগলাটেছােট বয়স থেকেই। 

! ইনি আবিদ হােসেন। 

রাবেয়া হাসিমুখে বললচকোলেটের প্যাকেট পেয়ে সে খুব খুশি হয়েছে। 

কোথায় দেখা হয়েছে তাঁর সাথে

বাসায় এসেছিলেন, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আলাপ হলছােটবেলা তােকে নাকি লিফট দিতেন গাড়িতে

হ্যাঁস্কুলটা অনেক দূরে পড়ে গিয়েছিলযাওয়ার সময় বাবা সঙ্গে যেতেন, আসবার সময় প্রায়ই এই ভদ্রলােকের সঙ্গে দেখা হতআমাদের দুজনের মধ্যে খুব খাতির হয়েছিলদাঁড়া, সবটা বলিচা বানিয়ে আনি আগে। 

শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১২

ঘরে আলাে জ্বলছিল নাবাইরে ভীষণ দুর্যোগঅল্প একটু ঝড়বাদলা হলেই এখানকার কারেন্ট চলে যায়ঘরে যে একটিমাত্র হ্যারিকেন ছিল, সেটি জ্বালিয়ে লুডু খেলা হচ্ছেবাবাও খেলছেন বেশ সাড়াশব্দ করেইরুনুর গলা সবচেয়ে উচুতে। 

সে কি বাবা, তােমার চার হয়েছে, পাঁচ চাললে যে? পাঁচই তাে উঠল, আমার বুঝি চোখ নাইএবার থেকে তােমার দান আমি মেরে দেব” 

অন্ধকার ঘরে বসে বৃষ্টি পড়া দেখছিদেখতে দেখতে বর্ষা এসে গেলঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামছেটিনের চালে বাজনার মতাে বৃষ্টি, অপূর্ব লাগেরাবেয়া চানিয়ে খাটে উঠে এলদুজনে চাদর গায়ে মুখােমুখি বসলামরাবেয়া বলল গােড়া থেকে বলি

বল” 

থ্রিতে পড়ি তখনমর্ণিং স্কুলএগারােটায় ছুটি হয়ে গেছেআমি আর উকিল সাহেবের মেয়ে রাহেলা বাসায় ফিরছি, এমন সময় ভদ্রলােক কী মনে করে লম্বা পা ফেলে আমাদের কাছে এলেনআমাকে বললেন, তােমরা কোথায় যাবে? চল তােমাদের পৌছে দিই। গাড়ি আছে আমারদেখ, দাঁড় করিয়ে রেখেছি। 

শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১২

রাহেলা বলল, ‘আমরা হেঁটে যেতে পারব‘ 

নানা, হেঁটে যাবে কেন? এস এস, গাড়িতে এসমিষ্টি খাবে তােমরা? নিশ্চয়ই খাবেকি বল

ভদ্রলােক আমাদের দিকে না তাকিয়ে ড্রাইভারকে বললেন, তুমি নেমে যাও, একটা রিকশা করে জিনিসগুলি নিয়ে যাও, আমি বাচ্চাদের নিয়ে একটু ঘুরে আসি‘ 

আমরা কী করব ভেবে পাচ্ছিলাম নাগাড়িতে চড়ার লােভ ষােলআনা আছেআবার ভয়ভয়ও করছেরাহেলা ফিসফিস্ করে বলল, কে রে ভাই

আমি মিথ্যা করে বললাম, আমাদের এক জন চেনা লোক, চল বেড়িয়ে আসি। 

রাহেলা বলল, ছেলেধরা না

 

Read More

হুমায়ূন আহমেদের লেখা শঙ্খনীল কারাগার খন্ড-১৩

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *