হুমায়ূন আহমেদের লেখা সে আসে ধীরে খন্ড-২৫

 আমি ঠিক ধরেছি না । 

জি, ঠিক ধরেছেন। | হিমু শােন, আমার বাড়িতে একটা লাইসেন্স করা পিস্তল আছে। তােমাকে আর যদি কোনােদিন আমার বাড়িতে দেখি পিস্তল দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলব। আমার ফাসি হােক যাবজ্জীবন হােক কিছু যায় আসে না। মনে থাকবে হিমু ? 

সে-আসে-ধীরে

জি, মনে থাকব। 

আমি কথা বলতে পারছি-1 am happy about that. Thank you. কিন্তু আমার বাড়িতে তােমাকে দেখলে অবশ্যই আমি তােমাকে গুলি করব। বুড়িগঙ্গার উপরে তােমার সঙ্গে দেখাই যেন আমাদের শেষ দেখা হয়। 

 জি, আচ্ছা। 

খালু সাহেব অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে রাতের বুড়িগঙ্গার শােভা দেখতে লাগলেন। রাতের বুড়িগঙ্গা সত্যিই অপূর্ব। 

হিমু! জি। 

ধর আমি যদি কথা না বলতাম তাহলে ঐ বদ মেয়ে কি আমার মুখে শুয়ের কাঠিটা দিয়ে দিত? 

মনে হয় দিত। শেষ মুহূর্তে তুমি আটকাতে না ? 

ইচ্ছা থাকলেও আটকানাে যেত না। মব সাইকলজি কাজ করছিল। যেখানে মব সাইকোলজি কাজ করে সেখানে চুপ করে থাকতে হয়। 

হিমু! 

জি। যে চিকিৎসাপদ্ধতির মাধ্যমে আমি আরােগ্য লাভ করেছি আশা করি এই চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে তুমি কারাে সঙ্গে কথা বলবে না।

 সে আসে ধীরে খন্ড-২৫ 

আমি বলব না। হিমু জি। তােমাকে ক্ষমা করার চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না। 

খালু সাহেব, আমাকে ক্ষমা করার চেষ্টা করতে হবে না। ক্ষমা করলেই আমি লাই পেয়ে যাব। আরাে বড় কোনাে অপরাধ করে ফেলব। 

কথা ভুল বলে নি। আচ্ছা হিমু শােন আমার গলার স্বর কি আগের মতােই আছে ? 

সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। আপনার গলার স্বর আগের চেয়ে মধুর হয়েছে। খালু সাহেব বিড়বিড় করে বললেন, আমার নিজেরও তাই ধারণা। 

তিনি নৌকার গলুইয়ে বসে আছেন। নদীর ঘােলা পানির দিকে তাকিয়ে হয়তাে পানিতে নিজের ছায়া দেখছেন। মানুষ চলমান জলে নিজের ছবি দেখতে খুব পছন্দ করে। 

ভবিষ্কার চিঠি পেয়েছি। মেয়েদের অনেক গুণের মধ্যে বড় গুণ হলাে এরা খুব ন্সর করে চিঠি লিখতে পারে। কথাবার্তায় নিতান্ত এলােমলাে মেয়েও চিঠি লেখায় গােছানাে। মেয়েদের চিঠিতে আরেকটি ব্যাপার থাকে বিষাদময়তা। নতান্ত আনন্দসংবাদ দিয়ে লেখা চিঠির মধ্যেও তারা কী করে জানি সামান্য লেও দঃখ মিশিয়ে দেয়। কাজটা তারা যে ইচ্ছা করে করে তা-না। প্রকৃতি তাদের চরিত্রে যে বিষাদময়তা দিয়ে রেখেছে তাই হয়তাে চিঠিতে উঠে আসে। 

 সে আসে ধীরে খন্ড-২৫ 

ফরিদা লিখেছে হিমুভাই, 

আজ একটু আগে আপনি হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন। দীর্ঘসময় আপনি আমার বিছানার পাশে চুপচাপ বসে ছিলেন। আমি ঘুমুচ্ছিলাম। জেগে উঠে সে জন্যেই খুব লজ্জা পেয়েছি। আপনি আমার কাছের কেউ নন। খুব কাছের কেউ আমার ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে আছে এটা ভাবতেই আমার অস্বস্তি লাগেআপনি তাকিয়ে ছিলেন ভেবে সে কারণেই খুব সঙ্কুচিত বােধ করছি।

হিমুভাই, আপনি রাগ করবেন না। আমি জানি আপনি আমার পাশেই বসে ছিলেন তারপরও আমার দিকে একবারও তাকান নি। আপনি সবসময়ই পর্দার আড়ালের একজন। আমি আপনাকে বােঝার চেষ্টা করেছি। বুঝতে পারি নি। জটিল মানুষ খুব সহজেই বােঝা যায়আপনি জটিল না, আবার আপনি খুবই সরল সাদাসিধা মানুষ তাই বা বলি কী করে

আপনার কথা থাকনিজের কথা বলি। এই কথাটা না বললেও কিছু যেত আসত না। কিন্তু মৃত্যুর মুখােমুখি দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হচ্ছে পৃথিবীর একটি মানুষও কি আমার ভেতরের সত্যটা জানবে না! সেই সত্য যত নির্মমই হােক 

তারপরও তাে সত্য। অন্তত একজন মানুষ আমার সত্যি পরিচয় জানুক। সেই একজন আপনি হওয়াই সবচে’ নিরাপদ। 

 হিমুভাই, আমি আমার মােটামুটি দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে ইমরুলের বাবাকে ভালােবাসতে পারি নি। পাশাপাশি (এক বিছানায়) বাস করলে যে মমতা তৈরি হয় তা হয়েছে। সেই মমতাও খুব বেশি কিন্তু না।

 

Read More 

হুমায়ূন আহমেদের লেখা সে আসে ধীরে খন্ড-২৬

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *