শুক্রবারের কাগজে নয়ন সম্বন্ধে বেয়ােনর কথা ; আজ মঙ্গলবার। বেশ অবাক হলাম দেখে যে, আজই তরফদারের কাছ থেকে টেলিফোন এল । শুধু ফেলুদার দিকটা শুনে ব্যাপারটা আন্দাজ করতে পারলাম না ; ফোন রাখার পর ফেলুদা খুলে বলল। | ‘খবরটা এর মধ্যেই ছড়িয়েছে, বুঝেছিস তােপশে।
আটশাে লােক সেদিন ম্যাজিক দেখেছে ; তার মধ্যে কতজন কত লােককে নয়ন সম্বন্ধে বলেছে কে জানে? ব্যাপারটা যা দাঁড়িয়েছে–তরফদার চারজনের কাছ থেকে টেলিফোন পেয়েছে। হেঁজিপেজি নয়, বেশ মালদার লােক। তারা সকলেই নয়ন সম্বন্ধে কথা বলতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট চায় । তরফদার কাল সকাল নটা থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট রেখেছে।
প্রত্যেককে পনের মিনিট সময় দেবে। এও বলে দিয়েছে যে, তার সঙ্গে আরাে তিনজন লােক থাকবে—অর্থাৎ মিস্টার ফেলু, মিস্টার তপেশ আর মিস্টার লালু। এই খবরটা তুই এক্ষুনি ফোন করে জটায়ুকে জানিয়ে দে।
‘কিন্তু এই চারজন কারা সেটা তরফদার বললেন না ? ‘একজন আমেরিকান, একজন পশ্চিমা ব্যবসাদার, একজন অ্যাংলাে-ইন্ডিয়ান, একজন বাঙালি। আমেরিকানটি নাকি ইমপ্রেসারিও। অর্থাৎ নানা রকম শিল্পীদের স্টেজে উপস্থিত করেন এবং তা থেকে দু পয়সা কামান। অন্য তিনজন কী তা গেলে জানা যাবে। আসল কথা যা বুঝলাম–তরফদার বুঝেছে সে একা সিচুয়েশনটা হ্যান্ডল করতে পারবে তাই আমাদের ডাকা ।
নয়ন রহস্য (পর্ব-৪)
লালমােহনবাবুকে ফোন করাতে ভদ্রলােক আর থাকতে না পেরে চলেই এলেন । শ্রীনাথ ? বলে একটা হাঁক দিয়ে তাঁর প্রিয় কাউচটাতে বসে বললেন, ‘একটা চেনা-চেনা গন্ধ পাচ্ছি যে মশাই, কী ব্যাপার ? | ‘এখন পর্যন্ত গন্ধ পাবার কোনাে কারণ নেই, লালমােহনবাবু। এটা নিছক আপনার কল্পনা। |‘আমি মশাই কাল থেকে ওই খােকার কথা ভাবছি। কী অদ্ভুত ক্ষমতা বলুন ত !
‘কিছুই বলা যায় না’, বলল ফেলুদা, একদিন হয়ত দেখবেন হঠাৎ ম্যাজিকের মতাে ক্ষমতাটা লােপ পেয়ে গেছে। তখন আর-পাঁচটা ছেলের সঙ্গে নয়নের কোনাে তফাত থাকবে না। ‘কাল তাহলে আমরা তরফদারের ওখানে মীট করছি ? ইয়েস, এবং একটা কথা আপনাকে বলে রাখি–আমি কিন্তু কাল গােয়েন্দা হিসেবে যাচ্ছি না। আমি হব নির্বাক দর্শক। যা কথা বলার তা আপনি বলবেন।’
‘এটা আপনি রিয়েলি মীন করছেন? সম্পূর্ণ। ‘ঠিক হ্যায় । জয় মা তারা বলে লেগে পড়ব। একডালিয়া রােডে তরফদারের বাড়ি। মাঝারি দোতলা বাড়ি—অদ্ভুত পঞ্চাশ বছরের পুরােন ত বটেই। গেটে সশস্ত্র দারােয়ান ; বুঝলাম ফেলুদার সতর্কবাণীতে ফল হয়েছে। ফেলুদার নাম শুনে দারােয়ান গেট খুলে দিল, আমরা ভিতরে ঢুকলাম। ঢুকেই ডাইনে এক ফালি বাগান, তাতে কেয়ারির কোনাে বালাই নেই । সদর দরজার দিকে এগিয়ে যাবার সময় ফেলুদা দাঁতের ফাঁক দিয়ে বলল, “দেখবি উইদিন টু ইয়ারস তরফদার এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে। ‘কোথায় যাবে ? ‘সাম অট্টালিকা।
নয়ন রহস্য (পর্ব-৪)
সদর দরজার দারােয়ানও আমাদের সেলাম ঠুকে ভিতরে যেতে দিল।আমরা যেখানে পৌছলাম, সেটা ল্যান্ডিং, বাঁয়ে সিড়ি দোতলায় উঠে গেছে। এদিক ওদিক দেখছি, এমন সময় বেশ ভদ্র পােশাক পরা একজন চাকর-বেয়ারা বলাই বােধহয় ঠিক হবে—-আমাদের দিকে এগিয়ে এসে বলল, “আসুন আপনারা। আমরা চাকরের পিছন পিছন গিয়ে বৈঠকখানায় হাজির হলাম। ‘বসুন ; বাবু আসছেন।
এই ঘরের সাইজও মাঝারি, তবে আসবাবপত্রে বেশ রুচির পরিচয় আছে। দুটো সােফায় ভাগাভাগি করে আমরা তিনজন বসলাম ।‘গুড মর্নিং ! ম্যাজিশিয়ান হাজির, তবে একা নন। তাঁর পাশে একটি বিরাট অ্যালসেশিয়ান দণ্ডায়মান। আমি জানি ফেলুদা কুকুরের ভক্ত, আর যত বড় যত ভীতিজনক হাউন্ডই হােক না কেন, পােষা জানলে তার পিঠে হাত বােলানাের লােভ সামলাতে পারে না। এখানেও তাই করল।
এর নাম বাদশা’, বললেন তরফদার। বয়স বারাে। খুব ভালাে ওয়চ-ডগ।‘এক্সেলেন্ট। আবার সােফায় বসে বলল ফেলুদা । আমরা কিন্তু তােমার কথামতাে পনের মিনিট আগেই এসেছি।| ‘আপনি যে পাংচুয়াল হবেন সেটা আমি জানতাম, তৃতীয় সােফায় বসে বললেন তরফদার।
‘তােমার এ বাড়ি কি ভাড়া বাড়ি ? জিজ্ঞেস করল ফেলুদা।“আজ্ঞে না। এ বাড়ি আমার বাবার তৈরি। উনি নামকরা অ্যাটর্নি ছিলেন। আরেকটা বাড়ি আছে—ওল্ড বালিগঞ্জ রােডে। সেটায় আমার দাদা থাকেন । দুই ভাইকে দুটো বাড়ি উইল করে দিয়ে যান। বাবা মারা যান এইট্টি-ফোরে । আমি এই বাড়িতেই মানুষ হয়েছি।
Read More
