শ্রাবণী বলল, দেখতে তােমার মােটেই ভাল লাগছে না। তুমি খুব বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে আছ।
‘মােটেই বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে আছি না। তুই যে হেরে ভূত হচ্ছিস, দেখে ভাল লাগছে।’
আপা, আমি হেরে ভূত হচ্ছি না। শাহেদ ভাই কেমন খেলে আমি বােঝার চেষ্টা করছি। যখন বােঝা হয়ে যাবে তখন বাজির খেলা খেলব। সিরিয়াস বাজি ধরে খেলা হবে।’

কি বাজি ‘বাজির টার্মস এন্ড কন্ডিশান পরে ঠিক করা হবে।’
শাহেদ নবনীর দিকে তাকিয়ে বলল, প্রায় পনেরাে বছর পর ব্যাডমিন্টন খেলছি। দারুণ লাগছে। আমি খয়রালি এনজয় করছি।
নবনী বলল, তাহলে এনজয় করতে থাক। আমি একটু ঘুরে আসি। খেলা শেষ হলে এক সঙ্গে চা খাব ।
“ঠিক আছে। চা-নাশতা খেয়ে ইংরেজ সাহেবের স্ত্রীর কবর দেখে আসব । কোথায় যেন কবরটা?
শ্রাবণী বলল, জঙ্গলের ভেতর।
ডাকবাংলাে থেকে একা বেরুতে নবনীর ইচ্ছা করছিল না। সে রান্নাঘরে ঢুকে মা’কে ধরল। আদুরে গলায় বলল, মা, চলতাে আমার সঙ্গে, ঘুরে আসবে। সারাক্ষণ রান্নাঘরে বসে থাকার জন্যে তুমি নিশ্চয়ই বেড়াতে আসনি। চল আমার সঙ্গে।
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে-খন্ড-১৪
‘কোথায়? ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বটগাছ তােমাকে দেখিয়ে আনব।’
দিনের বেলা মনে করিস না কেন? এখন যাব কি ভাবে? কাচ্চি বিরিয়ানী বসিয়েছি। এখন তাে নড়াই যাবে না।’
নবনী একা একাই বের হল। গেটের বাইরে সেন্ট্রি পুলিশ দুজন একসঙ্গে স্যালুট দিল । নবনীর জানতে ইচ্ছে করল, স্যালুট দেয়ার সময় এরা কী ভাবে। কিছু নিশ্চয়ই ভাবে। তাদের ভাল লাগে না নিশ্চয়ই। আচ্ছা, এরা কি শ্রাবণীকেও স্যালুট দেয়? শ্রাবণীকে জিজ্ঞেস করতে হবে।
‘আম্মা, কোথায় যান?’ নবনী থমকে দাঁড়াল। সুরুজ মিয়া ছুটতে ছুটতে আসছেন।
সুরুজ মিয়ার মুখভর্তি পান। নবনীর কাছে এসে রাস্তার উপর পানের পিক ফেললেন। টকটকে লাল পিক । নবনীর মনে হল, মানুষটা রক্ত-বমি করছে ।
‘কোথায় যান আম্মা? ‘কোথায়ও না। হাঁটতে বের হয়েছি। দৃশ্য দেখছি।’ ‘দেখার কিছু নাই। গাম জায়গা। কিছু গাছপালা।’ ‘গাছপালাই আমার কাছে খুব সুন্দর লাগছে।’
রাস্তা খারাপ। বড় ধুলা। হাঁটার চাইতে নদীপথে যাওয়া ভাল। নৌকা একটা তৈরি রেখেছি ঘাটে। দু’জন মাঝি আছে। যখন বলবেন নিয়ে যাবে। ‘থ্যাংক ইউ।
থানার একটা স্পিড বােট ছিল। তার আবার ডিজেল নাই । মেসিনেও কি জানি । গণ্ডগােল। আমি ওসি সাহেবরে বললাম মেসিন সারাই করতে। ডিজেল আনতে ) প্রয়ােজনে কাজে না লাগলে স্পিড় বােটের ফয়দা কি।
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে-খন্ড-১৪
‘আমাদের কোন প্রয়ােজন নেই । বেড়াতে ইচ্ছা হলে নৌকা তাে আছেই।
‘নৌকা আম্মা চব্বিশ ঘন্টা আছে। তােষক দিয়ে বিছানা করা। যখন ইচ্ছা মাঝিকে বলবেন । আমাকেও বলতে পারেন। আমি হলাম আম্মা আপনার বুড়াে ছেলে।
সুরুজ মিয়া সঙ্গে সঙ্গে আসছেন। নবনীর তাল লাগছে না। সে একা একা হাঁটতে চাচ্ছিল। লােকটার মুখের ওপর বলতেও পারছে না—আপনি চলে যান। সুরুজ মিয়ার বােধহয় যাবার ইচ্ছাও নেই। হেলতে দুলতে আসছে। মনে হয় নবনীর সঙ্গে গল্প করে আরাম পাচ্ছে । নবনী লােকটাকে কি ডাকবে তেবে পাচ্ছে না। শ্রাবণী কত সহজভাবে চাচা ডাকে । শ্রাবণীর মত সহজভাবে চাচা ডাকতে পারলে মন্দ হত না।
‘চেয়ারম্যান সাহেব!‘ ‘জি আম্মা।
ইংরেজ সাহেবের স্ত্রীর যে একটা কবর আছে সেটা কোথায়? ‘কার কবর বললেন?‘
ইংরেজ সাহেবের স্ত্রীর কবর। যে সাহেব এই রকম ডাকবাংলােয় থাকতেন—তাঁর স্ত্রী। মহিলার নাম মারিয়া স্টোন।
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে-খন্ড-১৪
সুরুজ মিয়া বিস্মিত হয়ে বললেন, এই রকম কোন কবর তাে আম্মা এই অঞ্চলে নাই। কবরের কথা আপনেরে কে বলেছে?
নবনী ছােট্ট নিঃশ্বাস ফেলল । বােঝাই যাচ্ছে কবরের ব্যাপারটা শ্রাবণীর বানানাে । কোন বই-এ পড়েছে বােধহয়।
সুরুজ মিয়া বললেন, কবরের বিষয়টা কে বলেছে? মনে পড়ছে না কে যেন বলেছে। আচ্ছা, আমি খোজ নিয়া দেখব।‘
আপনার খোঁজ নিতে হবে না। অন্য কোন ডাকবাংলাে সম্পর্কে শুনেছিলাম। এটার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছি।‘
নবনী সড়ক ছেড়ে পায়ে চলা পথ ধরল । সুরুজ মিয়া বিস্মিত হয়ে বললেন, এই দিকে কই যান?
একটা বটগাছ আছে। বটগাছটা দেখতে এসেছি।‘ ‘বটগাছ দেখার কি আছে, আম্মা? | ‘ঢাকা শহরে তাে আর বটগাছ দেখার তেমন সুযােগ নেই। সুযােগ পাওয়া গেছে যখন, দেখে যাই।‘
Read More