বটগাছের সামনে এসে নবনী থমকে দাঁড়াল। আজও প্রথম দিনের মত বলতে ইচ্ছা করল, হ্যালাে মি. বটগাছ, কেমন আছেন? বলা হল না। সঙ্গে সুরুজ মিয়া আছেন। তাঁর সামনে চুপ করে থাকাই ভাল।
এই বটগাছটার বয়স কত হবে? বলা মুশকিল, আম্মা। তবে খুব পুরনাে গাছ। ‘গাছের গুঁড়ি বাঁধানাে। কারা বাঁধিয়েছে জানেন?’
জি না আম্মা, জানি না, আমরা ছােটবেলা থেকেই দেখতেছি এই রকম।’ নবনী বলল, আসুন, ঐ খানে গিয়ে বসি।
‘ন ও ৪, আ না যাওয়ার মনে
শালা। কেউ আসে না। সাপ-খােন থাকতে পারে।’ শীতকালে সালাবে না । আসুন শাই।’
টের বুড়ি দিয়ে ননী চট করে ঢুকে গেল। বাধ্য হয়ে শেন সমি দলেন। তিনি খু আৰু বােধ করছেন। মেয়েটার সনে এসে দেখি এটা স
পড়া পেয়ে না এসেও উপায় ছিল না। একটা মেয়েকে এভাবে একা একা গেলে ব না।
ননী বটগাছের গুড়ির কাছে এসে অবাক হয়ে গেল। কি অদ্ভুত ! যে a আছে মানে ! চারদিকে বটের বুড়ি দিয়ে ঘেরা। যেন বৃকের দেয়াল। রে সুন্দর একটা দুর্ণ। এই দুর্গের ভেতরে কেউ আসতে পারবে না। ভেতরটা খুব পরি, একটা শুকনাে পাতাও পড়ে নেই। সিমেন্টের বানাে অংশটি বেশ শক্ত। ইতে যে-কেউ শুয়ে থাকতে পারে। কালাে সিমেন্ট । দেখলেই হিম হিম ভাব হয়।
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে-খন্ড-১৫
নবনী বলল, কি অত জায়গা দেখেছেন চেয়ারম্যান চাচা? এই প্রথম নবনী চাচা বলল, তার খুব খারাপ লাগল না। সুরুজ মিয়া বললেন, চলেন আম্মা যাই। যাই যাই করছেন কেন? কন না।’ সন্ধ্যা হইতে বেশি বাকি নাই। চলেন যাই। আরেকদিন দিনের বেলায় আসলে
হবে।’
স্যা থােক । দেখি এখান থেকে সন্ধ্যা হওয়া দেখতে কেমন লাগে।
সুরুজ মিয়া খুবই দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন । এই মেয়ে মনে হচ্ছে সমস্যায় ফেলে দিবে। জংলা জায়গায় সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে থাকতে চাইলে তাে বিরাট সমস্যা হবে। স্যার শুনলে শুধু যে মেয়ের ওপর রাগ করবেন তা না। তার ওপরও রাগ করবেন। ব্যাগ করই কথা।
চেয়ারম্যান চাচা! জি আম্মা। একটা কাজ করতে পারবেন? সুরুজ মিয়া শংকিত গলায় বললেন, কি কাজ।
‘আমি এখানে অপেক্ষা করি। আপনি শ্রাবণীকে নিয়ে আসেন। ও দেখুক কি সুখ জায়গা।
‘আম্মা কি বললেন?’ “আমি বলছি, যদি আপনার কষ্ট না হয় তাহলে শ্রাবণীকে একটু নিয়ে আসুন।
সুরুজ মিয়া চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়লেন। ভাল যন্ত্রণায় পড়া গেল। মেয়েটার মনে আসা বিরাট বােকামি হয়েছে। এমন বােকামি তিনি সচরাচর করেন না। পনেরাে বছর ধরে তিনি এই অঞ্চলের চেয়ারম্যান। বােকা লােকের পক্ষে এতদিন চেয়ারম্যান থাকা সম্ভব না। আজ মনে হচ্ছে তিনি নিজেকে যত বুদ্ধিমান মনে করেন। আসলে তত বুদ্ধিমান নন।
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে-খন্ড-১৫
‘আম্মা চলেন, আজ যাই। আরেকদিন দিনের বেলায় ছােট আম্মাকে নিয়ে আসবেন। বটগাছ তাে চলে যাবে না। আম্মা, এইখানেই থাকবে। গাছের তার জায়গা ছেড়ে যাওয়ার উপায় নাই। তাছাড়া সন্ধ্যাবেলা একা একা থাকা ঠিকও না। দুনিয়া তাে ভাল জায়গা না ।
“দুনিয়া খুবই মন্দ জায়গা। আপনি হইলেন মেয়ে মানুষ। আমাকে দেখেন, পুরুষ মানুষ, বয়স পঞ্চাশের উপরে – বলতে গেলে দিন শেষ। এই আমিই সন্ধ্যার পর এক বার হই না। কেন বার হন না? ভূতের ভয়?’ “মানুষের চেয়ে বড় ভূত আর কিছু নাই। মানুষ হইল সবচেয়ে বড় ভূত। দুইবার আমারে মারার চেষ্টা করেছে। একবার বেড়া ভাইঙ্গা ঘরে ঢুইকা দাও দিয়া কোপ দিল। সেই বছরই পাকা দালান দিলাম।
আরেকবার সইন্ধাকালে…’ নবনী বলল, থাক, শুনতে চাচ্ছি না। চলুন ফিরে যাই। সুরুজ মিয়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, চলেন আম্মা। সারাপথ নবনী একটি কথাও বলল না। সুরুজ মিয়াও চুপ করে রইলেন।
নবনী গেট দিয়ে ঢুকেই থমকে দাঁড়াল। ডাকবাংলাের সামনে বেশ ভিড়। দু’টা পাজেরাে জিপ দাঁড়িয়ে আছে। একটা জিপের পেছনের চাকা পাংচার হয়েছে। চাকা বদল করা হচ্ছে। ডাকবাংলাের সামনে চেয়ার পাত্র হয়েছে। চেয়ারেও দুটা দল। একটা দলের সঙ্গে আছেন জামিল সাহেব। অন্য দলটি খানিকটা দূরে। নবনীর মনে হল, বেশ উৎসব-উৎসব ভাব। সন্ধাবেলায় এতবড় দল কোথেকে এসেছে কে জানে।
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে-খন্ড-১৫
এরা কি এখানে থাকবে? নবনী সবাইকে পাশ কাটিয়ে জাওয়াই ঠিক করল। ডাকবাংলাের পেছনের দরজা দিয়ে ঢাকাই ভাল। কেউ দেখবে না। লাভ হল না। সবাই তাকে দেখল। আগ্রহ এবং কৌতূহল নিয়ে তাকাল। জামিল সাহেব, বললেন, ঐ দেখুন আমার বড় মেয়ে। অর নাম নবনী। নবনী স্লমালিকুম বলবে কি বলবে না কয়েক মুহূর্ত চিন্তা করল। ঠিক করল, বলবে না। এতদূর থেকে
মালিকুম বা অর্থহীন। চেঁচিয়ে বলতে হবে। এরচেয়ে মাথা নিচু করে হেসে ঘরে ঢুকে পড়াই ভাল।
Read More