অভিভাকের মতাে গলা, যেন কৈফিয়ত তলব করছে । চিত্রার যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাবে । বুড়াের কৈফিয়ত তলবের কিছু নেই ।
চিত্রা, তুমি উপরের সিটে থাকবে । আমার পক্ষে উপরে উঠা সম্ভব না। তাছাড়া আমাকে ঘন ঘন সিগারেট খেতে হবে।
চিত্রা জবাব দিল না। জবাব দেবার কিছু নেই। বুড়াের সঙ্গে খেজুরে আলাপেরও কিছু নেই।
বুড়াে সিগারেটে লম্বাটান দিয়ে বলল, এই স্লিপিং কারে একটা ডেডবডি যাচ্ছে এটা কি জান? বাথরুমের লাগােয়া যে কামরা সেখানে।
চিত্রা বলল, তাই না-কি?
ইয়াং ছেলের ডেডবডি। সঙ্গে মা আছে, ভাই আছে। স্ট্রেঞ্জ ব্যাপার হল এরা কেউ কাঁদছে না। মনে হয় অধিক শােকে পাথর।
চিত্রা জানালার দিকে এগিয়ে গেল। বুড়াের সঙ্গে বক বক করার কোনাে ইচ্ছা নেই। ট্রেনে একটা ডেড বডি যাচ্ছে এই বিষয়টাও ভালাে লাগছে না। এক সময় ডেডবডি থেকে গন্ধ ছড়াতে থাকবে। স্লিপিং বার্থের এসি কামরা। জানালা খােলার উপায় নেই। ডেডবডির গন্ধ বের হবে না। কামরার ভেতর ঘুরপাক খেতে থাকবে। | দরজার পাশে দাঁড়ানাে গেল না। মধ্যবয়স্ক এক লােক দাঁড়িয়ে আছে।
তার হাতেও সিগারেট। আজকের ট্রেনের সব যাত্রীই কি স্মােকার? চিত্রা আবার বুফে কারের দিকে রওনা হল। এক কাপ কফি কিনে জানালার পাশে বসে থাকবে। কফিতে চুমুক দেবে না। চিত্রা মােটামুটি নিশ্চিত আজ সারা রাত সে তাঁতের মাকুর মত একবার যাবে নিজের কামরায় একবার যাবে বুফে কারে। কফি কিনবে এবং জানালা দিয়ে ফেলে দেবে।
চিত্রা আগে যেখানে বসেছিল সেখানে চাদর গায়ে এক লােক বসে আছে। চিত্রার সামান্য মন খারাপ হল। বুফে কার পুরােটাই খালি। তাকে যে ঠিক আগের জায়গাতেই বসতে হবে তা-না । অথচ আগের জায়গাতেই বসতে ইচ্ছা করছে।
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৩)
ম্যাডাম, আপনার নাম কি চিতা? চিত্রার পেছনে স্লিপিং কারের এটেনডেন্ট দাঁড়িয়ে আছে। চিত্রা বিস্মিত হয়ে বলল, আমার নাম চিতা না। ফোটাওয়ালা বাঘের নাম চিতা। আমার নাম চিত্রা।
আপনার মােবাইল সেট টা কি বন্ধ?
হঁ্যা।
আপনাকে মােবাইল সেট অন করতে বলেছে।
কে বলেছে? ম্যাডাম, সেটাতাে বলতে পারব না। ট্রেনের গার্ড সাহেব খবর দিয়েছেন। ম্যাডাম, আপনার কিছু লাগলে আমাকে বলবেন। আমি ব্যবস্থা করব।
গরম এক কাপ চা খাওয়াতে পারবেন? এরা বলছে চা নেই, শুধু কফি। চায়ের ব্যবস্থা এক্ষুনি করব। চা-টা যেন গরম হয় আর ঘন হয়। আমি পাতলা চা খেতে পারি না। নাশতা কিছু দিতে বলব? এদের চিকেন কাটলেট খারাপ না। নাশতা খাব না। থ্যাংক য়ু। চিত্রা তার মােবাইল টেলিফোন অন করল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই লিলির টেলিফোন।
হ্যালাে চিত্রা। তুই কি ভেবেছিস মােবাইল অফ করে আমার কাছ থেকে পার পেয়ে যাবি? দেখলি ক্ষমতার নমুনা? মামার মাধ্যমে ট্রেনের গার্ডকে ধরে তাের কাছে পৌছে গেলাম ।
তাই তাে দেখছি।
মামাকে তাের ব্যাপারটা বলেছি। উনি খুবই রাগ করেছেন। তাের টিকিটটা যাকে হ্যান্ডেল করতে বলেছেন তার চাকরি যায় যায় অবস্থা। কে
জানে হয়তাে এর মধ্যে চাকরি চলে গেছে। দেশের বেকার আরাে একজন বেড়েছে।
ও আচ্ছা।
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৩)
তুই যে ভাবে ও আচ্ছা বললি তাতে মনে হচ্ছে তুই আমার কথা বিশ্বাস করছিস না। মামা রেলওয়ে বাের্ডের মেম্বার। এই বৎসরই চেয়ারম্যান হয়ে যাবেন। চিত্রা নিশ্চিত থাক, একটা ব্যবস্থা হবে। প্রয়ােজনে বুড়ােকে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হবে। ভালাে কথা, বুড়াে কি ইতিমধ্যে তাের গায়ে হাত দিয়েছে?
লিলি! এই জাতীয় কথা আমার শুনতে ভালাে লাগে না।
এটা হল বাস্তবতা। রিয়েলিটি । এইসব ঘটনাই সব জায়গায় ঘটছে। কয়েকদিন আগে মগবাজার রেলক্রসিঙের কাছে কি হয়েছে শােন।
গার্মেন্টসের একটা মেয়ে মােল সতেরাে বয়স। কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছে। হঠাৎ দুই বদ এসে টান দিয়ে মেয়েটার শাড়ি পেটিকোট সব খুলে ফেলল। মেয়ে আচমকা নেংটু হয়ে এমন হতভম্ব যে…
লিলি! আমি শুনতে চাচ্ছি না।
তুই মুখে বলছিস শুনতে চাচ্ছিস না। আসলে ঠিকই শুনতে চাচ্ছিস। নােংরা কথা শুনতে নিষিদ্ধ আনন্দ আছে। কথা যত নােংরা তত মজা।
প্লিজ! প্লিজ লিলি । প্লিজ।
আচ্ছা ঠিক আছে। আমি টেলিফোন রাখছি। মামার সঙ্গে যােগাযােগ হলেই তােকে জানাব। বন ভয়াজ।
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৩)
চিত্রার চা এসেছে। পট ভর্তি চা, দুধ, চিনি। একটা এক্সট্রা টি ব্যাগ। পট থেকে চায়ের গন্ধ আসছে। আজকালকার চা থেকে গন্ধ আসে না। অনেকদিন পর গন্ধ পাওয়া গেল। চিত্রার প্রায়ই মনে হয় চায়ের গন্ধে এক ধরনের মন খারাপ ভাব থাকে। কেন এ রকম মনে হয় কে জানে। চিত্রা রিডার্স ডাইজেস্ট খুলল। Laughter the best medicine এর পাতা বের করল। মন ভাল করার কোনাে medicine পাওয়া যায় কি-না দেখা যাক।
From Webster’s Dictionary Windown 95 n.32 bit extensions and a graphical shell for a 16 bit patch to an 8 bit operating system originally coded for a 4 bit microprocessor written by a 2 bit company that can’t stand 1 bit of competition. | এর মানে কি? এটা পড়ে কেউ হাসবে কেন? আমি কি আপনার সামনের চেয়ারটায় বসতে পারি? চিত্রা সামান্য হকচকিয়ে গেল।
Read more