কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২৫)

ট্রেন চলতে শুরু করেছে। সেলুন কারে বাতি এসেছে। আবুল খায়ের সাহেব একা বসে আছেন। তাকে ফেলে সবাই নেমে গেছে এই ধাক্কা থেকে তিনি এখনাে মুক্ত হতে পারছেন না। তিনি সিগারেট ধরিয়েছেন। গলার টক ভাবটা চলে গেছে। সিগারেট টানতে তার খারাপ লাগছে না। ব্লাডি মেরি একটা খেলে মন্দ হত না।

কিছুক্ষণ 

স্যার! 

আবুল খায়ের চমকে তাকালেন। তার পেছনে সবুর দাঁড়িয়ে। যার কানে ধরে উঠবােস করাতেই নাটকের শুরু। 

স্যার সবাই কই? নেমে গেছে। কই নেমে গেছে? জঙ্গলে। কেন স্যার? 

খায়ের সাহেব স্বাভাবিক গলায় বললেন, তােমরা একজনকে মেরে আধমরা করেছ, নেংটো করে পাঠিয়েছ এতে সবাই গেছে ভড়কে। 

সবুর দুঃখিত গলায় বলল, কাজটা ঘটেছে মূসা ভাইয়ের কারণে। উনি ইউনিয়ন সেক্রেটারি। আমি উনার হাতে পায়ে ধরতে বাকি রাখছি। 

মূসা সাহেবের এখনকার পরিকল্পনা কি? 

কোনাে পরিকল্পনা নাই স্যার। মূসা ভাই আপনার সঙ্গে দেখা করবে । ক্ষমা চাবে। তাকে নিয়ে আসি স্যার? আপনাকে চা দেব। চা খাবেন? 

খাব। ডিনার কখন দেব স্যার? 

ভেবে দেখি। খায়ের সাহেবের মােবাইল টেলিফোন বাজছে। সুরমা টেলিফোন করেছেন। মােবাইল বিপ্লবের ফসল। জঙ্গল থেকেও কথা বলা যাচ্ছে। 

সুরমা বললেন, এই আমার মনে হয় পা ভেঙে গেছে। ট্রেন থেকে যখন পুলিশ আমাদের উপর গুলি করল তখন দৌড় দিতে গিয়ে খাদে পড়ে গেছি। এখন পা নড়াতে পারছি না। 

কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ

সরি টু হিয়ার দ্যাট। বার হাজার টাকা দামের শাড়ি। ছিড়ে কুটি কুটি। সরি টু হিয়ার দ্যাট। তােমার অবস্থা কি? এখনাে বেঁচে আছি। রাখি কেমন? রাখি রাখি করছ কেন? 

রাখি রাখি করছি কারণ মূসা সাহেবের সঙ্গে আমার এপয়েন্টমেন্ট। উনি যে কোনাে সময় চলে আসবেন। 

মূসা সাহেব কে? 

আমাদের শাস্তি দেয়ার মূল পরিকল্পনা উনার। উনি রেল ইউনিয়নের লােক। 

 কি সর্বনাশ! 

খায়ের সাহেব লাইন কেটে দিলেন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তার কাছে অতি জরুরি একটা টেলিফোন এল। তাঁকে জানানাে হল মন্ত্রীত্ব চলে যাওয়া বিষয়ে যে কথা প্রাইম মিনিস্টারের অফিসের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে তা পুরােপুরিই গুজব। এ ধরনের গুজব রটনায় প্রাইম মিনিস্টার নিজে অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছেন। গুজবের পেছনে কারা আছে বের করতে বলেছেন। প্রাইম মিনিস্টার নিজেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। 

আবুল খায়ের সাহেবের চা চলে এসেছে। তিনি চায়ে চুমুক দেয়া মাত্র প্রাইম মিনিস্টারের টেলিফোন এল। তিনি তিন চার মিনিট কথা বললেন।। 

সবুর বিনয়ী ভঙ্গিতে দাঁড়ানাে। টেলিফোন শেষ হওয়া মাত্র বলল, স্যার মূসা ভাইকে কি আনব? 

এখন না।। চা কেমন হয়েছে স্যার? চা ভালাে হয়েছে। তুমি সামনে থেকে যাও। আমি কিছুক্ষণ একা থাকব। 

সবুর চলে গেল। আবুল খায়ের টেলিফোনের দিকে তাকিয়ে আছেন। তিনি নিশ্চিত অন্ধকার কেটে গেছে এখন একের পর এক টেলিফোন আসতে থাকবে। সবার আগে রেলমন্ত্রীর টেলিফোন আসার কথা। এত দেরি হচ্ছে কেন?

কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ

টেলিফোন বাজছে। মন্ত্রী মহােদয় টেলিফোন ধরলেন না। কারণ সুরমা টেলিফোন করেছে। সুরমা’র টেলিফোন ধরার কিছু নেই। এখন হয়ত জানা যাবে যে সে এক পাটি স্যান্ডেল খুঁজে পাচ্ছে না। তিনি বিড় বিড় করে 

20161a, I have no business with you. 

রেল মন্ত্রী না, প্রথম টেলিফোন করলেন পূর্ত প্রতিমন্ত্রী হেলালউদ্দিন, তাঁর গলায় আনন্দ। 

খায়ের ভাই। 

মাঝখানে মােবাইল অফ রেখেছিলেন? কল করি লাইন যায় না। 

অফ থাকতে পারে। আরে গ্রেট খায়ের ভাই! আপনার ব্যাপারটা তাে পুরাে রিউমার। খবর পেয়েছেন না? 

একটা সাের্স থেকে খবর পেলাম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে। 

 

Read more

কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(শেষ-পর্ব)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *