কফি পটে কফি গরম হচ্ছে। টিভিতে দেখাচ্ছে ডেভিড কপার ফিল্ডের ম্যাজিক। হাতের কাছে দুটি রগরগে ভূতের বই। একটি স্টিফেন কিংয়ের ‘সাইনিং‘। নিউইয়র্ক টাইমস–এর মতে কোনাে সুস্থ লােক এই বই একা একা পড়তে পারে না। অন্যটি ডিমস কিলেনের ‘দি আদারনুন‘। পিশাচ নিয়ে লেখা রক্ত জল করা উপন্যাস। ব্লিজার্ডের রাতের জন্যে এর চেয়ে ভাল প্রস্তুতি কল্পনাও করা যায় না।
আনিস জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরে তাকালাে। বরফে সমস্ত ঢেকে গেছে। বাতাসের সঙ্গে উড়ছে বরফের কণা। গাছের পাতায় মাখনের মত থরে থরে তুষার জমতে শুরু করেছে। একটি ধবধবে সাদা রঙের প্রকাণ্ড চাদর যেন ঢেকে ফেলেছে শহরটিকে। হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই সাদা চাদর নৌকার পালের মত কাঁপছে তিরতির করে। অপূর্ব দৃশ্য। চোখ ফেরানাে যায় না। আনিস মন্ত্রমুগ্ধের মত জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রইলাে। মালিশা গিলবার্ড এসে উপস্থিত হলাে এই সময়।
প্রচণ্ড ঠাণ্ডাতেও তার গায়ে পাতলা একটা উইন্ড ব্রেকার ছাড়া আর কিছুই নেই। কালাে একটা স্কার্ফে কান দুটি ঢাকা। হাতে খাবারের একটি প্যাকেট। মালিশা বললাে, আমি ভাবলাম কেউ নেই, অনেকক্ষণ ধরে কড়া নাড়ছি ঘরে তােমার বান্ধবীরা কেউ আছে বুঝি ?
আনিস বললাে, ভেতরে এসাে। এরকম দিনে বেরুলে কী জন্যে ? মালিশা বললাে, তুমি কথার জবাব দাও নি। ঘরে কী তােমার বান্ধবীরা কেউ আছে ? না তা নেই। যাক আমি শুধু দুজনের জন্যে খাবার এনেছি। মালিশা খানিকটা কুণ্ঠিত ভঙ্গিতে প্যাকেট খুলতে শুরু করলাে। আনিস বললাে, স্কার্ফটা খুলে মাথা মুছে নাও। এত তাড়া কীসের মালিশা ?
সবাই গেছে বনে -পর্ব-১৭
তাড়া আছে। দুপুরে খাই নি কিছু। খাবার সব ঠাণ্ডা হয়ে আছে। গরম করতে দিয়ে তারপর হাত–মুখ ধােব।
খাবার বিশেষ কিছু নয়। বড় একটি প্যান পিজা, কয়েকটি মেক্সিকান টেকো এবং এক বােতল সস্তা বারগুডি। আনিস বললাে, কোনাে বিশেষ উপলক্ষ আছে কি মালিশা ?
আজ আমার জন্মদিন।
আনিস হাসি মুখে বললাে, দু‘মাস আগে একবার তুমি জন্মদিনের খাবার খাইয়েছ। | ঐ দিন মিথ্যা বলেছিলাম। তােমাকে কোথাও নিয়ে যেতে ইচ্ছা হচ্ছিল। জন্মদিনের অজুহাত দিয়ে নিয়ে গেলাম।
এমি বললে বুঝি যেতাম না ?
আমি ভাল মেয়ে না। আমার সঙ্গে বেরুতে হয়তাে তােমার সংকোচ হবে। মালিশা দ্রুত হাতে খাবার ওভেনে ঢুকিয়ে মাথার চুল মুছতে শুরু করলাে।
হঠাৎ করে এসেছি বলে রাগ করনি তাে ? টেলিফোন করবাে ভেবেছিলাম। পরে ভাবলাম টেলিফোনে তুমি বলে বসতে পার— আমি ব্যস্ত। সামনাসামনি কেউ এমন কথা বলতে পারবে না । আনিস তুমি কি বিরক্ত হচ্ছ।
বিরক্ত হব কেন ? কিন্তু জন্মদিনের কেক কোথায় ? কেক কেনা গেল না। টাকা কম পড়ে গেল। তাছাড়া কেক আমার ভালও লাগে না। আনিস লক্ষ করলাে মালিশার চোখ ঈষৎ রক্তাভ। একটু যেন ঢুলছে। তুমি কি প্রচুর ড্রিংক করেছ মালিশ ? প্রচুর নয় তবে করেছি। একা একা ভাল লাগছিলাে না।
সবাই গেছে বনে -পর্ব-১৭
টেলিফোন করলেই একটা কেকের ব্যবস্থা করা যায়। কিন্তু আবহাওয়ার যা ধরন–ধারণ কেউ কি অর্ডার নেবে ? চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে। আনিস বসবার ঘরে চলে আসলাে। গলা উঁচু করে বললাে তুমি খাবার সাজাও মালিশা। আমি একটা টেলিফোন সেরে আসছি। অর্ডার ওরা নিল। বললাে এক ঘণ্টার মধ্যে দিয়ে যাবে। শুধু কেক নয় দশটি লাল গােলাপের একটি গােড়াও আসবে সেই সঙ্গে। আনিসের মনে হলাে সে নিজেও খুব নিঃসঙ্গ। মালিশা হঠাৎ করে আসায় তার খুবই ভাল লাগছে। একটা কেমন যেন অন্য ধরনের আনন্দ।
আনিস, পিজা তােমার ভাল লাগেতাে ? খুব লাগে। সস্তার মধ্যে খুব ভাল খাবার তাই না ?
মালিশা হাসি মুখে বললাে, আমার বয়স একুশ। একুশ বছরের একটি মেয়ের জন্মদিনে কোনাে লােকজন নেই কেউ বিশ্বাস করবে এ কথা ? জন আসবে বলেছিলাে, আমি এইসব কিনেছিলাম জন এবং আমার জন্যে। তার নাকি হঠাৎ মাইগ্রেন পেইন শুরু হয়েছে।
আনিস বললাে, জন কে ?
আমার একজন বন্ধু । সিয়ারসে কাজ করে। তােমার কি মনে হয় ওর সত্যি সত্যি মাইগ্রেন পেইন ?
আনিস উত্তর দিল না।
মালিশা বললাে, জনের একজন নতুন বান্ধবী হয়েছে। একটি মেক্সিকান মেয়ে। ও নির্ঘাত ওর সঙ্গে ঝুলাঝুলি করছে। তােমার কী মনে হয় ?
সবাই গেছে বনে -পর্ব-১৭
আমার পক্ষে বলা মুশকিল। নির্ভর করে জনের সঙ্গে তােমার পরিচয় কী রকম তার ওপর।
পর পর চার শনিবার ডেট করেছি। জন নিজেই ডেট চেয়েছে। দু‘রাত ঘুমিয়েছি ওর। সঙ্গে। ওটা ঠিক হয় নি। ওতে দাম কমে যায়। তাছাড়া ঐ মেক্সিকান মেয়েটিকে তাে তুমি দেখ নি। দারুণ ফিগার। পুরুষের কাছে ফিগারটাই আসল।
আনিস প্রসঙ্গ পাল্টাবার জন্যে বললাে, তােমার মা কেমন আছে ?
ভালই। গত সপ্তাহে চিঠি পেয়েছি। বুড়ির শখ হয়েছে বিশ্ব ভ্রমণের । একজন সঙ্গীও পেয়েছে জিম ডগলাস। মনে হয় ঐ বুড়াে ফুসলে ফাঁসলে নিয়ে যাচ্ছে।
Read more