সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২২)

গােটা দশেক বাঁদর, কয়েকটি কুকুর আর প্রায় দুয়েক গিনিপিগের দেখাশােনাসময়মত বাবার দাবার দেয়াখাঁচা পরিষ্কার করাপশুগুলিকে পুরােপুরি জীবাণুমুক্ত রাখা

সবাই গেছে বনেকাজ অনেক সেই তুলনায় বেতন অল্পনব্বই ডলার প্রতি সপ্তায়নব্বই ডলারই সইমহা উৎসাহে কাজে লেগে গেল সফিক। 

কাজটা যত খারাপ মনে হয়েছিল তত নয়বাঁদরের খাঁচায় একটিকে পাওয়া গেল একেবারে শিশুসফিককে দেখেই সে দাঁত বের করে ভেংচে দিলসফিক অবাক, আরে তুই এইসব ফাজলামি কোথেকে শিখলি ? | বানরের বাচ্চাটি কথা শুনে উৎসাহিত হয়েই বােধহয় থু করে একদলা থুথু ছিটিয়ে দিল সফিকের দিকে। 

মহা মুশিত হলাে তাে শালাকে নিয়েমারব থাপ্পড়। 

বাচ্চাটা গালি শুনে উৎসাহিত হয়ে খুব লাফালাফি শুরু করলােতার আনন্দের সীমা নেই। 

সন্ধ্যা সাতটা বাজে। 

আনিস সবেমাত্র ফিরেছে ইউনিভার্সিটি থেকেহাত মুখও ধােয়া হয় নি, সফিক এসে হাজির এক্ষুণি যেতে হবে তার সঙ্গে। 

কী ব্যাপার আগে বলআগে বললে আপনি আর যাবেন নাযাবঘরে তেমন কিছু নেইএখন বল ব্যাপারটা কী

জং বাহাদুরের শয়তানিটা দেখাব আপনাকেনিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করবেন শালা ওয়ান নাম্বার হারামি। 

জং বাহাদুরটা কে

সবাই গেছে বনে -পর্ব-২২

আপনাকে তাে বলা হয় নাইবাচ্চা একটা বাঁদরবাচ্চা হলে কী হবে শয়তানের হাডিডদেখবেন নিজের চোখে। 

নিজের চোখে কিছু দেখা গেল নাজং বাহাদুর ঘুমিয়ে পড়েছেসফিক খুব মনমরা হয়ে পড়লােআনিস হাসি মুখে বললাে, কালকে এসে দেখব। 

সকাল সকাল আসবেনখাবার দেয়ার সময় হলে কী করে দেখবেনবিকাল বেলা একটা কলা, একটা আপেল আর একটা ডিমসিদ্ধ দেয়া হয়েছেশালা কলা আর ডিমটা খেয়ে আপেলটা আমাকে সাধছে দেখেন কাণ্ড। 

তুমি না বললে শয়তানের হাড়িড়আমার কাছে তাে বেশ ভালাে মানুষই মনে হচ্ছে। 

আরে না না তার বজ্জাতির কথা তাে কিছুই বললাম না। 

আনিস হঠাৎ গম্ভীর স্বরে বললাে, তােমার কি কোনাে কাজ আছে সফিক ? তােমার গাড়িতে আমাকে এক জায়গায় নিয়ে যেতে পারবে

কোথায়

আনিস খানিক ইতস্তত করে বললাে, একটি মেয়ের সঙ্গে আমার কিছু পরিচয় হয়েছেঅনেকদিন তার খোঁজ নেইভাবছিলাম একটু খোঁজ নেব। 

সফিক বেশ অবাক হলােআনিস থেমে থেমে বললাে, আমি দেশে ফিরে যাব সফিকআমার ভালাে লাগছে নাআমি মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চাই। 

সে কোথায় থাকে ? সাউথ ফার্গোচলুন যাইফুলের দোকান হয়ে যাবেন ? ফুল নেবেন? ফুল কেন ? | সফিক হাসি মুখে বললাে, আমেরিকান মেয়েকে বিয়ের কথা কি ফুল ছাড়া বলা যায় ? এক গাদা গােলাপ নিয়ে যানডাউন টাউনে ফুলের দোকান সারারাত খােলা থাকে। 

আনিস দীর্ঘ সময় চুপ করে থেকে বললাে, র্যা নিশ্চয়ই ফুলতাে কিনতেই হবে। 

মালিশাকে পাওয়া গেল নাবাড়িওয়ালি সরু গলায় বললাে, ওর মা মারা গেছেগেছে টাকা পয়সা কিছু দিয়ে গেছে কিনা দেখতে। 

কবে গিয়েছে

সবাই গেছে বনে -পর্ব-২২

এক সপ্তাহ হলােআনিস বললাে, ওকি টাকা পয়সা কিছু পেয়েছে

আমি কী করে জানবাে ? একশাে ডলার রেন্ট বাকি রেখে গেছে সেআমি চিন্তায় অস্থির টাকাটা মার গেল কি না। 

আমি কি এই গােলাপগুলি তার ঘরে রেখে যেতে পারি ? পারবে না কেন? রেখে যাওতুমি কি ওর বন্ধু

হ্যা। 

ভালােআমার ধারণা ছিল ওর কোনাে বন্ধু নেইআমার দুজন ভাড়াটে আছে যাদের কোনাে ছেলে বন্ধু নেই একজন হচ্ছে মালিশা অন্যজন এমিলি জোহান। 

এমিলি জোহান ? হা কবি এমিলি জোহান, নাম শুনেছ? খুব বড় কবি ? রাইটার্স গিল্ড এওয়ার্ড পাওয়াআমি কি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারি ? না পার না সে এখন মদ খেয়ে বুদ হয়ে আছেফেরার পথে আনিস একটি কথাও বললাে না। 

১৪ সকাল বেলা একটা পার্কা গায়ে দিয়ে আমিন সাহেব শােভেল নিয়ে বেরুলেনবরফে ড্রাইভওয়ে ঢাকা পড়েছেপরিষ্কার না করলে গাড়ি বের করা যাবে নাঅসম্ভব ঠাণ্ডা পড়েছেচোখ জ্বালা করছেকনকনে হাওয়ানাক মুখ সমস্তই ঢাকা তবু সেই হাওয়া কী করে যেন শরীরের ভেতর ঢুকে যাচ্ছেঅল্পক্ষণ শােভেল চালাবার পর তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়লেনবয়স হয়েছেএখন আর আগের মত পরিশ্রম করতে পারেন না

দিন ফুরিয়ে আসছেঘণ্টা বাজতে শুরু করেছেচলে যাবার সময় হয়ে এলােএবারের যাত্রা অনেক দূরেগন্তব্যও জানা নেইআমিন সাহেব ছােট্ট একটি নিঃশ্বাস ফেললেনরুনকি থাকলে এতটা পরিশ্রম হতাে নানিমিষের মধ্যে বরফ কেটে গাড়ি বের করে ফেলতােতারপর ছুটাছুটি শুরু করত বরফের উপরতুষার বল বানিয়ে চেঁচাতে মারব তােমার গায়ে বাবা ? দেখবে আমার হাতের টিপ? মেয়েটা একেবারে ছেলেমানুষ রয়ে গেল। 

কথাটা ঠিক হলাে নারুনকি এখন আর ছেলেমানুষ নয়আমিন সাহেব বিশ্রাম নেবার জন্যে গ্যারেজের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেন

 

Read more

সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২৩)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *