একটু দেরি হবে ল্যাবরেটরিতে গিয়ে ওদের সকালের খাবার দিয়েই আসব। বাসায় থাকবেন আপনি।
ভাের নটা পঁয়ত্রিশ মিনিটে ডঃ লুইস সফিককে বললেন— জং বাহাদুরকে নিয়ে ল্যাবরেটরি ওয়ানে যেতে। খাচা খুলতেই শান্ত ভঙ্গিতে জং রেরিয়ে এলাে। গুটি গুটি হয়ে বসে রইলাে সফিকের কোলে। ডঃ লুইস হেসে বললেন, এটি দেখছি খুব শান্ত স্বভাবের । খাঁচা থেকে বের করলেই এরা খুব চিৎকার করে। ওদের একটা সিক্সথ সেন্স আছে বুঝতে পারে কিছু একটা হবে।
ডঃ লুইস জং বাহাদুরের গায়ে দু‘টি ইনজেকশন করলেন এবং সফিককে বললেন, একে এখন চব্বিশ ঘন্টা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। তিন নম্বর খাচায় রেখে দাও।
সফিক দেখলাে জং বাহাদুর ঝিম মেরে গেছে, নড়াচড়া করছে না। খাচায় নামিয়ে রাখতেই সে শান্ত ভঙ্গিতে মাঝখানে গিয়ে বসে রইলাে। সফিক বললাে, এই ব্যাটা কী হয়েছে তাের? | জং বাহাদুর দাঁত বের করলাে না। জিভ বের করে ভেংচে দিল না। শুধু চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলাে।
ডঃ লুইস কী দিয়েছেন ওকে?
হেভি মেটাল পয়জনিং করা হয়েছে। রক্তের মধ্যে মারকারির একটা সল্ট ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। ও মারা যাবে ছত্রিশ ঘণ্টার মধ্যে। আমরা মেটাল পয়জনিং–এর ইফেক্ট লক্ষ করব । ব্লাড প্রেসার কী করে ফল করে সেটা মনিটর করা হবে।
সফিকের গা কাঁপতে লাগলাে। তিন নম্বর খাচার সামনে গিয়ে ভাঙা গলায় ডাকলাে, জং বাহাদুর, জং বাহাদুর।
জং বাহাদুর ঘাড় ঘুরিয়ে থাকলাে। কী শান্ত দৃষ্টি!
দু‘নম্বর খাচার সব কটি বানর ভীত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে জং বাহাদুরের দিকে। ওরা কি কিছু বুঝতে পারছে ? ডঃ লুইস এসে দেখলেন পিপুল ডাইলেটেড হতে শুরু করেছে। মুখ দিয়ে ফেনা ভাঙছে। লােহিত রক্ত কণিকা ফুসফুস থেকে আর রক্ত নিয়ে যেতে পারছে।
সবাই গেছে বনে-পর্ব-২৬
সফিক ক্লান্ত স্বরে বললাে, উঃ লুইস বড় খারাপ লাগছে আমার। | সফিকের চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে লাগলাে। জং বাহাদুর তাকাচ্ছে সফিকের দিকে। সফিক মৃদু স্বরে বললাে, লা ইলাহা ইল্লা আনতা সােবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনায যােয়ালেমিন।
ডঃ লুইস অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। সেন্টিমেন্টাল ইন্ডিয়ানস। সিলি সেন্টিমেন্টের জন্যেই ওদের কিছু হয় না। চাইনিজ পােস্ট ডকটিও চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে সফিকের দিকে। সে অস্পষ্ট স্বরে চাইনিজ ভাষায় কী যেন বললাে— নিশ্চয়ই কোনাে ইস্টার্ন ফিলােসফি। রাবিশ, এসব সেন্টিমেন্টাল ইন্ডিয়ানদের নিয়ে মুশকিল। এরা বড় ঝামেলা করে।
সফিক জং বাহাদুরের খাচার শিক দু’হাতে ধরে মূর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে। জং বাহাদুর মনে হল এগিয়ে আসছে তার দিকে। সফিক চেঁচিয়ে কেঁদে উঠলাে।
মিস মালিশা আপনার কি রাতে ঘুম হয় নি ?
নাহ।
স্নায়ু উত্তেজিত হয়েছিল সে জন্যে এই হয়েছে। ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে কোনাে একটা সিডেটিভের ব্যবস্থা করার প্রয়ােজন ছিল। ভুলটা আমার।।
মালিশা চোখ তুলে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালাে অ্যাটর্নির দিকে। অল্প বয়সী এই ছেড়াটাকে বেশ লাগছে তার। সে বললাে, আমি তােমার নাম ভুলে গেছি। আই অ্যাম সরি।
আমার নাম ডেনিস বেয়ার। তুমি আমাকে বিল ডাকতে পার। বিল একটি বুইক গাড়ি পাঠাবার কথা বলেছিলাম । পাঠানাে হয়েছে। কে পাঠিয়েছে কী কিছুই লেখা নেই তাে ?
সবাই গেছে বনে-পর্ব-২৬
কিন্তু মিস মালিশা কাউকে গিফট দেয়ার প্রধান আনন্দইতাে হচ্ছে গিফট পেয়ে সে কেমন খুশি হল তা জানা, ঠিক নয় কি ?
মালিশা জবাব দিল না। ডেনিস বেয়ার মিটমিট করে হাসতে লাগলাে। মালিশা বললাে, হাসছাে কেন ?
আজকের ন্যাশনাল ইনকোয়ারারে তােমার ছবি ছাপা হয়েছে। তুমি বিখ্যাত হতে শুরু করেছ।
মালিশ ক্লান্ত স্বরে বললাে, আমার শরীরটা ভাল লাগছে না। আজ আমি কোথাও যেতে চাই না।
মিস মালিশা ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসে আজকে একবার যেতেই হবে। ঘণ্টা খানিকের বেশি লাগবে না। অনেস্ট।
মালিশা জবাব দিল না। ডেনিস বেয়ার একটি সিগারেট ধরিয়ে হাসি মুখে বললাে, সেখান থেকে যাব চেস ম্যানহাটনে, কথা দিচ্ছি ত্রিশ মিনিটের মধ্যে সব ঝামেলা চুকিয়ে ফেলব।
আজকে না গেলে হয় না? | না। আজকে যেতে হবে। ভলার একটি চমৎকার জিনিস। পৃথিবীর মধুরতম শব্দকটির একটি। কিন্তু শব্দটি মধুময় করে রাখার যন্ত্রণাও কম নয়।
প্রকাণ্ড একটি ফোরডাের শেভ্রোলেট গাড়ি হােটেলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। গাড়ির পেছনের সিটে মধ্য বয়সী একজন ভদ্রলােক একটি সামার কোট পরে বসে আছেন। ডেনিস বেয়ার মৃদু স্বরে বললাে, ওর নাম জিম । তুমি যখনি বাইরে যাবে ও ছায়ার মত থাকবে তােমার সঙ্গে। ও তােমার বডিগার্ড। খুব এফিসিয়েন্ট লোক।
মালিশ ক্লান্ত স্বরে বললাে, আমার এসব দরকার ছিল না। দরকার আছে। গাড়িতে উঠেই মালিশা বললাে, আমার কেন যেন ভাল লাগছে না, কিছুতেই মন বসছে
সন্ধ্যাবেলা অপেরা দেখতে চাও। টিকিট পাওয়া যাবে ? ডলার দিয়ে পৃথিবীর যে কোনাে জিনিস পাওয়া যায়। তাই কি?
সবাই গেছে বনে-পর্ব-২৬
হ্যা। তুমি কী চাও আমাকে বলবে আমি ব্যবস্থা করব। ডলারের মত চমৎকার জিনিস কি পৃথিবীতে আছে ?
ডলারের মত চমৎকার জিনিস পৃথিবীতে নেই, না ?
মালিশার মনে হল তার জ্বর আসছে। কিছুই ভাল লাগছে না। গায়ের সঙ্গে গা ঘেসে জিম বসে আছে। লােকটি মূর্তির মত, সমস্ত রাস্তায় একবার শুধু বললাে, চমত্তার ওয়েদার। মিস মালিশা।
ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসে দুঘন্টার মত লাগলাে। মালিশাকে তেমন কিছু করতে হল না। শুধু চুপচাপ বসে থাকা। মাঝে মাঝে দু‘একটা ফর্মে সই করা। অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে মিনিট দশেকের কথাবার্তা বলতে হল। দু‘ঘণ্টা বসেই মালিশার প্রচণ্ড মাথা ধরে গেল।
Read more