বর্তমানে ড. করিম একইসঙ্গে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং ফ্যাকাল্টি অব সায়েরে উনি। উপ-উপচার্য ড. খয়রাত হােসেন হলেন ড. করিমের সেই ত জুনায়েদের অনুপস্থিতিতে ড. করিম এবং ড, খয়রাত হােসেন মিলে , তাদের আত্মীয়টিকেই বেছে নেবেন।
আবু জুনায়েদ জেনেছেন ড. করিমের হটির চাইতে একাধিক উজ্জ্বল প্রার্থী আছে। বাের্ডে যখন বসবেন ড. করিম এবং ড. খয়রাত হােসেন মিলে আত্মীয়টির মধ্যে এত সব প্লাস পয়েন্ট খুঁজে বের করবেন, অধিকতর যােগ্য প্রার্থীদের মনােনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা মাঠে মারা যাবে।
আরাে একজন অযােগ্য প্রার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়ােগপত্র পাবে। তা পাক, আবু জুনায়েদের কিছু করার নেই । তাঁর চোখের সামনেই কত অন্যায় ঘটে যায় । কটা তিনি ঠেকাতে পেরেছেন। ঠিক করলেন, আজ তিনি যাবেনই না। ব্যক্তিগত সহকারীকে ফোন করে বললেন, তার নাম করে যেন উপ-উপাচার্যকে জানানাে হয়, আজ তার শরীরটা বিশেষ ভালাে নেই। দয়া করে খয়রাত সাহেব যেন রসায়ন বিভাগের লেকচারের ইন্টারভুর সময় উপস্থিত থাকেন।
তিনি দারােয়ানকে ট্রাক ভেতরে নিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন বাড়ির একেবারে পেছনের ফাঁকা জায়গাটিতে ইট-সিমেন্ট, রড ওসব যেন নামানাে হয়। তিনটি ট্রাক ভেতরে এল বটে, কিন্তু একটা গােলমাল বেঁধে গেল । বাড়ির পেছনদিকে যদি যেতে হয় একসারি শীতকালীন পুষ্প পিষ্ট করে ট্রাকদের যেতে হয় । হেড মালি কিছুতেই সেটি হতে দেবেন না। শেখ তবারক আলীর একজন ওভারসীয়র ট্রাক থেকে নেমে এসে মালিকে ধমক দিয়ে বললেন
-স্বয়ং উপাচার্য সাহেব পারমিশন দিয়েছেন, ট্রাক আটকাবার তুমি কে?
গাভী বিত্তান্ত -পর্ব-(১১)
-আমি ওই বাগানের হেড মালি। আমার ফুলের গাছ নষ্ট করার অধিকার তােমাদের নেই। ফুল অনেক কষ্ট করে ফোটাতে হয়। তুমি ঠিকাদারের মানুষ রদ্দি মালের কারবারি, ফুলগাছ নষ্ট হওয়ার কষ্ট তুমি কী বুঝবে, বললেন হেড মালি।।
-মালি বেটার ফুটানি কত, সরে দাঁড়াও, ট্রাক ওইদিক দিয়েই যাবে, উত্তরে বলল ওভারসীয়র! হেড মালি ওভারসীয়রের ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা শুনে ভীষণ তেতে উঠল ।
-দেখি ওভারসীয়রের বেটা তুমি ট্রাক চালিয়ে নিয়ে যাও এই আমি শুয়ে পড়লাম। সত্যি সত্যি হেড মালি ফুল গাছের সারির পাশে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ল। ব্যাপারটা আরাে গুরুতর রূপ নিতে পারত। শেখ তবারক আলীর জামাতা আবেদ হােসেন ঘটনাস্থলে এসে পড়ায় একটা মীমাংসা হয়ে গেল । ফুল গাছের সারি দুটো রক্ষা পেল । অনেকদূর ঘুরে ট্রাককে বাড়ির পেছনে যেতে হল।
আজ আবু জুনায়েদের একটা বিশেষ দিন। তার জীবনের একটি প্রিয় স্বপ্ন পূর্ণ হতে চলেছে। তার বাড়িতে একটা গরু আসার উপলক্ষ দেখা দিয়েছে। এখন সেই গরুর গােয়াল তৈরি হতে যাচ্ছে। এর চাইতে প্রিয় ব্যাপার আর কী হতে পারে? তিনি শরীর থেকে স্যুট টাই অপসারণ করে পায়জামা-পাঞ্জাবি পড়ে বেশ ঝরঝরে হয়ে উঠলেন । নিচে যাওয়ার জন্য স্লিপারে পা চালিয়েছেন। অমনি মনে হল আগে সংবাদটা নুরুন্নাহার বানুকে জানানাে প্রয়ােজন। তিনি শােবার ঘরে গেলেন। দরজা পেরিয়ে ঘরে প্রবেশ করার আগেই লম্বাটে হন নুহর বানুর প্রতিফলিত চেহারা দেখে অবাক হয়ে গেলেন। গেল রাতে যে বক আলীর স্ত্রী তাদের কন্যা দীলুকে যে বেনারশিখানা দিয়েছেন নুরুহ ঃ সেটি পরে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে খুটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন ? হতে গলায় তবারক আলীর স্ত্রীর দেয়া সােনার অলঙ্কারগুলাে জ্বলজ্বল করে জ্বলছে আৰু জুনায়েদ দৃষ্টি ফেরাতে পারলেন না।
গাভী বিত্তান্ত -পর্ব-(১১)
নতুন বেনারশি এবং অলঙ্কারের সৌষ্ঠবে রুনাহার বানুকে ভারি সুন্দর দেখাচ্ছে। আবু জুনায়েদ পা টিপে টিপে এসে নুরুন্নাহার বানুর চোখ দুটো চেপে ধরে দুই গালে চুমাে খেলেন। নুরুন্নাহার বানু বেকে চুরে আবু জুনায়েদের নাগালের বাইরে চলে গেলেন। তারপর আবু জুনায়েদের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন। সেই পাষাণ গলানাে হাসি দেখে আবু জুনায়েদের কী একটা যেন ঘটে গেল। হাজার বছরের সুপ্ত পিপাসা তার সারা শরীরে জেগে উঠল। তিনি স্থির থাকতে পারলেন
। দু’হাতে নুরুন্নাহার বানুকে ধরে চুমােয় চুমােয় ভরিয়ে দিতে লাগলেন।
নুরুন্নাহার বানু এবং আবু জুনায়েদ হাত ধরাধরি করে নিচে নামলেন। বাইরে লােকজনের দঙ্গল দেখে ফেলে এই ভয়ে পরস্পরের হাত ছাড়িয়ে নিলেন। ইটের
প, রডের রাশি এবং সিমেন্টের ইতস্তত ছড়ানাে বস্তাগুলাে দেখে আবু জুনায়েদের চোখ কপালে ওঠার উপক্রম। তবারক সাহেব একেবারে ঘর বানাবার মাল সরঞ্জাম সব পাঠিয়ে দিয়েছেন। মাল এখনাে নামানাে হয়নি। ঝটপটে মাল নামানাের কাজ চলছে। শেখ তবারক আলীর জামাই আবেদ হােসেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মাল নামানাে তদারক করছেন। আবু জুনায়েদ এবং নুরুন্নাহার বানু নিকটে এলে আবেদ হােসেন তাদের সালাম দিলেন । আবু জুনায়েদ অনেকটা অনুযােগের ভঙ্গিতে বললেন,
-আবেদ তুমি ঘরে না এসে বাইরে কেন দাঁড়িয়ে রয়েছ?
-স্যার এদিকটার কাজকর্মের একটা গতি হােক আগে। জবাব দিলেন তবারক আলীর জামাতা।
–তাহলে তবারক সাহেব একেবারে গােয়াল ঘর তৈরি করেই ছাড়লেন। কথার পিঠে কথা বললেন আবু জুনায়েদ।
-স্যার, আব্বার কড়া হুকুম, সাত দিনের মধ্যে গােয়াল ঘর বানিয়ে ফেলতে হবে। এখন কথা হল আপনি কী ধরনের ঘর পছন্দ করবেন সেটা জানার প্রয়ােজন আছে। আপনি যে রকম চাইবেন মিস্ত্রিরা বানিয়ে দেবেন। আবেদ হােসেনের কথার উত্তরে জানালেন
গাভী বিত্তান্ত -পর্ব-(১১)
আমার আবার পছন্দ অপছন্দ কী? একখানা গােয়ালঘর হলেই আমার চলে । যে। কোনাে রকমের একখানা গােয়ালঘর । আমার আব্বা পাটের বেড়া এবং খড়ের চালা দিয়ে গােয়ালঘর বানিয়েছিলেন, সেখানেই সারা জীবন গরু রেখেছেন।
আবেদ হােসেন বললেন,
-স্যার এখন কি আর পাটখড়ির যুগ আছে? তাছাড়া এই মনুমেন্টাল বিল্ডিংয়ের পেছনে যেমন তেমন একটা স্ট্রাকচার খাড়া করে দিলে তাে আর চলবে না। আব্বা বলে দিয়েছেন, এমন ঘর তৈরি করতে হবে যাতে গােটা পরিবেশের সঙ্গে চমৎকারভাবে মানিয়ে যায়।
আবু জুনায়েদ বললেন,
-ভাই আবেদ, তুমি তাে জানাে বার বছর মাস্টারি করলে মানুষ গাধা হয়ে যায়। আমার পঁচিশ বছর চলছে । তােমাদের যা মন লয় করাে, আমার কিছুই মনে আসছে না।
আবেদ জানালেন শেখ তবারক আলী সাহেব দশ বাই বার ফিট ঘরের একটা নকশা এঁকে দিয়েছেন। ঘরটা দেখতে চৌকোমতে হবে। চার পাশের দেয়াল পর্যন্ত উঁচু হবে। সর্বসাকুল্যে উচ্চতা দাঁড়াবে দশফুট। বাকিটা কলাম করতে হবে। ছয়টা ফাঁক থাকবে। দুটো ফাঁকে দুটো দরজা বসবে।
সামনের দরজাটা হবে বড়, পেছনের দরজা অপেক্ষাকৃত ছােট। কলামের ফাকে ফাকে চারটি কাচের জানালা হবে। ঘরে যাতে প্রচুর আলাে-বাতাস খেলতে পারে, সেজন্য জানালাগুলাে যাতে খােলা এবং বন্ধ করা যায় সে ব্যবস্থা থাকবে। ছাদটা হবে টিনের । কিন্তু নিচে বাঁশের বেড়া ফিট করে দিতে হবে। নইলে গরম কালে খুব গরম হবে।
আর দক্ষিণ দিকে ঘরের লাগােয়া একটি টিনের শেড় থাকবে। দিনের বেলা গরু এই শেডের নিচে থাকবে। এই পাশে খইল কুড়াের গামলা এবং ঘাস বিচালির ‘আড়া’ বানানাে হবে । আপনারা যাতে মাঝে–মাঝে এসে গােয়ালঘরের পাশে এসে কিছুটা সময় ব্যয় করতে পারেন, সেজন্য উত্তর দিকে আরাে একটা শেড নির্মাণ করা হবে। সেখানে সিমেন্ট দিয়ে একটা মস্ত বড় গােল টেবিল বানানাে হবে, যার চারপাশে বসার ব্যবস্থা থাকবে।
গাভী বিত্তান্ত -পর্ব-(১১)
শেখ তবারক আলীর গােয়ালঘর বানানাের পরিকল্পনা শুনে আবু জুনায়েদ বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন। তিনি বললেন,
-এই রকম একটা বাড়ি পেলে ভাই আবেদ আমিই তাে বাস করতে চলে আসি ।
আবেদ হােসেন আবু জুনায়েদের কথায় কোনাে জবাব দিলেন না। তারপর একটু ঢােক গিলে বললেন,
-গরুটার কথা তাে স্যার আপনাকে চিন্তা করতে হবে। সাভার ডেয়ারি ফার্মে সুইডিশ এবং অস্ট্রেলিয়ান গরুর মধ্যে ক্রস ঘটিয়ে একটা বাচ্চা জন্মানাে সম্ভব হয়েছে। আব্বা ওই গরুটিই আপনার গােয়ালে পাঠাবার কথা চিন্তা করছেন ।
আবু জুনায়েদ কোনাে মন্তব্য করলেন না। এতক্ষণ নুরুন্নাহার বানু একটি কথাও বলেননি। তার দুটি কারণ। প্রাতঃমৈথুনের আনন্দের রেশটি তখনাে কাটেনি । দ্বিতীয়ত এত কুলি কামিনের মধ্যে মুখ খুললে তিনি মনে করেন, অনাবশ্যক নিজেকে খেলাে করে তুলবেন।
কিন্তু দীর্ঘক্ষণ চুপ করে থাকা নুরুন্নাহার বানুর ধাতের মধ্যে নেই। এবার তিনি কথা বলতে আরম্ভ করলেন । বিশেষত আবু জুনায়েদের সে কথাটির প্রতিবাদ করা প্রয়ােজন মনে করলেন । আবু জুনায়েদ এক পর্যায়ে বলে ফেলেছেন, প্রস্তাবিত গরুর ঘরটির মতাে একটা ঘর পেলে নিজে বাস করতে আসবেন।
আবু জুনায়েদ ফকির মানুষের বেটা। কথায় কথায় ফকিরালি স্বভাবটি তার বেরিয়ে আসে। তবারক চাচার জামাইয়ের কাছে এই কথাটা বলা মােটেই আবু জুনায়েদের উচিত হয়নি। নুরুন্নাহার বানুর মনেও বড় একটি সুন্দর বাড়ি তৈরি করার ইচ্ছে আছে। সেই ব্যাপারটি জানিয়ে দেয়ার প্রয়ােজন অনুভব করলেন ।
-আবেদ, তুমি তাে আমার ছােট বােনের বর, সুতরাং তােমাকে তুমিই বলব। তুমি কি রাগ করবে?
আপা রাগ করব কেন, অবশ্যই তুমি বলবেন । জবাব দিলেন আবেদ হােসেন । নুরুন্নাহার বানু বললেন,
-উত্তরাতে আমাদের বার কাঠা জমি আছে। বাড়ি বানানাের সময়ে চাচাকে ধরে বলব, চাচা আপনি একটা সুন্দর নকশা এঁকে দেন। চাচা সুন্দর সুন্দর বাড়ির নকশা করতে পারেন।
গাভী বিত্তান্ত -পর্ব-(১১)
আবেদ বললেন,
-আব্বা বাড়ির প্ল্যান করতে ওস্তাদ। তার সামনে বিদেশী স্থপতি পর্যন্ত পেন্সিল ধরতে সাহস পান না।
এরই মধ্যে মাল সরঞ্জাম নামিয়ে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। হেড মিস্ত্রি কোন জায়গায় ঘরটা ওঠানাে হবে সীমানা নির্দেশ করতে বললেন। আবু জুনায়েদ স্থান নির্বাচন করতে গিয়ে একটু গােলের মধ্যে পড়ে গেলেন । তার ইচ্ছে হল উপাচার্য ভবনের লাগােয়া পেছন দিকটাতেই গােয়াল ঘরটা বানানাে ভালাে হয়।
তিনি পেছনের দরজা খুলে যখন ইচ্ছে গরুটা দেখতে ছুটে আসতে পারেন। কিন্তু মুশকিল হল, চারপাশে ফাঁকা জায়গার মাঝখানে একটা বর্বর হর্তুকি গাছ আকাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে । আবু জুনায়েদ বললেন
ওই হর্তুকি গাছটা কেটে ফেলে এখানে ঘরটা তুললে ভালাে হয়। তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে দৈর্ঘ্য-প্রস্থে জায়গাটা দেখিয়ে দিলেন।
আবেদ হােসেন বললেন,
-স্যার আমার একটা কথা আছে। ঢাকা শহরে হর্তুকি বিরল প্রজাতির বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। সুতরাং গাছটা কাটা ঠিক হবে না। তাছাড়া বসত বাড়ির মত সন্নিকটে গােয়াল ঘর থাকাও উচিত নয়।
গরুর গােব, প্রসাবের ” এস পীড়াদায়ক বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তার চাইতে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে যে ২ জায়গাটি আছে, সেখানে ঘরটি তৈরি করলে সবদিকে শুরু হয়।
-আবু জুনায়েদ বললেন, -আবেদ জায়গাটি উত্তম, কিন্তু অসুবিধের কথা হল ক = গেট সকল র মাঠটা প্যাক কাদায় একেবারে ফকফকে হয়ে থাকে এই এত ২ ” খােশােনার জন্য গােয়াল ঘরে আসা-যাওয়া একটা কষ্ট হবে
আবু জুনায়েদের আশঙ্কার জবাবে আবেদ হােসেন বলেন,
-স্যার প্যাক কাদা নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে । সস্ত তাই = কংক্রীট দিয়ে বাঁধিয়ে দেব ।
ঠিক হল আবেদ হােসেনের নির্দেশিত স্থানে গােয়ালঘর বানানাে হবে। | মিস্ত্রিরা ফিতা টেনে জায়গাটা চিহ্নিত করে ফেললেন। আবেদ হােসেন শেখ তবারক আলীর স্বহস্তে আঁকা নকশাখানা ভালাে করে বুঝিয়ে দিলেন। সাত-আটজন মজুর একসঙ্গে দেয়াল বানাবার জন্য মাটি কাটতে লেগে গেল।
গাভী বিত্তান্ত -পর্ব-(১১)
মাটি কাটাকাটি করতে দেখলে আবু জুনায়েদের খুব ভালাে লাগে। বালক বয়সে তারা একটি কুয়াে খনন করেছিলেন। আবু জুনায়েদ সারা দিন বসে থেকে মজুরদের মাটি ভােলা দেখতেন। পৃথিবীর গভীরে আরাে গভীরে কী আছে জানার ইচ্ছে প্রবল হয়ে উঠত। বার বার আব্বাকে প্রশ্ন করতেন,
-আব্বা মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে একেবারে পৃথিবীর বুক ভেদ করে অপর পাড়ে যাওয়া যায় কি না । আব্বা হাসতেন। আবু জুনায়েদ বার বার জানতে চাইতেন। অবশেষে বিরক্ত হয়ে বলতেন,
-দূর পাগলা এমন কথা কেউ বলে নাকি। মাটি খােড়াখুড়ি করতে দেখলে আৰু জুনায়েদের এসব কথা মনে পড়ে যায় ।।
নুরুন্নাহার বানু তার গায়ে ঠেলা দিয়ে বললেন, তুমি এমনভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে নাকি? আবেদকে একবারও চা খেতে বলবে না নাকি?
স্ত্রীর কথা শুনে মনে হল মস্ত অন্যায় হয়ে গেছে। শেখ তবারক আলী সাহেবের জামাইকে একবারও ঘরে যেতে বলেননি। অনেকটা মাফ চাইবার ভঙ্গিতে বললেন
-ভাই আবেদ রাগ করবে না। আগেই তাে বলেছি বার বছর মাস্টারি করলে যে কোনাে মানুষ গাধা হয়ে যায় । চলাে ঘরে চলাে। আবেদ স্মিথ হেসে বললেন,
-স্যার আজ থাক অন্যদিন আসব । এখন আমাকে বুড়িগঙ্গার পাড়ে ছুটতে হবে। একখানি ড্রেজার অচল হয়ে গেছে।
গাভী বিত্তান্ত -পর্ব-(১১)
মিস্ত্রিদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে অপেক্ষমাণ পাজেরােতে উঠে স্টার্ট দিল । আবেদ চলে যাওয়ার পরেও অনেকক্ষণ পর্যন্ত আবু জুনায়েদ মজুরদের কাজ দেখতে থাকলেন।
তার মনের মধ্যে একটা ছুটির হাওয়া দোলা দিতে থাকল। স্কুল পালানাে বালকের মতাে একটা নির্মল আনন্দে তার সারা মনপ্রাণ ভরে গেছে। নুরুন্নাহার বানু তার পাঞ্জাবির কোণা আকর্ষণ করে বলল, চলাে ঘরে যাই । নুরুন্নাহার বানুর পেছন পেছন তিনি বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগলেন । নুরুন্নাহার বানু জানতে চাইলেন
-আজ কি তােমার অফিস নেই? –অফিস আছে, কিন্তু ও বেলা যাব? জবাব দিলেন আবু জুনায়েদ।
-ঠিক আছে গােসল সেরে একটু পাক-পরিষ্কার হয়ে নাও, তারপর দুটি খেয়ে একটু ঘুমিয়ে নিয়ে একেবারে বিকেল বেলা অফিসে যাবে ।
নুরুন্নাহার বানুর কথার জবাবে আবু জুনায়েদ বললেন, -আবার গােসল কেন, সকালে তাে একবার করেছি।
-গােসল কেন আবার বুঝিয়ে দিতে হবে । নুরুন্নাহার বানু একটা ইঙ্গিত করলেন, নুরুন্নাহার বানু বললেন, চলাে আমার সারা গা কুট কুট করছে। তােমার রাতদিন কোনাে জ্ঞান নেই ।
Read more
