তিনি বলেছিলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা হাজার বছর ধরে বলে আসছেন, ভেবে আসছেন, আসলে মানুষ স্বভাবতই বেপথু হয়ে যায় । সৎ প্রার্থী খুঁজে লাভ নাই, যদি সিস্টেম সৎ না হয় । এমন ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, কেউ দুর্নীতি করতে না পারে। আমরাও তা-ই মনে করি । দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী ও অর্থবহ করতে হবে।
এমাজউদ্দীন আহমদই বলেছিলেন, সাংবিধানিক পদগুলােতে, যেমন নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্মকমিশনে সরকারি দল ও বিরােধী দল উভয়ের আস্থাভাজন ব্যক্তিকে নিয়ােগ দেওয়া উচিত বলেছিলেন, ডেপুটি স্পিকার নেওয়া উচিত বিরােধী দল থেকে। বিলেতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেছেন, ওখানে স্পিকার পদে নির্বাচিত ব্যক্তি দল থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তী নির্বাচনে তাঁর বিরুদ্ধে বিরােধী দলও আর প্রার্থী দেয় না। ফলে তিনি নিরপেক্ষতা বজায় রাখেন। এই সব প্রস্তাব সম্ভবত এখনই ভেবে দেখতে হবে।
তবে সময় চলে যাবে দ্রুত। এখনই বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একই সুরে কথা বলতে শুরু করেছে। আবদুল মান্নান ভূঁইয়া আর এম এ জলিল একই ভাষায় কথা বলছেন, মওদুদ আহমদ আর তােফায়েল আহমেদ এক সুর গলায় তুলে নিয়েছেন। এঁরা দ্রুতই এক হয়ে যাবেন। এবং এঁরা যদি এক হয়ে নির্বাচন চাইতে থাকেন, তখন দেশের মানুষও রাস্তায় নেমে আসবে। কারণ শেষ পর্যন্ত তাদের জনসম্পৃক্ততা অন্য যেকোনাে গােষ্ঠীর চেয়ে বেশি।
রম্য কথা -পর্ব-(৬)
আর সবচেয়ে বড় কথা, প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। সেই মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা দেশ পরিচালনার মাধ্যমে। তার কোনাে বিকল্প নাই। মনে রাখতে হবে, সংবিধানের এই মৌলিক প্রত্যয়টা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে চরিতার্থ হয় না, বরং স্থগিত থাকে ।
আর আমরা মাথাব্যথার চিকিৎসা হিসেবে মাথা কাটার কথা ভাবতে পারি না । রাজনীতিকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। কিন্তু রাজনীতিহীনতা তার সমাধান নয়। আমরা বিরাজনীতিকরণের বিপদ এর আগে অনেক দেখেছি। আর দেখতে চাই না।
২৩ জানুয়ারি ২০০৭
ওনাদের নিয়ে কৌতুক
একটা কৌতুক বলে নিই।
সড়ক দুর্ঘটনার পর এক ব্যক্তি নিজেকে আবিষ্কার করল হাসপাতালে। জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর সে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করল, আমার কী হয়েছে? আমি এখানে কেন?
ডাক্তার বললেন, এক্সিডেন্টের পর আপনাকে এখানে আনা হয়েছে। আপনার জন্যে দুটো খবর আছে। একটা সুসংবাদ, আরেকটা দুঃসংবাদ। কোনটা আগে শুনতে চান?
দুঃসংবাদটাই আগে বলেন। আপনার পা দুটো কেটে ফেলতে হয়েছে। এবার সুসংবাদটা বলেন।
আপনার জুতা দুইটা কেনার জন্যে লােকের লাইন পড়ে গেছে । আপনি অনেক ভালাে দাম পাবেন।
রম্য কথা -পর্ব-(৬)
কৌতুকটাকে যদি একটু সুন্দর ভাষায় বলি, তাহলে এভাবে বলা যায়, পদচ্যুত হওয়ার পর তাঁর পাদুকাদ্বয় বিক্রি করে তিনি ভালাে মূল্য পাচ্ছেন। পদচ্যুত হওয়া সত্যি বেদনাদায়ক। কেউই তাঁর পদ হারাতে চান না। পদবিও ।
আমাদের দেশে এখন অনেকেই পদ হারাচ্ছেন। তবে তাঁদের পাদুকা ক্রয়ের জন্যে কেউ ভিড় জমিয়েছেন বলে শােনা যায়নি। এই দেশে পদচ্যুতের পেছনে দুধের মাছিরা ভিড় করে না।
এবার আরেকটা কৌতুক।
এক ভদ্রমহিলা। তাঁর কোলে বছর তিনেকের একটা বাচ্চা মেয়ে । মেয়েটা ঘ্যান ঘ্যান করছে। তারা একটা সুপার মার্কেটের চকলেটের পসরা সাজানাে এলাকা দিয়ে যাচ্ছেন। মহিলা বলছেন, খুকুমণি, আরেকটু, আরেকটু গেলেই আমরা চকলেটের এলাকা পেরিয়ে যাব । ছি ছি ছি। জেদ করে না। চকলেট খেলে দাঁত নষ্ট হয় । তুমি মুটিয়ে যাবে। বাচ্চাটি আরও জোরে কাঁদল। তিনি বলেই চলেছেন, ছি ছি। ধৈর্য ধরাে। এই রকম করে না। এসব বলে তিনি কাউন্টার পেরিয়ে টাকা দিয়ে বেরিয়ে গেলেন। এই সময় একজন ভদ্রলােক তাঁকে বললেন, আপনার বাচ্চাকে আপনি বুঝি খুকুমণি বলে ডাকেন? নাকি এটাই তার নাম?
ভদ্রমহিলা বললেন, না না, খুকুমণি আমার নিজের নাম। ওর নাম কল্পনা। ব্যাপার হলাে, ভদ্রমহিলা এতক্ষণ নিজের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। এই বয়সে চকলেট খেয়ে তিনি আর মুটিয়ে যেতে চান না।
আমরা জানি, পাওয়ার করাপ্টস । অ্যান্ড অ্যাবসসালুট পাওয়ার করাপ্টস অ্যাবসােলুটলি ।
রম্য কথা -পর্ব-(৬)
এই সময় ক্ষমতায় যারা আছেন, তাঁদের কর্তব্য হবে সারাক্ষণ নিজেকে এই বলে শক্ত রাখা, আমরা এসেছি দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমন করে একটা স্থায়ী উদাহরণ সৃষ্টি করে যেতে। চকলেটের প্রলােভনে নিজেদের আদর্শচ্যুত করা যাবে না।
এবার এক চালাক লােকের গল্প । এক লােক চুল কাটানাের সেলুনে ঢুকল একটা বাচ্চা ছেলেকে নিয়ে। ঢুকে নিজের চুল কাটাল, শেভ করাল, গা ম্যাসাজ করাল, শ্যাম্পু করাল, ফেসিয়াল করাল। তারপর বাচ্চাটাকে বসিয়ে দিল চেয়ারে। বলল, তুমি বসাে, আমি একটা টাই কিনে নিয়ে আসি। এই, খুব সুন্দর করে এর চুল কেটে দাও।
বাচ্চা ছেলেটার চুল কাটা হয়ে গেলে ক্ষৌরকার বলল, বাবু, তােমার বাবা কই?
উনি তাে আমার বাবা না। তাহলে?
উনি আমাকে রাস্তায় একা পেয়ে বললেন, বাবু, তুমি কি বিনা পয়সায় চুল কাটাতে চাও?
আমি বললাম, হ্ৰা । তাহলে আমার সঙ্গে এসাে। আমি তার সঙ্গে চলে এলাম। একটা সেলুনে বিনা পয়সায় চুল কাটানাের জন্যে চালাকি করার কী দরকার আমরা বুঝি না। যেমন বুঝি না, যারা কোটি কোটি টাকার টেন্ডার নাড়াচাড়া করার মালিক ছিলেন, তাঁদেরই কেউ কেউ কেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের পিক-আওয়ার বেদখল করে রেখে সেখানেও লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে বেচারা নাট্যনির্মাতাদের
ঠকিয়েছিলেন। কেন মন্ত্রী-এমপির ছেলেরা ২৫ হাজার টাকার মােবাইল ফোন ছিনতাই করতে গিয়ে গুলি ছুড়েছিল।
বিএমডব্লিউ চালানাে-এই ছেলেরাই, মন্ত্রীদের, এমপিদের ।
রম্য কথা -পর্ব-(৬)
তাে এমনই একজন মন্ত্রীর যুবক ছেলে বিএমডব্লিউ চালাচ্ছে। আর বলছে, মাই বিএমডব্লিউ, মাই বিএমডব্লিউ । গাড়ির প্রেমে সে এত মগ্ন যে ড্রাইভিংয়ের দিকে নজরই নাই । গাড়ি একটা গাছে ধাক্কা লাগল । সে প্রাণে বেঁচে গেলেও গাড়িটা একেবারে দুমড়ে–মুচড়ে গেল । সে কাঁদতে লাগল, মাই বিএমডব্লিউ, মাই বিএমডব্লিউ। পাশ দিয়ে আরেকজন যাচ্ছিলেন গাড়ি চালিয়ে। তিনি বললেন, ভাই, আপনার
ততা বাঁ হাতটা নাই। আপনি বিএমডব্লিউ-বিএমডব্লিউ বলে কাঁদছেন কেন?
কী বলেন, আমার বাঁ হাত নাই । হায় রে, আমার রােলেক্স ঘড়ি। আই হ্যাভ লস্ট মাই রােলেক্স ঘড়ি।
এরা এই রকমই। এরা নিজের শরীরের চেয়ে দামি ঘড়ি, ছড়ি, গাড়ি, বাড়িকে ভালােবাসে বেশি। কাজেই ধরা না দিলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত-এই ঘােষণা দিলে কাজ হতে পারে। এদের অনেকেই অঙ্গহানিতে রাজি হবে, কিন্তু সম্পদহানিতে নয়।
হয়তাে নারীকেও বেশি বেশি ভালােবাসে। এত ভালােবাসে যে তাদের অনেক গার্লফ্রেন্ড দরকার হয়।
Read more
