ধ্বংসস্তুপ থেকে বেরিয়ে এল শিকারি দুজন । গা ঝাড়তে ঝাড়তে বলল, গত বছরও প্লেনটা এই জায়গাতেই ভেঙে পড়েছিল।
আমরা আর ভেঙে পড়তে চাই না। কাজেই ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না । বিমান নিয়ে যাত্রা শুরুর আগেই আমাদের ভাবতে হবে আমরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব তাে!
২৬ জুন ২০০৭
ইলিশ নিয়ে যৎকিঞ্চিৎ
তখন পড়ি ক্লাস টুয়ে। স্যার জিজ্ঞেস করলেন, মাছের রাজা কী, বলাে। উত্তরটা আমাদের সবার জানা ছিল। আমরা হাত তুললাম। তুমি বলাে। ইলিশ। তুমি বলাে। ইলিশ। তুমি? ইলিশ। স্যার মাথা নাড়ছেন। তখন একজন বলল, তিমি মাছ। স্যার বললেন, হয়নি। শাকের রাজা পুঁই, মাছের রাজা রুই।
সেই থেকে রুইকেই কুলীন বলে মানি। আর ইলিশ ছােটবেলায় ছিল প্রায় প্রধান খাদ্য। ভাতের পরেই। আম্মারা প্রায়ই গল্প করতেন, তােরা আর কী মাছ খাস বাপু, মাছ পাওয়া যেত তােদের দাদার বাড়ির নদীতে, পােললা দিয়ে মাছ ধরা হতাে, একেকটা মাছ ছিল তােদর চেয়েও বড়।
সেই নদী মরে গেছে, বড় মাছ তখন কেবলি স্মৃতি, তখন বাঁধা মাইনের টাকায় টানাটানির সংসারে আব্বার বড় মাছ কেনার শখটা পূরণ হতাে কেবলই ইলিশ মাছ কিনে। মাঝেমধ্যেই আব্বাকে দেখতাম এক জোড়া ইলিশ মাছ কিনে এনেছেন। তা সে যত রাতেই আসুক না কেন, আব্বা বলতেন, আজকেই রাধে। বলা যায় না, সকালে কী হয়!
রাতে বাজার করার একটা কারণ ছিল রংপুর পৌরবাজারে যেদিন ইলিশের। ব্যাপক আমদানি হতাে, সেদিন মাছের দাম পড়ে যেত, সেই জরুরি খবরটা আব্বা হয়তাে পেয়েছেন একটু বেশি বেলা করে। কাজেই রাতের বেলা আব্বা চললেন ইলিশ কিনতে।
রম্য কথা-পর্ব-(১১)
তখন দিনের পর দিন দুবেলা ইলিশ খেতে হতাে। কত আর খাওয়া যায়! কাজেই ইলিশ মাছটা যে একটা বিশেষ রকমের সম্মানীয় মৎস, ছােটবেলায় তা বুঝতে পারিনি। বরং পর পর দুবেলা ইলিশ পাতে পড়তে দেখলে বাড়ির সদস্যরা একটু প্রতিবাদ মতাে করার চেষ্টা করত।
কিন্তু আজ বুঝি, আ হিলশা ইজ আ হিলশা ইজ আ হিলশা। ইলিশ কেবল মাছ নয়, বাংলাদেশের জাতীয় মাছ, আবার শুধু জাতীয় মাছ নয়, এ আমাদের সংস্কৃতি। কথাটা দেখতে পাচ্ছি, বিশ্বকোষেও উঠে গেছে। বিশ্বাস না হলে যে কেউ উইকিপিডিয়ার সাইটে ইলিশের পরিচ্ছেদে ঢু মেরে আসুন। হিলশা ইজ নট জাস্ট আর ফিশ টু বেঙ্গলিজ । ইট ইজ আ পার্ট অব দেয়ার কালচার।
তবে ইলিশ বাংলার বাইরেও আরও কয়েক জায়গায় পাওয়া যায়। সিন্ধুনদ উজিয়ে যে মাছ ধরা পড়ে, তার নাম পাল্লা । আর নর্মদা উজিয়ে ভরাে শহরে ধরা পড়া মাছের নাম মাদার। খােট্টা মুলুকে পৌঁছার পর সেই একই মাছের নাম হয় হিলশা। ভাবছেন, এই বেটা গদ্যকার্টুনের লেখক তাে বেশ জ্ঞান ফলাচ্ছে। হেই
বেটা, তাের কাছে কি আমরা জ্ঞানের কথা শুনতে চাইছি?
জনাব, এ সকলই সৈয়দ মুজতবা আলীর পরিবেশিত তথ্য। তিনি বলছেন, দেশভেদে ভিন্ন নাম। তফাৎ এইটুকু যে সরষে বাটা আর ফালি ফালি লঙ্কা দিয়ে আমরা যে রকম ইলিশ দেবীর পূজা দিই, বাদবাকিরা ও-রকম ধারা পারে না।
রম্য কথা-পর্ব-(১১)
সৈয়দ সাহেব ইলিশ প্রসঙ্গে বলেছেন, “ঐ বস্তুটির প্রতি আমার মারাত্মক দুর্বলতা আছে। বেহেশতের বর্ণনাতে ইলিশের উল্লেখ নেই বলে পাঁচ বৎ নামাজ পড়ে সেথায় যাবার কণামাত্র বাসনা আমার নেই।’
এইখানটায় দেখা যাচ্ছে, আমির-ফকির ভেদ ঘুচে গেল। বড় লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী আর ছােট লেখক আনিসুল হকের একটা বিষয়ে দুর্বলতা। ইলিশ । জগৎ ভ্রমিয়া শেষে, আমি এসেছি তােমার দেশে-মাতা বাংলা, আমাকে ফি বর্ষায় মনটা ভরে ইলিশ খেতে দিয়ে মা। যদি দাও তাে, তােমরা যেখানে সাধ চলে যাও, আমি রব এই বাংলায়…
কিন্তু ইলিশ এই বাংলাদেশেই মহার্ঘ্য হয়ে গেল। নিউইয়র্কের ভাবিরা দাওয়াত দিয়ে কী রকম গর্বিত গ্রীবা নেড়ে চাঁচ বাড়িয়ে পাতে তুলে দিচ্ছেন ইয়া বড় একটা ইলিশের টুকরা। জানেন, এখন দেশের চেয়ে এখানেই আমরা ইলিশ খাচ্ছি ভালাে।
রম্য কথা-পর্ব-(১১)
উইকিপিডিয়াই লিখেছে, বাংলাদেশের ইলিশ সর্বত্র রপ্তানি হচ্ছে, ইউরােপে, আমেরিকায়, ইউরােপের বাঙালি অধ্যুষিত গ্রোসারি শপে দিব্যি পাওয়া যাচ্ছে ইলিশ। কলকাতার বাজারে পদ্মার ইলিশ নাকি পাওয়া যেত, বাংলাদেশের তুলনায় কম দামেই।
কলকাতাওয়ালাদের জন্যে ইলিশটা আবার কেবল সংস্কৃতি নয়, নস্টালজিয়া। এপার বাংলা থেকে যারা গেছেন ওই পারে, তারা যতই রূপনারায়ণ নদী থেকে ধরা কলাখাটের ইলিশ খান না কেন, পদ্মার ইলিশের স্মৃতি তাদের পিছু ছাড়ে না। হায়! কী সব দিনই না পেছনে ফেলে এসেছি। আর ইলিশও নচ্ছার ধরনের মাছ, সমুদ্রে হয়, সমুদ্রে ধরাও পড়ে, কিন্তু তাতে স্বাদ হয় না, সে নদী বেয়ে উজানে, ১২০০ কিলােমিটার অবধি উজানে উঠে যেতে পারে, কিন্তু একটা নির্দিষ্ট জায়গার মাছেই পাওয়া যাবে কেবল ওই স্বর্গীয় অমৃত স্বাদটা। এমনকি চাঁদপুরের জেলের একই নৌকার একই খ্যাপ থেকে নামানাে ইলিশের দুটো দুই জায়গা থেকে ধরা এবং জেলেরা জানে, এর মধ্যে একটা হলাে এক নম্বর, আরেকটা হলাে দুই নম্বর।
ইলিশ বাঙালি কিন্তু সেই আদি যুগ থেকেই খেয়ে আসছে। যদিও বাঙালিকে মাছখেকো বলে উচ্চবর্ণের লােকেরা নিন্দাও কম করেনি। আবার দশ বা এগারাে শতকে ভবদেব ভট্ট নামের এক বাঙালি শাস্ত্রকার নানা যুক্তি দিয়ে বুঝিয়েছিলেন, মাছ খাওয়া কত ভালাে। জীমূতবাহন ইলিশ মাছ আর ইলিশ মাছের তেলের প্রশংসা করেছেন। বারাে শতকে সর্বানন্দ যখন মাছের নিন্দা করেছেন, তখনাে ইলিশের কথা তিনি ভুলে যাননি। (হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি, গােলাম মুরশিদ)। মধ্য যুগের সাহিত্যে অন্য অনেক মাছের সঙ্গে ইলিশ মাছেরও উল্লেখ আছে।
রম্য কথা-পর্ব-(১১)
গােপাল ভাঁড়ের হাসির গল্পে আছে। রাজা বলছেন, গােপাল, তুমি কি একটা কাজ করতে পারবে। হাট থেকে ইলিশ মাছ কিনিয়ে ঝুলিয়ে আনবে, কিন্তু কেউ জিজ্ঞেস করবে না, তােমার ইলিশের দাম কত। বলা বাহুল্য, গােপাল এই বাজিতে জিতেছিলেন। কিন্তু বড় মুল উপায়ে। পরনের কাপড় মাথায় বেঁধে নিয়ে তিনি মাছ হাতে রওনা হলেন। কে আর তাকে তখন মাছের দাম জিজ্ঞেস করবে।
হ্যা। সে একদিন ছিল বটে বাংলার জনপদে জনপদে। ইলিশ পুকুর বা খাল বিলের মাছ নয়, বেশির ভাগ হাটেই সেটা আসত বাইরে থেকে। সেই মাছ একজোড়া কিনে কানকোতে দড়ি পরিয়ে হাতে ঝুলিয়ে বাড়ি ফিরতেন হাটুরেরা, এইটাই ছিল রেওয়াজ। আর সেই আমদানি-করা মাছের দাম জিজ্ঞেস করবে না তাে কী করবে।
আর “স্যার, আমার পুকুরের ইলিশ স্যার’ বলে আগে বড়কর্তাকে ছােটকর্তা যে ভেট দিত, সেই রসিকতা এখনাে প্রচলিত আছে, কিন্তু রেওয়াজটা আছে কি না দুদকের কর্মকর্তারা সেটা ভালাে বলতে পারবেন ।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসের কুবেররা ইলিশ মাছই ধরত। ওই বইয়ের বর্ণনা সত্যি অপূর্ব। কিছুদিন আগেও স্কুলের পাঠ্যবইয়ে দুটো পদ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল-একটা হলাে, ইলশে গুঁড়ি ইলশে গুঁড়ি ইলিশ মাছের ডিম… আরেকটার শেষ লাইন-গােয়ালন্দ ঘাটে এসে, ইলিশ ধরা পড়ল শেষে। জানি না ওই দুটো আজও পাঠ্য আছে কি না।
আচ্ছা, আপনি এত কিছু থাকতে ইলিশ নিয়ে লিখছেন কেন?
কারণ, জাতে উঠতে চাই। বুদ্ধদেব বসুর মতাে কবি ইলিশ নিয়ে কবিতা লিখেছিলেন, তার নামও ছিল ইলিশ
রাত্রিশেষে গােয়ালন্দে অন্ধ কালাে মালগাড়ি ভরে
জলের উজ্জ্বল শস্য, রাশি-রাশি ইলিশের শব, নদীর নিবিড়তম উল্লাসের মৃত্যুর পাহাড়।
রম্য কথা-পর্ব-(১১)
তারপর কলকাতার বিবর্ণ সকালে ঘরে-ঘরে ইলিশ ভাজার গন্ধ; কেরানির গিন্নির ভাড়ার সরস সর্ষের ঝাঁজে। এলাে বর্ষা, ইলিশ উৎসব।
মােবাইল ফোন কোম্পানির বিজ্ঞাপনের বদৌলতে আর গৌতম ঘােষের সিনেমায় আসাদকে দেখে আমরা সেই সব ইলিশ মাছ ধরা জেলেদের দেখেছি চৌকোনাে বাক্সে । আর সম্প্রতি সরকার ইলিশ মাছ রপ্তানি ছয় মাসের জন্যে বন্ধ করে দিয়ে সব টিভি খবরের শিরােনামে পরিণত করতে পেরেছেন ইলিশকে।
ওদিকে আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে বাংলাদেশের ইলিশ ও জামদানি শাড়ি আমদানি-রপ্তানির বিশেষ একটি সংবেদনশীল ভূমিকা রয়েছে। ওই পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঙ্গি-তৎপরতা বন্ধের জন্যে কড়া কথা শুনিয়েছেন, তারই প্রতিক্রিয়া হিসেবে নাকি বাংলাদেশ ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করেছে।
কূটনৈতিক মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে আর্জি জানিয়েছে। আনন্দবাজারের খবর, বিশ্বাস করবেন কি না আপনার ব্যাপার। | শেষ পর্যন্ত ইলিশ মাছ দিয়ে কূটনীতি উইকিপিডিয়া বলছে, বাংলাদেশে ইলিশ দিয়ে ৫০টারও বেশি পদ রাধা যায় । ভাপা ইলিশ, ভাজা ইলিশ, ভর্তা ইলিশ, সেদ্ধ ইলিশ, পাতায় মােড়ানাে ইলিশ, সর্ষে ইলিশ, দই ইলিশ ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু ইলিশ মাছ দিয়ে যে কূটনৈতিক পদটা ব্লাঁধা হচ্ছে, তার রেসিপি সিদ্দিকা কবীরও দেননি।
দেননি যে তা ভালােই করেছেন। ইলিশ কূটনীতির বিষয় নয়, সাহিত্যেরও নয়, ও এক আশ্চর্য জাদুকরি জিনিস, যার আশ্রয় রসে নয়, রসনায়। এক টুকরাে ইলিশ পাতে পেলে লেখার পাতা এখানেই ওল্টানাে যায়। যায় নাকি?
রম্য কথা-পর্ব-(১১)
১০ জুলাই ২০০৭
দ্রব্যমূল্য ও ‘শুয়ােরের বাচ্চাদের অর্থনীতি
এই লেখার শিরােনাম দেখে ভাববেন না যে আমি খেপেটেপে গেছি। যেমন খেপে গিয়েছিলেন সুকবি রফিক আজাদ, ১৯৭৪-এ, লিখেছিলেন, ভাত দে হারামজাদা, তা
হলে মানচিত্র খাব।’ কবিতাটি নিষিদ্ধ হয়েছিল, তবে কবিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমার লেখা নিষিদ্ধ হােক, এটা আমি চাই না। আমি নিশ্চয় জানি যে দেশে এখন জরুরি অবস্থা।
এই লেখার শিরােনামের দ্বিতীয় অংশ-শুয়ােরের বাচ্চাদের অর্থনীতি-ঊর্ধ্বকমা সমেত আমি উদ্ধৃত করছি আকবর আলি খানের লেখা একটা প্রবন্ধ থেকে। প্রবন্ধটি তাঁর অসাধারণ বই পরার্থপরতার অর্থনীতিতে ছাপা হয়েছে।
বইটি অতি সুলিখিত, সুতরাং সুপাঠ্য-রম্যরচনার মতাে স্বাদু। কিন্তু এর প্রতিটি ছত্রে পাই আলাের দিশা; পাই তথ্য, তত্ত্ব, গভীর ভাবনা, অগাধ পাণ্ডিত্য আর বাস্তব জ্ঞানের পরিচয়। বইটি এই সময়ে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে, বিশেষ করে দেশের কাণ্ডারিদের টেবিলে টেবিলে ঠাই পেলে ও পঠিত হলে দেশবাসী উপকৃত হবে বলে মনে করি।
বইটি অর্থনীতিবিষয়ক । কিন্তু এই আলি সাহেবের তুলনা করতে কেবল আরেকজন আলীর নামই নেওয়া যায়-সৈয়দ মুজতবা আলী। পাণ্ডিত্য আর রসবােধ একই পাত্রে তাে বেশি দেখি না।
শুয়ােরের বাচ্চা কথাটা আকবর আলি খান পেড়েছেন একজন ইংরেজ সাহেবের স্মৃতিকথা থেকে। আসানসােলে মহকুমা প্রশাসক ছিলেন মাইকেল ক্যারিট সাহেব। সে সময় এক পাঞ্জাবি ঠিকেদার তাঁকে বলেছিল, এই দুর্ভাগা দেশে তিন কিসিমের লােক আছে । আছেন সজ্জন, যারা ঘুষ খান না; আছে বদলােক, যারা ঘুষ খায় এবং আছে শুয়ােরের বাচ্চারা, যারা ঘুষ নেয় অথচ ঘুষ প্রদানকারীকে কোনাে সাহায্য করে আকবর আলি খানের প্রবন্ধেই উল্লিখিত হয়েছে ষােড়শ শতকের কবি মুকুন্দরামের কাব্যের দুটি ছত্র, যাতে ঠিক এই ধরনের শুয়ােরের বাচ্চাদের কর্মকাণ্ড ফুটে উঠেছে।
সরকার হইলা কাল খিল ভূমি লিখে লাল বিনা উপকারে খায় ধুতি ।
রম্য কথা-পর্ব-(১১)
অর্থাৎ রাজস্ব কর্মকর্তা (সরকার) অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনাবাদি জমিকে কর্ষিত জমি হিসেবে চিহ্নিত করছে। যার ফলে অতিরিক্ত খাজনা দিতে হচ্ছে। ধুতি ঘুষ নিয়েও সে কাজ করছে না।
এই শুয়ােরের বাচ্চারা সেই আমলেও ছিল, এই আমলেও আছে। আজকের প্রসঙ্গ সেটা নয়। আজকের প্রসঙ্গ আমার লেখার শিরােনামের প্রথম অংশ- দ্রব্যমূল্য।
জিনিসপাতির দাম যে বেড়ে গেছে, সেটা প্রথম আলাের শিরােনাম হওয়ার আগেই সবার জানা। কারণ দেশের বেশির ভাগ লােকেরই আয় সীমিত। মাসে মাসে মানুষের আয় বাড়ে না, কিন্তু দিনে দিনে তার খরচ বাড়ছে। কাজেই দ্রব্যমূল্যের খবর খবরের কাগজে না ছাপা হলেও সাধারণ মানুষদের খবর হয়ে যায়। (আমরা অনেক সময় কথার কথা হিসেবে বলি, ভালাে হইয়া যাও, নইলে খবর আছে, সেই অর্থে)।
তাে, সাধারণ মানুষদের যখন খবর হয়ে গেছে, বাজারে আগুন লাগার কারণেই; তখন সরকারের খবরদারির খবরও আমাদের অজানা নয়। সরকার নানা কিছু করছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য।
ব্যবসায়ীদের ডেকে পরামর্শ করছে, বাংলাদেশ ব্যাংক বিবৃতি দিয়েছে: নিত্যপ্রয়ােজনীয় দ্রব্য আমদানি করার জন্য এলসি খুলতে গেলে অর্থের উৎস জানতে চাওয়া হবে না। মজুদদারির বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মধ্যস্বত্বভােগীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিচ্ছে যৌথ বাহিনী। বিডিআর নিজেই ন্যায্যমূলের দোকান খুলে বসেছে।
কিন্তু ফলটা কী দাঁড়াচ্ছে?
এই সরকার কেবল সেনা-সমর্থিত নয়, গণমাধ্যম-সমর্থিতও বটে। এবং জন সমর্থিতও। আসলে জন-সমর্থনই এর বৈধতার ভিত্তি।
