তোমার কতবড় সৌভাগ্য সেটা একটু চিন্তা করো ।
পরাজিত সম্রাটের সঙ্গে বিবাহ হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য । সম্রাটের মন্দ ভাগ্যের সঙ্গে আমার ভাগ্য জড়াতে চাই না ।
তুমি নিতান্তই বালিকার মতো তর্ক করছ ।
হামিদা বানু হাসতে হাসতে বলল, আমি তো বালিকাই । সারা রাত চেষ্টা করেও হামিদা বানুকে রাজি করানো গেল না । মীর্জা হিন্দাল ঘটনা শুনে ভাইয়ের ওপর প্রচণ্ড রাগ করলেন । যাকে শের শাহ্ তাড়া করছে যার পালানোর পথ প্রায় বন্ধ সে কী করে এইসময় বিয়ের জন্যে পাগল হবে ?
দিলদার বেগম হুমায়ূনের সম্মানে বিরাট ভোজের আয়োজন করেছিলেন । হুমায়ূন ঘোষণা করলেন, হামিদা বানুর সঙ্গে বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো খাদ্য গ্রহণ করবেন না । উপবাস থাকবেন ।
সম্রাট কোনো খাদ্য গ্রহণ করছেন না শুনে হামিদা বানু বিয়েতে রাজি হলেন ।
দিলদার বেগমের কাছ থেকে পাওয়া দুই লক্ষ রৌপ্যমুদ্রা সম্রাট বিবাহের ‘নিকাহানা’ হিসেবে হামিদা বানুর বাবা মীর আবুল বকাকে দিলেন । এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা দিলেন নবপরিণীতা স্ত্রীকে ।
বাসর রাতে হামিদা বলল, আমি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আপনার ভাগ্যের সঙ্গে নিজের ভাগ্য জড়িয়েছি । তবে আমি আপনাকে ওপর আসুক আমি আপনাকে ছেড়ে যাব না ।
সম্রাট বললেন, তোমাকে নিয়ে আমি একটি দীর্ঘ কবিতা রচনা করেছি । কবিতাটা শুনবে ?
হামিদা বললেন, না । আমি এখন ঘুমাব । আমার ঘুম পাচ্ছে ।
সম্রাট বললেন, আমি হুকুম না দেওয়া পর্যন্ত তুমি ঘুমাতে পারবে না । আমি হুকুম দিই নাই ।
হামিদা বানু চোখ বন্ধ করলেন এবং পাশ ফিরলেন ।
সম্রাট বললেন, তুমি কি ঘুমিয়ে পড়েছ ?
বাদশাহ নামদার পর্ব –২০
না ।
তোমাকে আমি একটা উপহার দেব । উঠে বসো । উপহারটা কী দেখো ।
কী উপহার ?
একটা হীরা । এর নাম কোহিনুর ।
কোহিনুরের আমার কোনো প্রয়োজন নেই । আপনি কপর্দকহীন
একজন মানুষ । এই হীরা আপনার প্রয়োজন ।
কোহিনুর তুমি নেবে না ?
না । এখন অনুমতি দিন, আমি ঘুমাব ।
যাও অনুমতি দিলাম ।
সম্রাট ঘুমন্ত স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে লেখা দীর্ঘ কবিতাটি আবৃত্তি করলেন ।
আবৃত্তি শেষ হওয়ামাত্র হামিদা বানু বললেন, আপনি দুর্বল সম্রাট কিন্তু অত্যন্ত সবল একজন কবি । কবিকে অভিনন্দন ।
হামিদা বানুর গর্ভেই পৃথিবীর সেরা নৃপতিদের একজন জন্মান ।
তিতি সম্রাট আকবর । আকবর দ্য গ্রেট ।
এই প্রসঙ্গ যথাসময়ে আসবে ।
ফজরের নামাজ শেষ করে সম্রাট হুমায়ূন কিছুক্ষণ ঘুমান । দিনের কাজকর্ম শুরু হয় ঘুম থেকে ওঠার পর। আজ নিয়মের ব্যতিক্রম হয়েছে । সম্রাট নামাজ শেষ করে বাগানে গেছেন । তাঁর মন প্রফুল্ল । গত রাতের শেষ অংশে সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখেছেন । শেষরাতের স্বপ্ন অর্থবহ । একজন তফসিরকারীকে দিয়ে স্বপ্নের অর্থ করাতে হবে ।
স্বপ্নে তিনি তাঁর পিতা বাবরকে দেখেছেন । বাদশাহ বাবর ঘোড়ায়ে চড়ে যাচ্ছেন । পেছনে পেছনে যাচ্ছেন হুমায়ূন । জায়গাটা মনে হলো কাশ্মীরের কোনো বাগান । কাশ্মীর বাদশাহ বাবরের অতি প্রিয় স্থান । কাশ্মীরকে তিনি বলতেন, আমার ব্যক্তিগত বাগিচা ।
বাদশাহ নামদার পর্ব –২০
ঘোড়ায় যেতে যেতে একটা জলা জায়গার কাছে বাবর থামলেন । ঘোড়া থেকে নামলেন না । হুমায়ূনকে বললেন, তাকিয়ে দেখো কী সুন্দর জলপদ্ম ! যাও এই পদ্মটি তুলে আনো । আমি এত সুন্দর জলপদ্ম কখনো দেখি নি ।
পিতার আদেশ শুনে হুমায়ূন ঘোড়া থেকে নামলেন । পদ্ম আনতে তাঁকে পানিতে পা ফেলতে হলো । পানি বরফশীতল । কাকের চোখের মতো স্বচ্ছ ।
স্বপ্নের এই পর্যায়ে সম্রাটের ঘুম ভাঙল । অনেকদিন তিনি পিতাকে স্বপ্নে দেখেন না । তাঁর চেহারাও হুমায়ূনের কাছে অস্পষ্ট হয়ে আসছিল ।
স্বপ্নে পিতাকে অতি স্পষ্ট দেখে হুমায়ূনের মন আনন্দে পূর্ণ হয়েছে । তিনি নিশ্চিত এটি একটি ভালো স্বপ্ন ।
লাহোরের এই বাগানে জলপুষ্প ফোটার জন্যে একটি জলাধার করা হয়েছে । সম্রাট হুমায়ূন জলাধারের দিকে যাচ্ছেন । তাঁর মন বলছে জলাধারে তিনি জলপদ্ম ফুটে আছে দেখবেন ।
খুব কাছ থেকে কেউ একজন বলল, আমি কি সম্রাটের সঙ্গে কিছুক্ষণ থাকতে পারি? অতি জরুরি কিছু কথা আমার সম্রাটকে বলা দরকার ।
সম্রাট ঘাড় ফিরিয়ে বৈরাম খাঁকে দেখলেন । বৈরাম খাঁকে চিন্তিত এবং বিষণ্ন দেখাচ্ছে । হুমায়ূন বললেন, আপনার সঙ্গ আমার সবসময় প্রিয় । আসুন আমরা দুজন জলপদ্মের সন্ধানে যাই । জরুরি আলাপের জন্যে সময় অনেক পাওয়া যাবে ।
বৈরাম খাঁ এগিয়ে এলেন । হুমায়ূন বললেন, আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে বিনিদ্র রজনী কেটেছে । বলুন জরুরি কথা ।
আমি একটি পত্র নিয়ে এসেছি ।
হুমায়ূন বললেন, পত্র কে পাঠিয়েছে? শের শাহ্ ?
না, পত্রটি লেখা হয়েছে শের শাহকে । লিখেছেন আপনার ভ্রাতা মীর্জা কামরান ।
হুমায়ূন জলাধারের দিকে যাচ্ছিলেন, বৈরাম খাঁর কথায় তাঁর থমকে দাঁড়িয়ে যাওয়ার কথা । তিনি থমকে দাঁড়ালেন না । জলাধার পর্যন্ত গেলেন । সেখানেও জলপদ্ম ফুটেছে । স্বপ্নের মতো সুন্দর না হলেও সুন্দর । একসঙ্গে অনেকগুলি ফুটেছে বলেই সুন্দর । স্বপ্নে একটা জলপদ্মই ছিল । হুমায়ূন আনন্দিত গলায় বললেন, বাহ্ !
বৈরাম খাঁ বরলেন, পত্রটা কি এখন পড়বেন ?
বাদশাহ নামদার পর্ব –২০
হুমায়ূন বললেন, এই অপূর্ব দৃশ্য কিছুক্ষণ দেখতে দিন, তারপর পত্র পাঠ করব ।
দীর্ঘনিঃশ্বাস চাপতে চাপতে বৈরাম খাঁ বললেন, অবশ্যই । আপনি দৃশ্য দেখুন ।
শের শাহকে লেখা মীর্জা কামরানের পত্র-
দিল্লীর মহান সম্রাট, জগৎস্বীকৃত বীরপুরুষ মহানুভব শের শাহ্ ।
আমি দীর্ঘ পত্রালাপে যাচ্ছি না । আমার ভাই
হুমায়ূন মীর্জা এই বিষয়ে বিশেষ পারদর্শী । মূল
কথায় যাই । আমি আমার ভাইকে বন্দি করে
আপনার হাতে তুলে দিতে রাজি আছি । বিনিময়ে
আমি কী পাব তা দূত মারফত জানালে খুশি হব ।
ইতি
আপনার অনুগত
মীর্জা কামরান
হুমায়ূন ছোট্ট করে নিঃশ্বাস ফেলে আবারও জলাধারভর্তি পদ্মের দিকে চোখ ফিরিয়ে বললেন, বৈরাম খাঁ, আপনি কি এই ফুলগুলির আয়ু জানেন ?
বৈরাম খাঁ বললেন, আমি সৈনিক মানুষ । আমার চিন্তা আমার মহান সম্রাটের এবং আমার সৈন্যদের আয়ু নিয়ে ।
হুমায়ূন বললেন, অপূর্ব এই ফুল মধ্যরাতে ফোটে এবং মধ্যদুপুরে বুজে যায় । সাত দিন এরকম চলে, তারপর এর আয়ু ফুরায় ।
সম্রাট, আমরা কি মূল বিষয়ে আসতে পারি?
মূল বিষয়ে যেতে মন চাচ্ছে না বলেই পুষ্প বিষয়ে কথা ।
অবস্থা যে গুরুতর তা কি বুঝতে পারছেন ?
পারছি ।
আপনার কি মনে হয় না এই মুহূর্তেই কামরান মীর্জাকে বন্দি করা প্রয়োজন ?
তা কি সম্ভব ?
বৈরাম খাঁ বললেন, গত রাতে শেষ প্রহরে আমি তাকে বন্দি করেছি । আপনার হুকুম পাওয়ামাত্র তাঁকে আপনার সামনে উপস্থিত করা হবে ।
সম্রাট বললেন, শাবাশ ।
বৈরাম খাঁ মাথা নিচু করে প্রশংসা গ্রহণ করলেন । হুমায়ূন বললেন, কেউ চমৎকার কোনো কাজ করলে আমরা বলি শাবাশ । কেন বলি জানেন ?
বাদশাহ নামদার পর্ব –২০
না ।
পারস্য-সম্রাট শাহ আব্বাসের কারণে বলি । শাহ আব্বাস সারা জীবন প্রশংসনীয় সব কাজকর্ম করে গেছেন। সেখান থেকেই শাবাশ শব্দটি এসেছে ।
বৈরাম খাঁ বললেন, আমি সৈনিক মানুষ । এত কিছু আমার জানার প্রয়োজন নাই । যুদ্ধবিদ্যা জানা প্রয়োজন । তারপরেও সম্রাটের কাছ থেকে শিক্ষামূলক প্রতিটি বিষয়ে আমি মনে রাখি । এখন অধীনের আপনার প্রতি দুটি বিশেষ অনুরোধ আছে ।
আপনার যে-কোনো অনুরোধ রাখা হবে । অন্যায় অনুরোধ হলেও আমি রাখব । বলুন কী অনুরোধ ?
আমার দুটি অনুরোধ-কামরান মীর্জাকে বিদ্রোহ এবং গোপন ষড়যন্ত্রের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেবেন । এবং এই দণ্ডাদেশ আজ সূর্যাস্তের আগেই কার্যকর করবেন ।
দ্বিতীয় অনুরোধ কী ?
যার কারণে আমরা এই ষড়যন্ত্রে বিষয়ে জানতে পারি তাকে পুরষ্কৃত করবেন ।
সে কে ?
তার নাম হরিশংকর ।
হরিশংকরকে পুরষ্কৃত করা হবে । তাঁকে আমার সামনে উপস্থিত করুন ।
কামরান মীর্জাকে কখন উপস্থিত করব ?
আসরের নামাজের পর ।
বৈরাম খাঁ বললেন, আমি কি আশা করতে পারি, মাগরেবের নামাজের আগেই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে ?
হুমায়ূন জবাব দিলেন না ।
বৈরাম খাঁ বললেন, হাতির পায়ের নিচে মস্তক পিষ্ট করে মৃত্যুই হলো এমন অপরাধীর নিম্নতম শাস্তি ।
হুমায়ূন এবারও কিছু বললেন না ।
আমি শাস্তির ব্যবস্থা সম্পূর্ণ করে রাখব । আপনার আদেশ পাওয়ামাত্র শাস্তি কার্যকর হবে ।
কামরান মীর্জাকে বন্দি করা হয়েছে-এই খবর অন্তঃপুরের রাজমহিষীরা জেনেছেন । কামরান মীর্জার মা গুলরুখ বেগম আতঙ্কে অস্থির । তিনি জানেন তাঁর ছেলেকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে । ষড়যন্ত্রকারীদের এই শাস্তির বিধান । মা হয়ে সন্তানের মৃত্যু তিনি নিতে পারছেন না । তিনি কিছুক্ষণ পরপর জ্ঞান হারাচ্ছেন । দুপুরের দিকে খবর পাওয়া গের সম্রাট হুমায়ূন এসেছেন, গুলরুখ বেগমের সঙ্গে দেখা করতে । গুলরুখ বেগমের উঠে দাঁড়ানোর শক্তি ছিল না । দুজন দাসী তাঁকে ধরাধরি করে সম্রাটের সামনে উপস্থিত করল ।
বাদশাহ নামদার পর্ব –২০
হুমায়ূন বললেন, মা! আপনি নিশ্চয়ই কামরান মীর্জার কর্মকাণ্ড বিষয়ে অবগত হয়েছেন ?
গুলরুখ বেগম হাঁ-সূচক মাথা নাড়লেন।
হুমায়ূন বললেন, আপনার কি কামরান মীর্জার বিষয়ে কিছু বলার আছে ? বাদ আসর তার বিচার বসবে ।
গুলরুখ বেগম বললেন, অপরাধী অপরাধের জন্য শাস্তি পাবে । আমার কিছু বলার নেই ।
আপনার করুণ অবস্থা দেখে আমি ব্যথিত । আমি দুপুরে আমার সঙ্গে খাবার গ্রহণের জন্য আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি । আপনি কি আমার সঙ্গে খাবার গ্রহণ করবেন ?
না ।
হুমায়ূন বললেন, আল্লাহ্ পাক আপনার মনের কষ্ট দূর করুক । আমিন ।
কামরান মীর্জাকে রাখা হয়েছে সাধারণ একটি তাঁবুর ভেতরে । তাঁর দুই হাত পেছনে দিকে শক্ত করে বাঁধা। তাঁকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে । তাঁবুর চারদিকে বৈরাম খাঁ’র অনুগত একদল ঘোড়সওয়ার সৈন্য ।এদের নেতৃত্বে আছে সাদ মুহম্মদ । সে কামরানের সঙ্গে তাঁবুর ভেতর আছে ।
কামরান মীর্জা বললেন, তোমার নাম কী ?
সাদ মুহম্মদ ।
কামরান বললেন, এটা আবার কেমন নাম! আমি তোমার নাম দিলাম বাদ মুহম্মদ ।
আপনার অভিরুচি ।
আমার বাঁধন খুলে দাও । আমি জোহরের নামাজ আদায় করব ।
বিশেষ বিশেষ অবস্থায় ইশারায় নামাজ পড়ার বিধান আছে ।
আপনার এখন সেই অবস্থা ।
আমি ক্ষুধার্ত । আমার জন্যে দুপুরের খাবারের কী ব্যবস্থা ?
সাদ মুহম্মদ জবাব দিল না । অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে রইল ।
কামরান বললেন, তুমি ব্যাঙাচির কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে আসো,
আমাকে দুপুরের খাবার দেওয়া হবে কি না ।
কাকে ব্যাঙাচি বলছেন ?
বৈরাম খাঁকে । ব্যাঙাচি তার যথার্থ পরিচয় ।
আপনাকে ছেড়ে যাওয়ার হুকুম নেই ।
সম্রাটের সামনে আমাকে কখন হাজির করা হবে ?
জানি না । শুনেছি আসরের পর ।
বাদশাহ নামদার পর্ব –২০
আমি আমার ভাইকে চিনি । আমার ভাই যখন শুনবেন আমাকে না খাইয়ে রাখা হয়েছে তিনি রাগ করবেন। তুমি যাও, আমার খাবারের ব্যবস্থা করো ।
আপনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্যে হাতি এবং পাথর প্রস্তুত করা হয়েছে । আমার উপদেশ, আপনি আহারের কথা চিন্তা না করে আসন্ন মৃত্যুর কথা চিন্তা করুন । এবং আল্লাহ্ পাকের নাম নিতে থাকুন ।
আমি তৃষ্ণার্ত । পানি খাব ।
আপনার সামনে থেকে উঠে যাওয়ার হুকুম আমার নেই ।
বাদ মুহম্মদ, তোর ধৃষ্টতা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার মনে থাকবে ।
হুমায়ূন আচার্য হরিশংকরকে ডেকে পাঠিয়েছেন । তিনি তাঁর সঙ্গে দুপুরের খাদ্য গ্রহণ করবেন। হরিশংকর নিরামিশাষী । তাঁর জন্যে ত্রিশ পদের নিরামিষের ব্যবস্থা করা হয়েছে । তিনি ছোঁওয়া বাঁচিয়ে রেশমের আসনে আলাদা বসেছেন ।
সম্রাট বললেন, আম আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ ।
হরিশংকর বললেন, আমার জীবন আমি আপনাকে নিবেদন করেছি । কাজেই আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার কিছু নেই ।
আপনি কীভাবে জানলেন, কামরান মীর্জা শের শাহ্’র কাছে পত্র পাঠিয়েছে ?
সম্রাটের স্বার্থেই আমি কামরান মীর্জার আস্থাভাজন হয়েছি । আমি এই পত্রের বিষয়ে সরাসরি তাঁর কাছ থেকে জানতে পারি ।
আপনি একজনের বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন ।
আমি যা করেছি সম্রাটের স্বার্থের দিকে তাকিয়ে করেছি । সম্রাটের জন্যে যদি আরও হাজারজনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে হয়, আমি করব ।
আপনি খাদ্য গ্রহণ করছেন না । খাবার নাড়াচাড়া করছেন । কারণ জানতে পারি ?
আমি একটি বিষয় নিয়ে কঠিন উদ্বেগের মধ্যে আছি বলেই আমার
ক্ষুধা-তৃষ্ণা লোপ পেয়েছে ।
উদ্বেগের কারণ জানতে পারি ?
