আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৫ হুমায়ূন আহমেদ

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৫

বলরাম জমির আলীকে নানাবিধ সান্ত্বনার কথাও শােনালসাত বছর কোনাে ব্যাপার নাদেখতে দেখতে কেটে যাবেপাটনা জেল জায়গা ভালােব্যবস্থাও ভালােআবহাওয়া অতি মনােরমনিজের ফাঁসির হুকুমে তাকে মােটেই চিন্তিত মনে হলাে নাদানে দানে তিনদান হবার কথাতিনদান হয়েছেতার হাত দিয়ে তিনজন চলে গেছেকপালে লেখা ছিল, লেখা ফলেছেএতে চিন্তিত হবার কী আছে

পনের বছর পরের কথা। আশ্বিন মাসস্বাধীনবাংলা সার্কাস পার্টির মালিক হারুন সরকারের মাথায় পানি ঢালা হচ্ছে, পানি ঢালছে আসমানীজামদানী এবং পয়সা দুজনই আড়াল থেকে দৃশ্যটা দেখছেদুজনের মুখেই চাপা হাসিশুধু আসমানী গম্ভীর হয়ে আছেগম্ভীর হয়ে থাকলেও তার চোখে হাসি চিকমিক করছেতিন বােনের হাসি আনন্দের উৎস পানি ঢালার সময় হারুন সরকারের কর্মকাণ্ডসে ঘড়ির পেণ্ডুলামের মতাে ক্রমাগত মাথা ডানে বামে দোলাচ্ছেনিশানা ঠিক করে পানি ডালা যাচ্ছে না। 

সার্কাস পার্টির আজ শাে আছেশােআগে হারুন সরকারের মাথায় যন্ত্রণা হয়, প্রেসার বেড়ে যায়বুকে চাপ ব্যথা হয়তখন দীর্ঘ সময় ধরে মাথায় পানি ঢালতে হয়পানি ঢালার কাজটা সব সময় করে আসমানীদুলন্ত মাথায় নিশানা ঠিক রেখে পানি ঢালা খুবই কঠিন কাজএই কঠিন কাজ আসমানী আনন্দ নিয়ে করেকাজটা মজারতিন বােনই খুব মজা পায়। 

এখন বাজছে পাঁচটাশাে শুরু হবে সন্ধ্যা সাতটায়কখনাে এত আগে থেকে পানি ঢালার প্রয়ােজন হয় নাআজ প্রয়ােজন পড়েছে, কারণ আজ প্রথম শােপ্রথমটা ধরে গেলে বাকিগুলিও ধরবেপ্রথমটা না ধরলে আর ধরবে নাসার্কাসের জন্যে জায়গাটা ভালােইবাদত নগরবড় গঞ্জসুতার কারখানা আছে, ইটের ভাটা আছে। মনু নদীর পাড়ে গঞ্জসেই নদীতে ব্রিজ বানানাে হচ্ছে

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৫

শত শত মানুষ ব্রিজ বানানােতে লেগে আছেসাদা চামড়ার কিছু সাহেবসুবাও আছেএরা তাঁবু খাটিয়ে নদীর পাড়েই থাকেভাটি অঞ্চলের সঙ্গেও জায়গাটার যােগ আছেভাটি অঞ্চলের মানুষ আমােদ ফুর্তির জন্যে পয়সা খরচ করতে ডরায় নাযাত্রাসার্কাসে ঘেটু গান এদের খুব পছন্দের জিনিস। 

ইবাদত নগরের একটাই সমস্যা দুটা সিনেমা হল আছেযেখানে সিনেমা হল আছে সেখানে সার্কাসের শাে করা কঠিনহল মালিকরা নানান ঝামেলা করেযে দিন সার্কাস চলে সেই দিন সিনেমায় লােক হয় নারুটি রুজির ব্যাপার, ওরা সমস্যা করবেইস্থানীয় ক্ষমতাবান লােকরাও সমস্যা করেতাদের সমস্যা অন্যরকমতারা খোজ করে সার্কাসে মেয়ে কী আছে

তারা সার্কাসের মেয়েদের সঙ্গে প্রাইভেট আলাপ করতে চায়থানাওয়ালাদেরও ব্যাপার আছেথানাওয়ালাদের শুধু ফ্রি পাস দিলে হয় নাফ্রি পাসের সাথে টাকাপয়সা দিতে হয়তাদের খুশি রাখতে হয়গঞ্জ মানেই গঞ্জের মাস্তানসার্কাস যতদিন চলে এই মাস্তানরা সার্কাসের দলের সঙ্গেই থাকেনানান ফদিটন্দি করে এদেরকে ঠাণ্ডা রাখতে হয়মদ খাওয়াতে হয়টাকাপয়সা দিতে হয়। 

নতুন কোনাে জায়গায় সার্কাসের দল নিয়ে যাওয়ার পর পর হারুন সরকার ঠিক করেআর না, এই শেষদল ভেঙে দেয়া হবে, যে যার বাড়ি চলে যাবেসে নিজে চলে যাবে নেত্রকোনায় তার গ্রামের বাড়িতেদুতিনটা পুকুর কাটিয়ে পাঙ্গাশ মাছের চাষ করবেআজকাল পাঙ্গাশ মাছের চাষ খুবই লাভজনককিংবা শুকনা মরিচের ব্যবসা করবে

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৫

সেটাও না পেলে জমিজিরাত বেচে ছােট কোনাে হােটেলে ঘর ভাড়া করে থাকবেসে একা মানুষএকটা মানুষের জীবন কাটানাে কোনাে সমস্যা না। মাথায় পানি দেয়া শেষ হয়েছে, হারুন হাতের ইশারায় আসমানীকে পানি ঢালতে নিষেধ করলআসমানী বলল, আপনার মাথার যন্ত্রণা কমেছে ? হারুন সেই প্রশ্নের জবাব দিল নামেজাজ খারাপ অবস্থায় কথা বলতে ইচ্ছা করে কথা বললে সেই কথা মাথার ভিতরে চলে যায়মাথার ভিতরে গিয়ে দপদপ করে। 

হারুন বলল, যাও, সামনে থেকে যাওতৈয়বকে পাঠাও।। আসমানী হাতের গামছা এগিয়ে দিতে দিতে বলল, মাথাটা মােছেনহারুন বলল, মাথা মােছার দরকার নাইআমার কি মাথা ভর্তি চুল আছে যে আধা ঘণ্টা ধরে মাথা ঘষাঘষি করতে হবে ? চিন্তায় চিন্তায় মাথার সব চুল পড়ে গেছেসামনে দাঁড়ায়ে থেকো না, তৈয়বকে পাঠাওআরেকটা কথামাথায় পানি ঢালার সময় লক্ষ করেছি তােমার দুবােন আমাকে দেখায়ে দেখায়ে ফিক ফিক করে হাসাহাসি করতে ছিল

আমি তাে জোকারি করতে ছিলাম না। হাসাহাসির কারণ কী ? এইরকম যেন না হয়আসমানী বলল, আপনি ডাক দিয়ে ধমক দিয়ে দেন। হারুন বলল, শােআগে আগে আর্টিস্টকে ধমক দেয়া নিষেধএতে আর্টিস্টের মেজাজ খারাপ হয়মেজাজ খারাপ হলে খেলা খারাপ হয়দাঁড়ায়ে আছ কেন ? তৈয়বকে খবর দিতে বললাম না

তৈয়ব আলী দলের ম্যানেজারবেটে খাট মানুষবিশাল শরীরের গােলগাল একজন মানুষশরীরের তুলনায় মাথাটা ছােটঠোট না নড়িয়ে সে কথা বলতে পারেএই ক্ষমতাটা তার কাজে আসেকারণ সে শুধু দলের ম্যানেজার না, সে সার্কাসের জোকারজোকারকে কিছু বিশেষ বিদ্যা জানতে হয়তৈয়ব আলী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একা আসর জমিয়ে রাখেঅতি সাধারণ কর্মকাণ্ডের মধ্যেও সে এমন কিছু করে যে দর্শকরা হেসে গড়াগড়ি খায়

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৫

শাে শুরু হয় তাকে দিয়েসে হাড় জিরজিরে একটা ঘােড়া নিয়ে উপস্থিত হয়দর্শকদের ঘােড়ার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়আমার পরিবার, স্ত্রী, ওয়াইফসে কথা বলছে কিন্তু ঠোট নড়ছে নাপাথরের মতাে মুখদর্শকরা শুরুতেই হকচকিয়ে যায়ঘােড়াকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেবার পর সে ঘােড়ার গায়ে হাত রেখে আদুরে গলায় বলে, আমার স্বপ্নের রানী, আদরের ঘােড়াকুমারী, কেমন আছ গাে ?

তখন ঘােড়া ফোঁস করে উঠে গা ঝাড়া দেয় তৈয়ব আহত গলায় বলে, ফোস ফোস করতেছ কেন ? দর্শকদের হাসি শুরু হয়হাসি চূড়ান্ত পর্বে যায় যখন সে পকেট থেকে একটা ব্রা বের করে ঘােড়াকে পরানাের চেষ্টা করে। তৈয়ব এসে হারুন সরকারের সামনে দাঁড়িয়েছেতার পাথরের মতাে ভাবলেশহীন মুখসে দাড়িয়েছে মাথা নিচু করে দলের মালিকের চোখে চোখ রেখে সে কখনাে কথা বলে না। 

হারুন বলল, তৈয়ব, অবস্থা কী ? কীসের অবস্থা ? টিকিট বিক্রির কী অবস্থা? মােটামুটি। হারুন বিরক্ত গলায় বলল, মােটামুটি, ভালাে, মন্দএই জাতীয় কথা আমাকে বলবে নাকত টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে

টিকিট বিক্রির খবর নেই নাইখবর নেও নাই কেন ? টিকিট এখনাে বিক্রি হইতেছে এই জন্যে খবর নেই নাইথানাওয়ালার কাছে লােক পাঠিয়েছিলে ? হুসব ঠিক আছে

আর কোনাে সমস্যা আছে

বাজারের মসজিদের ইমাম সাহেব ঝামেলা করতেছেবলতেছে সার্কাস হতে দিবে নাউনার সমস্যা কী

উনি বলেছেন যাত্রা, সার্কাস এইগুলাে বেদাতি কাজ কর্মনাচ গান হয়এইগুলাে হইতে দিবেন না। ভালাে যন্ত্রণায় পড়লাম দেখি আপনে চিন্তা করবেন নাব্যবস্থা নিতেছিকী ব্যবস্থা

তৈয়ব বিরস মুখ করে চুপ করে রইলহারুন রাগী গলায় বলল, কী ব্যবস্থা নিতেছ শুনি। তৈয়ব বলল, আমি ব্যবস্থা নিতেছিআপনি নিশ্চিন্ত থাকেন

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৫

হারুন নিঃশ্বাস ফেললতৈয়বের উপর অবশ্যই ভরসা করা যায়সে যখন বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে তখন বুঝতেই হবে যে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেভালাে ব্যবস্থাতৈয়বের মতাে জোকার পাওয়া যেমন কঠিন তার মতাে ম্যানেজার পাওয়াও কঠিন। বাজনাদারদের দলকে পাঠায় দেও, একটা চক্কর দিবেহাতির পিঠে করে পাঠাও। 

বাজনাদার পাঠায়েছিহাতির পিঠে দেই নাইএরা ভ্যান গাড়িতে করে গেছেহাতির পিঠে দাও নাই কেন ? হাতি দেখলে সবাই বুঝত আমাদের দল ভালােপুতু পুতু দুধভাত দল নাহাতি ঘােড়া আছেসব কিছুর পাবলিসিটি লাগেতৈয়ব চুপ করে রইল। খাম্বার মতাে দাঁড়ায়ে থাকবা না, কথা বলােহাতি পুন্দের চিপায় লুকায়ে রাখলা কোন হিসাবে

হাতির শরীর ভালাে নাহারুন চমকে উঠে বলল, বলাে কী! কী হয়েছে ? খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেসর্বনাশহারুনের মাথা চক্কর দিয়ে উঠলহাতি তার নিজের নাহাতি পােষার মতাে বড় দল তারটা নাহাতি ভাড়া করাবায়নার টাকা ছাড়াও প্রতি শােতে তিনশ’ টাকা ভাড়া দিতে হয়হাতির কিছু হলে হাতির মালিক জহির উদ্দিন তাকে ছাড়বে নাহাতির ভাড়া বাবদ জহির উদ্দিনের দশ হাজার টাকা পাওনা হয়েছেপাওনা টাকার জন্যে যেকোনােদিন লােক পাঠাবেতখন কী উপায় হবে কে জানে। 

তৈয়ব ঠাণ্ডা গলায় বলল, চিন্তা করবেন না। হারুন রাগী গলায় বলল, বেকুবের মতাে কথা বলবে নাবেকুবের মতাে কথা আমার পছন্দ নাহাতি খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, আমি চিন্তা করব না ? আনন্দে নাচব! ব্যান্ড মাস্টারকে ডাক দাওবাজনা বাজাক, আমি ড্যান্স দেই। আমি ব্যবস্থা নিতেছি

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৫

তুমি কী ব্যবস্থা নিবে? তুমি কি হাতির ডাক্তার ? সব সময় ফাজিলের মতাে কথা। যাও, সামনে থেকে যাওআপনি দুটা ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে শুয়ে পড়েনওরেব্বাসরে! তুমি তাে শুধু হাতির ডাক্তার না, তুমি দেখি আবার মানুষেরও ডাক্তারযাও যাও, সামনে থেকে যাও। হারুনের মাথার দুপাশে দপদপ করছেআবারাে মাথায় পানি ঢালার ব্যবস্থা করা ঠিক হবে কিনা বুঝতে পারছে না

দুটা ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে শুয়ে থাকার উপদেশটা খারাপ নাঘুম হবে না, কিন্তু ঝিমভাব আসবেঝিমভাবের কারণে মাথার যন্ত্রণা কমে যাবেহারুন মনে মনে বিড়বিড় করলআল্লাহপাক, আজকের দিনটা পার করে দাওআর না, সব ছেড়ে ছুড়ে দিবপ্রয়ােজনে মওলানা ডাকিয়ে তওবা করবমক্কা শরীফে গিয়ে হজ্ব করে আসবমদিনা শরীফে গিয়ে নবিজির মাজার জিয়ারত করব আজকের দিনটা পার করে দাও মওলা। 

প্রবল হাসির শব্দমনে হচ্ছে এক সঙ্গে শতশত মানুষ হাহা করছেহাসির শব্দে তাঁবুর তিরপল খুলে মাথায় পড়ে গেছেনিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছেহারুন বিছানায় উঠে বসলমাথার উপর তাঁবু পড়ে নিসব ঠিকঠাক আছেসে ঘুমিয়ে পড়েছিলতার ঘুম না ভাঙিয়েই শাে শুরু করে দিয়েছেহাসির শব্দের উৎস জোকারের জোকারিএখন নিশ্চয়ই ঘােড়া এবং তৈয়বের কথাবার্তা হচ্ছে

ঘােড়াকে ব্রা পরানাের চেষ্টা চলছেযেভাবে হাসির শব্দ আসছে শাে অবশ্যই জমে গেছেঘােড়ার খেলার পরই হবে পাখির খেলাহালকা জিনিসের পরপরই ভারী কোনাে কিছু দেয়া যায় নাপাখির খেলা সবসময় জমে নামাঝেমাঝে খুব জমে যায়, আবার মাঝেমাঝে দর্শকরা চেঁচিয়ে উঠেরন করবন করপক্ষীওয়ালা, বাড়িত যামাঝে মাঝে হাত তালিতে কান ফাটার উপক্রম হয়আজ কী হবে কে জানে!

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৫

হারুন বিছানা থেকে নামল। তাঁবুর পেছন দিয়ে বের হয়ে দর্শকের দিক দিয়ে ঢুকলদর্শক কেমন হয়েছে দেখা দরকারপাখির খেলা জমে কিনা সেটাও দেখা দরকারপাখির খেলা জমে গেলে বাকি খেলা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা নেইশেষ আইটেম দড়ির খেলাযার শেষ ভালাে তার সব ভালােদড়ির খেলাটা মারাত্মকস্বাধীন বাংলা সার্কাসের আসল খেলা

তিন বােন দশ মিনিট ধরে খেলা দেখায়এই দশ মিনিট দর্শকরা প্রাণ হাতে নিয়ে বসে থাকে আঠারাে ফুট উপরে দড়ি টানানােতিন বােন প্রথমে দড়ির উপর দিয়ে সাবধানে হেঁটে যায়তাদের দেখেই মনে হয় তারা দড়ির উপর দিয়ে হাঁটতে খুব ভয় পাচ্ছেএখনি পড়ে যাবে এখনি পড়ে যাবে ভাবভয় পাওয়ার কথাদড়ির নিচে কোনাে নায়লনের নেট নেইএকবার পড়লে অবশ্যই মৃত্যুআগে নেট থাকত

দেখা গেল নিচে নেট বিছানাে থাকলে দর্শকরা মজা পাচ্ছে নাকারণ তারা জানে দড়ির উপর থেকে পড়ে গেলে কোনাে ক্ষতি নেই, ব্যাথা পাবে নাজালে আটকে যাবেযেই নায়লনের নেট সরিয়ে দেয়া হলাে অমনি খেলা জমে গেলসার্কাসে মানুষ বিপদজনক খেলা দেখতে আসেনিচে নায়লনের শক্ত নেট ফিট করে দড়ির উপর দিয়ে হাঁটায় কোনাে বিপদ নেই। 

বিপদজনক অবস্থায় দড়ির উপর দিয়ে অতি সাবধানে হেঁটে যাওয়া দেখেই দর্শকরা হতভম্ব হয়যে দড়ির উপর হেঁটে যাচ্ছে তার জন্যে খানিকটা মায়াও হয়মেয়েগুলি দড়ির এক প্রান্তে চলে এলে হাঁপ ছেড়ে বাঁচেতখন শুরু হয়আসল খেলামেয়ে তিনটি দড়ির উপর দৌড়াতে শুরু করেলাফালাফি করছে, দৌড়াচ্ছে, হাসছেসেই সঙ্গে বাজছে তুমুল বাজনা

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৫

দর্শকরা হৃদপিণ্ড গলার কাছে নিয়ে অপেক্ষা করছেতাদের টেনশান আর সহ্য হয় নাখেলা শেষ হলে তারা বাঁচেসার্কাস পার্টির জন্যে এরকম একটা আইটেমই যথেষ্টসেখানে স্বাধীন বাংলা সার্কাসের চার পাঁচটা ভালাে আইটেম আছেজাদুকর প্রফেসর মতিন আছেযে তার সার্টের পকেট থেকে জ্বলন্ত আগুন বের করে সেই আগুনে সিগারেট ধরায়সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে ধােয়া ছাড়ে কান দিয়ে

মুখে সিগারেট টানছে, ভুমভুম করে দুকান দিয়ে ধােয়া বের হচ্ছেডিম থেকে পাখি বের করে সেই পাখিকে কাঠের বাক্সে রেখে ফু দিতেই পাখি হয়ে যায় খরগােসহারুন দর্শকদের পেছনের সারির কাছে এসে দাঁড়িয়েছেদর্শক সমাগম ভালােআজ প্রথম শাে, অনেকেই পাশ নিয়ে ঢুকেছে, তারপরেও বলতে হবে দর্শক সমাগম ভালােঅনেক মহিলা এসেছেমহিলা দর্শক আল্লাহর নেয়ামতের মতােএরা পুরুষদের মতাে বাড়িতে গিয়ে ঝিম ধরে বসে থাকবে

পাড়া বেড়াতে বের হবেএর তার সঙ্গে গল্প করবেযা দেখেছে তার চেয়েও বেশি বলবে হারুন মহিলা গুনতে শুরু করেছেআহারে, এক বেচারি কিছুই দেখতে পারছে নাতার বাচ্চাটা বড়ই বিরক্ত করছেখুন খুন করে কাঁদছেএটা একদিক দিয়ে ভালােবাচ্চার মা আবারাে আসবেউপস্থিত থেকেও যে জিনিস দেখা যায় না তার মায়া বড়ই কঠিন মায়া। 

 

Read more

আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৬ হুমায়ূন আহমেদ

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *