বলরাম জমির আলীকে নানাবিধ সান্ত্বনার কথাও শােনাল। সাত বছর কোনাে ব্যাপার না। দেখতে দেখতে কেটে যাবে। পাটনা জেল জায়গা ভালাে। ব্যবস্থাও ভালাে। আবহাওয়া অতি মনােরম। নিজের ফাঁসির হুকুমে তাকে মােটেই চিন্তিত মনে হলাে না। দানে দানে তিনদান হবার কথা। তিনদান হয়েছে। তার হাত দিয়ে তিনজন চলে গেছে। কপালে লেখা ছিল, লেখা ফলেছে। এতে চিন্তিত হবার কী আছে ?
পনের বছর পরের কথা। আশ্বিন মাস। স্বাধীন–বাংলা সার্কাস পার্টির মালিক হারুন সরকারের মাথায় পানি ঢালা হচ্ছে, পানি ঢালছে আসমানী। জামদানী এবং পয়সা দু‘জনই আড়াল থেকে দৃশ্যটা দেখছে। দু’জনের মুখেই চাপা হাসি। শুধু আসমানী গম্ভীর হয়ে আছে। গম্ভীর হয়ে থাকলেও তার চোখে হাসি চিকমিক করছে। তিন বােনের “হাসি আনন্দের উৎস পানি ঢালার সময় হারুন সরকারের কর্মকাণ্ড। সে ঘড়ির পেণ্ডুলামের মতাে ক্রমাগত মাথা ডানে বামে দোলাচ্ছে। নিশানা ঠিক করে পানি ডালা যাচ্ছে না।
সার্কাস পার্টির আজ শাে আছে। শাে’র আগে হারুন সরকারের মাথায় যন্ত্রণা হয়, প্রেসার বেড়ে যায়। বুকে চাপ ব্যথা হয়। তখন দীর্ঘ সময় ধরে মাথায় পানি ঢালতে হয়। পানি ঢালার কাজটা সব সময় করে আসমানী। দুলন্ত মাথায় নিশানা ঠিক রেখে পানি ঢালা খুবই কঠিন কাজ। এই কঠিন কাজ আসমানী আনন্দ নিয়ে করে। কাজটা মজার। তিন বােনই খুব মজা পায়।
এখন বাজছে পাঁচটা। শাে শুরু হবে সন্ধ্যা সাতটায়। কখনাে এত আগে থেকে পানি ঢালার প্রয়ােজন হয় না। আজ প্রয়ােজন পড়েছে, কারণ আজ প্রথম শাে। প্রথমটা ধরে গেলে বাকিগুলিও ধরবে। প্রথমটা না ধরলে আর ধরবে না।সার্কাসের জন্যে জায়গাটা ভালাে। ইবাদত নগর। বড় গঞ্জ। সুতার কারখানা আছে, ইটের ভাটা আছে। মনু নদীর পাড়ে গঞ্জ। সেই নদীতে ব্রিজ বানানাে হচ্ছে।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৫
শত শত মানুষ ব্রিজ বানানােতে লেগে আছে। সাদা চামড়ার কিছু সাহেব। সুবাও আছে। এরা তাঁবু খাটিয়ে নদীর পাড়েই থাকে। ভাটি অঞ্চলের সঙ্গেও জায়গাটার যােগ আছে। ভাটি অঞ্চলের মানুষ আমােদ ফুর্তির জন্যে পয়সা খরচ করতে ডরায় না। যাত্রা–সার্কাসে ঘেটু গান এদের খুব পছন্দের জিনিস।
ইবাদত নগরের একটাই সমস্যা দু’টা সিনেমা হল আছে। যেখানে সিনেমা হল আছে সেখানে সার্কাসের শাে করা কঠিন। হল মালিকরা নানান ঝামেলা করে। যে ক’দিন সার্কাস চলে সেই ক’দিন সিনেমায় লােক হয় না। রুটি রুজির ব্যাপার, ওরা সমস্যা করবেই। স্থানীয় ক্ষমতাবান লােকরাও সমস্যা করে। তাদের সমস্যা অন্যরকম। তারা খোজ করে সার্কাসে মেয়ে কী আছে।
তারা সার্কাসের মেয়েদের সঙ্গে প্রাইভেট আলাপ করতে চায়। থানাওয়ালাদেরও ব্যাপার আছে। থানাওয়ালাদের শুধু ফ্রি পাস দিলে হয় না। ফ্রি পাসের সাথে টাকাপয়সা দিতে হয়। তাদের খুশি রাখতে হয়। গঞ্জ মানেই গঞ্জের মাস্তান। সার্কাস যতদিন চলে এই মাস্তানরা সার্কাসের দলের সঙ্গেই থাকে। নানান ফদি–টন্দি করে এদেরকে ঠাণ্ডা রাখতে হয়। মদ খাওয়াতে হয়। টাকা–পয়সা দিতে হয়।
নতুন কোনাে জায়গায় সার্কাসের দল নিয়ে যাওয়ার পর পর হারুন সরকার ঠিক করে— আর না, এই শেষ। দল ভেঙে দেয়া হবে, যে যার বাড়ি চলে যাবে। সে নিজে চলে যাবে নেত্রকোনায় তার গ্রামের বাড়িতে। দুতিনটা পুকুর কাটিয়ে পাঙ্গাশ মাছের চাষ করবে। আজকাল পাঙ্গাশ মাছের চাষ খুবই লাভজনক। কিংবা শুকনা মরিচের ব্যবসা করবে।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৫
সেটাও না পেলে জমি–জিরাত বেচে ছােট কোনাে হােটেলে ঘর ভাড়া করে থাকবে। সে একা মানুষ। একটা মানুষের জীবন কাটানাে কোনাে সমস্যা না। মাথায় পানি দেয়া শেষ হয়েছে, হারুন হাতের ইশারায় আসমানীকে পানি ঢালতে নিষেধ করল। আসমানী বলল, আপনার মাথার যন্ত্রণা কমেছে ? হারুন সেই প্রশ্নের জবাব দিল না। মেজাজ খারাপ অবস্থায় কথা বলতে ইচ্ছা করে । কথা বললে সেই কথা মাথার ভিতরে চলে যায়। মাথার ভিতরে গিয়ে দপদপ করে।
হারুন বলল, যাও, সামনে থেকে যাও। তৈয়বকে পাঠাও।। আসমানী হাতের গামছা এগিয়ে দিতে দিতে বলল, মাথাটা মােছেন। হারুন বলল, মাথা মােছার দরকার নাই। আমার কি মাথা ভর্তি চুল আছে যে আধা ঘণ্টা ধরে মাথা ঘষাঘষি করতে হবে ? চিন্তায় চিন্তায় মাথার সব চুল পড়ে গেছে। সামনে দাঁড়ায়ে থেকো না, তৈয়বকে পাঠাও। আরেকটা কথা— মাথায় পানি ঢালার সময় লক্ষ করেছি তােমার দু’বােন আমাকে দেখায়ে দেখায়ে ফিক ফিক করে হাসাহাসি করতে ছিল।
আমি তাে জোকারি করতে ছিলাম না। হাসাহাসির কারণ কী ? এইরকম যেন না হয়।আসমানী বলল, আপনি ডাক দিয়ে ধমক দিয়ে দেন। হারুন বলল, শাে’র আগে আগে আর্টিস্টকে ধমক দেয়া নিষেধ। এতে আর্টিস্টের মেজাজ খারাপ হয়। মেজাজ খারাপ হলে খেলা খারাপ হয়। দাঁড়ায়ে আছ কেন ? তৈয়বকে খবর দিতে বললাম না ?
তৈয়ব আলী দলের ম্যানেজার। বেটে খাট মানুষ। বিশাল শরীরের গােলগাল একজন মানুষ। শরীরের তুলনায় মাথাটা ছােট। ঠোট না নড়িয়ে সে কথা বলতে পারে। এই ক্ষমতাটা তার কাজে আসে। কারণ সে শুধু দলের ম্যানেজার না, সে সার্কাসের জোকার। জোকারকে কিছু বিশেষ বিদ্যা জানতে হয়। তৈয়ব আলী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একা আসর জমিয়ে রাখে। অতি সাধারণ কর্মকাণ্ডের মধ্যেও সে এমন কিছু করে যে দর্শকরা হেসে গড়াগড়ি খায় ।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৫
শাে শুরু হয় তাকে দিয়ে। সে হাড় জিরজিরে একটা ঘােড়া নিয়ে উপস্থিত হয়। দর্শকদের ঘােড়ার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়— এ আমার পরিবার, স্ত্রী, ওয়াইফ। সে কথা বলছে কিন্তু ঠোট নড়ছে না। পাথরের মতাে মুখ। দর্শকরা শুরুতেই হকচকিয়ে যায়। ঘােড়াকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেবার পর সে ঘােড়ার গায়ে হাত রেখে আদুরে গলায় বলে, ও আমার স্বপ্নের রানী, আদরের ঘােড়াকুমারী, কেমন আছ গাে ?
তখন ঘােড়া ফোঁস করে উঠে গা ঝাড়া দেয় । তৈয়ব আহত গলায় বলে, ফোস ফোস করতেছ কেন ? দর্শকদের হাসি শুরু হয়। হাসি চূড়ান্ত পর্বে যায় যখন সে পকেট থেকে একটা ব্রা বের করে ঘােড়াকে পরানাের চেষ্টা করে। তৈয়ব এসে হারুন সরকারের সামনে দাঁড়িয়েছে। তার পাথরের মতাে ভাবলেশহীন মুখ। সে দাড়িয়েছে মাথা নিচু করে দলের মালিকের চোখে চোখ রেখে সে কখনাে কথা বলে না।
হারুন বলল, তৈয়ব, অবস্থা কী ? কীসের অবস্থা ? টিকিট বিক্রির কী অবস্থা? মােটামুটি। হারুন বিরক্ত গলায় বলল, মােটামুটি, ভালাে, মন্দ— এই জাতীয় কথা আমাকে বলবে না। কত টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে ?
টিকিট বিক্রির খবর নেই নাই। খবর নেও নাই কেন ? টিকিট এখনাে বিক্রি হইতেছে এই জন্যে খবর নেই নাই। থানাওয়ালার কাছে লােক পাঠিয়েছিলে ? হু। সব ঠিক আছে ?
আর কোনাে সমস্যা আছে ?
বাজারের মসজিদের ইমাম সাহেব ঝামেলা করতেছে। বলতেছে সার্কাস হতে দিবে না। উনার সমস্যা কী ?
উনি বলেছেন যাত্রা, সার্কাস এইগুলাে বেদাতি কাজ কর্ম। নাচ গান হয়। এইগুলাে হইতে দিবেন না। ভালাে যন্ত্রণায় পড়লাম দেখি । আপনে চিন্তা করবেন না। ব্যবস্থা নিতেছি। কী ব্যবস্থা ?
তৈয়ব বিরস মুখ করে চুপ করে রইল। হারুন রাগী গলায় বলল, কী ব্যবস্থা নিতেছ শুনি। তৈয়ব বলল, আমি ব্যবস্থা নিতেছি। আপনি নিশ্চিন্ত থাকেন।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৫
হারুন নিঃশ্বাস ফেলল। তৈয়বের উপর অবশ্যই ভরসা করা যায়। সে যখন বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে তখন বুঝতেই হবে যে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ভালাে ব্যবস্থা। তৈয়বের মতাে জোকার পাওয়া যেমন কঠিন তার মতাে ম্যানেজার পাওয়াও কঠিন। বাজনাদারদের দলকে পাঠায় দেও, একটা চক্কর দিবে। হাতির পিঠে করে পাঠাও।।
বাজনাদার পাঠায়েছি। হাতির পিঠে দেই নাই। এরা ভ্যান গাড়িতে করে গেছে।হাতির পিঠে দাও নাই কেন ? হাতি দেখলে সবাই বুঝত আমাদের দল ভালাে। পুতু পুতু দুধ–ভাত দল না। হাতি ঘােড়া আছে। সব কিছুর পাবলিসিটি লাগে।তৈয়ব চুপ করে রইল। খাম্বার মতাে দাঁড়ায়ে থাকবা না, কথা বলাে। হাতি পুন্দের চিপায় লুকায়ে রাখলা কোন হিসাবে ?
হাতির শরীর ভালাে না। হারুন চমকে উঠে বলল, বলাে কী! কী হয়েছে ? খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সর্বনাশ! হারুনের মাথা চক্কর দিয়ে উঠল। হাতি তার নিজের না। হাতি পােষার মতাে বড় দল তারটা না। হাতি ভাড়া করা। বায়নার টাকা ছাড়াও প্রতি শােতে তিনশ’ টাকা ভাড়া দিতে হয়। হাতির কিছু হলে হাতির মালিক জহির উদ্দিন তাকে ছাড়বে না। হাতির ভাড়া বাবদ জহির উদ্দিনের দশ হাজার টাকা পাওনা হয়েছে। পাওনা টাকার জন্যে যে–কোনােদিন লােক পাঠাবে। তখন কী উপায় হবে কে জানে।
তৈয়ব ঠাণ্ডা গলায় বলল, চিন্তা করবেন না। হারুন রাগী গলায় বলল, বেকুবের মতাে কথা বলবে না। বেকুবের মতাে কথা আমার পছন্দ না। হাতি খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, আমি চিন্তা করব না ? আনন্দে নাচব! ব্যান্ড মাস্টারকে ডাক দাও। বাজনা বাজাক, আমি ড্যান্স দেই। আমি ব্যবস্থা নিতেছি।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৫
তুমি কী ব্যবস্থা নিবে? তুমি কি হাতির ডাক্তার ? সব সময় ফাজিলের মতাে কথা। যাও, সামনে থেকে যাও।আপনি দু’টা ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে শুয়ে পড়েন।ওরেব্বাসরে! তুমি তাে শুধু হাতির ডাক্তার না, তুমি দেখি আবার মানুষেরও ডাক্তার। যাও যাও, সামনে থেকে যাও। হারুনের মাথার দু‘পাশে দপদপ করছে। আবারাে মাথায় পানি ঢালার ব্যবস্থা করা ঠিক হবে কি–না বুঝতে পারছে না।
দু’টা ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে শুয়ে থাকার উপদেশটা খারাপ না। ঘুম হবে না, কিন্তু ঝিমভাব আসবে। ঝিমভাবের কারণে মাথার যন্ত্রণা কমে যাবে। হারুন মনে মনে বিড়বিড় করল— আল্লাহপাক, আজকের দিনটা পার করে দাও। আর না, সব ছেড়ে ছুড়ে দিব। প্রয়ােজনে মওলানা ডাকিয়ে তওবা করব। মক্কা শরীফে গিয়ে হজ্ব করে আসব। মদিনা শরীফে গিয়ে নবিজির মাজার জিয়ারত করব । আজকের দিনটা পার করে দাও মওলা।।
প্রবল হাসির শব্দ। মনে হচ্ছে এক সঙ্গে শতশত মানুষ হা–হা করছে। হাসির শব্দে তাঁবুর তিরপল খুলে মাথায় পড়ে গেছে। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। হারুন বিছানায় উঠে বসল। মাথার উপর তাঁবু পড়ে নি। সব ঠিকঠাক আছে। সে ঘুমিয়ে পড়েছিল। তার ঘুম না ভাঙিয়েই শাে শুরু করে দিয়েছে। হাসির শব্দের উৎস জোকারের জোকারি। এখন নিশ্চয়ই ঘােড়া এবং তৈয়বের কথাবার্তা হচ্ছে।
ঘােড়াকে ব্রা পরানাের চেষ্টা চলছে। যেভাবে হাসির শব্দ আসছে শাে অবশ্যই জমে গেছে। ঘােড়ার খেলার পরই হবে পাখির খেলা। হালকা জিনিসের পরপরই ভারী কোনাে কিছু দেয়া যায় না। পাখির খেলা সবসময় জমে না। মাঝে–মাঝে খুব জমে যায়, আবার মাঝে–মাঝে দর্শকরা চেঁচিয়ে উঠে— ‘রন কর। বন কর। ঐ পক্ষীওয়ালা, বাড়িত যা। মাঝে মাঝে হাত তালিতে কান ফাটার উপক্রম হয়। আজ কী হবে কে জানে!
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৫
হারুন বিছানা থেকে নামল। তাঁবুর পেছন দিয়ে বের হয়ে দর্শকের দিক দিয়ে ঢুকল। দর্শক কেমন হয়েছে দেখা দরকার। পাখির খেলা জমে কি–না সেটাও দেখা দরকার। পাখির খেলা জমে গেলে বাকি খেলা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা নেই। শেষ আইটেম দড়ির খেলা। যার শেষ ভালাে তার সব ভালাে। দড়ির খেলাটা মারাত্মক। স্বাধীন বাংলা সার্কাসের আসল খেলা।
তিন বােন দশ মিনিট ধরে খেলা দেখায়। এই দশ মিনিট দর্শকরা প্রাণ হাতে নিয়ে বসে থাকে । আঠারাে ফুট উপরে দড়ি টানানাে। তিন বােন প্রথমে দড়ির উপর দিয়ে সাবধানে হেঁটে যায়। তাদের দেখেই মনে হয় তারা দড়ির উপর দিয়ে হাঁটতে খুব ভয় পাচ্ছে। এখনি পড়ে যাবে এখনি পড়ে যাবে ভাব। ভয় পাওয়ার কথা। দড়ির নিচে কোনাে নায়লনের নেট নেই। একবার পড়লে অবশ্যই মৃত্যু। আগে নেট থাকত।
দেখা গেল নিচে নেট বিছানাে থাকলে দর্শকরা মজা পাচ্ছে না। কারণ তারা জানে দড়ির উপর থেকে পড়ে গেলে কোনাে ক্ষতি নেই, ব্যাথা পাবে না। জালে আটকে যাবে। যেই নায়লনের নেট সরিয়ে দেয়া হলাে অমনি খেলা জমে গেল। সার্কাসে মানুষ বিপদজনক খেলা দেখতে আসে। নিচে নায়লনের শক্ত নেট ফিট করে দড়ির উপর দিয়ে হাঁটায় কোনাে বিপদ নেই।
বিপদজনক অবস্থায় দড়ির উপর দিয়ে অতি সাবধানে হেঁটে যাওয়া দেখেই দর্শকরা হতভম্ব হয়। যে দড়ির উপর হেঁটে যাচ্ছে তার জন্যে খানিকটা মায়াও হয়। মেয়েগুলি দড়ির এক প্রান্তে চলে এলে হাঁপ ছেড়ে বাঁচে। তখন শুরু হয়। আসল খেলা। মেয়ে তিনটি দড়ির উপর দৌড়াতে শুরু করে। লাফালাফি করছে, দৌড়াচ্ছে, হাসছে। সেই সঙ্গে বাজছে তুমুল বাজনা।
আসমানীরা তিন বােন পর্ব:০৫
দর্শকরা হৃদপিণ্ড গলার কাছে নিয়ে অপেক্ষা করছে। তাদের টেনশান আর সহ্য হয় না। খেলা শেষ হলে তারা বাঁচে। সার্কাস পার্টির জন্যে এরকম একটা আইটেমই যথেষ্ট। সেখানে স্বাধীন বাংলা সার্কাসের চার পাঁচটা ভালাে আইটেম আছে। জাদুকর প্রফেসর মতিন আছে। যে তার সার্টের পকেট থেকে জ্বলন্ত আগুন বের করে সেই আগুনে সিগারেট ধরায়। সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে ধােয়া ছাড়ে কান দিয়ে।
মুখে সিগারেট টানছে, ভুমভুম করে দু’কান দিয়ে ধােয়া বের হচ্ছে। ডিম থেকে পাখি বের করে সেই পাখিকে কাঠের বাক্সে রেখে ফু দিতেই পাখি হয়ে যায় খরগােস। হারুন দর্শকদের পেছনের সারির কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। দর্শক সমাগম ভালাে। আজ প্রথম শাে, অনেকেই পাশ নিয়ে ঢুকেছে, তারপরেও বলতে হবে দর্শক সমাগম ভালাে। অনেক মহিলা এসেছে। মহিলা দর্শক আল্লাহর নেয়ামতের মতাে। এরা পুরুষদের মতাে বাড়িতে গিয়ে ঝিম ধরে বসে থাকবে।
পাড়া বেড়াতে বের হবে। এর তার সঙ্গে গল্প করবে। যা দেখেছে তার চেয়েও বেশি বলবে । হারুন মহিলা গুনতে শুরু করেছে। আহারে, এক বেচারি কিছুই দেখতে পারছে না। তার বাচ্চাটা বড়ই বিরক্ত করছে। খুন খুন করে কাঁদছে। এটা একদিক দিয়ে ভালাে। বাচ্চার মা আবারাে আসবে। উপস্থিত থেকেও যে জিনিস দেখা যায় না তার মায়া বড়ই কঠিন মায়া।
Read more
