‘আগে বল, তারপর বুঝব পারব কি পারব না। টাকা থাকলে এই দেশে খুন কোন ব্যাপারই না। এক লাখ টাকা থাকলে দু’টা খুন করা যায়। প্রতি খুনে খরচ হয় পঞ্চাশ হাজার। পলিটিক্যাল লোক হলে কিছু বেশি লাগে। আমি মোবারক হোসেন সাহেবের ব্যাপারটা বললাম। মামা গালে হাত দিয়ে গভীর আগ্রহ নিয়ে শূনলেন। সব শুনে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, পুলিশের সাজানো মামলা—পেছনে আছে বড় খুঁটি।
কিছু করা যাবে না।ট্রাইব্যুনাল করলে কোন আশা নেই। সিভিল কোর্ট হলে আশা আছে। জাজ সাহেবদের টাকা খাওয়াতে হবে। আগে জাজ সাহেবেরা টাকা খেত না। এখন খায়। অনেক জাজ দেখেছি কাতলা মাছের মত হা করে থাকে। কেইস সিভিল কোর্টে উঠলে আমারে খবর দিয়ে নিয়ে আসবি। ‘তুমি কি করবে?’
‘সাক্ষী যে কয়টা আছে সবার মনে একটা ভয় ঢুকায়ে দিতে হবে। বলতে হবে সাক্ষী হয়েছে কি জান শেষ। এই সব কথা এরা বিশ্বাস করবে না। তখন একটাকে মেরে ফেলতে হবে। একটা শেষ হয়ে গেলেই বাকীগুলো ভয় পেয়ে যাবে। এছাড়াও আরো ব্যাপার আছে। তুই ছেলেমানুষ বুঝবি না। তুই আমারে খবর দিস, চলে আসব।’ ‘মামলা মোকদ্দমা তোমার খুবই ভাল লাগে?’
‘এইসব ভাল লাগার ব্যাপার? তুই একটা ঝামেলায় পড়েছিস…. ‘আমি কোন ঝামেলায় পড়েনি মামা।’ ‘তোর চেনাজানা একজন পড়েছে। ব্যাপার একই। ভাই বেরাদার, বন্ধু এদের না দেখলে দেখব কাকে? পাড়ার লোককে দেখব? ‘মামা কিছু খাবনে? হোটেল সারারাত খোলা থাকে। চলুন যাই।’ ‘না কিছু খাব না। ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমাব।’ এতক্ষণ জেগে থাকবেন? ‘কোরান তেলাওয়াত করব, তুই ঘুমা।’
মামা ফজরের নামাজ পড়ে নিশ্চিন্ত মনে ঘুমুতে গেলেন। ভোরবেলা জেগে উঠে দেখি মামা নেই। সারাদিন অপেক্ষা করলাম। তিনি ফিরলেন ঠিক সন্ধ্যায়। আমার সঙ্গে একটি কথাও না বলে মাগরেবের নামাজ শেষ করে আমাকে ডাকলেন। খুশি খুশি গলায় বললেন, ব্যবস্থা করে এসেছি। কাল সকাল দশটায় জেলগেটে চলে যাবি। আর শোন হিমু, আমি আর থাকতে পারব না। বাড়িতে বিরাট যন্ত্রণা রেখে এসেছি। কেলেংকারী অবস্থা। গিয়ে সামাল দিতে হবে। এখানকার মামলা শুরু হোক। তুই খবর দিস। খবর দিলেই চলে আসব। তোর জন্যে মনটা সবসময় কাঁদে।
আমি মামাকে রাতের ট্রেনে তুলে দিতে গেলাম। দু’জন প্ল্যাটফরমে দাঁড়িয়ে আছি—গার্ড সবুজ বাতি দেখয়ে দিয়েছে, মামা বললেন, তাড়াতাড়ি কদমবুসি করে ফেল। ট্রেন ছেড়ে দিবে।আমি কদমবুসি করতেই মামা আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন। ট্রেন ততক্ষণে চলতে শুরু করেছে। মামা বললেন, থাক, বাদ দে। একদিন তোর সাথে থেকেই যাই। কাল রাতের ট্রেনে গেলেই হবে। আসছি যখন মীরপুরের মাজার শরীফটা জিয়ারত করে যাই। খুব গরম মাজার।
না-মানুষদের অন্তরে ভালবাসা থাকে না এটা ঠিক না। না-মানুষদের অন্তরে ভালবাসা তীব্র ভাবেই থাকে।মোবারক হোসেন সাহেব আমাকে দেখে অত্যন্ত বিস্মিত হলেন। বিস্ময় গোপন করার কোন চেষ্টা করলেন না। তাঁর চেহারা খুব খারাপ হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে সারা গায়ে পানি এসেছে। হাতে-মুখে পানি এসেছে। ঘনঘন ঢোক গিলছেন।
‘হিমু,তুমি দেখা করার ব্যবস্থা করলে কি করে? কাউকেই তো দেখা করতে দিচ্ছে না। তিতলীকেও দেয়নি। অন্যের কথা বাদ দাও।’ আমি বলালম, ব্যবস্থা করেছি। দেখা করা কোন সমস্যা না। আপনার জন্য দু’প্যাকেট সিগারেট এনেছি।’ ‘থ্যাংকস। মেনি থ্যাংকস। তোমাকে দেখে ভাল লাগেছ। ঐদিন তোমাকে আজেবাজে কথা বলেছি। যদি এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাই, যদি বের হতে পারি, তোমাকে আমি খুশি করে দেব।’
‘আমি এম্নিতেই খুশি। চাচা, আপনি সিগারেট খান। আমি দেখি।’ ‘তাও জানি। ভাল লাগছে তোমাকে দেখে। এখন মনে হচ্ছে আমি একেবারে একা না। একজন হলেও আছে—যে আমার জন্যে খানিকটা হলেও অনুভব করে। তুমি আজ প্রথম আমাকে চাচা বললে, Iam feeling honoured.’ মোবারক হোসেন সাহবের চোখে পানি এসে গেল। আমি বললাম, আপনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন কেন?
‘দুর্বল হয়েছি কারণ নানান ধরণের অন্যায় এই জীবনে করছি। সৎ মানুষ যদি হতাম দুর্বল হতাম না। আমি সৎ মানুষ না। তোমার ভাষায় আমি হচ্ছি না-মানুষ। তবে এরা যে মামলা সাজিয়েছে তা মিথ্যা মামলা। মিথ্যা বলেই শাস্তি হয়ে যাবে। সত্য মামলার অনেক ফাঁকফোকর থাকে। মিথ্যা মামলার থাকে না। হিমু! ‘জ্বি।’ ‘তোমার না-কি ইনট্যুইশন প্রবল। তোমার কি মনে হয় ওরা আমাকে ঝুলিয়ে দেবে?’
‘আমার ইনট্যুইশন কাজ করছে না।’ ‘আমারটাও কাজ করছে না। তোমার মত আমার ইনট্যুইশনও প্রবল। কিন্তু এখন কিছু করতে পারছি না। ভাল কথা, তোমাকে এখানে কতক্ষণ থাকতে দেবে?’ ‘এক ঘন্টা।’ ‘গূড, ভেরি গূড। কথা বলার মানুষ নেই। ও আচ্ছা, তোমার ঐ বন্ধু—ওর চাকরিটা হয়েছে তো?’ ‘জানি না। আমি আর খোঁজ নেইনি। ওকে খবর দিয়ে দিয়েছি।’ ‘যে চাকরির জন্য এত ঝামেলা করলে সেটার শেষ অবস্থা জানলে না?’ ‘একদিন যাব। খোঁজন নিয়ে আসব।’ ‘জহিরের কোন খোঁজ নেই, তাই না?’ জ্বি- না।’ ‘হিমু।’ ‘জ্বি।’
‘তোমার ইনট্যুইশন কি বলে জহির বেঁচে আছে? আমার কয়েকদিন থেকেই অন্য রকম মনে হচ্ছে। বেঁচে থাকলে এই অবস্থায় সে লুকিয়ে থাকত না। সে তার চিঠিতে আমাতে শয়তান বলেছে। খাঁচায় ঢুকে পড়লে শয়তান আর শয়তান থাকে না। সে তখন চিড়িখানার পশূ হয়ে যায়। আমি এখন চিড়িয়াখানার চিড়িয়া।’
‘খাচা থেকে যদি বের হতে পারেন তখন কি হবেন?’ ‘বলতে পারছি না। বলা খুব মুশকিল। কোন কিছুই আগেভাগে বলা যায় না।’ মোবারক হোসেন সাহেব আরেকটা সিগারেট ধরালেন। ধরাতে কষ্ট হল। মনে হল তাঁর হাত কাঁপছে। ‘হিমু।’ ‘জ্বি।’ ‘আমার মেয়েটার সঙ্গে ইতিমধ্যে কি তোমার দেখা হয়েছে।?’
‘না। তারা কোথায় আছে জানি না। আপনার বাড়ি তালাবন্ধ।’ ‘ও পুরানো ঢাকায় আছে আগামসি লেন। ঠিকানা দিচ্ছি, একবার দেখা করবে।’ ‘কিছু বলতে হবে?’ ‘বলবে, ভাল আছি। চিন্তা করতে নিষেধ করতে। মেয়েটা একলা হয়ে গেছে। ওর মাকে চিকিৎসার জন্যে ওর ভাইরা সিঙ্গাপুর নিয়ে গেছে, জান বোধহয়?’ ‘জানতাম না, এখন জানলাম।’ ‘একঘণ্টা হয়ে গেছে হিমু?’ ‘না, এখনো কুড়ি মিনিট আছে।’
‘বল কি, এখনো কুড়ি মিনিট ? এই কুড়ি মিনিট কি নিয়ে কথা বলা যায় বল তো? আমার আবার আরেক সমস্যা হয়েছে। গলা শুকিয়ে যায়। একটু পরপর ঢোক গিলতে হয়? ‘আপনার যদি কথা বলতে ইচ্ছে না হয় তাহলে আমি চলে যাই।’ ‘আচ্ছা, যাও—আসলেই কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।’ আমি উঠে দাঁড়ালাম। মোবারক হোসেন ক্লান্ত ভঙ্গিতে তাকিয়ে রইলেন।
ছোট মামার রাতের ট্রেনে যাবার কথা। কাপড় পরে তৈরি হয়েছেন। বেরুতে যাব, হঠাৎ বললেন—আচ্ছা বাদ দে, আরেকটা রাত থেকে যাই। তোর সাথে দেখাই হয় না। একা একা থাকিস, বড় মায়া লাগে।‘বাড়িতে কি সব সমস্যা না-কি আছে।’ ‘থাকুক সমস্যা। এক রাতে কি আর হবে? তোর সাথে গল্পগুজবই করা হয় না।’ ‘বেশ তো মামা, আসুন গল্পগুজব করি।’ ‘তুই এবার একটা বিয়ে-টিয়ে কর। একা একা কত দিন থাকবি। অবশ্যি একা থাকায়ও আরাম আছে। তাই বলে সারা জীবন তো একা থাকা যায় না। ঠিক না?’
‘জ্বি মামা ঠিক।’ ‘দেখে শুনে পাত্রী ঠিক করতে হবে। নন মেট্রিক হলে ভাল হয়। এইসব মেয়ে হাতের মুঠোর মধ্যে থাকে। যা বলবি শুনবে। পড়াশোনা জানা মেয়ে খ্যাঁচ খ্যাঁচ করবে। কালো মেয়ে খুঁজে বের করতে হবে। মুখের ছিরি ছাঁদ আছে কিন্তু রং কালো। ফর্সা মেয়েদের মেজাজ থাকে। ধরাকে সরা জ্ঞান করে। কালো মেয়ে দশ চড়েও শব্দ করবে না। মেয়ে দেখব না-কি হিমু?’ ‘এখন না মামা। চাকরি-বাকরি নেই, খাওয়াবো কি?’
‘খাওয়ানোর মালিক আল্লাহপাক। কে খাওয়াবে এই সব নিয়ে চিন্তা করা মহাপাপের সামিল। এই জগতের সমস্ত পশুপাখি, মানুষ, জ্বিন সবার খাওয়ার দায়িত্ব আল্লাহপাক নিজের হাতে রেখে দিয়েছেন। এই ধর—পিপড়া, পিপড়ার কখনো খাওয়ার অভাব হয়? হয় না। আল্লাহপাক তার খাওয়ার ব্যাবস্থা করে রেখেছেন। পিপড়ার মত এত ক্ষুদ্র প্রাণীর খাওয়ার ব্যবস্থা আছে, আর মানুষের থাকবে না? তাই এইসব নিয়ে চিন্তা করিস না।’‘চাকরি-টাকরি হোক। তারপর তোমাকে বলব। মেয়ে দেখতে বেশি দিন তো লাগবে না।’
‘কি বলিস বেশিদিন লাগবে না? বিচার বিবেচনা আছে না? হালের গরু আর ঘরের জরু এই দু’জিনিস বিচার বিবেচনা করে আনতে হয়। চাকরি চাকরি করে মাথা খারাপ করিস না—চাকরিতে বরকত নাই। বরকত হল ব্যবসায়। নবীজীও ব্যবসা করতেন। তোকে ব্যবসায় লাগিয়ে দেব।’ ‘কিসের ব্যবসা?’
‘কাপড়ের ব্যবসা। সাহূদের বড় একটা কাপড়ের দোকান আছে আমাদের অঞ্চলে। হারামজাদাকে স্ক্রু টাইট দিতেছি। এমন টাইট দিতেছি যে জলের দামে দোকান বেচে ইন্ডিয়ায় ভাগা ছাড়া গতি নেই। ঐ দোকান তোকে কিনে দিয়ে দেব। দোতলা ঘর আছে। এক তলায় দোকান,দোতলায় তুই বৌ নিয়ে থাকবি। কি রাজি? হাসতেছিস কেন? হাসির কি বললাম?’ ‘রাস্তায় হাঁটতে যাবে মামা?’ ‘রাতদুপুরে রাস্তায় হাঁটব কি জন্য? তোর একেবারে পাগলের স্বভাব হয়ে গেছে। দুপুর রাতে রাস্তায় কে হাঁটে? চোর হাঁটে আর পুলিশ হাঁটে; তুই চোরও না, পুলিশও না। তুই খামাখা হাঁটবি কেন?’
‘খানিকক্ষণ রাস্তায় না হাঁটলে আমার ঘুম আসে না মামা। তুমি শুয়ে পড়। আমি খানিকক্ষণ হেঁটে আসি।’ ‘হাঁটাহাঁটির একমাত্র অষুধ বিবাহ। বিয়ের পর দেখবি হাতি দিয়ে টেনেও তোকে বউয়ের কাছ থেকে সরানো যাবে না। বাহিরমুখী পুরুষ বউ অন্তপ্রাণ হয়, শাস্ত্রকথা …।’
পথে নেমেই মনে হল সেতু মেয়েটির সঙ্গে আজ দেখা হবে। সে কিছু টাকা ফেরত দেবার জন্য পথে পথে ঘুরছে। অনেকক্ষণ রাস্তায় রাস্তায় ঘুরলাম। দেখা হল না। একটা ষোল-সতেরো বছরের ছেলে এসে একসময় জিজ্ঞেস করল, স্যার কাউরে খুঁজেন? আমি বললাম, না। সে বয়স্কদের মত ভারী গলায় বলল, একটা ভাল জায়গা আছে , যাইবেন?
‘না।’ সে তবু পেছন ছাড়ল না। আমার সঙ্গে সঙ্গে ঘুরতে লাগল। ঠিক পাশাপাশি না, খানিকটা দূরত্ব রেখে। আমি এক সময় বললাম, আমার সঙ্গে কুড়ি টাকার একটা নোট আছে। তোমার দরকার থাকলে নিতে পার। ধার হিসেবে, পরে ফেরত দিতে হবে।ছেলেটি ধার নেয়ার ব্যাপারেও আগ্রহ দেখাল না। তবে এবার আর দুরে দুরে রইল না। কাছে এগিয়ে এল। আমরা দু’জন হাঁটছি। কেউ কাউকে চিনি না। আরে হিমু, প্লেজেন্ট সারপ্রাইজ, এসো এসো।’
আমি পুরোপু্রি হকচকিয়ে গেলাম। আমাকে দেখে উচ্ছ্বসিত হবার কোন কারণ নেই, কিন্তু বড় ফুপা উচ্ছ্বসিত। তাঁর মুখভর্তি হাসি। আমি শংকিতে বোধ করলাম, মুখে হাসি টেনে এনে বললাম, আজ এক তারিখ ফুপা। ‘অবশ্যই আজ এক তারিখ। তোমার এ্যালাউন্স খামে ভরে রেখেছি। এখন বল কি খাবে? গতবার কফি খেতে চেয়েছিলেন,দিতে পারি নি। দিস টাইম আই হ্যাভ কফি। গুড কফি। খাবে?’ ‘আরাম করে বোস। মনে হচ্ছে অনেকদিন পর তোমাকে দেখছি।’ ‘আপনাকে এতে খুশি খুশি লাগছে কেন?’ ‘খুশি খুশি লাগছে?’
‘হ্যাঁ।’ ‘খুশির কারণ ঘটেছে।কারণটা বলার আগে তোমার উপর যে এমবারগো ছিল তা উঠিয়ে নেয়া হল।নো এমবারগো। ইচ্ছে করলে তুমি এখন আমার বাড়িতে যেতে পার। এজ এ ম্যাটার অব ফেক্ট আমাদের সঙ্গে বাস করতে পার। এক কাজ করতে পার, আজই আস। সন্ধ্যার পর আস। ডিনার কর আমাদের সঙ্গে।’ ‘ঠিক আছে ফুপা, যাব। এখন যাই।’ বড় ফুপা বিস্মিত হয়ে বললেন, এমবারগো কি জন্যে উঠিয়ে দেয়া হল জানতে চাচ্ছ না?’ ‘না।’ ‘আশ্চর্য ব্যাপার! সামান্য কৌতুহলও কি বোধ করছ না?’
‘এমবারগো নেই। এটাই বড় কথা। কেন নেই তা নিয়ে মাথা ঘামাতে চাচ্ছি না।’ ‘বোস তো। বলি কি জন্যে এমবারগো বাতিল হয়েছে।’ ‘সন্ধ্যাবেলা যখন খেতে যাব তখন শুনব।’ ‘আহা এখনি শোন। তোমার কৌতুহল না থাকতে পারে, আমার বলার আগ্রহের দাম দেবে না? আরাম করে বোস। তোমার পা উঠিয়ে বসার অভ্যাস। পা উঠিয়ে বোস। কফি খাও। এই কফিটা তোমার জন্যেই আনানো। ঐদিন কফি খেতে চাইলে –দিতে পারলাম না।’
আমি বসলাম। আনন্দিত মানুষের মুখের দিকে তাকানোও আনন্দময় ব্যাপার। ফুপাকে দেখে ভাল লাগছে। তাছাড়া মুখে যা’ই বলুন, আমাকে বেশ পছন্দ করেন। ‘হিমু।” ‘জ্বি।’ ‘বাদল বলে তোমার নাকি অনেক ক্ষমতা-টমতা আছে। বল দেখি আমি কি জন্যে খুশি?’ ‘বাদল সম্পর্কে আপনার দুঃশ্চিন্তা দূর হয়েছে বলেই আপনি খুশি। ও দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। খুব সম্ভব আমেরিকা।’
Read more
