উৎসর্গ
বাষট্টি বছর বয়েসী কঠিন হিমু কেউ কি দেখেছেন? আমি দেখেছি। তার নাম সেহেরী। অবসরপ্রাপ্ত প্ৰধান প্রকৌশলী, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন। তিনি শুধু যে হলুদ পাঞ্জাবি পরেন তা-না, তিনি নিজের চুল-দাড়ি সবই মেহেদি দিয়ে হলুদ করে রাখেন। পূর্ণিমার রাতে আয়োজন করে জোছনা দেখতে গাজীপুরের জঙ্গলে যান।
সৈয়দ আমিনুল হক সেহেরী (হিমু, ফার্স্টক্লাস)
ভূমিকা
(না পড়লেও চলবে)
প্রফেশনাল হাজার্ড বলে একটা কথা ইংরেজিতে প্রচলিত আছে। বাংলায় হবেপেশাগত বিপদ। যে দরজি ছাতা সেলাই করে তার বিপদ হলো, আঙুলে সুই ঢুকে যাওয়া। লেদ মেশিন যে চালায় তার বিপদ মেশিনে হাত কাটা পড়া। লেখকদের বিপদ অনেক বেশি। লেখালেখির জন্যে মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা আছে। দেশান্তরি হওয়ার ঘটনা তো বাংলাদেশেই আছে।
হিমু নিয়ে যখন লেখি এক ধরনের শঙ্কা কাজ করে—না জানি কোন ঝামেলায় পড়ি! বাংলাদেশের মানুষ যথেষ্টই সহনশীল। শুধু ক্ষমতাধর মানুষরা না। তারা আমজনতাকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা উপভোগ করেন, তাদের নিয়ে রঙ্গ-রসিকতা সহ্য করেন না। ক্ষমতাবানরা নিজেদের সবকিছুর উর্ধে ভাবেন।
আমি এই বইতে কিছু কঠিন রসিকতা করেছি। সরি, আমি না, হিমু করেছে। সমস্যা হলে হিমুর হবে। একটা ভরসা আছে, হিমু চাঁদের আলো ছাড়া কোনো কিছুই গায়ে মাখে না।
হুমায়ূন আহমেদ
নুহাশপল্লী
ঝুম বৃষ্টির শব্দে ঘুম ভাঙল। এই বৃষ্টির আরেক নাম আউলা ঝাউলা বৃষ্টি। কিছুক্ষণ দক্ষিণ দিক থেকে ফোঁটা পড়ছে, কিছুক্ষণ উত্তর দিক থেকে। মাঝে মাঝে বাতাসের ঝাপ্টা। সামান্য বিরতি, আবার শুরু। মেসবাড়ির একটা অংশে টিনের ছাদ। সেখানে শিলাবৃষ্টির ঝনঝন শব্দও হলো। ব্যাপারটা কী?
নভেম্বর মাস বৃষ্টি-বাদলার মাস না। আকাশে অতিরিক্ত কার্বন-ডাইঅক্সাইডের জন্যে নিশ্চয়ই কোনো গড়বড় হয়েছে। আষাঢ়-শ্রাবণে বৃষ্টি নেই। নভেম্বর-ডিসেম্বরে বৃষ্টি। হিমালয়ের বরফ গলে যাচ্ছে। হিমবাহ দক্ষিণ মেরু ছেড়ে সাগরে ভাসতে শুরু করেছে। পেঙ্গুইন পাখিরা ডিম দিচ্ছে না। সিল মাছরা পানি ছেড়ে গভীর ভঙ্গিতে ডাঙায় বসে আছে। পৃথিবীর চৌম্বকশক্তিতেও নাকি কী সব হচ্ছে। উত্তর মেরু হয়ে যাবে দক্ষিণ মেরু।
আমাদের কাছের মালদ্বীপ সমুদ্রে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে মালদ্বীপ ফুটবল টিমের সঙ্গে বাংলাদেশ হয়তো আর সেমিফাইন্যাল খেলবে না—এমন দুশ্চিন্তা নিয়ে বিছানায় উঠে বসতেই শুনলাম, ভাইজান, ঘুম ভাঙছে? গুড মর্নিং ডিয়ার স্যার।মাথা ঘোরালেই প্রশ্ন কর্তকে দেখতে পাব। মাথা না ঘুরিয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। কিছুক্ষণ বৃষ্টি দেখা থাক। এই বৃষ্টি বেশিদিন দেখা যাবে না। পত্রিকায় পড়েছি—জলবায়ু যেভাবে বদলাচ্ছে তাতে বাংলাদেশে ভবিষ্যতে বৃষ্টি হবে না। বৃষ্টি হবে আরবে।
উটের বদলে তারা কোষা নৌকায় চলাচল করবে। বাংলাদেশ হবে মরুভূমি। আমরা উটের পিঠে চড়বা। ভাত-মাছের বদলে ডিনার করব খেজুর দিয়ে।ভাইজান কি একটু আমার দিকে তাকবেন? সিম্পল রিকোয়েষ্ট।আমি তাকালাম এবং সঙ্গে সঙ্গে মনে হলো আসলে আমার ঘুম ভঙে নি।এখনো ঘুমুচ্ছি এবং স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্ন ছাড়া এই দৃশ্য দেখা সম্ভব না।
দেখলাম, বিছানার পাশে হাতলভাঙা চেয়ারে স্বয়ং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বসে আছেন। গায়ে আলখাল্লা। তিনি কলা দিয়ে পাউরুটি খাচ্ছেন। বেশ আগ্ৰহ তার পাইখানা ক্লিয়ার হয় না। কী ভয়ঙ্কর! আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, ছামাদ, আপনি কি আমাকে চেনেন? জি-না। আপনার দরজা খোলা ছিল, ঢুকে পড়েছি। গুস্তাকি মাফ হয়। আর আমারে আপনি বলবেন না। তুমি। স্রেফ তুমি। আপনার দিল যদি চায় তুইও বলতে পারেন।তুমি কি মেসের অন্য কাউকে চেনো? জি-না।আমার এখানে উদয় হলে কীভাবে বলবে?
ছামাদ বিড়ি ধরাতে ধরাতে বলল, সকালে নাশতা করার জন্যে একটা পাউরুটি আর দুটা কলা কিনেছি। পার্কে যাব। বেঞ্চে বসে নাশতা করব। মাথায় এই চিন্তা। শুরু হয়ে গেল বৃষ্টি। সঙ্গে নাই ছাতা। কী করি কী করি? দেখি মেসের দরজা খোলা। ঢুকে পড়লাম। দারোয়ান আমাকে দেখল। কিন্তু কিছু বলল না। মনে হয় পোশাক দেখে টাসকি খেয়েছে। এই হচ্ছে ঘটনা। আর কিছু জানতে চান?রবি ঠাকুর, নজরুল, গান্ধিজি—এদের ভেক ধরার প্রয়োজন কী?
ভিক্ষার সুবিধা হয়। ধরেন রবি ঠাকুর সাজিলাম, যারা রবি ঠাকুররে চিনে তারা খুশি হয়ে পাঁচ-দশ টাকা দেয়। একবার পাঁচশ টাকা পেয়েছিলাম। এক আপা দিয়েছিলেন। উনার মোবাইল নাম্বারা আছে আমার কাছে। অনেকে ঘাড়ে হাত দিয়ে ছবি তুলে। সবার হাতে মোবাইল, ছবি তুলতে অসুবিধা নাই। খটখট পিকচার।চুল দাড়ি সব নকল?
জি। তবে টাইট ফিটিং, টানাটানি করলেও ছুটবে না। দাড়ি ধরে টান দিয়া দেখেন।ছামাদ মুখ এগিয়ে দিল।ভাইজান, শক্ত করে টান দেন। কোনো অসুবিধা নাই। ছুটে গেলে গাম দিয়ে লাগায়ে ফেলব। আমার কাছে গাম সাথে আছে।আমি দাড়ি ধরে টানলাম। দাড়ি মুখ থেকে খুলে এল না। ছামাদ আনন্দিত গলায় বলল, রবি ঠাকুর সাজা আমার জন্যে সহজ। আমার চেহারাটা উনার মতো। উচ্চতা পাঁচ ফুট দশ ইঞ্চি। আগে পীচ ফুট এগারো ইঞ্চি ছিল। অভাবে অনটনে উচ্চতা এক ইঞ্চি কমেছে।আলখাল্লা পেয়েছ কোথায়?
আমার এক চাচাতো ভাই আছে, নাম সামছু। এফডিসিতে কাজ করে। ডাইরেক্টর এমদাদ সাহেবের থার্ড এসিসটেন্ট। সে বানায়ে দিয়েছে। এফডিসির দরজি বিরাট এক্সপার্ট। যা বলবেন বানায়ে দেবে। রবি ঠাকুরের ড্রেস ঠিক আছে না।আমি বললাম, সবই ঠিক আছে। পায়ের স্পঞ্জের স্যান্ডেল ঠিক নাই। চটিজুতা! দরকার। উনি চটজুতা পরতেন।
জানি। টাকার অভাবে কিনতে পারি না। দুইবেলা খাওয়া জুটে না, আর চটিজুতা। শুনেছি। রবি ঠাকুর ছিলেন জমিদারের ছেলে, আর আমার বাবা ছিলেন মোটর মেকানিক। কাৰ্বরেটরের কাজ উনার মতো কেউ জানত না। মারা গেলেন। ক্যানসারে। মৃত্যুর আগে আমারে বললেন, বাবা ছামাদ, যা করতে মন চায় করবি। একটাই উপদেশ, কার্বুরেটর ঠিক রাখবি। গাড়ির যেমন কাৰ্বরেটর ঠিক থাকলে সব ঠিক, মানুষেরও একই ঘটনা।তোমার কার্বুরেটর কীভাবে ঠিক রাখছ?
দুষ্ট কাজ কখনো করি না। খাওয়া জুটলে খাই, না জুটলে নাই। রবি ঠাকুর সাইজ মানুষরে আনন্দ দেই। মানুষরে আনন্দ দেওয়া বিরাট সোয়াবের কাজ।টেবিলে পাউরুটির কিছু গুড়া পড়ে ছিল। ছামাদ আঙুলে করে পাউরুটির গুড়া মুখে দিয়ে দিল। আমি বললাম, চলো তোমাকে চটিজুতা কিনে দেই। রবি ঠাকুর স্পঞ্জের স্যান্ডেল পরে ঘুরছেন এই দৃশ্য সহ্য হচ্ছে না।আগে চা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। সকালে চা না খেলে অস্থির লাগে। একটা বিষয় বুঝলাম না, রবি ঠাকুর সাজলে অল্পতেই অস্থির লাগে। ভাইজান, উনি কি अश्न्नि छिब्लन?
মনে হয় না। তিনি অস্থির প্রকৃতির হলে বাংলা সাহিত্যে অস্থিরতা চলে আসত। তুমি উনার লেখা কিছু পড়েছ? ইস্কুলে তালগাছের লেখাটা পড়েছিলাম। তালগাছ একপায় দাঁড়িয়ে—ঐটা। লেখাটায় ভুল আছে।কী ভুল? উনি লিখেছেন উঁকি মারে আকাশে। গাছের কি চউখ আছে? আসমানের দিকে ক্যামনে উঁকি মারবে। বিরাট ভুল না?
আমি চুপ করে রইলাম। ছামাদ উৎসাহের সঙ্গে বলল, বড় মানুষ ভুল করেছে এইজন্যে পাবলিক কিছু বলে না। আপনে আমি ভুল করলে খবর ছিল। বিড়ি একটা খাবেন? খালিপেটে বিড়ির আলাদা মজা। ধোয়া ব্রেইনের মধ্যে গিয়া লাগবে।আমি খালিপেটে বিড়ি ধরিয়ে ধোঁয়া ব্ৰেইনে লাগানোর ব্যবস্থা করলাম। ব্রেইনের চেয়ে ফুসফুসে বেশি লাগছে। কাশতে কাশতে জীবন বের হওয়ার উপক্রম।ছামাদ বলল, কেমন বুঝতেছেন?
আমি কাশতে কাশতে বললাম, ভালো বুঝতেছি।ঠ্যাং উপরে মাথা নিচে—এই অবস্থায় বিড়ি কখনো খেয়েছেন? বিরাট মজা। প্রথমে মাথার মধ্যে একটা চক্কর দেয়। তারপরে. তারপরে কী? এখন বলব না। প্র্যাকটিক্যালে দেখবেন। যদি অনুমতি দেন। আজ সারা দিন আছি আপনার সাথে।সারা দিন তোমাকে নিয়ে আমি করব কী? ছামাদ হাই তুলতে তুলতে বলল, আত্মীয়-বান্ধবের বাড়িতে নিয়া যাবেন। বলবেন, রবি ঠাকুর নিয়া আসছি। অটোগ্রাফ নিতে চাইলে নাও। ছবি তুলতে চাইলে তোলো। দশজনের মধ্যে আটজন বিশ্বাস করবে না।
কিন্তু দুইজন বিশ্বাস করবে। তখনই মজা। ভাইজান, চায়ের ব্যবস্থা কিন্তু এখনো করেন নাই।আমি বিছানা থেকে নামতে নামতে বললাম, চলো মাজেদা খালার ফ্ল্যাটে যাই। চা-নাশতা সেখানেই হবে।মাজেদা খালা চোখ কপালে তুলে বললেন, বসার ঘরে কে বসে আছে? আমি বললাম, অনুমান করো কে? রবি ঠাকুর নাকি?
হুঁ।বলিস কী? উনি মারা গেছেন না? তার ক্লোন। বিজ্ঞানের আবিষ্কার।বলিস কী? উনার ক্লোন হয়েছে? জানতাম না তো; একটা ভেড়ার ক্লোন হয়েছে জানি, নাম ডলি।নিজের চোখেই তো দেখলে। পত্রিকা পড়ো না, জানবে কীভাবে? আজকের পত্রিকা পড়েছ? শুরুদেব সম্পর্কে নিউজ থাকার কথা।
খালা বললেন, আমার তো মনে হয় ড্রেস অ্যাজ ইউ লাইক। কেউ রবি ঠাকুর সেজেছে।আমি বললাম, তুমি জীবনে কখনো ড্রেস অ্যাজ ইউ লাইকে কাউকে রবি ঠাকুর সাজতে দেখেছি? মূর্তি সাজে, মুক্তিযোদ্ধা সাজে। চুড়িওয়ালা, বাদামওয়ালা সাজে। রবীন্দ্ৰনাথ সাজে না।খালা ফাঁপরে পড়ে গেলেন। আমি বললাম, চা-নাশতার ব্যবস্থা করো খালা। বিখ্যাত মানুষ। চিরতার পানি আছে?চিরতার পানি দিয়ে কী হবে?
রবি ঠাকুর সকালে নাশতার আগে এক গ্লাস চিরতার পানি খেতেন। ইনিও খান। তবে এক গ্রাস খান না। এক চামচ।চিরতার পানি এখন কোথায় পাব? তিতা করলা চিপে রস বের করে এক চামচ দাও। এতেই হবে।নাশতা কী দেব? গোশত-পরোটা, ডিমের ওমলেট।উনি কি গরুর মাংস খান? অবশ্যই। গরুই এখন উনার প্রধান খাদ্য।তুই কি কাউকে রবি ঠাকুর সাজিয়ে নিয়ে এসেছিস? এই কাজটা আমি কেন করব? আমার স্বাৰ্থ কী?
সেটাও একটা কথা।খালা চিন্তিত মুখে রান্নাঘরে ঢুকে গেলেন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই খালু সাহেবের ঘরে আমার ডাক পড়ল। খালু সাহেব খাটে হেলান দিয়ে বসে আছেন। তাঁর চোখমুখ কঠিন। দৃষ্টি তীক্ষ্ণ। এটা নতুন কিছু না। সবসময় এরকমই থাকে। শুধু যখন কঠিন ডায়েরিয়া হয় তখনই তাঁর চোখমুখ স্বাভাবিক দেখায়। মনে হচ্ছে আজ তিনি ডায়েরিয়ামুক্ত। খালু সাহেবের সামনে একটা ইংরেজি খবরের কাগজ। যেসব বঙ্গভাষী ইংরেজি খবরের কাগজ পড়েন তাদের জাত আলাদা। আমি খালু সাহেবের বাঁ-পাশে রাখা সাইড টেবিলে বসতে বসতে বললাম, কেমন আছেন। খালু সাহেব? ওরস্যালাইন চলছে নাকি চলছে না?
তিনি আমার দিকে না তাকিয়ে বললেন, চেয়ারে বসো। সাইড টেবিল বসার জন্যে না। আর শোনো, ডোন্ট ট্রাই টু বি ফানি। তুমি চার্লি চ্যাপলিন না।আমি জায়গা বদল করলাম। খালু সাহেব শান্ত গলায় বললেন, তুমি নানাবিধ যন্ত্রণা তৈরি করেছি। বর্তমান যন্ত্রণাটির নাম কী? আমি বললাম, কোন যন্ত্রণার কথা বলছেন? সোফাতে শুয়ে সকালবেলা যে নাক ডাকিয়ে ঘুমাচ্ছে সে কে?
তার ভালো নাম রবীন্দ্ৰনাথ ঠাকুর। ডাকনাম ছামাদ। ছামাদ মিয়া! আমার সঙ্গে ফাজলামি করবে না। speak out. ছামাদ মিয়া রবীন্দ্ৰনাথ সেজেছে। সে আগে একটা চায়ের দোকানের ক্যাশিয়ার ছিল। টাকা চুরির অপরাধে চাকরি গেছে। তবে সে রবীন্দ্রনাথের কসম খেয়ে বলেছে যে, টাকা চুরি করে নি।
ছামাদ বাবার উপদেশ মতো তার কাৰ্বরেটর ঠিক রেখেছে। যাদের কার্বুরেটর ঠিক তারা চুরি চামারি করে না। ছামাদের বাবা মোটর মেকানিক। তাঁর মটো হলো—কার্বুরেটর ঠিক থাকলেই সব ঠিক। হে মানব সম্প্রদায়, তোমরা কার্বুরেটর ঠিক রাখে।অকারণ কথা বলবে না। বদটা রবীন্দ্ৰনাথ সেজেছে কেন? অল্পকথায় বলব, না ব্যাখ্যা করে বলব?
অল্পকথায় বলো।সারা পৃথিবীতেই বিখ্যাত ব্যক্তির মতো সাজার প্রবণতা আছে। চার্লি চ্যাপলিনের জীবদ্দশাতেই চার্লি চ্যাপলিন সেজে পাঁচজন ঘুরে বেড়াত। এদের আলাদা করা মুশকিল হতো। আইনস্টাইনের সময়ে তিনজন আইষ্টাইনের ভেক ধরেছিল। এক নকল আইনস্টাইন বিজ্ঞানী নীলস বোরের সঙ্গে দেখা করে বলেছিল—থিওরি অব রিলেটিভিটি বোগাস!। আইনস্টাইনের কথা শুনে নীলস বোরের মাইল্ড স্ট্রোকের মতো হয়েছিল।
তিনি বুঝতেই পারেন নি যে নকল আইনষ্টাইনের সঙ্গে কথা হচ্ছে। আমাদের ছামাদও একই পথের পথিক।খালু সাহেব ইংরেজি খবরের কাগজ চোখের সামনে ধরতে ধরতে বললেন, তোমাকে তিন মিনিট সময় দিলাম। এই তিন মিনিটের মধ্যে তুমি ঐ বস্তু নিয়ে বিদায় হবে। আর কোনোদিন যেন তোমাকে এবং ঐ বস্তুকে আমার ফ্ল্যাটে না দেখি।
