কালো যাদুকর শেষ – পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

কালো যাদুকর শেষ – পর্ব

আমি বললাম না। দাঁড়িয়েই রইলাম। এবং বাবা কি ভেবেছেন তা জানতে লাগলাম। কাজটা কি অন্যায় হচ্ছে? হয়ত হচ্ছে। বাবা ভাবছেন তার মেয়ের কথা। তাঁর সমস্ত অন্তর কাঁদছে। সেই কান্না ভয়াবহ কান্না। তিনি ভাবছেন—আহারে আজ যদি আমার মেয়েটা বেঁচে থাকত। দুই ভাই বোন মিলে কত আনন্দই না করত। তার পরপরই তিনি ভাবলেন তার প্রথম স্ত্রীর। কথা—আমার মার কথা। এই প্রথম বাবার চিন্তায় আমি আমার মা’কে স্পষ্ট দেখলাম। মার চেহারাটা তো খুব সুন্দর ছিল। তবে গায়ের রঙ কাল আমি ভেবেছিলাম, মা বোধ হয় ফর্সা ছিলেন।টগর! কী বাবা? তুই আমার দিকে এ রকম করে তাকিয়ে আছিস কেন? এম্নি।

আমি এখন অবাক হয়ে বাবার মনের ভেতরে আরেকটি ব্যাপার দেখছি— এখন তিনি আর আমার মার কথা ভাবছেন না। তিনি ভাবছেন—শিউলি গাছটার কথা। আহা গাছটা মরে যাচ্ছে। কঠিন এক অসুখ শরীরে নিয়ে মরে যাচ্ছে। বেচারা নিশ্চয়ই খুব কষ্ট পাচ্ছে।আমি দেখলাম, বাবার চোখ ছল ছল করছে। বাবার মতো ভবগুরে মানুষের অন্তরটা যে এত ভাল তা এই প্রথম বুঝলাম।নতুন জীবনে আমি অভ্যস্ত হতে পারছিলাম না। কোনদিন পারব বলেও মনে হচ্ছে না। নিজের মধ্যে প্রচও অস্থিরতা। মানুষের সঙ্গ ভাল লাগে না। কারো সঙ্গে কথা বলতেও ইচ্ছা করে না। অবশ্যি কথা বলার প্রয়োজনও আমার কমে গেছে।আমি মানুষের মনের কথাতো বুঝতেই পারছি।

আমার ক্ষুধাবোধ, তৃষ্ণাবোধও কমে গেল। রোদে যখন দাঁড়াই আমার ভাল লাগে। খোলা প্রান্তরে দাঁড়ালে ভাল লাগে। ঘরের ভেতর দম বন্ধ হয়ে আসে।আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় দেড় মাইল দূরে বিশাল এক অশ্বথ গাছ ছিল। কি কারণে জানি গাছটাকে সবাই ডাকত মান্দালের গাছ। রোজ এই গাছের কাছে যাওয়া আমার অভ্যাস হয়ে গেল। বিকেলের দিকে হাঁটতে হাঁটতে গাছের কাছে যাই। সন্ধ্যা না মিলানো পর্যন্ত গাছের গুড়িতে হেলান দিয়ে বসে থাকি। সন্ধ্যাবেলায় ঝাকে ঝাকে পাখি গাছে ফিরে আসে। তারা কিচির মিচির করে চারদিকে হৈ চৈ ফেলে দেয়। আমি সন্ধ্যা হওয়া দেখি, পাখিদের কিচির মিচির শুনি, এবং মাঝে মাঝে গাছের সঙ্গে কথা বলি। টবৃক্ষ জানতে চায়—তোমার মন অস্থির কেন? জানি না কেন?

মন সুস্থির কর। অস্থিরতা কোন কাজের কথা না।মন সুস্থীর করতে পারছি না। সব এলোমেলো লাগছে। আমাকে তোমরা এ রকম বানিয়ে দিলে কেন? এই অবস্থাটা কি তোমার ভাল লাগছে না? না। আমাকে আগের মতো বানিয়ে দাও।সেটা সম্ভব না।তাহলে পুরোপুরি গাছ বানিয়ে দাও। সেটা কি সম্ভব? হ্যাঁ তা সম্ভব।কোন মানুষকে কি পুরোপুরি গাছ বানানো হয়েছে? হ্যাঁ হয়েছে। তবে সংখ্যায় খুব কম।তারা কি সুখী হয়েছে? তাদের অস্থিরতা কমেছে। অস্থিরতা কমার ভেতরই সুখ। তাদের জ্ঞান বৃদ্ধি পেয়েছে—জ্ঞান বৃদ্ধিতে সুখ। তাদের ক্ষমতা অনেক অনেক বেড়েছে। ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সুখ। পরিপূর্ণ সুখ অলিক কল্পনা ছাড়া কিছুই না, একমাত্র বৃক্ষই পরিপূর্ণ সুখের কাছাকাছি বাস করে।

মানুষ যে অমরত্ব চায় একমাত্র গাছের কাছেই আছে সেই অমরত্ব। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিগত চেতনার বিলুপ্তি ঘটে। বৃক্ষের ব্যক্তি চেতনা নেই। তার হল সমষ্টি চেতনা। সেই চেতনার মৃত্যু নেই বলেই বৃক্ষ অমরত্বের দাবী করে।আমি না মানুষ, না বৃক্ষ হয়ে বাস করতে লাগলাম। আমার আবেগ কমে গেল। অভিভূত হবার ক্ষমতা চলে গেল। প্রবল দুঃখেও আমার চোখে পানি আসে না। প্রবল আনন্দেও উল্লাসিত বোধ করি না। বাবা আমাকে নিয়ে খুব দুঃশ্চিন্তায় পড়লেন। প্রায়ই জিজ্ঞেস করেন—তোর কি হয়েছে বলতো? অসুখটা তো মনে হয় পুরোপুরি সারে নি। শরীরের অসুখ সারলেও মনে হয় তোর মনে কোন অসুখ ঢুকে গেছে। চল ঢাকায় যাই–তোকে বড় একজন ডাক্তার দেখাই। আমি বললাম, চল।

ঢাকায় নিয়ে গিয়ে আমাকে অনেক ডাক্তার-টাক্তার দেখানো হল। তাঁরা বললেন—সমস্যা কিছু আছে। হার্টবিট স্বাভাবিকের চেয়েও বেশ কম, ব্লাড প্রেসার কম—তবে তেমন গুরুত্তর কিছু না। অনেকের হার্টবিট জন্ম থেকেই কম থাকে, প্রেসারও কম থাকে। এর বেলাতেও হয়ত তাই।বাবা খুব দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে আমাকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন এবং তার পাঁচ দিনের মাথায় এক দুপুরে কোন অসুখ বিসুখ ছাড়াই হুট করে মারা গেলেন। আমার কোন রকম দুঃখ বোধ হল না। বরং মনে হল ভালই তো হয়েছে। আমার আর কোন পিছুটান থাকল না–এখন নিজের মনে ঘুরে বেড়াতে পারি যেখানে ইচ্ছা সেখানে যেতে পারি।

নতুন এক ধরনের জীবন যাত্রা আমার জন্যে শুরু হল। বেশীর ভাগ সময় লোকালয়ের বাইরে থাকি মাঝে মাঝে লোকালয়ে ফিরে আসি। জীবিকার জন্যে ম্যাজিক দেখাই। ম্যাজিক দেখানোর জন্যে আমার কিছুই লাগে না। আমি মানুষকে প্রভাবিত করতে পারি। আমি হান্তে একটা মাটির দলা নিয়ে যদি মনে মনে ভাবি—এটা মাটির দলা না, এটা সুন্দর গোলাপ ফুল—সবাই সেটাকে গোলাপ ফুলই দেখে। শুধু যে দেখে তাই না, গোলাপের সৌরভও পায়।মাঝে মাঝে আমি হতাশাগ্রস্থ হই তখন গাছরা আমাকে সান্ত্বনা দেয়। তারা বলে—সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি বলি, যদি ঠিক না হয়? তাহলে আমরা তোমাকে পুরোপুরি বৃক্ষ বানিয়ে দেব।তোমরা আমার ভেতর তোমাদের অংশ ঢুকিয়ে দিলে কেন?

আমরা যা করেছি তোমাকে সাহায্য করার জন্য করেছি। মানবজাতি শুরু থেকে এই পর্যায়ে যে এসেছে তার প্রতিটি ধাপে আমরা তাদের সাহায্য করেছি। এখনো করছি। মানুষ তার রোগ, জড়া, ব্যাধির ওষুধ গাছ থেকে পেয়েছে। আমরা তাদের বলে দিয়েছি এই গাছের এই ফলটি ব্যবহার কর, বা শিকড় ব্যবহার কর। মানুষ ব্যবহার করেছে এবং পরে ভেবেছে এইসব আবিষ্কার সে নিজে নিজে করেছে। তাতে কিছু যায় আসে না। তোমার ব্যাপারে আমরা যা করেছি তা ছাড়া তোমাকে বাঁচানোর কোন উপায় ছিল না।এই জীবন কি আমি চেয়েছিলাম?

অর্ধেক মানুষ। অর্ধেক গাছ। কোন কিছুর সঙ্গেই আমার যোগ নেই, আবার সব কিছুর সঙ্গেই যোগ আছে। এ এক অদ্ভুত অবস্থা।আমি নিজের মনে ঘুরে বেড়াই। মাঝে মাঝে নিঃসঙ্গ জীবন অসহ্য বোধ হয়। আবার এই জীবনটা ভালও লাগে। কখনো কখনো পুরোপুরি গাছ হয়ে যেতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছা করে গভীর বনের মাঝখানে কদম গাছ হয়ে থাকি। বর্ষায় বৃষ্টির জলে ভিজতে ভিজতে নিজের মনে বৃক্ষদের মহা-সংগীত গাই। এ এক আশ্চর্য এবং অদ্ভুত জীবন।সকাল থেকেই সুপ্তির খুব মন খারাপ।মন খারাপ হবার মতো কোন ঘটনা ঘটেনি।

কিন্তু মনে হচ্ছে খুব বড় কিছু ঘটবে। ভয়ংকর কিছু। সেই ভয়ংকর কিছুটা কী তা সে জানে না। কেউ কি মারা যাবে? এ বাড়ির একমাত্র অসুস্থ মানুষ তার নানীজান খাদিজা বেগম। তিনি বেশ সুস্থ। রাত্রে সুপ্তি তাঁর সঙ্গে ঘুমায়। তিনি মহানন্দে গভীর রাত পর্যন্ত গল্প করেন। মানুষ হুট-হাট করে মারা যায় ঠিকই কিন্তু নানীজান হুট করে মারা যাবেন সুপ্তির তা মনে হয় না। তাহলে এত মন খারাপ লাগছে কেন? সুপ্তি কারণটা ধরতে পারছে না। সে ঘর থেকে বের হয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়াল। আবার নিজের ঘরে ঢুকল। ঘর-বাড়িগুলি কেমন যেন এলোমেলো লাগছে। এরকম তার কখনো হয় না, আজ হচ্ছে কেন?

সুপ্তি বাড়ির পেছনের দিকে হাঁটতে শুরু করল। খুব সাবধানে হাঁটতে হচ্ছে। নিজের বাড়িতে সে যত স্বাভাবিকভাবে ঘুরতে পারে এ বাড়িতে পারে না। প্রতিদিনই জায়গাটা তার নতুন লাগে। বাড়ির উঠোনে একটা ডালিম গাছ আছে, এই ডালিম গাছটাও যেন জায়গা বদলায়।সুপ্তির নানীজান খাদেজা বেগম লক্ষ্য করলেন সুপ্তি তাঁকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি অবাক হয়ে বললেন মাইয়া কই যায়? পুকুর পাড়ে যাই নানীজান।কী সর্বনাশ, একলা একলা ক্যামনে যাবি? পারব নানীজান।আয় আমি লইয়া যাই।নানীজান এসে হাত ধরলেন। কেউ হাত ধরে তাকে টেনে টেনে নিয়ে গেলে তার খুব খারাপ লাগে। নিজেকে অন্ধ অন্ধ লাগে। যদিও সে অন্ধ, তারপরেও অন্ধ অন্ধ লাগাটা কুৎসিত। একমাত্র নানীজান হাত ধরলে খারাপ লাগে না।পুসকুনি তোর ভাল লাগে রে মাইয়া?

খুব ভাল লাগে।আমারও লাগে। নয়া বউ হইয়া যখন এই বাড়িত আসি তখন কী করতাম জানিস? না জানি না। কী করতেন? পুসকুনির পাড়ে বইয়া বইয়া খালি কানতাম। আর তোর নানাজান রাগ ভাঙ্গাইয়া আমারে ঘরে আনত। একদিন কী হইছে শোন, আমার রাগ আর ভাঙ্গে না। শেষমেষ তোর নানাজান আমারে কোলে কইরা আনা ধরছে– হঠাৎ দেখা হইল আমার শাশুড়ির সাথে। তোর নানাজান ধপাস কইরা আমারে ফেলাইয়া দিল। হি হি হি।নানাজান তোমাকে খুব ভালবাস? ওমা ভালবাসব না? কী কস তুই? এত ভালবাসতো তাহলে পুকুর পাড়ে বসে তুমি কাঁদতে কেন?

কানতাম যাতে তোর নানাজান আইসা আমার কান্দন থামায়। হি হি হি। তখন আমার বয়স ছিল কম। দুষ্টু বুদ্ধি ছিল বেশি।তোমার বয়স কত ছিল নানীজান? তের বছর।ও আল্লা আমারও তো তের বছর বয়স। কিন্তু নানীজান আমি পুকুর পাড়ে বসে যতই কাঁদি, আমার কান্না থামানোর জন্যে নানাজানের মতো কেউ আসবে না।খাদিজা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন। এবং হঠাৎ লক্ষ্য করলেন তার চোখে পানি এসে গেছে। তার এই নাতনীটিকে তিনি খুব পছন্দ করেন। এত পছন্দ তিনি এই জীবনে কাউকে করেছেন বল তার মনে পড়ে না।নানীজান! কী গো মাইয়া। ‘আমি তোমার খুব মন খারাপ করিয়ে দিয়েছি তাই না? তোমার গলার স্বর শুনে মনে হচ্ছে তোমার চোখে পানি। আমার কারোর মন খারাপ করতে ইচ্ছা। করে না। তারপরেও নিজের অজান্তেই সবার মন খারাপ করিয়ে দেই। আমার মাঝে মাঝে কী ইচ্ছা করে জান? কী ইচ্ছা করে?

ইচ্ছা করে তোমাদের এই পুকুরটায় ঝাঁপ দিয়ে পড়ে যাই। একবার সাহস করে পড়তে পারলে তোমরা শুরুতে প্রচণ্ড কষ্ট পেলেও পরে আর কষ্ট পেতে না।সুপ্তি কাঁদছে। অনেক দিন পর ব্যাকুল হয়ে কাঁদছে। নানীজান তার গায়ে মাথায় হাত বুলিয়েও তাকে শান্ত করতে পারছেন না।কি-যে সুপ্তির হল। সে সারাদিনই কাঁদল। নানীজান রাতে তাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমুতে গেলেন। এবং তিনি লক্ষ্য করলেন—সুপ্তি বার বার কেঁপে কেঁপে উঠছে।সুপ্তি ঘুমের মধ্যে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। যদিও তার কাঁদার কথা না—কারণ সে খুব আনন্দময় একটা স্বপ্ন দেখছে। আনন্দময় স্বপ্ন দেখেও মানুষের চোখে পানি আসে। তারও হয়ত তাই হচ্ছে। সে দেখছে যেন ম্যাজিক ভাইয়া তার সামনে বসে আছেন। হাসছেন।ম্যাজিক ভাইয়া আপনি কেমন আছেন?

ভাল আছি।আপনি কি জানেন আজ আমি সারাদিন কেঁদেছি। জানি।কীভাবে জানেন? আমি জানব না কেন? আমি যাদুকর না? আমি এখনও কাঁদছি আর আপনি হাসছেন? তোমার কান্না থামার ব্যবস্থা করছি বলেই হাসছি—ভোরবেলা যখন তোমার ঘুম ভাঙ্গবে তখন আর কান্না থাকবে না।কেন? আমি তোমার জন্যে ভয়ধারণ একটা ম্যাজিকের ব্যবস্থা করেছি। তোমার ঘুমের মধ্যেই ম্যাজিকটা ঘটবে। ম্যাজিকটা হল তোমার জন্যে আমার উপহার।আপনার গলার স্বরটা এমন করুণ শুনাচ্ছে কেন? আমার মনটা খুব খারাপ এই জন্যেই বোধহয়। মন খারাপ কেন? তাতো তোমাকে বলব না।

লুপ্তির ঘুম ভাঙ্গলো খুব ভোরে। খুজরের আজান হয়ে গেছে। ঘরে সামান্য আলো এসেছে। সুপ্তি বিছানা থেকে নামল। তার মনে হচ্ছে সে যেন অন্য কোথাও চলে এসেছে। সব কিছুই কেমন এলোমেলো—কেমনঅপরিচিত। যে খাটটা থেকে নেমেছে সেই খাটটা অপরিচিত। যে ঘরে দাঁড়িয়ে আছে সেই ঘর অপরিচিত। তার শরীরও যেন কেমন ঝিমঝিম করছে। কিছু একটা ঘটেছে, কী ঘটেছে সে বুঝতে পারছে না। সুপ্তি দরজা খুলে বাইরে এসে দাঁড়াল। কয়েক মুহূর্ত চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে আকাশ ফাটিয়ে চিৎকার দিল। সুরমা নামাজ ফেলে ছুটে এলেন। সুপ্তি মার দিকে তাকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল, মা অদ্ভুত একটা ব্যাপার ঘটেছে–আমি চোখে দেখতে পারছি। তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরে থাক। আমি সহ্য করতে পারছি না। পৃথিবীটা এত সুন্দর কেন মা? সুরমা মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন। সুপ্তি জ্ঞান হারিয়ে মা’র কোলে এলিয়ে পড়ল।

পরিশিষ্ট

অনেক অনেক দিন কেটে গেছে। সুপ্তির বিয়ে হয়েছে। তাদের একটা বাবু হয়েছে। তারা বাবুর নাম রেখেছে টগর। টগরকে নিয়ে সুপ্তিকে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হয়। খুবই দুষ্ট ছেলে। সুপ্তির জীবন হয়েছে আনন্দময়। সে সারাক্ষণই গভীর বিস্ময় এবং গভীর আনন্দ নিয়ে তার চারপাশের জগৎ দেখে। সামান্য একটা পোকাও যদি তার সামনে দিয়ে হেঁটে যায় সুপ্তি চেঁচিয়ে বলে—টগর দেখে যাও, দেখে যাও কী সুন্দর একটা পোকা।

মাঝে মাঝে সুপ্তি একটা অদ্ভুত স্বপ্নও দেখে–যেন গভীর একটা বন, সেই বনে একটা কদম গাছ। এই গাছটা অন্য গাছগুলির চেয়ে আলাদা। অন্য গাছগুলি চোখে দেখতে পায় এই গাছটা পায় না। কারণ এই গাছ তার দুটো চোখ একটা মানুষকে দিয়ে দিয়েছে। এই অদ্ভুত স্বপ্নের মানে কী সুপ্তি বুঝতে পারে না।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *