এইসব দিনরাত্রি পর্ব – ২৪ হুমায়ূন আহমেদ

এইসব দিনরাত্রি পর্ব – ২৪

মোতারের সাহেব বলছিলেন ব্যাণ্ড না এনে সানাইয়ের ব্যবস্থা করতে। একটা স্টেজের মতো থাকবে, সেখানে বসে বসে সানাই বাজাবে। কাউকে সে-রকম পাওয়া গেল না। তা ছাড়া সানাই বড়ো মন খারাপ করিয়ে দেয়। মেয়ে বিয়ে এমনিতেই বাবা-মার জন্যে যথেষ্ট মন খারাপ করার মতো ব্যাপার, সেটাকে আর বাড়ানো ঠিক না, কী বল মা? শারমিন জবাব দিল না। রহমান সাহেব সিগারেট ধরালেন। কয়েক দিন ধরেই তিনি খুব সিগারেট খাচ্ছেন। প্রায় চেইন ক্ষোকার হয়ে গেছেন!শারমিন বলল, আমি এখন উঠি বাবা? এখনই উঠবে কী, বস একটু।ভালো লাগছে না। বাবা। জ্বর-জ্বর লাগছে।তিনি মেয়ের হাত ধরলেন। জ্বর নেই, গা ঠাণ্ডা হয়ে আছে।শারমিন।কি বাবা?

তিনি খানিকক্ষণ ইতস্তত করে বললেন, একটা কথার ঠিক জবাব দাও তো মা। তাকাও আমার চোখের দিকে। তাকাও, তারপর বল!শারমিন তাকাল তার বাবার চোখের দিকে। রহমান সাহেব থেমে থেমে বললেন, সাব্রিরিকে কি তোমার পছন্দ হচ্ছে না? পছন্দ হবে না কেন? তাঁকে পছন্দ না করার মতো কিছু নেই।আমিও তাই বলি। জমিলার মা বলল, তুমি গতকাল সারা রাত ঘুমেও নি। বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করছিলো।ঘুম আসতে একটু দেরি হয়েছে। যা গরম!আমাকে ডাকলে না কেন? তোমাকে ডাকলে কী হত? দুজনে মিলে গল্প করতাম।আজ যদি ঘুম না আসে তোমাকে ডাকব। বাবা, এখন যাই? আচ্ছা, যাও। জমিলার মা বলছিল, ছেলেপুলেরা নাকি তোমাকে খুব বিরক্ত করছে। বারান্দায় ছোটাছুটি করছে।না, তেমন কিছুনা।

শারমিন নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে শুয়ে রইল। এবং এক সময় ঘুমিয়েও পড়ল। জামিলার মা তাকে জাগাল না। দুপুরে খাবার সময় রহমান সাহেব বললেন, ওর ঘুম ভাঙানোর দরকার নেই, ঘুমুক।পুলিশের ব্যাণ্ড পার্টি চলে এল তিনটায়। শারমিনের ঘুম ভাঙল ব্যাণ্ডের শব্দে। তারা বাজাচ্ছে আনন্দের গান, উৎসবের গান। কিন্তু তবু কেন বারবার চোখ ভিজে উঠছে? কেন বারবার মনে হচ্ছে চারপোশ অসম্ভব ফাঁকা। কোথাও কেউ নেই। কেন এত কষ্ট হচ্ছে? দরজায় টুকটুক আওয়াজ হল। শারমিন ক্লান্ত গলায় বলল, কে?

আফা আমি।কী চাও? আপনার সাথে দেখা করতে আইছে।কে? ঐ দাড়িওয়ালা ভদ্রলোক, রফিক সাব।শারমিন চুপ করে রইল। তার এক বার ইচ্ছা হল বলে-ওকে চলে যেতে বল। কিন্তু সে কিছুই বলল না। জামিলার মা দ্বিতীয় বার ডাকল, ও আফু, আফা। শারমিন তারও জবাব দিল না। কিন্তু জামিলার মা নেমে যাবার সঙ্গে সঙ্গেই সেও নিচে নেমে এল।ব্যাণ্ড পাটির চারদিকে সবাই ভিড় করে আছে। রহমান সাহেবও এতক্ষণ ছিলেন। একটু আগেই গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন। বলে গেছেন শারমিন ঘুম থেকে উঠেই যেন কাপড় পরে তৈরি থাকে। সন্ধ্যার পর তাকে নিয়ে বেরুবেন।রফিক ব্যাণ্ড পাটির বাজনা শুনছে খুব উৎসাহ নিয়ে। তার মুখ হাসি-হাসি। শারমিনকে আসতে দেখে সে এগিয়ে গেল।শারমিন বল তো, কি গান বাজছে?

জানি না।কাম সেপ্টেম্বর। আমার খুব প্রিয় গান।তাই নাকি? হুঁ! দারুণ মিউজিক। তোমার ভালো লাগছে না? লাগছে।আজ তোমার বাবার সঙ্গে দেখা হল। আমি নিজেই এগিয়ে গিয়ে পরিচয় দিলাম।কী পরিচয় দিলে? নিজের তো কোনো পরিচয় নেই। তোমার পরিচয়েই পরিচয় দিলাম। বললাম, আমি আপনার মেয়ে শারমিনের সঙ্গে পড়তাম।শারমিন তাকিয়ে আছে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে। রফিক হাসতে হাসতে বলল, একবার ভাবছিলাম বলি, আমি শারমিনের বন্ধু।বললে না কেন? সাহস হল না। যদি রেগে যান। উৎসবের দিনে তোমাকে এমন পেত্নীর মতো লাগছে কেন? পেত্নীর মতো লাগছে?

হুঁ। চুলে চিরুণি পড়ে নি। চোখ লাল এবং বেছে বেছে সবচে ময়লা শাড়িটাই আজ পরেছ। আচ্ছা, তোমার কি একটাও ভালো শাড়ি নেই? শারমিন বলল, তুমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বাজনা শোন। আমি এক্ষুণি আসছি। কাপড় বদলে আসছি। তোমার হাতে কি কোনো কাজ আছে? না। কেন? তোমাকে নিয়ে যাব এক জায়গায়।কোথায়? বলছি, বাস তুমি। চা খাবে? হ্যাঁ, খাব। চায়ের সঙ্গে আর কিছু আছে? দেখি আছে কিনা।ঝাল কিছু। নো সুইটস।শারমিন অতি দ্রুত কাপড় বদলাল। পাতলা একটা চেইন পরল গলায়। হালকা নীল রঙের একটা শাড়ি পরল। একটা হ্যাণ্ডব্যাগ নিল হাতে।জামিলার মা বলল, যান কই আফা? একটা কাজে যাচ্ছি। ড্রাইভারকে গাড়ি বের করতে বল। ইয়াসিন আছে। না? জ্বি আছে।কোন সময় আইবেন আফা?

শারমিন তার জবাব দিল না! নেমে এল নিচে। তার মুখ অস্বাভাবিক বিবর্ণ।। যেন খুব বড়ো ধরনের কোনো একটা অসুখ থেকে সে উঠেছে। রফিকের মনে হল, শারমিন যেন ঠিকমতো হাঁটতেও পারছে না।না, আমার শরীর ভালোই আছে। চল তুমি।চা খাই নি তো এখনো, চা আসে নি।চা পরে খাবে।রফিক অবাক হয়ে উঠে দাঁড়াল। সে কিছুই বুঝতে পারছে না; ব্যাণ্ড বাজছে। দলটিকে ঘিরে ছোট ছোট ছেলেমেয়ের হৈচৈ করছে। ওদের আনন্দের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। ইলেকট্রিশিয়ানরা ব্যস্ত আলোকসজ্জা নিয়ে। আলোকসজ্জা শুরু হবে। আজ সন্ধ্যা থেকে।

গাড়ি পুরানো ঢাকা ছাড়িয়ে আসার পরপরই রফিক লক্ষ করল, শারমিন কাঁদছে। অত্যন্ত অস্বস্তিকর অবস্থা। কোথায় তারা যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে, কে জানে? দ্রাইভার নিজেও বেশ কয়েক বার তাকাল পেছনের দিকে। রফিকের সিগারেট ধরাবার ইচ্ছা হচ্ছে, কিন্তু কেন জানি ধরাতেও সাহস পাচ্ছে না।রাফিক।বল।কটা বাজে দেখ তো? চারটা দশ। কোথায় যাচ্ছি। আমরা? শারমিন শান্তস্বরে বলল, আমি এখন তোমাকে কয়েকটা কথা বলব। তুমি শুধু শুনে যাবে, কোনো প্রশ্ন করবে না। ড্রাইভার সাহেব।জ্বি আপা।আপনি গাড়ি একটু আস্তে চালান।জ্বি আচ্ছা।কথাবার্তা যা শুনবেন, নিজের মধ্যে রাখবেন।জ্বি আচ্ছা! শারমিন ছোট্ট একটি নিঃশ্বাস ফেলল। রফিক অপেক্ষা করতে লাগল।রাফিক।বল শুনছি।তুমি কি আমাকে বিয়ে করতে রাজি আছ?

রফিক কোনো জবাব দিতে পারল না। অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। শারমিন নিচু গলায় বলল, আমি খুব বড়ো ধরনের কনফিউশনে ভুগছি। কী করব কিছু বুঝতে পারছি না।কনফিউশন হবার কারণ কী? কারণ কী, তুমি ভালো করেই জান। কেন তুমি বারবার এসেছ আমার কাছে? বলতে বলতে শারমিন ফুঁপিয়ে উঠল।সাব্বির ভাইকে বিয়ে করতে আমি রাজি না, এই কথাটা আমি কিছুতেই বাবাকে বলতে পারব না। আমি আমার বাবাকে যে কী পরিমাণ ভালোবাসি, তা একমাত্র আমিই জানি। অন্য কেউ জানে না।রফিক সিগারেটের জন্যে পাঞ্জাবির পকেটে হাত দিল। সিগারেট নেই! হাত পড়ল দশ টাকার একটি ময়লা নোটে, এই টাকাটাই তার সম্বল।শারমিন মৃদুস্বরে বলল, আমাকে নিয়ে তোমাদের বাড়িতে যাবার সাহস কি তোমার আছে।

আছে! রফিক শান্তস্বরে বলল, তোমার বাবাকে গিয়ে সব কিছু খুলে বললে? আমার পক্ষে সম্ভব নয়।তোমাকে বলতে হবে না। আমি বলব।না।শারমিন শাড়ির আঁচলে মুখ ঢেকে বসে রইল। রফিক বলল, ড্রাইভার সাহেব, আপনার কাছে সিগারেট আছে? ড্রাইভার সিগারেট দিল। নিচু গলায় বলল, এখন কোন দিকে যাইবেন? রফিক বলল, খুব স্পিডে একটু ঘুরে বেড়ান, আমার মাথাটা ঠাণ্ডা হোক। কোথায় যাব এখনো জানি না।রফিক আড়চোখে তাকাল শারমিনের দিকে। সে শাড়ির আঁচলে মুখ ঢেকে বসে আছে চুপচাপ। রফিকের ইচ্ছা করল, আকাশ ফাটিয়ে চিৎকার করে বলে, এই মেয়েটিকে পৃথিবীর কেউ আমার কাছ থেকে সরিয়ে নিতে পারবে না। এ একান্তই আমার।মনোয়ারা অবাক হয়ে বললেন, রফিক একে বিয়ে করেছে? তুমি এসব কী বলছ বৌমা।

নীলু মনোয়ারার হাত ধরল।মা, আপনি আমার সঙ্গে আসুন, আমি আপনাকে সব বুঝিয়ে বলছি। আসুন আমার সঙ্গে।আমাকে কিছুই বুঝিয়ে বলতে হবে না। আমি সবই বুঝতে পারছিা! রফিক কোথায়? ও একটু বাইরে গেছে। আসবে। মা আপনি একটু আসুন আমার সঙ্গে।তুমি বৌমা আমার হাত ধরে টানাটানি করবে না। আমি এই মেয়ের সঙ্গে কথা বলব।শারমিন তেজা-চোখে তাকাল মনোয়ারার দিকে। হোসেন সাহেব বললেন, কথা বলার জন্যে এত ব্যস্ত কেন? এই মেয়ে তো আর চলে যাচ্ছে না। তুমি যাও বৌমার সঙ্গে।মনোয়ারা কড়া চোখে তাকালেন। হোসেন সাহেব থিতামত খেয়ে থেমে গেলেন। মনোয়ারা কড়া গলায় বললেন, বৌমা, তুমি সবাইকে নিয়ে এ ঘর থেকে যাও, আমি মেয়েটার সঙ্গে কথা বলব। একা কথা বলব।

নীলু সবাইকে নিয়ে বেরিয়ে গেল। হোসেন সাহেব দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বললেন, বড়ো ঝামেলা হয়ে গেল তো বৌমা। শফিক এসেছে?জ্বি-না।বাজে কটা? আটটা।কাণ্ডটা রফিক কী করল! বাবা, আপনি টুনী আর বাবলুকে নিয়ে বসেন।হ্যাঁ, বসছি। তুমি যাও, তোমার শাশুড়ির কাছে গিয়ে দেখ, কিছু করা যায়। কিনা। মেয়েটার জন্য বড়ো মায়া লাগছে।হোসেন সাহেব টুনী এবং বাবলুকে নিয়ে বারান্দায় চলে গেলেন। শাহানা শুকনো মুখে দাঁড়িয়ে আছে। সে ফিসফিস করে বলল, কী হবে, ভাবী? কিছুই হবে না। হবে। আবার কি?

মাযে কী করছেন! তুমি লক্ষ করেছ ভাবী, মা রাগে কাঁপছিলেন। রফিক ভাই আবার কোথায় গেল? কী জানি কোথায়? শাহানা চাপা গলায় বলল, আমার এমন রাগ লাগছে ভাইয়ার উপর। কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে। শাহানা সত্যি সত্যি কেঁদে ফেলল।মনোয়ারা কড়া গলায় বললেন, তুমি বস এখানে!শারমিন বসল। তিনি দাঁড়িয়েই রইলেন।তুমি আমাকে বল, তুমি কেমন মেয়ে? বাবা-মাকে কিছুই না বলে বিয়ে করে ফেললে? শারমিন নিঃশ্বাস চাপতে চেষ্টা করল। পারল না।চাকরি নেই, কিছু নেই, এমন এক জন অপদার্থকে বিয়ে করে ফেললে! যার নিজের থাকার জায়গা নেই। তুমিও তার মতোই অন্যের ঘাড়ে বসে খাবে। চক্ষুলজ্জাও তোমার নেই?

নীলু এসে মনোয়ারাকে প্রায় টেনে ঘর থেকে বের করে নিয়ে গেল! শারমিন শুকনো দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সেদিকে। তার মাথায় অসম্ভব যন্ত্রণা হচ্ছে। চারদিকে কি ঘটছে না-ঘটছে কিছুই বুঝতে পারছে না। পরিচিত কেউ নেই যে এসে তার পাশে দাঁড়াবে। আশা ও সত্ত্বনার কিছু বলবে। জীবন এত কঠিন কেন? চমৎকার একটি চাঁদ উঠেছে আকাশে। শফিক বারান্দায় বসে সিগারেট টানছে। নাটকীয় এই সংবাদ সে শুনেছে। সে কোনো কথা বলে নি। রাতে নীলু যখন তাকে খাবার জন্যে ডাকল, সে বলল, আমার কিছু খেতে ইচ্ছা করছে না নীলু।শারমিনও কিছু খায় নি। সে রফিকের ঘরে মাথা নিচু করে বসে আছে। রফিক তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেছে, কোনো কাজ হয় নি। সে, একটিও কথা বলে নি। রফিক বলল, আমাদের জীবনটা শুরু হল খুব খারাপভাবে। তাই না? শারমিন জবাব দিল না।

তবু আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, এক দিন সব ঠিক হয়ে যাবে শারমিন।বল।খুব সুন্দর জোছনা হয়েছে বাইরে। চল না একটু ছাদ থেকে ঘুরে আসি।তুমি যাও। আমার ইচ্ছা করছে না।শারমিন, প্লিজ।রফিক, আমাকে বিরক্ত করবে না।এত সুন্দর একটা রাত নষ্ট করব? শারমিন জবাব দিল না। কিন্তু উঠল। রফিক ছুটে গেল নীলুর কাছে। তার খুব শখ, ভাবীকে দিয়ে একটা গান যদি গাওয়াতে পারে। অনেক দিন আগে এ-রকম এক জোছনা-রাতে তারা সবাই মিলে ছাদে হাঁটছিল। হঠাৎ কী মনে করে ভাবী গুনগুন করে গেয়েছিল-চাঁদের হাসির বাঁধ ভেঙেছে। ভাবীকে চেপে ধরলে সে কি তাদের নতুন জীবনকে সুসহ করবার জন্যে একটা গান গাইবে না? ভাবীর পক্ষে কি এতটা নির্দয় হওয়া সম্ভব?

জোছনার ফিনিক ফুটেছে চারদিকে। আকাশ ভেঙে পড়ছে আলোয়। কি উথািলপাথাল জোছনা! ছাদে একটি পার্টি পাতা হয়েছে। শারমিন মাথা নিচু করে বসে আছে পাটিতে। শাহানা টী-পট ভর্তি করে চা নিয়ে এসেছে। নীলু মৃদুস্বরে বলল, মন-খারাপ করো না শারমিন। দেখ, কী সুন্দর একটা রাত! এমন চমৎকার জোছনা কখনো দেখেছ? শারমিন কোনো জবাব দিল না।তাদের অবাক করে দিয়ে নীলু গুনগুন করে উঠল, আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে। তার গলা তেমন কিছু আহামরি নয়।কিন্তু তবু কী অপূর্বই শোনাল সেই গান!অবাক হয়ে চিলেকোঠার ঘর থেকে বেরিয়ে এল আনিস।

হোসেন সাহেব ফিসফিস করে বললেন, কে গাইছে? আমাদের বড় বৌমা? বড়ো মিঠা গলা তো আমার মার।গাইতে গাইতে নীলু, শাড়ির আঁচলে তার চোখ মুছল। শারমিনের চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে লাগল। তার মন বলছে, আজকের এই চোখের জলে জীবনের সমস্ত দুঃখ ও বেদনা ধুয়ে-মুছে যাবে। সে হাত বাড়িয়ে রফিককে স্পর্শ করল। ভালবাসার স্পর্শ, যার জন্যে প্রতিটি পুরুষ হৃদয় তৃষিত হয়ে থাকে। রফিক তাকাল আকাশের দিকে। আহ, কী চমৎকার জোছনা। এত সুন্দর কেন পৃথিবীটা?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *