অশ্বডিম্ব রহস্য (শেষ পর্ব) – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

অশ্বডিম্ব রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

সক্কালে আমাকে ওঁর ড্রয়িংরুমে দেখে গোয়েন্দাপ্রবর মুচকি হেসে বললেন, কী জয়ন্ত? তোমাদের দৈনিক সত্যসেবক তো এইমাত্র পড়লুম, এক জব্বর অন্তর্তদন্তের সূত্রপাত করেছ। কিন্তু তুমিও যে পুলিশের থিয়োরি মেনে জগনকে হত্যাকারী শাব্যস্ত করবে, ভাবতেও পারিনি।ষষ্ঠীচরণ কফি দিয়ে গেল। কফিতে চুমুক দিয়ে বললুম, ঘটনাস্থলে আমিও ছিলুম।

প্রাণগোপালবাবুকে যখন জীবিত দেখেছি তখন জগন সেখানে ছিল। ডিমচোরের ব্যাপারটা নিয়ে চ্যাঁচামেচি শুরু হলে আমরা নিচে গেলুম। তারপর একমাত্র জগন ছাড়া আর সবাই-মানে, যাদুগোপালবাবু আর হরুঠাকুর আমাদের সামনে উপস্থিত ছিল। জগন এল অন্তত মিনিট কুড়ি পরে। এসে বলল, চোর খুঁজতে গিয়েছিল। তারপর আমরা ওপরে গিয়ে দেখলুম প্রাণগোপালবাবু খুন হয়ে পড়ে আছেন।

কাজেই জগন ছাড়া ওই সময় আর কারুর পক্ষে খুন করার সুযোগ ছিল না।কর্নেল সেই তামার ফলক সাফ করতে করতে বললেন, প্রত্যেকটি খুনের পেছনে মোটিভ বা উদ্দেশ্য থাকে। জগনের মোটিভ কী?জানা যাবে। অশ্বডিম্ব-রহস্য ভেদ করতে পারলেই জানা যাবে।কর্নেল হাসলেন, একটু অপেক্ষা করো। অশ্বডিম্ব এসে পৌঁছোবে।

ভীষণ চমকে গিয়ে বললুম, তার মানে? ঘোড়ার ডিমের কি ঠ্যাং গজিয়েছে–নাকি ডিম ফুটে ঘোড়ার বাচ্চা বেরিয়েছে যে আপনার ফ্ল্যাটে এসে হাজির হবে? এই সময় কলিংবেল বাজল। কর্নেল চাপা গলায় বললেন, সম্ভবত ঘোড়ার ডিমটি এসে গেল।ষষ্ঠী দরজা খুলে দিচ্ছে শুনতে পেলুম। তারপর দেখলুম, ঘোড়ার ডিম-টিম নয়–প্রাইভেট গোয়েন্দা কে. কে. হালদারমশাই সহাস্যে ঢুকে গুড মর্নিং জানালেন।

তার কাঁধে আজ একটা–প্রায় সিমেন্টের বস্তার সাইজ কাপড়ের ব্যাগ। ধপাস করে সোফায় বসে বললেন, কফি! কফি দরকার! বাপস! কর্নেল ষষ্ঠীকে ডেকে আরেক কাপ কফি আনতে বলে মুচকি হাসলেন, কী ডার্লিং! কী বুঝছ? বললুম, বুঝছি, আপনার নাকি একটা তৃতীয় চোখ থাকার কথা শোনা যায়, সেটা নিছক গুজব।

-কেন, কেন? –আপনি বললেন অশ্বডিম্বের আগমন ঘটছে। কিন্তু এলেন আমাদের হালদারমশাই।গোয়েন্দা কৃতান্ত হালদার খি খি করে হেসে পূর্ববঙ্গীয় ভাষায় বললেন, কী কাণ্ড! হ–আমি আইছি, অশ্বডিম্ব আইছে। বড্ড টায়ার্ড। জয়ন্তবাবু, খুইল্যা দ্যাহেন।বলে প্রকাণ্ড ঝোলাটি দুহাতে তুলে আমার দুই উরুর ওপর স্থাপন করলেন।

চমকে উঠে ঝোলা খুলতেই আমার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। প্রকাণ্ড সাদা একটা ডিম! অন্তত হাত দেড়েক উঁচু তো বটেই। হালদারমশাই খি খি করে হাসতে থাকলেন। কর্নেলও অট্টহাস্য করলেন। আমি হতবাক। তাজ্জব একেবারে।ডিমটি শোলার মতো হালকা। হাওয়াঠাসা প্রকাণ্ড ফুটবল বললেও চলে। যদিও এটা ঝকঝকে সাদা এবং নিতান্তই ডিম। কারণ এর গড়ন ডিমের মতো।

কর্নেল চোখ নাচিয়ে বললেন, কি ডার্লিং, তাহলে ঘোড়ার ডিম যে সত্যি সত্যিই আছে, হাতেনাতে তার প্রমাণ পেলে তো? ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে বললুম, কিন্তু এটা হালদারমশাই পেলেন কোথায়?–বলেই নড়ে বসলুম। কৃতান্তবাবুর দিকে ঘুরে দেখি, উনি মিটিমিটি হাসছেন। বললুম, তাহলে কি কাল সন্ধ্যায় যাদুগোপালবাবুর বাড়ি থেকে আপনিই- আমার কথা কেড়ে কৃতান্তবাবু বললেন, আবার কে? আমিই গঙ্গার দিক থেকে পাঁচিল বেয়ে উঠে বাড়ির ভেতর ঢুকেছিলুম।

এই দেখুন, মাটি খোঁড়ার জন্য খুরপি নিয়ে গিয়েছিলুম। উনি জ্যাকেটের ভেতর পকেট থেকে রিভলবার বের করার ভঙ্গিতে একটা হাতুড়ি সাইজ খুরপি বের করে কফি টেবিলে রাখলেন। খুরপিতে একটু-আধটু মাটিও লেগে আছে। বললুম, বুঝলুম। কিন্তু আপনি জানলেন কি করে যে কোথায় এটা পোঁতা আছে?

খি খি করে অভ্যাসমতো হাসলেন প্রাইভেট গোয়েন্দা কে. কে. হালদার, মশায়! ছত্তিরিশ বৎসর যাবৎ পুলিশে চাকরি করছি। গত সনে রিটায়ার কইর‍্যা ডিটেকটিভ এজেন্সি খুলছি। ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চে কাম করছি নয় বৎসর। তো হইল গিয়া কথা কেড়ে বিরক্ত হয়ে বললুম, আহা! সে তো সবই জানি। কিন্তু ডিমটা ওখানে পোঁতা আছে, কী করে টের পেলেন?

হালদারমশাই এক চুমুকে কফি সাবাড় করে চাপা স্বরে বললেন, যাদুগোপালবাবুর বাড়ির পেছনে গঙ্গা। গঙ্গার ধারে জঙ্গলে ভর্তি। তো গতকাল সকালে এখান থেকে বেরিয়ে গেলুম যখন, তখন মাথায় ওই একটাই চিন্তা, ঘোড়ার ডিম তো একটা অসম্ভব ব্যাপার। এদিকে যাদুগোপালবাবু এখানে কর্নেলের কাছে কথা বলছেন।

এই সুযোগে জিনিসটা দেখে আসি আগে। কিন্তু গিয়ে দেখি গেট বন্ধ। কোনো পুলিশ-টুলিশ কিছু নেই। ডাকাডাকি করলে একটা লোক–মানে ওই জগন ব্যাটাচ্ছেলে, আমাকে ভাগিয়ে দিল। তখন গলিরাস্তায় ঘুরে বাড়ির পেছনে চলে গেলুম। ডাইনে ঘুরে ঝোপজঙ্গলে ঢুকে পড়লুম। তারপর পাঁচিলের কাছে একটা ঝাকড়া গাছে উঠে বসলুম।

কর্নেল ফোড়ন কাটলেন, পুলিশের চাকরিতে গাছে চড়ার ট্রেনিংও নিতে হয়। আসামী ধরতে পাঁচিলও ডিঙোতে হয়।হয়!-কৃতান্তবাবু উৎসাহে সায় দিলেন, কতবার কত গাছে চড়েছি। কত পেল্লায় পাঁচিল ডিঙিয়েছি! বিরক্ত হয়ে বললুম, আহা, তারপর কী হল বলুন।

কৃতান্তবাবু খিক করে হেসে বললেন, পাঁচিলের ধারে গাছের ডালে হনুমানের মতো বসে আছি-ডালপালা আর পাতার আড়ালে লুকিয়েই বসে আছি। হঠাৎ দেখি, সেই ব্যাটাচ্ছেলে জলে বাগানের ভেতর দিয়ে এই জিনিসটা চুপিচুপি নিয়ে আসছে। এনে করল কি, ঝোপের ভেতর একটা ছোট্ট শাবল দিয়ে মাটি খুঁড়তে লাগল।

গর্ত করে জিনিসটা–মানে এই ডিমটা পুঁতে মাটি ঢাকা দিল। দিয়ে একটু তফাত থেকে ঘাসের চাপড়া এনে বসিয়ে জায়গাটা স্বাভাবিক করে দিল। তারপর চলে গেল। আমি চিন্তায় পড়ে গেলুম। এ তো ভারি রহস্যময় ব্যাপার। কিন্তু এখন যদি ভেতরে ঢুকি, তাহলে ওর নজরে পড়ার চান্স আছে। কী দরকার ঝুঁকি নিয়ে? তাই সন্ধ্যাবেলা এসে ডিমটা চুরি করার মতলব করলুম।

এ পর্যন্ত শুনেই হাসতে হাসতে বললুম, বুঝেছি। কাল সন্ধেবেলা তাহলে আপনিই এটা চুরি করে এনেছেন। কী কাণ্ড! কর্নেল চুরুট ধরিয়ে বললেন, মনে পড়ছে তো জয়ন্ত? হালদারমশাই কিন্তু জগনের ফোন করার আগেই এঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। উনি ডিম চুরি যাওয়ার কথা শুনে যাননি।

জোরগলায় বললুম, কাজেই শেষ পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছে, আমার থিয়োরি কারেক্ট। পুলিশ ঠিক লোককেই অ্যারেস্ট করেছে। তার মানে জগন নিজে ডিমটা লুকিয়ে ফেলে যাদুগোপালবাবুকে মিথ্যে কথা বলছিল ফোনে। অতএব কর্নেল ভুরু কুঁচকে মিটিমিটি হেসে বললেন, অতএব? বললুম, ডিমটার ভেতর কিছু রহস্য আছে।-তার আগে বলল, তুমি ওটা সত্যি সত্যি ঘোড়ার ডিম বলে মনে করছ কি না? হাসতে হাসতে বললুম, মোটেও না। –তাহলে জিনিসটা কী?

ডিম্বাকৃতি হালকা জিনিসটা নাড়াচাড়া করে বললুম, তিনজন বিজ্ঞানী নাকি এটা পরীক্ষা করেছেন। তারাও এর হদিস করতে পারেননি। আমি নিতান্ত এক সাংবাদিক। আমি বড়োলজার ওই তিন বিজ্ঞানীর কাছে সাক্ষাৎকার নেব। নাম ঠিকানা আপনাকে তো যাদুগোপালবাবু দিয়ে গেছেন। কই লিখে দিন আমাকে।

কর্নেল টেবিলের ড্রয়ার থেকে নোটবুক বের করে পাতা উলটে বললেন, লেখো— ……. ড. বি. এ. অধিকারী, ১৭/২ হরি দত্ত, স্ট্রিট, কলকাতা-৬ ……….. ড. এন. কে. খড়াই, ৩৩২/এ, সাউথ অরবিন্দ লেন, কলকাতা-৭৬ ……… ড. আর. পি. শর্মা, ১০১/৩/ই সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, কলকাতা-১২।

ডিমটা এখন কৃতান্তবাবুর হাতে। নোটবইতে নাম-ঠিকানাগুলো টুকে নিয়ে দেখলুম, উনি ডিমটা নাকে ঠেকিয়ে শুঁকছেন। বললেন, কেমন একটা গন্ধ বুঝলেন কর্নেল। কতবার রগড়ে ধুয়েও দুর্গন্ধটা যাচ্ছে না।কর্নেল এতক্ষণে ওঁর কাছ থেকে ডিমটা নিয়ে শুঁকে বললেন, হঁ অ্যামোনিয়ার সঙ্গে থাইরামাইন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ মেশালে এইরকম কটু গন্ধ ছড়ায়।

ঘোড়া কেন, যে কোনও জন্তুর কাছে ওই দুটো জিনিস মাখিয়ে কিছু রাখলে সে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, নেশাচ্ছন্ন অবস্থায় থাকলেও হিংস্র হয়ে ওঠে সে। কাছে শব্দ হলেই চমকে ওঠে এবং কামড়াতে আসে। যাই হোক, জয়ন্ত, তুমি ওই তিন বিজ্ঞানীর কাছে আমার এই অভিমতও জানাতে পারো। তাঁরা কী বলেন শোনো।

বলেই হঠাৎ অট্টহাসি হেসে উঠলেন। বললুম, হাসছেন কেন? কর্নেল। হঠাৎ হাসবার কারণ কী? কর্নেল সমানে হাসতে থাকলেন। কৃতান্তবাবু হাঁ করে আছেন। হঠাৎ আমার সন্দেহ জাগল, কর্নেল ওই রাসায়নিক দ্রব্যের সংক্রমণে প্রাণীর মতোই নেশাগ্রস্ত কিংবা পাগলপ্রায় হিংস্র হয়ে পড়েননি তো? আমি কাছে যেতে সাহস না পেয়ে ডাকতে থাকলুম, কর্নেল! কর্নেল! প্লিজ! ষষ্ঠীও ভেতরের দরজার পর্দা তুলে তার বাবা-মশাইকে এমন বিকট হাসতে দেখে হাঁ করে দাঁড়িয়ে গেছে।

হাসির চোটে কর্নেলের হাত থেকে প্রকাণ্ড ডিমটি মেঝেয় পড়ে গেল। পড়েই চৌচির। অমনি কর্নেল হাসি থামিয়ে বলে উঠলেন, এই রে! তারপর টুকরোগুলো কুড়োতে ব্যস্ত হলেন।নাঃ। দিব্যি সুস্থ মানুষ মনে হচ্ছে এখন। টুকরোগুলো কুড়িয়ে হাঁক দিলেন, ষষ্ঠী। এগুলো আমার ল্যাবে রেখে আয় তো বাবা। কাগজে মুড়ে যত্ন করে রাখবি কিন্তু।

কৃতান্ত হালদারমশাইয়ের জোরালো ফোঁস শব্দ কানে এল। বললেন, এমন হাসছিলেন যে আমরা বড্ড ভয় পেয়ে গিয়েছিলুম। কেন হাসছিলেন কর্নেলস্যার? কর্নেল নিভন্ত চুরুট লাইটার জ্বেলে ধরিয়ে বললেন, ডিমটা নিছক প্লাস্টিকে তৈরি।ষষ্ঠীচরণ কাগজে মুড়ে খোলসগুলো নিয়ে গেল। ভেতরে কিছু নেই। ফাপা একটা নিচ্ছিদ্র ডিম্বাকৃতি খোল মাত্র এবং কর্নেল তো বলেই দিলেন, ওটা প্লাস্টিক তৈরি।

এবার কৃতান্তবাবু নড়ে বসলেন। বললেন, হ হ। আমারও হেই ডাউট হইছিল। সাহস কইর‍্যা কইতে পারি নাই। হ–ঠিক কইছেন। প্লাস্টিক। সঙ্গে সঙ্গে আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল, যাদুগোপালবাবুর প্লাস্টিক গুডস তৈরির কারখানা আছে না? আছে। -কর্নেল চুরুটের ধোঁয়ার মধ্যে বললেন, যাই হোক, তবু আমিই যে ঠিক বলছি, তারও প্রমাণ নেই–যতক্ষণ না ল্যাবরেটরিতে জিনিসটা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ডার্লিং! তুমি বরং তোমার কাজটা আজই সেরে ফ্যালো। ওই তিন বিজ্ঞানীর কাছে গিয়ে ওঁদের মতামত জেনে নাও। দেরি কোরো না। বেরিয়ে পড়ো।সন্ধ্যা ছ-টা নাগাদ কর্নেলের ফ্ল্যাটে হাজির হলুম, তখন আমি ক্লান্ত, ক্ষুব্ধ। ধপাস করে ওঁর যাদুঘর-সদৃশ ড্রয়িংরুমের ভেতর সোফায় বসে পড়ে সকালের কৃতান্তবাবুর গলায় বললুম, কফি! শুধু কফি! দেখলুম, প্রাইভেট গোয়েন্দা হালদারমশাইও বসে রয়েছেন।

মুখটা গম্ভীর। কর্নেল ষষ্ঠীকে ডেকে ঝটপট কফির ফরমাশ করে আমার দিকে ঘুরলেন। মুখে মিটিমিটি হাসি। বললেন, খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে তোমাকে।-হুঁ ভীষণ ক্লান্ত।এবং ক্ষুব্ধ দেখাচ্ছে।–হ্যাঁ। আমি ক্ষুব্ধ খামোখা ছুটোছুটি করে তিন বিজ্ঞানীকে খুঁজে পাওনি। -বৃদ্ধ গোয়েন্দাপ্রবর সহাস্যে বললেন, পাওনি, কারণ সত্যি সত্যি ও নামে কোনো বিজ্ঞানী নেই।

খাপ্পা হয়ে বললুম, এমনকী ঠিকানাও ভুয়ো।কর্নেল তার সাদা দাড়িতে আঙুলের চিরুনিতে আঁচড় কাটতে কাটতে বললেন, অবশ্য ব্যারাকপুর থানার সাব-ইস্পেক্টর বারীন মণ্ডল ওঁর কথার ওপর বললুম, ওই থানাতেও গিয়েছিলুম। বারীনবাবুর ইন্টারভিউ নিয়েছি।উনি জগনের কাছে খবর পেয়ে ব্যাপারটা দেখতে গিয়েছিলেন মাত্র।

অফিসিয়াল তদন্তের প্রশ্নই ওঠে না। বললেন, হ্যাঁ–একটা প্রকাণ্ড ডিম দেখেছেন বটে। তবে ঘোড়াটার পেটের তলায় নয়। একটু তফাতে–গ্যারাজের কোনায়, ঘোড়াটার মুখের দিকে।এবং ঘোড়াটা ঝিমোচ্ছিল।–হ্যাঁ! এবং বারীনবাবুর ডিমটার দিকে এগোলে চিঁহি ডাক ডেকে ওঁকে কামড়াতে এসেছিল।এবার অবাক হয়ে বললুম, তাহলে আপনি তো সবই জানেন দেখছি।

ষষ্ঠী কফি আনল। চুমুক দিলুম। ষষ্ঠী কফিটা দারুণ করে। ক্লান্তি জুড়িয়ে গেল। কর্নেল একটু হেসে বললেন, জানি-মানে, কাল সকালে যাদুগোপালবাবু চলে যাওয়ার পর বিজ্ঞানীত্রয়ের খোঁজে বেরিয়েছিলুম। পাত্তা না পেয়ে ব্যাপাকপুর থানায় গিয়েছিলুম। এসবের জন্যই যাদুগোপালবাবু সঙ্গে যেতে অনুরোধ করা সত্ত্বেও সঙ্গে যাইনি।

সন্ধ্যায় যাব বলেছিলুম। ডার্লিং! তুমি তো জানো, আমি আগে ভালো করে চারদিক না দেখেশুনে কোনো কাজে পা বাড়াইনে।কৃতান্তবাবু বারবার ঘড়ি দেখছিলেন। বললেন, সাড়ে ছটা বেজে গেল। এখনও তো লালবাজার থেকে ডি. সি. ডি. ডি. সায়েব এলেন না।বললুম, ডি. সি. ডি. ডিমানে গোয়েন্দা দফতরের কর্তা অরিজিৎ লাহিড়ী? কর্নেল শুধু মাথা দোলালেন।

কৃতান্তবাবু একটু অস্থিরভাবে বললেন, পুলিশের আর সে ডিসিপ্লিন নাই। সব ভাইঙ্গা তছনছ হইয়া পড়ছে। রেগুলারিটি নাই। কিছু নাই। কথা দিয়া, কথা রাখেন না কেউ। আমাগো আমলে কী অবস্থা আছিল কহন যায় না। একবার হইল কি বাধা পড়ল ওঁর কথায়। কলিংবেল বাজল। অমনি কৃতান্তবাবু নড়েচড়ে এবং হাসিমুখে ঝটপট উঠে দাঁড়ালেন। চাপা গলায় বললেন, সায়েব আইয়া পড়েছেন।

প্রাক্তন ইস্পেক্টর কৃতান্ত হালদার ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি কমিশনার সায়েবকে স্যালুট ঠোকার জন্য অ্যাটেনশানভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন দেখে হাসি পাচ্ছিল। কিন্তু তার বরাত! লাহিড়ীসায়েবের বদলে যিনি এলেন, তিনি যাদুগোপাল।মুখে গভীর শোকের ছাপ। কর্নেল আস্তে বললেন, বসুন যাদুগোপালবাবু।

যাদুগোপালবাবু ক্লান্তভাবে বসলেন। পকেট থেকে রুমাল বের করে চোখ মুছে ভাঙা গলায় বললেন, জগন যে এমন বিশ্বাসঘাতকতা করবে, কল্পনাও করিনি। দুধ দিয়ে সাপ পুষেছিলুম, কর্নেল!কৃতান্তবাবু বসে পড়েছেন। মুখটা গম্ভীর। কর্নেল বললেন, আচ্ছা যাদুগোপালবাবু, জগন কেন আপনার দাদাকে খুন করল? এ সম্পর্কে আপনার কী ধারণা? যাদুগোপালবাবু বললেন, একটা সন্দেহ হচ্ছে –হুঁ, বলুন।

-মায়ের কাছে শুনেছিলুম, বাবা নাকি একবার নিলামে বহু টাকা দামের হিরে মুক্তোর অলংকার কিনেছিলেন। কিন্তু সেগুলো বাবা কোথায় রেখে গেছেন, হদিস পাওয়া যায়নি। এখন। আমার মনে হচ্ছে, দাদার কাছেই সেগুলো লুকোনো ছিল। গত বছর কারবারে প্রচণ্ড লোকসানের শকে দাদার মাথায় গণ্ডগোল দেখা যায়। আমাদের প্লাস্টিক গুডস তৈরির কারখানা আছে। এখন মনে হচ্ছে, দাদা গোপনে একটা প্লাস্টিকের খোল তৈরি করে কৃতান্তবাবু বলে উঠলেন, ঘোড়ার ডিম বলুন। অশ্বডিম্ব।

যাদুগোপাল একটু বিরক্ত হলেন বোঝা গেল। বললেন, আঃ! কথাটা শুনুন আগে। ওটাই দাদার পাগলামি। জিনিসগুলো ওই ডিমের গড়ন খোলের ভেতর ঢুকিয়ে মুখটা সিল করে দিয়েছিলেন। তারপর পাগলামির ঝোঁকে আমার ঘোড়াটার কাছে রেখে এসেছিলেন। স্রেফ পাগলামি ছাড়া কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। যাই হোক ধূর্ত জগন কীভাবে তা টের পেয়ে জিনিসটা চুরি করে বাগানে পুঁতে রেখে আমাকে কাল সকালে এখানে মিথ্যে ফোন করেছিল।

কর্নেল সায় দিয়ে বললেন, ঠিক, ঠিক! যাদুগোপাল শ্বাস ফেলে বললেন, কাল সন্ধ্যোয় ওটা… আমি বাধা দিয়ে বললুম, কিন্তু হরু ঠাকুর যখন চোর চোর বলে চাঁচায়, তখন তো জগন আমাদের সঙ্গে ছিল।যাদুগোপালবাবু জোরে মাথা নেড়ে বললেন, না না। ওর কোনো লোককে বলা ছিল। সেই লোকই ওর কথামতো বাগানে ঢুকে জিনিসটা ঠিক জায়গা থেকে তুলে নিয়ে পালায়। জগনকে তো জানেন না। পাড়ায় ওর চ্যালার অভাব নেই।

কর্নেল বললেন, তা সম্ভব বটে।যাদুগোপালবাবু জোর দিয়ে বললেন, ঠিক তাই। চোর তাড়ানোর ছলে শয়তানটা ওপরে গিয়ে দাদাকে খুন করে। তারপর ভালোমানুষ সেজে গঙ্গার দিকের দরজা খুলে আমাদের কাছে আসে। আমরা তখন বাগানে। –ঠিক, ঠিক। আপনার কথায় যুক্তি আছে।

এবার যে জন্য আপনার কাছে ছুটে এলুম, বলি। -যাদুগোপালবাবু কান্না জড়ানো স্বরে বললেন, ব্যাটাচ্ছেলে আমার নামে পুলিশকে কিসব বলেছে। পুলিশ আমাকে জেরায় জেরায় জেরবার করে দিচ্ছে। আমিই নাকি ষড়যন্ত্র করেছিলুম দাদাকে খুন করার জন্য। অথচ দেখুন, আপনি আর জয়ন্তবাবু সাক্ষী। দাদাকে আমরা তিনজন জীবিত অবস্থায় বই পড়তে আর কথাবার্তা বলতে শুনেছি।

কর্নেল জোরগলায় বললেন, হ্যাঁ–শুনেছি। আপনি আমাদের সঙ্গেই ছিলেন সারাক্ষণ।এবারে দয়া করে পুলিশকে সেই কথাটা বলুন, স্যার।–কাল রাত্রে তো পুলিশকে আমরা বলেছি সেকথা।-আজ আবার পুলিশ উলটো গাইছে। জগন নাকি কিসব কবুল করেছে। আমাকে যে কোনো সময় পুলিশ অ্যারেস্ট করবে মনে হচ্ছে। তাই আপনার কাছে ছুটে এলুম কর্নেল স্যার! আপনারা আমার সাক্ষী।

আমি দৈনিক সত্যসেবক পত্রিকার অন্তর্তদন্তের দ্বিতীয় দফা হিসেবে যাদুগোপালবাবুর বক্তব্য নোট করছিলুম। সায় দিয়ে বললুম, আলবাত সাক্ষী আমরা। কিন্তু তিন বিজ্ঞানী টা আর বলা হল না। কর্নেল চোখ কটমটিয়ে বললেন, থামো তো তুমি! এই কাগজের লোকগুলো তিলকে তাল করতে ওস্তাদ।

তারপর যাদুগোপালবাবুর দিকে মিঠে গলায় বললেন, একটু বসুন। কৃফি খান। লালবাজার থেকে ডি. সি. ডি. ডি. সায়েব এসে যাবেন। আমরা তাকে বলব-হা, সুস্পষ্ট ভাষায় বলব, আপনার দাদাকে আমরা জীবিত অবস্থায় দেখেছি এবং তখন আপনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন। ঘরে পর্যন্ত ঢোকেননি। এমনকী, হরুঠাকুরের চ্যাঁচামেচি শুনে যখন নিচের বাগানে যাই, তখনও আপনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন।

আপনার সঙ্গে আমরা বাগান থেকে ফিরে ফের যখন ওপরে আপনার দাদার ঘরে যাই, তখন ওঁকে নিহত অবস্থায় দেখি। কাজেই আপনাকে খুনি শাব্যস্ত করার কোনো উপায় নেই–পুলিশ যাই বলুক। আপনি কিছু ভাববেন না।যাদুগোপালবাবু ধাতস্থ হয়ে বসলেন। রুমালে চোখ মুছতে থাকলেন। বললেন, দাদাকে চিরদিন সহোদর বলেই জেনেছি।

আমাকে মানুষ করেছেন দাদা। আর তাকে আমি-ওঃ! কৃতান্তবাবু কী বলতে যাচ্ছিলেন, কলিংবেল বাজাল। কিন্তু এবার আর উঠে দাঁড়ালেন না সেলাম ঠোকার জন্য। মুখটা কেমন বাঁকা।ডি. সি. ডি. ডি. অরিজিৎ লাহিড়ী ঘরে ঢুকেই বললেন, মাই ওল্ড ম্যান! ইউ আর রাইট–একেবারে কাঁটায় কাঁটায় রাইট। ওটা পাওয়া গেছে। কৃতান্তবাবু এতক্ষণে উঠে খট করে সেলাম ঠুকলেন। অরিজিৎ তার দিকে তাকালেন না।

যাদুগোপালবাবুকে দেখে কর্নেলকে জিজ্ঞেস করলেন, ইনি কে? কর্নেল পরিচয় করিয়ে দিলেন। অমনি যাদুগোপালবাবু হাউমাউ করে কেঁদে বলে উঠলেন, এঁরা সাক্ষী স্যার! এঁদের জিজ্ঞেস করুন, আমি লাহিড়ীসায়েব বললেন, কর্নেল! একবার ফোন করব।স্বচ্ছন্দে। -কর্নেল কোনার দিকে তুলে রাখা ফোনটা দেখিয়ে দিলেন।

লাহিড়ীসাহেব ফোনে কার সঙ্গে চাপা গলায় কিসব কথাবার্তা বলে সোফায় এসে বসলেন। যাদুগোপালবাবুর পাশেই বসলেন। লাহিড়ীসায়েবের হাতে একটা ব্রিফকেস। নিচু টেবিলটাতে রেখে মৃদু হেসে কর্নেলকে বললেন, মর্গের রিপোর্ট পাওয়া গেছে।কর্নেল বললেন, কী আছে রিপোর্টে? লাহিড়ীসায়েব ব্রিফকেস সামান্য খুলে একটা কাগজ বের করে কর্নেলকে দিলেন।

যাদুগোপালবাবু চাপা উত্তেজনায় সোজা হয়ে বসে বললেন, কী লিখেছে রিপোর্টে, কর্নেলস্যার? কর্নেল একটু হেসে বললেন, বলছি। কাল আমি ও জয়ন্ত ঠিক কটা নাগাদ আপনার বাড়ি গিয়েছিলুম, যাদুগোপালবাবু?যাদুগোপাল হকচকিয়ে বললেন, টাইম তো দেখিনি স্যার। সন্ধ্যাবেলায় গিয়েছিলেন। ঠিক সাড়ে ছটায়। কর্নেল বললেন, গিয়ে দরজার বাইরে থেকে আপনার দাদাকে বই পড়তে দেখলুম। কথাও বললেন

কর্নেলস্যার! তার আগে সিঁড়িতে ওঠার সময় লোডশেডিং হয়েছিল। তখন দাদাকে–অ্যাই জগনা বলে চাঁচাতেও শুনেছিলেন।কর্নেল নির্বিকার মুখে বললেন, হ্যাঁ আপনার মুখস্থ আছে দেখছি। যাই হোক, মর্গের রিপোর্ট বলছে, আপনার দাদার মৃত্যু হয়েছে বিকেল চারটে থেকে ছ-টার মধ্যে। তার মানে, সাড়ে ছটার পর আমরা যখন প্রাণগোপালবাবুর ঘরের সামনে যাই, তখন উনি মৃত–অন্তত মর্গের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মতে।

খটকা আমারও লেগেছিল রক্তের চেহারা এবং ছড়িয়ে পড়ার ধরন দেখে। আঁচ করেছিলাম, খুনটা সেই মুহূর্তে হয়নি–বিশেষজ্ঞের রিপোর্টে তা যাচাই হয়ে গেল।যাদুগোপাল ভাঙা গলায় বললেন, ভুল, ভুল রিপোর্ট। ডাক্তার ঘুষ খেয়েছে জগনার কাছে। দাদা জগনের সঙ্গে কথা বলছে, তাও শুনেছেন। জগন মোমের আলো ঠিক জায়গায় বসিয়ে দিল। তখন দাদা বললেন, ঠিক আছে। তুই যা। তারপর জগন আপনাদের কথা বলল।

তখন দাদা বাধা দিয়ে কর্নেল লাহিড়ীসায়েবের দিকে একটা চোখ রেখে বললেন, যাদুগোপালবাবু, টেপরেকর্ডার নামে একটা যন্ত্র আছে, জানেন তো? যাদুগোপালবাবু উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেই কৃতান্তবাবু তাকে টেনে বসিয়ে দিলেন। আর সেই মুহূর্তে লাহিড়ীসায়েব একটি ছোট্ট টেপরেকর্ডার বের করলেন ব্রিফকেস থেকে। যন্ত্রটায় ধুলো-কাদা মাখা। লাহিড়ীসায়েব একটু হেসে কর্নেলকে বললেন, আপনি গ্যারাজে ঘোড়ার জাবনা খাওয়া পাত্রের তলায় খুঁজতে বলেছিলেন। ঠিক সেখানেই পাওয়া গেছে। তবে মেঝেয় পোঁতা ছিল।

কর্নেল বললেন, হ্যাঁ–ওটাই সম্ভাব্য জায়গা বলে মনে হয়েছিল।লাহিড়ীসায়েব টেপটা চালিয়ে দিলেন। কিছুক্ষণ পরে খ্যানখেনে গলায়–গতকাল সন্ধ্যায়। শোনা সেই চ্যাঁচামেচি শোনা গেল : অ্যাই জগনা!…তার আন্দাজ দুমিনিট পরে : ঠিক আছে, তুই যা। …আমার সময় নেই। যেতে বল। ..এখন না। এখন না। পরে আসতে বল। আমি ব্যস্ত।

টেপ বন্ধ করে দিলেন লাহিড়ীসায়েব। কর্নেল বললেন, আমাকে নিজের নির্দোষিতার সাক্ষী রাখতে চেয়েছিলেন যাদুগোপালবাবু। এই বিকৃত স্বরে কথাবার্তা ওঁরই। দারুণ হত্যা পরিকল্পনা! জগন ওঁর সহকারী হয়েছিল টাকার লোভে।লাহিড়ীসায়েব বললেন, জগন সব কবুল করেছে। হিরে-মুক্তোর ব্যাপারটা সত্যি। তাই নিয়েই দুই ভাইয়ে ইদানীং ঝগড়াঝাটি চলছিল।

কর্নেল বললেন, জগনকেও সন্দেহ করা যেত না। অ্যারেস্ট করার কারণ খুঁজে পেত না পুলিশ। কারণ সে আমাদের সঙ্গে থাকত। কিন্তু আমাদের হালদারমশাই নাক গলাতে গিয়ে গণ্ডগোল করে। ফেলেছিলেন। উনি অশ্বডিম্ব চুরি না করতে গেলে জগন অমন করে দৌড়ে যেত না। কিছুক্ষণের জন্য সে আমাদের সঙ্গছাড়া হয়েছিল।

তাই তার ওপর সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক। নইলে পুলিশ বাইরের অজ্ঞাত পরিচয় খুনির পেছনে হন্যে হত। ঘোড়ার ডিম খুঁজে বেড়াত। -কর্নেল হাসতে থাকলেন।বললুম, কিন্তু দ্বিতীয়বার গিয়ে প্রাণগোপালবাবুকে উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি।কর্নেল বললেন, নিচে চোর চোর চ্যাঁচামেচি শুনে জগন, ঘর থেকে দৌড়ে বেরুনোর সময় বুদ্ধি করে আগেই মৃত প্রাণগোপালকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।

ভুলে যেয়ো না, তখন চোর চোর শুনে আমাদের চোখ অন্যদিকে ঘুরে গেছে। সেই সুযোগ সে নিয়েছে। এমনকী লোডশেডিংও সাজানো ব্যাপার। কারণ আমার চোখ এড়ায়নি, পাড়ায় আলো ছিল। শুধু ওই বাড়িটাই অন্ধকার হয়ে গেল। জগনই সিঁড়ির মাথায় দ্বিতীয় একটা মেইন সুইচ অফ করে দিয়েছিল।

দ্বিতীয়বার গঙ্গার ঘাটের দরজা বন্ধ করার অছিলায় তাকে সরিয়ে দেওয়ার মানেই হল আমাদের অসাক্ষাতে যেন সে আবার মেইন সুইচ অন করে দেয়। করেও ছিল তাই।লাহিড়ীসায়েব হাসলেন, কারেক্ট। নিচেই মেন সুইচ থাকে। কিন্তু আমাদের এক অফিসারের চোখে পড়ে, দ্বিতীয় একটা মেইন সুইচ সিঁড়ির মাথায় ডানদিকের দেয়ালে বসানো হয়েছে। সেটা আনকোরা নতুন।

কর্নেল বললেন, যাদুগোপালবাবুই দ্বিতীয়বার তাঁর দাদার ঘরে যাবার জন্য তাগিদ দেন মনে পড়ছে, জয়ন্ত? কারণ, এবার তাকে দেখাতে হবে, প্রাণগোপালবাবু নিহত হয়েছেন! কৃতান্তবাবু মুখ খুললেন এতক্ষণে, কিন্তু অশ্বডিম্বটার ব্যাপার বুঝলুম না! কর্নেল বললেন, খুব প্রাঞ্জল। আমি রহস্যটহস্যের গন্ধ পেলে ছুটে যাই-যাদুগোপালবাবু বিলক্ষণ জানেন। তাই প্লাস্টিক কারখানার আজগুবি অশ্বডিম্ব বানিয়ে পুলিশ অফিসার বারীন মণ্ডলকেও সেটা দেখিয়ে সাক্ষী রেখেছিলেন–সত্যি যেন ডিম্ব প্রসব করেছে তার ঘোড়া।

তারপর আমার পক্ষে অশ্বডিম্বের প্লাস্টিক বডি টের পেতে দেরি হবে না ভেবে সেটা জগনকে বলে এসেছিলেন লুকিয়ে ফেলতে। ওটা আমাকে নিয়ে যাওয়ার একটা অছিলা। তাছাড়া পুলিশ এই খুনের সঙ্গে অশ্বডিম্ব রহস্য জড়িয়ে ধাঁধায় পড়ুক এই ছিল ওঁর উদ্দেশ্য। যাই হোক, সিঁড়িতে বুটের শব্দ শোনা যাচ্ছে, অরিজিৎ, তোমার বাহিনী আসছে।যাদুগোপালবাবুর দিকে তাকিয়ে দেখলুম, খড়ের কাকতাড়ুয়া হয়ে বসে আছেন। ..

 

Read more

কালো পাথর – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *