মাইগ্রেনের যন্ত্রণায় করণীয়

মাইগ্রেনের যন্ত্রণায় করণীয়

মাইগ্রেন হলো এক ধরনের তীব্র মাথাব্যথা, যা অনেক সময় কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সাধারণ মাথাব্যথার চেয়ে মাইগ্রেন বেশি কষ্টদায়ক এবং এতে বমি বমি ভাব, আলো-শব্দে অস্বস্তি, চোখে ঝাপসা দেখা ইত্যাদি সমস্যা হয়।


মাইগ্রেনের সাধারণ লক্ষণ

  • মাথার এক পাশে তীব্র ব্যথা

  • আলো বা শব্দে বিরক্তি

  • চোখ ঝাপসা হয়ে যাওয়া

  • বমি বমি ভাব বা বমি

  • ক্লান্তি ও মনোযোগের অভাব


মাইগ্রেন হওয়ার কারণ

  • ঘুমের অভাব

  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ

  • অনিয়মিত খাবার খাওয়া

  • চকলেট, কফি বা অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড

  • দীর্ঘক্ষণ মোবাইল/কম্পিউটার ব্যবহার

  • হরমোনের পরিবর্তন


✅ মাইগ্রেনের যন্ত্রণায় করণীয়

১. পর্যাপ্ত ঘুম

প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম মাইগ্রেন প্রতিরোধে সহায়ক।

২. ট্রিগার ফুড এড়িয়ে চলুন

চকলেট, ক্যাফেইন, অতিরিক্ত লবণাক্ত বা প্রিজারভেটিভযুক্ত খাবার অনেক সময় মাইগ্রেন বাড়ায়।

৩. প্রচুর পানি পান করুন

ডিহাইড্রেশন মাইগ্রেনের অন্যতম কারণ। দিনে অন্তত ২–৩ লিটার পানি পান করুন।

৪. ঠান্ডা বা গরম সেঁক নিন

মাথার যন্ত্রণার সময় বরফের প্যাক বা হালকা গরম তোয়ালে সেঁক দিলে আরাম পাওয়া যায়।

৫. শব্দ ও আলো এড়িয়ে চলুন

মাইগ্রেন হলে অন্ধকার, শান্ত ঘরে বিশ্রাম নিন।

৬. নিয়মিত ব্যায়াম ও যোগব্যায়াম

হালকা ব্যায়াম, যোগ ও মেডিটেশন স্ট্রেস কমিয়ে মাইগ্রেন প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৭. ওষুধ

ডাক্তারদের পরামর্শে পেইন রিলিভার বা ট্রিপটান জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে নিজে থেকে ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।


⚠️ কখন ডাক্তার দেখাবেন?

  • মাথাব্যথা খুব বেশি দিন স্থায়ী হলে

  • বারবার মাইগ্রেন হলে

  • ওষুধ খেয়েও কাজ না করলে

  • দৃষ্টি ঝাপসা বা অসাড়তা দেখা দিলে


উপসংহার

মাইগ্রেন একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলেও সঠিক জীবনযাপন, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম ও স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এটি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তবে যাদের নিয়মিত বা তীব্র মাইগ্রেন হয়, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *