মায়া – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

দু-বছর আগের কথা বলি। এখনও অল্প-অল্প যেন মনে পড়ে। সব ভুল হয়ে যায়। কী করে এলাম এখানে! বগুলা থেকে রাস্তা চলে গেল সিঁদরানির দিকে। চলি সেই রাস্তা ধরেই। রাঁধুনি বামুনের চাকরিটুকু ছিল অনেক দিনের, আজ তা গেল। যাক, তাতে কোনো দুঃখ নেই। দুঃখ এই অবিচারে চাকরিটা গেল। ঘি চুরি করিনি, কে করেছে আমি জানিও না,… Continue reading মায়া – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সোনাকরা যাদুকর – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

রোহিণী রায় আমাদের গ্রামের জমিদার ছিলেন শুনেছিলাম।………আমাদের পাড়ায় তাঁদের মস্ত দোতলা বাড়ি। তিন-চার শরিকে ভাগ হয়ে এক একখানা ঘরে বাস করে এক-এক শরিক— এই অবস্থা। ধানের জোতজমি যা আছে, তাতে একটা গোলাও ভরে না। রোহিণী রায়ের বর্তমান বংশধরগণ পেটপুরে দু-বেলা খেতেও পান না। আমি আর নন্তু রোহিণী রায়ের চণ্ডীমণ্ডপে, বেণীমাধব রায়ের পাঠশালায় রোজ পড়তে যাই।… Continue reading সোনাকরা যাদুকর – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ডুমনিগড়ের মানুষখেকো – সত্যজিৎ রায়

আমি তখন ছিলাম ডুমনিগড় নেটিভ স্টেটের ম্যানেজার, বললেন তারিণীখুড়ো।……ডুমনিগড় ম্যাপে আছে? জিজ্ঞেস করল ন্যাপলা। ন্যাপলার মুখে কিছু আটকায় না।…..তোর কি ধারণা ম্যাপে যা আছে তার বাইরে আর কিছু নেই? চোখ-কান কুঁচকে বিস্ময় আর। বিরক্তি দুটোই একসঙ্গে প্রকাশ করে বললেন তারিণীখুড়ো। ম্যাপ তৈরি করে কারা? মানুষে তো! ভগবানের সৃষ্টিতে ডিফেক্ট থাকে জানিস? জোড়া মানুষ সায়ামীজ টুইসের… Continue reading ডুমনিগড়ের মানুষখেকো – সত্যজিৎ রায়

অন্নপ্রাশন – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

খোকার অবস্থা শেষ রাত হইতে ভালো নয়। কী যে অসুখ তা-ই কী ভালো করিয়া ঠিক হইল? জন্তিপুরের সদানন্দ নাপিত এসব গ্রামে কবিরাজি করে, ভালো কবিরাজ বলিয়া পসারও আছে। সে বলিয়াছিল, সান্নিপাতিক জ্বর। মহেশ ডাক্তারের কম্পাউন্ডার একটাকা ভিজিটে রোগী দেখে, সে বলিয়াছিল, ম্যালেরিয়া। মহেশ ডাক্তারকে আনিবার মতো সংগতি থাকিলে এতদিন তাহাকে আনা হইত; কাল বৈকালে যে… Continue reading অন্নপ্রাশন – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

অন্নপ্রাশন (৩য় পর্ব) – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

হারাণ আমার প্রতিবেশী, আমার বাড়ির পাশেই তার বাড়ি। তার ছেলে-মেয়ে আমার নাতি-নাতনির বয়সি।আজ আমার বাড়ির কাজ, আর তারা মুখ চুন করে বাড়ি বসে থাকবে, এ বাড়িতে আসতে পারবে না, খুদকুঁড়ো যা দুটো রান্না হয়েছে তা মুখে দিতে পারবে না, এতে আমার মন ভালো নেয় না। আপনারা বিচার করুন তার কী দোষ—আমাদের গাঁয়ের লোক মিলে আজ… Continue reading অন্নপ্রাশন (৩য় পর্ব) – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

অন্নপ্রাশন (২য় পর্ব) – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

তিন-চারজন ছুটিল কুমার চক্রবর্তীকে বুঝাইয়া ঠান্ডা করিয়া ফিরাইয়া আনিতে। কুমার চক্রবর্তী যে একরোখা, চড়ামেজাজের মানুষ সবাই তা জানে।কিন্তু ইহাও জানে যে, সে রাগ তার বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। নায়েবমশায় বলিলেন—তুমি যেও না হরি খুড়ো—তোমার মুখ ভালো না, আরও চটিয়ে দেবে। কার্তিক যাক আর শ্যামলাল যাক— হারাণ চক্রবর্তীর যে মেয়েটিকে লইয়া ঘোঁট চলিতেছে, সে মেয়েটি কাজের… Continue reading অন্নপ্রাশন (২য় পর্ব) – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বারিক অপেরা পার্টি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সকালবেলা। একজন কাঁচা-পাকা দাড়িওয়ালা মুসলমান আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললে —সালাম বাবু। –কে তুমি? —আমার নাম বারিক মণ্ডল, বাড়ি চালদী। আপনার কাছে এটু আলাম— –কেন? —ধানি জমি কিনবেন? পঞ্চাশের মন্বন্তর তখনো উগ্র হয়ে ওঠেনি, দিকে দিকে ওর আগমনবার্তা অল্পে অল্পে ঘোষিত হচ্ছে। একটা ব্যাপার শেষ না-হয়ে গেলে বোঝা যায় না সেটা কত বড়ো হল। সবাই… Continue reading বারিক অপেরা পার্টি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সংস্কার – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

চিত্রগুপ্ত এমন অনেক পাপের হিসাব বড়ো অক্ষরে তাঁর খাতায় জমা করেন যা থাকে পাপীর নিজের অগোচরে। তেমনি এমন পাপও ঘটে যাকে আমিই চিনি পাপ ব’লে, আর কেউ না। যেটার কথা লিখতে বসেছি সেটা সেই জাতের। চিত্রগুপ্তের কাছে জবাবদিহি করবার পূর্বে আগে-ভাগে কবুল করলে অপরাধের মাত্রাটা হাল্কা হবে। ব্যাপারটা ঘটেছিল কাল শনিবার দিনে। সেদিন আমাদের পাড়ায়… Continue reading সংস্কার – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দর্পহরণ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কী করিয়া গল্প লিখিতে হয়, তাহা সম্প্রতি শিখিয়াছি । বঙ্কিমবাবু এবং সার ওয়াল্‌টার স্কট পড়িয়া আমার বিশেষ ফল হয় নাই । ফল কোথা হইতে কেমন করিয়া হইল , আমার এই প্রথম গল্পেই সেই কথাটা লিখিতে বসিলাম । আমার পিতার মতামত অনেকরকম ছিল ; কিন্তু বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কোনো মত তিনি কেতাব বা স্বাধীনবুদ্ধি হইতে গড়িয়া তোলেন… Continue reading দর্পহরণ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মহারাজা তারিণীখুড়ো – সত্যজিৎ রায়

আজ আপনার কপালে ভ্রূকুটি কেন খুড়ো? জিজ্ঞেস করল ন্যাপলা। এটা অবিশ্যি আমিও লক্ষ করেছিলাম। খুড়ো তক্তপোশের উপর বাবু হয়ে বসে ডান হাতটা পায়ের পাতায় রেখে অল্প অল্প দুলছেন, তাঁর কপালে ভাঁজ।খুড়ো বললেন, এই বাদলার সন্ধ্যায় গরম চা যতক্ষণ না পেটে পড়ছে ততক্ষণ ভ্রূকুটি থাকতে বাধ্য। আপনার কপালে ভ্রূকুটি কেন খুড়ো? জিজ্ঞেস করল ন্যাপলা। এটা অবিশ্যি আমিও… Continue reading মহারাজা তারিণীখুড়ো – সত্যজিৎ রায়