বেলতলাতে দু-দুবার (৩য় পর্ব) – সৈয়দ মুজতবা আলী

আমাদের দেশে যেমন বাচ্চা মেয়ের নাম ‘পেঁচির মা, ‘ঘেঁচির মা’ হয়, আপন বাচ্চা জন্মাবার বহু পূর্বে, মনিক অঞ্চলে তেমনি ডক্টরেট প্রসব করার পূর্বেই পোয়াতী অবস্থাতেই আত্মীয়স্বজন ডাকতে আরম্ভ করে, ‘হের ডক্টর। আমার তখনো ডক্টরেট পাওয়ার ঢের বাকি, কিন্তু আত্মজনের নেকনজরে আমি য়ুনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হার্ড-বয়লড ‘হের ডক্টর’ হয়ে গিয়েছিলুম। মারিয়ার অবিশ্যি এই বোেকায়… Continue reading বেলতলাতে দু-দুবার (৩য় পর্ব) – সৈয়দ মুজতবা আলী

বেলতলাতে দু-দুবার (২য় পর্ব) – সৈয়দ মুজতবা আলী

মহা বিপদগ্রস্ত হলুম। বাড়ির বড় ছেলে আমার সঙ্গে মন কষাকষি করে পালিয়ে পালিয়ে বেড়ায়, আর-সবাই সে সম্বন্ধে সচেতন, অষ্টপ্রহর অস্বস্তিভাব, বুড়োবুড়ি আমার দিকে সব সময় কী রকম যেন মাপ-চাই ভাবে তাকান-মরুক গে, কী হবে এখানে থেকে!বুড়োবুড়ি তো কেঁদেই ফেললেন। মারিয়া আমার কাছে ইংরিজি পড়ত। সে দেখি জিনিসপত্র প্যাক করছে। বলল, চললুম কিছুদিনের জন্য মাসির বাড়ি।… Continue reading বেলতলাতে দু-দুবার (২য় পর্ব) – সৈয়দ মুজতবা আলী

বেলতলাতে দু-দুবার – সৈয়দ মুজতবা আলী

বার্লিন শহরে ‘হিন্দুস্থান হৌসে’র আড্ডা সেদিন জমিজমি করেও জমছিল না। নাৎসিদের প্রতাপ দিনের পর দিন বেড়েই যাচ্ছে। আড্ডার তাতে কোনো আপত্তি নেই, বরঞ্চ খুশি হবারই কথা। নাৎসিরা যদি একদিন ইংরেজের পিঠে দু-চার ঘা লাগাতে পারে তাতে অদ্ভুত এ-আর কেউ বেজার হবে না। বেদনাটা সেখানে নয়, বেদনাটা হচ্ছে দু-একটা মুখ নাৎসিকে নিয়ে। ফর্সা ভারতীয়কে তারা মাঝে… Continue reading বেলতলাতে দু-দুবার – সৈয়দ মুজতবা আলী

পুনশ্চ – সৈয়দ মুজতবা আলী

অভিজ্ঞতাটা হয়েছিল প্যারিসে। কিন্তু এ রকম ধারা ব্যাপার বার্লিন, ভিয়েনা, লন্ডন, প্রাগ যে-কোনো জায়গায় ঘটতে পারত।প্যারিসে আমার পরিচিত যে কয়টি লোক ছিলেন তাঁরা সবাই গ্রীষ্মের অন্তিম নিশ্বাসের দিনগুলো গ্রামাঞ্চল অথবা সমুদ্রতীরে কাটাতে চলে গিয়েছেন। বড্ড একা পড়েছি। ন্যাশনাল লাইব্রেরি আর গিমে মজিয়মে সমস্ত সময় কাটান যায় না—প্যারিসের ফুর্তিফার্তি রঙ্গরস করা হয়ে গিয়েছে, তার পুনরাবৃত্তিতে আর… Continue reading পুনশ্চ – সৈয়দ মুজতবা আলী

‘শেয়ালসা পীরের দরগা’ – জসীম উদ্দীন

রহিম এক ঝাঁকা সুপারি নিয়ে হাটে যাচ্ছিল। মাঠের মধ্যে যেখানে তিন পথ একত্র হয়েছে সেখানে শেয়ালে পায়খানা করে রেখেছে। এইখানে এসে সে হঠাৎ আছাড় খেয়ে পড়ল। তার ঝাঁকার সুপারিগুলি কতক এধারে ওধারে পড়ে গেল। আর কতক সেই শেয়ালের বিষ্টার উপর পড়ল। রহিম তখন এধার ওধার হতে সুপারিগুলি তুলে নিল। শেয়ালের বিষ্টার উপর যেগুলি পড়েছিল সেগুলি… Continue reading ‘শেয়ালসা পীরের দরগা’ – জসীম উদ্দীন

দুষ্টু টুনটুনি, বোকা রাজা – জসীম উদ্দীন

টুনটুনি আর টুনটুনা, টুনটুনা আর টুনটুনি। এ ডাল হইতে ও ডালে যায়, ও ডাল হইতে সে ডালে যায়, সে ডাল হইতে আগডালে যায়, আগডাল হইতে লাগডালে যায়, বেগুন গাছে যায়, লঙ্কাগাছে যায়, আমগাছে যায় ; জামগাছে যায় ; বল ত খােকাখুকুরা, আর কোন কোন গাছে যায় ? যে আগে বলিতে পারিবে তারই জিত।কাঁঠাল গাছে, পেয়ারা… Continue reading দুষ্টু টুনটুনি, বোকা রাজা – জসীম উদ্দীন

পুতুলের ভোজ – সুকুমার রায়

পুতুলের মা খুকী আজ ভয়ানক ব্যস্ত। আজ কিনা ছোট্ট পুতুলের জন্মদিন, তাই খুব খাওয়ার ধুম লেগেছে। ছোট্ট টেবিলের উপর ছোট্ট ছোট্ট থালা বাটি সাজিয়ে, তার মধ্যে কি চমৎকার ক’রে খাবার তৈরি ক’রে রাখা হয়েছে। আর চারিদিকে সত্যিকারের ছোট্ট ছোট্ট চেয়ার সাজানো রয়েছে, পুতুলেরা বসে খাবে ব’লে। খুকীর যে ছোটদাদা, তার কিনা সাড়ে চার বছর বয়স,… Continue reading পুতুলের ভোজ – সুকুমার রায়

বিষ্ণুবাহনের দিগ্বিজয় – সুকুমার রায়

বিষ্ণুবাহন খাসা ছেলে। তাহার নামটি যেমন জমকালো, তার কথাবার্তা চাল-চলনও তেমনি। বড় বড় গম্ভীর কথা তাহার মুখে যেমন শোনাইত, এমন আর কাহারও মুখে শুনি নাই। সে যখন টেবিলের উপর দাঁড়াইয়া হাত পা নাড়িয়া ‘দুঃশাসনের রক্তপান’ অভিনয় করিত, তখন আমরা সবাই উৎসাহে হাততালি দিয়া উঠিতাম, কেবল দু-একজন হিংসুটে ছেলে নাক সিঁট্‌কাইয়া বলিত, “ওরকম ঢের ঢের দেখা… Continue reading বিষ্ণুবাহনের দিগ্বিজয় – সুকুমার রায়

‘অনুস্বার বিসর্গ’ – জসীম উদ্দীন

দুই জামাই। বড় জামাই সংস্কৃত পড়ে মস্তবড় পণ্ডিত! ছোট জামাই মোটেই লেখাপড়া জানে না। তাই বড় জামাই যখন শ্বশুর বাড়ি আসে, সে তখন আসে না। সেবার ঈদের সময় শ্বশুর ভাবলেন, দুই জামাইকে একত্র করে ভালোমতো খাওয়াই। তাছাড়া তাদের দুইজনের সঙ্গে তো আলাপ পরিচয় থাকা উচিত। কিন্তু বড় জামাইর কথা শুনলে ছোট জামাই আসবে না। তাই… Continue reading ‘অনুস্বার বিসর্গ’ – জসীম উদ্দীন

মেডেল – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

কয়েক বছর পূর্বে এ-ঘটনা ঘটেছে, তাই এখন মাঝে মাঝে আমার মনে হয় ব্যাপারটা আগাগোড়া মিথ্যে; আমারই কোনোপ্রকার শারীরিক অসুস্থতার দরুন হয়তো চোখের ভুল দেখে থাকব বা ওইরকম কিছু। কিন্তু আমার মন বলে, তা নয়; ঘটনাটি মিথ্যে ও অবাস্তব বলে উড়িয়ে দেবার কোনো কারণ ঘটেনি। আমার তখনকারের অভিজ্ঞতাই সত্যি, এখন যা ভাবছি তা-ই মিথ্যে। ঘটনাটি খুলে… Continue reading মেডেল – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়