নৌকাডুবি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস

১ রমেশ এবার আইন-পরীক্ষায় যে পাস হইবে, সে সম্বন্ধে কাহারো কোনো সন্দেহ ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সরস্বতী বরাবর তাঁহার স্বর্ণপদ্মের পাপড়ি খসাইয়া রমেশকে মেডেল দিয়া আসিয়াছেন– স্কলারশিপও কখনো ফাঁক যায় নাই। পরীক্ষা শেষ করিয়া এখন তাহার বাড়ি যাইবার কথা। কিন্তু এখনো তাহার তোরঙ্গ সাজাইবার কোনো উৎসাহ দেখা যায় নাই। পিতা শীঘ্র বাড়ি আসিবার জন্য পত্র লিখিয়াছেন।… Continue reading নৌকাডুবি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস

চার অধ্যায় -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এলার মনে পড়ে তার জীবনের প্রথম সূচনা বিদ্রোহের মধ্যে। তার মা মায়াময়ীর ছিল বাতিকের ধাত, তাঁর ব্যবহারটা বিচার-বিবেচনার প্রশস্ত পথ ধরে চলতে পারত না। বেহিসাবি মেজাজের অসংযত ঝাপটায় সংসারকে তিনি যখন-তখন ক্ষুব্ধ করে তুলতেন, শাসন করতেন অন্যায় করে, সন্দেহ করতেন অকারণে। মেয়ে যখন অপরাধ অস্বীকার করত, ফস করে বলতেন, মিথ্যে কথা ছিস। অথচ অবিমিশ্র সত্যকথা… Continue reading চার অধ্যায় -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শিকারী গাছ-সুকুমার রায়

উপযুক্তরকম জল মাটি বাতাস আর সূর্যের আলো পাইলেই গাছেরা বেশ খুশী থাকে, আর তাহাতেই তাহাদের রীতিমত শরীর পুষ্টি হয় আমরা ত বরাবর এইরকমই দেখই এবং শুনি। তাহারা যে আবার পোকা মাকড় খাইতে চায়, শিকার ধরিবার জন্য নানারকম অদ্ভুত ফাঁদ খাটাইয়া রাখে এবং বাগে পাইলে পাখিটা ইঁদুরটা পর্যন্ত হজম করিয়া ফেলে, এ কথাটা চট্‌ করিয়া বিশ্বাস… Continue reading শিকারী গাছ-সুকুমার রায়

অশরীরী সুর – হুমায়ূন আহমেদ

দুই বছর আগের কথা (জানুয়ারি, ২০০৯)। লেখার টেবিলে বসেছি। টেবিলে A4 সাইজের কাগজ আছে, বলপয়েন্ট আছে, চায়ের কাপ এবং কাপের পাশে সিগারেটের প্যাকেট আছে। সবচেয়ে বড় কথা, মাথায় গল্প আছে। লিখতে বসে দেখি, কলম চলছে না। শরীরের যে মাসলগুলো আঙুল চালায়, তারা আড়ষ্ট। বাসায় রবি নামের একটি কাজের ছেলে আছে, তার দায়িত্ব শাওনের কুকুরের দেখাশোনা… Continue reading অশরীরী সুর – হুমায়ূন আহমেদ

কাগজ-সুকুমার রায়

এমন সময় ছিল যখন মানুষ লিখিতে শিখিয়াছে, কিন্তু কাগজ বানাইতে শিখে নাই। কোন কোন দেশে তখন পাথরে খোদাই করিয়া লিখিবার রীতি ছিল। কেহবা নরম মাটিতে লিখিয়া সেই মাটি পরে পোড়াইয়া ইঁটের টালি বানাইয়া লইত। সেই ইঁটেতেই তাহাদের কাগজের কাজ চলিয়া যাইত। কিন্তু এইরূপ ইঁটের টালি নিয়া লেখাপড়া করা যে বিশেষ অসুবিধার কথা তাহা সহজেই বুঝিতে… Continue reading কাগজ-সুকুমার রায়

মরণের ডঙ্কা বাজে – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

১. চাঁদপাল ঘাট চাঁদপাল ঘাট থেকে রেঙ্গুনগামী মেল স্টিমার ছাড়ছে। বহু লোকজনের ভিড়। পুজোর ছুটির ঠিক পরেই। বর্মা প্রবাসী দু-চারজন বাঙালি পরিবার রেঙ্গুনে ফিরচে। কুলিরা মালপত্র তুলচে। দড়াদড়ি ছোঁড়াছুড়ি, হইহই। ডেকযাত্রীদের গোলমালের মধ্যে জাহাজ ছেড়ে গেল। যারা আত্মীয়স্বজনকে তুলে দিতে এসেছিল, তারা তীরে দাঁড়িয়ে রুমাল নাড়তে লাগল। সুরেশ্বরকে কেউ তুলে দিতে আসেনি। কারণ কলকাতায় তার… Continue reading মরণের ডঙ্কা বাজে – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

জলাভূমির আতঙ্ক – আলী ইমাম

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের চিড়িয়াখানার জন্য পশু-পাখি সরবরাহ করার জন্যে অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের কাজ হচ্ছে চিড়িয়াখানার চাহিদানুযায়ী পশু-পাখি ধরে এনে সরবরাহ করা। প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ব্যক্তি পর্যায়েও এ ধরনের সরবরাহ হয়ে থাকে। অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গহীন অরণ্য থেকে, দুর্গম অঞ্চল থেকে পশু-পাখি সংগ্রহ করে থাকেন । বিশ্ববিখ্যাত লন্ডন চিড়িয়াখানার জন্য বিরল প্রজাতির পশু-পাখি সংগ্রহ করে… Continue reading জলাভূমির আতঙ্ক – আলী ইমাম

অর্থং অর্থং – সৈয়দ মুজতবা আলী

একটা ‘ফরেন’-ওলার কথাই বলি। ইন্টারভ্যুতে আমিও ছিলুম। সেই ছাব্বিশ বছরের ‘ফরেন’–বাট ড্যাম কালা আদমি ছোকরাটা তার বাপের বয়সী ওমেদার অধ্যাপককে যা বেহায়া প্রশ্ন শুধোতে লাগল তাতে আমি স্তম্ভিত। কারণ সেই অধ্যাপকের কিছু কিছু লেখার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। এ যুগে আর কটা হিন্দু ফার্সি শিখে ভারতবর্ষের সাতশ বছরের ইতিহাস অধ্যয়ন করে? ইনি তাদেরই একজন। অথচ… Continue reading অর্থং অর্থং – সৈয়দ মুজতবা আলী

তেঁতুলঝোরার ঝাউবাংলো – আলী ইমাম

বৈশাখের এই লাল রোদের দুপুরগুলো কেমন তেতে থাকে। বাতাস যেন আগুনের হল্কা ছড়ায়। গাছের পাতা থির হয়ে আছে। চারদিক ঝলসাচ্ছে। কেমন ফোসকা পড়া গরম। সাঁ সাঁ করে লোক বোঝাই বাস ছুটে যাচ্ছে । পিকু হাঁটতে হাঁটতে ভাবে, আহ্, এখন যদি ঝমঝম করে বৃষ্টি নামত তবে কী চমৎকারই না হতো। আকাশে জমত ঘন কালো মেঘ ।… Continue reading তেঁতুলঝোরার ঝাউবাংলো – আলী ইমাম

মাতৃকা – সমরেশ মজুমদার

সকালবেলায় আমার বাবা আজকাল তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরে। তাড়াতাড়ি মানে সাড়ে ছটা সাতটা। আমার জ্ঞান হওয়ার পর থেকে কোন জরুরী কাজ ছাড়া বাবাকে কোনদিন সাড়ে নটার আগে ফিরতে দেখিনি। অফিস থেকে বেরিয়ে এই সময়টুকু বাবা কি করে স্পষ্ট করে বলতে পারব না। তবে কখনও অসুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেনি। আমরা যে পাড়ায় থাকি সেখানে রাত করে যারা… Continue reading মাতৃকা – সমরেশ মজুমদার