একদিন রাত্রে-তারাপদ রায়

আজ সকাল থেকে টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। শীতের প্যাচালো বৃষ্টি। সেই সঙ্গে যথারীতি উত্তুরে হাওয়া। ঠান্ডাও পড়েছে খুব। অনেকদিন কলকাতা শহরে এরকম জমাট ভাব, ভারী ঠান্ডা দেখা যায়নি। সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা হয়ে গেল, বৃষ্টি থামবার কোনও নামগন্ধ নেই। যদি জোরে দু-চার পশলা হয়ে যেত তবে সে ছিল মন্দের ভাল, হয়তো মেঘটা কেটে যেত। কিন্তু আকাশ… Continue reading একদিন রাত্রে-তারাপদ রায়

গয়া ১৯২৪-তারাপদ রায়

শেষবার আমরা যখন বাড়ি বদলালাম, অর্থাৎ আগের বাড়ি ছেড়ে এখনকার বাড়িতে এলাম, সে প্রায় আট বছর আগের কথা। লোকে যখন একটা বাড়ি ছেড়ে অন্য বাড়ি যায়, অনেক জিনিস ফেলে আসে; কিছু ভুলে ফেলে আসে, আবার কিছু ইচ্ছে করেও ফেলে আসে। অনেক সময় বড় বাড়ি থেকে ছোট বাড়িতে উঠে যাওয়ার সময় অনেক কিছুই ছেড়ে যেতে হয়।… Continue reading গয়া ১৯২৪-তারাপদ রায়

ময়নার বোন-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ময়না আর বুধনি খুন হওয়ার পরে কেটে গেছে দেড় মাস। এই জোড়া খুনের কোনও কিনারাও হয়নি, কেউ ধরাও পড়েনি। কে খুন করেছে তা সবাই জানে, পুলিশও জানে নিশ্চয়ই, কিন্তু পুলিশের খাতায় খুনের উল্লেখই নেই। লেখা আছে, অজ্ঞাত কারণে মৃত্যু। দুজন মানুষ, বিশেষত দুটি যুবতী মেয়ে খুন হলে পুলিশ কত রকম তদন্ত করে, কুকুর আনে, ডিটেকটিভরা… Continue reading ময়নার বোন-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ম্যাজিশিয়ান বিশ্বমামা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বিশ্বমামা বললেন, ছোটবেলায় একটা ম্যাজিক দেখেছিলাম, বুঝলি! আজও সেটা ভুলতে পারিনি। আমি বললুম, তুমি মোটে একটা ম্যাজিক দেখেছ? আমরা তো কত ম্যাজিক দেখেছি। পি সি সরকারের জাদুর খেলা দেখেছি অনেকবার। ম্যাজিশিয়ান বিশ্বমামা বিশ্বমামা বললেন, আমিও কম ম্যাজিক দেখিনি। সব তো মনে থাকে না। সব মনে রাখার যোগ্যও নয়। এই একটা ম্যাজিকের কথা মনে খুব দাগ… Continue reading ম্যাজিশিয়ান বিশ্বমামা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আদ্যশ্রাদ্ধ-সমরেশ মজুমদার

প্রথম এসেছিল অমল। দিল্লি থেকে প্লেনেই উড়ে আসবে ভেবেছিল, কিন্তু রত্না বলেছিল, খামোকা অত টাকা কেন নষ্ট করবে, ট্রেনেই যাও, কোম্পানির পয়সায় তো ট্যুরে যাচ্ছ না! কথাগুলো মনে ধরেছিল। অবশ্য টেলিগ্রাম পাওয়ার পর থেকেই মন অন্যরকম হয়ে গিয়েছিল। যেন দশমনি একটা পাথর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে মনের আংটায়। নড়তে-চড়তে বুকের মধ্যে। যন্ত্রণা। নিশ্বাস ভারী। সড়সড় করে… Continue reading আদ্যশ্রাদ্ধ-সমরেশ মজুমদার

জল নয়, যেন অমৃত-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কয়েক হাত মাটি খোঁড়ার পরই শাবলে ঠংঠং করে শব্দ হতে লাগল। শক্ত পাথর। এখানে জল উঠবে না। মিস্তিরিরা হতাশ হয়ে বসে পড়ল। এই নিয়ে চারবার। টিউবওয়েল বসাবার চেষ্টা হচ্ছে, বড়-বড় পাইপ কেনা হয়ে গেছে, টাকাপয়সারও অভাব নেই, কিন্তু জল পাওয়া যাচ্ছে না। এই বৈশাখ মাসে জলের জন্য চতুর্দিকে হাহাকার। একটা পাকুড় গাছতলায় দাঁড়িয়ে আছে বড়কা… Continue reading জল নয়, যেন অমৃত-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সোনামণির অশ্রু-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

লোকটিকে ভালো করে লক্ষ্য করুন! রোগা-পাতলা, লম্বাটে চেহারা, বছর চল্লিশেক বয়েস। মাথার চুল বেশ ঘন, তার মধ্যে দু-চারটে সাদা। তুলনা দিয়ে বোঝাতে গেলে বলতে হয়, লোকটির মুখখানা অনেকটা ঘোড়ার মতো। তা বলে খারাপ দেখতে বা হাস্যকর কিছুনয়, অনেক মানুষের মুখই এরকম হয়। ধুতির ওপর সাদা হাফ শার্ট পরা, তার পোশাক মোটামুটি পরিচ্ছন্ন, বাঁ-হাতে একটা সোনার… Continue reading সোনামণির অশ্রু-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

পঞ্চতন্ত্রের শেষ গল্প-তারাপদ রায়

অস্তি কস্মিংশ্চিৎ নগরে রাজারাম নামে এক রজক ছিল। এই নগর এক রাজ্যের রাজধানী, সেই রাজ্যের রাজার নামও রাম, অর্থাৎ কিনা রাজা রাম। না। ইনি অযোধ্যার রাজা রাম নন। এসব গোলমালের মধ্যে জড়িয়ে পড়ার সাহস নেই আমার। আমার গল্পের এই রাজা পরবর্তীকালের অন্য এক রাজ্যের অধিপতি। আসলে এ গল্প আমার নয়। এটা বিষ্ণু শর্মার পঞ্চতন্ত্রের শেষ… Continue reading পঞ্চতন্ত্রের শেষ গল্প-তারাপদ রায়

হরিচরণ-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

“—” সে আজ অনেকদিনের কথা। প্রায় দশ-বারো বৎসরের কথা। তখন দুর্গাদাসবাবু উকিল হন নাই। দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুমি বোধ হয় ভাল চেনো না, আমি বেশ চিনি। এসো তাঁহাকে আজ পরিচিত করিয়া দিই। ছেলেবেলায় কোথা হইতে এক অনাথ পিতৃমাতৃহীন কায়স্থ বালক রামদাসবাবুর বাটীতে আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিল। সকলেই বলিত, ছেলেটি বড় ভাল! বেশ সুন্দর বুদ্ধিমান চাকর, দুর্গাদাসবাবুর পিতার… Continue reading হরিচরণ-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

ভাঙা দাঁত-সমরেশ মজুমদার

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতে সোমরার চার মাস কাবার হয়ে গেল। এখনও শরীরে তেমন বল আসেনি। তাছাড়া, পায়ের হাড় জোড়া লাগলেও মনে হচ্ছে এই বুঝি ভেঙে গেল ফের। মুখচোখের কাটা দাগগুলো মিলিয়েছে। তবে কিনা চারবেলা ভালোমন্দ ঠিক সময়ে পেটে পড়ত, হাসপাতালে এইটেই আরাম। সদর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে বাস ধরে সে যখন আবার হাতিমবাড়ি চলে এল, তখন… Continue reading ভাঙা দাঁত-সমরেশ মজুমদার